সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাচ্ছে আরও ১০ হাজার

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৭:১২
মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী ২২ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পেন্টাগন অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ’-এর সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার সেনা এবং ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’-এর সঙ্গে আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সদস্য চলতি মাসের শেষ দিকে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। বর্তমানে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত দ্রুতই শেষ হতে পারে। তার ভাষ্য, দুই পক্ষ বিচক্ষণতা দেখালে পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাত প্রশমিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যক্রমের বড় অংশ ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনে ইরানি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

 

অন্যদিকে, তেহরান এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। প্রয়োজনে আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

 

যদিও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, তবুও যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!
মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

মায়ের ত্যাগ ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একের পর এক কঠিন পথ পেরিয়ে আজ নাসার মহাকাশচারী জনি কিম। মার্কিন নৌবাহিনীর নেভি সিল, যুদ্ধক্ষেত্রের মেডিক, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডাক্তার এবং শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী হয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অবিশ্বাস্য এক ক্যারিয়ার।   লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠা কোরিয়ান-আমেরিকান পরিবারের সন্তান জনি কিম ২০০২ সালে হাইস্কুল শেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তিনি নেভি সিল হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সামরিক জীবনে ১০০টির বেশি যুদ্ধ অভিযান ছিল। এসব অভিযানে তিনি কমব্যাট মেডিক, স্নাইপার ও নেভিগেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   তবে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনের পরবর্তী পথ বদলে দেয়। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার চেষ্টা এবং চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসাবিদ্যার দিকে আগ্রহী করে তোলে। নাসার এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান, যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসকদের দক্ষতা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এরপরও মানুষের সেবা চালিয়ে যেতে তিনি মেডিসিনকে নিজের পরবর্তী পথ হিসেবে বেছে নেন।    এরপর শুরু হয় তাঁর আরেক কঠিন অধ্যায়। ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগো থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে মেডিকেল ডিগ্রি নেন। পরে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালে ইমার্জেন্সি মেডিসিনে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে তিনি নেভাল অফিসার ও ফ্লাইট সার্জন হিসেবেও প্রশিক্ষণ নেন।    এরপর আসে মহাকাশ জয়ের অধ্যায়। ২০১৭ সালে নাসার মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন জনি কিম। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল রসকসমসের সোয়ুজ এমএস-২৭ মহাকাশযানে করে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রায় আট মাস কাটিয়ে কিম বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে রক্তনালিযুক্ত বায়োপ্রিন্টেড টিস্যু নিয়ে গবেষণা, মহাকাশে রোবট নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের ন্যানোম্যাটেরিয়াল তৈরির মতো কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।    ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসেন জনি কিম। নাসার হিসাবে, তাঁর প্রথম মহাকাশ মিশনে মোট ২৪৫ দিন মহাকাশে কাটে। এ সময়ে তিনি পৃথিবীকে ৩ হাজার ৯২০ বার প্রদক্ষিণ করেন এবং প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ মাইল পথ পাড়ি দেন।    মায়ের ত্যাগ, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু হওয়া সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে গেছে মহাকাশে। সৈনিক থেকে ডাক্তার, এরপর নাসার মহাকাশচারী হয়ে জনি কিমের জীবন তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজেকে বদলে নেওয়ার এক অসাধারণ উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:৫৪
শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত

শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, এল-আরাজ এলাকাতেই ছিল যিশুর সময়ের প্রাচীন বেথসাইদা শহর। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে যিশুর অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী সেই হারানো শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

ফ্রিডম এজ নামের এই বহুমাত্রিক মহড়ায় নৌ, বিমান ও সাইবার অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া

হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল।   ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।   উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়।   প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক।   নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।   হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে।   লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা। নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে।   আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।   এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।   গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: ইউএসজিএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২১:৪
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬, আন্তর্জাতিক উদ্ধার সহায়তা ফিরিয়ে দিল সরকার

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের, অলৌকিকভাবে রক্ষা

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে একটি ভবনে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২৬ আগস্ট, ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর চারদিকে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়লে তারা ওই ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের নিরাপদে বের করে আনেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির চারপাশে প্রবল স্রোতে পানি ও কাদা ছুটে যাচ্ছে। আশপাশের এলাকা ভয়াবহভাবে প্লাবিত হলেও ভবনটি টিকে থাকায় ভেতরে থাকা মানুষগুলো সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয় পান।   নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নদী থেকে ৫৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।    রসুয়া জেলায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বন্যায় আটকে পড়া ১ হাজার ৫৪৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এর মধ্যে রসুয়া থেকে ৬৪৪ জন, নুওয়াকোট থেকে ৮৯৮ জন এবং ধাদিং থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।    ভয়াবহ এই বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি স্থলপথে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।    নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যার ঝুঁকি এখনো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ওই ভবনে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর নিরাপদে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি এখন স্বস্তির একটি খবর হয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২:৪৫
নেপালে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ১০৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

বাবার এমন অভিনব কৌশলের পরও ছেলের গেম খেলার সময় খুব একটা কমেনি। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা

যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা

যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা

0 Comments