‘নিশি রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ
নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে ডাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাকে এই কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগেও অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তার ভাষ্যমতে, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দলেরই একটি প্রতিপক্ষ ওই নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন; তাই মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে যাওয়ার অভিযোগটি একেবারেই অবান্তর। এছাড়া গত ঈদে ওই নারীকে জাকাতের কাপড় ও চালের স্লিপ দিতে না পারার ক্ষোভ থেকে এই মিথ্যা নাটক সাজানো হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিনও যোগাযোগ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে দল থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি এটি যদি নিছক চক্রান্ত প্রমাণিত হয়, তবে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreচাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর প্রবল স্রোতে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ভেসে থেকেও প্রাণে বেঁচে গেছে মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাছে নৌকাডুবির পর শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছিটকে পানিতে তলিয়ে গেলেও পরে তাকে আবার উদ্ধার করেন মা। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করে। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি নৌকা। পদ্মার মাঝনদীতে প্রবল স্রোত ও বাতাসের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা পানিতে পড়ে গেলে সবাই নিজেদের মতো করে বাঁচার চেষ্টা শুরু করেন। কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, বৈঠা কিংবা ভাসমান অন্য জিনিস আঁকড়ে ধরে স্রোতের মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। নৌকাডুবির সময় তানিশাকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা তানিয়া খাতুন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় এবং পানিতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তানিয়া আবার শিশুটিকে খুঁজে পান। এরপর তিনি দুই পা দিয়ে তানিশাকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপর রাখার চেষ্টা করেন। শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখাই তখন পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। তানিশার নানা মো. ইব্রাহিমও নাতনিকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাঁতার জানা ইব্রাহিম স্রোতের মধ্যে এক হাত উঁচু করে তানিশাকে ধরে রাখেন। অন্যদিকে পরিবারের ও নৌকার যাত্রীরা পাটাতন, বস্তা, বৈঠা ও অন্যান্য ভাসমান জিনিসের সাহায্যে নিজেদের ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এভাবে দীর্ঘ সময় তারা পদ্মার স্রোতের সঙ্গে ভেসে যেতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। পরে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামেন। তারা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে নদী থেকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান। উদ্ধার হওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার কারণে শিশুটিকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান। নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম নামে ২৩ বছরের এক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে মো. মোস্তফা নামে ৬০ বছরের আরেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের সদস্যরা মোট ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং তিনজন শিশু ছিলেন। পরে তাদের দেশে ফেরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ হয়। রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, মো. সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, তানিয়া, তার ২০ দিনের শিশু তানিশা, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। তারা সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দেশে ফেরার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নৌকাডুবির পর বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে তিনি জানান। তানিশার মা তানিয়া খাতুন ও নানা ইব্রাহিমের ভূমিকার কারণে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় স্রোতের মধ্যে ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হয় বলে উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে মায়ের হাত থেকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরও শিশুটিকে আবার খুঁজে পাওয়া এবং পরে নানার হাতে তুলে ধরে রাখা ছিল পুরো ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। পদ্মার প্রবল স্রোতে নৌকাডুবির পর দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার ঘটনা পরিবারটির জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত ২০ দিনের তানিশাসহ ১০ জন জীবিত ফিরে এসেছেন। তবে একই ঘটনায় ৬০ বছরের মোস্তফা এখনো নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের উদ্বেগ কাটেনি। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : আর টিভি
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন তারেক রহমান
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অর্থ রয়েছে সুইস ব্যাংকেও
এমপির লাগে না, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানেরও লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশ থেকে জাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে এসব কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বিষয়টিকে সন্দেহ ও প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামীম ডাকসুর অর্থের উৎস ও উন্নয়নকাজের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে যেখানে ডাকসু ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে কীভাবে এক বছরে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করার দাবি করা হচ্ছে। ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বরাদ্দের বাইরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় এসব কাজ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। এরপর স্পন্সর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামীমের অভিযোগ, ডাকসুর উন্নয়নকাজের অর্থের উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বচ্ছ হিসাব থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডাকসু ভবনে ফ্যানের পরিবর্তে এসি স্থাপন, পাঠাগার উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদে বিভিন্ন কাজসহ অন্যান্য উদ্যোগে অর্থ এসেছে কোথা থেকে, সেটি স্পষ্ট করা উচিত। এসব কাজে বিভিন্ন কোম্পানির করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড অথবা বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। হামীম আরও দাবি করেন, গত রমজানে ইফতার আয়োজনের সময় এক তুর্কি নাগরিককে এনে নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনাও তাঁর সন্দেহের কারণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অর্থ জাকাতের অর্থ ছিল। একই ধরনের অর্থের উৎস ডাকসুর অন্যান্য উন্নয়নকাজেও রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এদিকে গত এক বছরে ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে আবাসিক হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগের অর্থায়নে স্পন্সর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মেয়াদ ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। দায়িত্বের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ডাকসুর কার্যক্রম, অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, মেয়াদ শেষে পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ফলে হামীমের তোলা অর্থের উৎসের প্রশ্নের পাশাপাশি স্পন্সর, অনুদান ও অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই হিসাব প্রকাশ করা হলে বিতর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। সূত্র: যুগান্তর
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবাসিকভাবে থাকতে শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেন শিক্ষক আল আমিন। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর শিশুটির পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়াসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর এক সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক আল আমিন ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। সূত্র: বার্তা বাজার
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকার বাজেট, ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর