প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry) উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ মার্কিন সেনা, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আল–জাজিরা জানিয়েছে, আহত সেনার সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত হতে পারে।
‘ই-৩ সেন্ট্রি’ মূলত আওয়াকস (Airborne Warning and Control System) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই উড়োজাহাজ দূরপাল্লার রাডার ও সেন্সর ব্যবহার করে শত শত মাইল দূরে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া এটি যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান ও সমুদ্রবাহিনী নিয়ন্ত্রণ, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীকে নির্দেশনা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হামলায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি ‘KC-135’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। এরা মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগের হামলায়ও একই ঘাঁটিতে পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, আহত উড়োজাহাজগুলি শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের সরাসরি আঘাতের কারণে বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে।
ন্যাটোও ‘ই-৩এ’ আওয়াকস উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। এই বিমানগুলো আকাশপথে নজরদারি, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। বোয়িং–৭০৭-এর এই সংস্করণে গম্বুজাকৃতির রাডার ডোম বসানো থাকে, যা উড়োজাহাজকে দূরপাল্লায় লক্ষ্য শনাক্তে সক্ষম করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা ট্রানজিটের সময় ইসরাইলি পাসপোর্টধারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত আটজন ইসরাইলি আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, কেউ আবার অন্য এশিয়ার দেশে ট্রানজিটে ছিলেন। একটি ঘটনায় ফিলিপাইনগামী ফ্লাইটের ট্রানজিটে চারজন ইসরাইলি তরুণ-তরুণী আটক হন। তাদের মধ্যে দুজন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে তারা চ্যাটবটের মাধ্যমে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট নিরাপদ কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ইতিবাচক উত্তর পেয়েছিলেন। পরে তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য ঘটনায় কম্বোডিয়া থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে দুই ইসরাইলি পুরুষকে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়, দুই দিন পর তাদের আবার কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সাধারণত আটককালে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে যখন অন্যান্য দেশ বহিষ্কৃত ইসরাইলিদের প্রবেশ অনুমোদন দেয় না, তখন ভ্রমণকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের সহায়তায় কয়েকজনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এলিয়াহু ভেরেড হাজান নাগরিকদের মালয়েশিয়া ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ভোগান্তি, যাত্রাপথে দেরি এবং অতিরিক্ত খরচের কারণ হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েল লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই গত ২০ বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, শনিবার হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েল অভিমুখে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তারা প্রথম দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সরাসরি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলের ‘স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, উভয় ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই নতুন সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার মুখে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার ৩,৫০০ মেরিন সেনা ও নৌ-সদস্য নিয়ে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (USS Tripoli) এই অঞ্চলে পৌঁছেছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানানো হয়, এটি গত ২০ বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ। এই নতুন মেরিন সেনারা আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সাথে যুক্ত হবে। জানা গেছে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ এবং ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সেনারা মূলত জাপানে অবস্থান করছিল। তাইওয়ান প্রণালীর কাছাকাছি মহড়া চলাকালীন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের জরুরিভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই যুদ্ধজাহাজে মেরিন সেনাদের পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক পরিবহন বিমান, স্ট্রাইক ফাইটার জেট এবং উভচর হামলার সরঞ্জাম। এছাড়া, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে ‘ইউএসএস বক্সার’ এবং আরও দুটি যুদ্ধজাহাজকে এই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুথিদের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
উন্নত জীবনের সন্ধানে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, মাঝসমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। উদ্ধারকৃতদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি জানায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনাহারে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২২ জন যাত্রী। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ শুক্রবার গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে জরাজীর্ণ ওই নৌকাটি শনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা থামছেই না।