ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মুখপাত্র তার বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ইরানের নিখুঁত হামলার হাত থেকে বাঁচতে তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিল। ইরান সেই অবস্থানগুলো শনাক্ত করে সেখানে কয়েক দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আস্তানায় ৪০০ জনের বেশি এবং দ্বিতীয় আস্তানায় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে আস্তানা দুটি লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
ইরানি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বোঝা উচিত যে, এই অঞ্চলটি তাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে। সাহসী যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। আজকের হামলাকে সেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে তেহরান।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও বড় আকারে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নজির হতে পারে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৩,২০০-এর বেশি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রধানত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ‘৫০৫০১’ নামক সংগঠনের সমন্বয়ক সারা পার্কার জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানে ‘অবৈধ’ যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ এখন চরম ক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিক এক জরিপেও দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অধিকাংশ ভোটার অসন্তুষ্ট। এই আন্দোলনের পেছনে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও পাবলিক সিটিজেনের মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো কাজ করছে। এর আগে গত অক্টোবরে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। পাবলিক সিটিজেনের সহ-প্রধান লিসা গিলবার্ট বলেন, “এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং দেশপ্রেমের প্রশ্ন। আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, আমেরিকায় কোনো রাজা নেই।” উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ট্রাম্পের জন্মদিনে সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজনের প্রতিবাদে প্রথম ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই তাদের দাবি জানিয়ে যাবেন। আজকের এই গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে গভীর সমুদ্রে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজে সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুখপাত্র জানান, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে ইরান পুনরায় স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা ওমানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওমানকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতীম’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরান জানায়, এই অভিযান কোনোভাবেই ওমানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে বিঘ্নিত করেনি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। গত চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের রেশ ধরে এবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এখানে সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে হওয়া এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া বেশ কয়েকটি মার্কিন ফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোন এবং খলিফা পোর্টের কাছে ভোরে হওয়া হামলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন, যাদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও উদ্ধারকাজ ও কুলিং প্রসেস অব্যাহত রয়েছে। এদিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ড্রোনের আঘাতে বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাহরাইনেও বারবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।