সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৬:২১
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ বন্ধ রাখার বিষয়ে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে না দেওয়ার কারণে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।
 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স জানিয়েছে, শেখ হাসিনার পক্ষে ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে আবেদনটি জমা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিংবা আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।


যোগাযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। এর ফলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার পক্ষের অভিযোগ, নতুন সরকারও আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে।


আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার নিজেদের পছন্দের দলের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের যুক্তি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে দাবি করেছেন। তবে এটি আবেদনকারীর পক্ষের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান, জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত নয়।


ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, যোগাযোগপত্রে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির চারটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সুরক্ষার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের দাবি, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এসব অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।


যোগাযোগপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা এবং দলীয় কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনজীবী নিয়োগ, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি হামলা বা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পৃথক তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।


আবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘের তিনটি মানবাধিকার ম্যান্ডেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। তাঁদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।


তবে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা তার সত্যতা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। বিশেষ প্রতিবেদক ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার আওতায় স্বাধীনভাবে কাজ করেন। তাঁরা অভিযোগ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, উদ্বেগ জানাতে পারেন কিংবা প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে পারেন। তবে তাঁদের কাছে আবেদন করলেই কোনো দেশের আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।


এদিকে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনা। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক প্রাণহানির পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে তৎকালীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। ফলে দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি অতীতের সহিংসতার বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।


যুক্তরাজ্য সরকারের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাধারণভাবে গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন এবং আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার বৈধতা নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ আলাদা বিষয়।


এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ যোগাযোগপত্রটি এসেছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। এতে আগের দাবির পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চলমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নতুন সরকারের দায়িত্বের প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে।


বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবেদনটির গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে অতীতের সহিংসতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার, নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এবং ব্যবস্থাটির আনুপাতিকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।


সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর আইনজীবীরা জাতিসংঘের তিনজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কী পদক্ষেপ নেন এবং বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।


সূত্র: ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স, ২৭ অক্টোবর ২০২৬; ইন্ডিয়া টুডে, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; যুক্তরাজ্য সরকারের বাংলাদেশবিষয়ক কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট, ২২ অক্টোবর ২০২৬।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো ১৬ অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশিও
স্পেন থেকে বাংলাদেশিসহ ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সেউতা শহর থেকে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সংখ্যা ও জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এদিকে কয়েকজন অভিবাসীকে আদালতের সুরক্ষামূলক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পেনের অভিবাসননীতি ও আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি অধিকার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন ও ক্যামেরুনের নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। তবে প্রত্যেক দেশের কতজন অভিবাসী রয়েছেন, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। স্পেনের সরকার জানিয়েছে, মরক্কো এসব ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সেউতা হলো আফ্রিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বশাসিত শহর। এর এক পাশে মরক্কো এবং অন্য পাশে ভূমধ্যসাগর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ড হওয়ায় আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে সেউতায় পৌঁছানো মানেই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার কিংবা ইউরোপে বসবাসের অনুমতি পাওয়া নয়। আশ্রয়ের আবেদন, পরিচয় যাচাই এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে সেউতায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষ প্রবেশ করেন। ঘটনাটি স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সীমান্তসংকট তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রবেশকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন  হিসাব পাওয়া গেছে। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ৮০ হাজারের কথা উল্লেখ রয়েছে। জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর সেউতায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই এবং মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করে স্পেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তাঁদের বড় অংশের প্রত্যাবর্তনকে সরকার স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু অভিবাসী বাস্তবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাননি। পুলিশের চাপ এবং ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় তাঁদের মরক্কোয় যেতে হয়েছে বলে সংগঠনগুলোর দাবি। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেননি। ফলে তাঁদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো আইনসম্মত বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। স্পেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল পাইসের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন এবং ইয়েমেনের একজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর সময় আদালতের জরুরি সুরক্ষামূলক আদেশ কার্যকর ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের আইনজীবীরা। এসব আদেশের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় স্পেন থেকে ফেরত পাঠানো বন্ধ রাখা। আইনজীবীদের দাবি, তা সত্ত্বেও তাঁদের মরক্কোয় পাঠানো হয়েছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।  একজন ইয়েমেনি অভিবাসীর ঘটনায় স্পেনের ন্যাশনাল কোর্ট জরুরি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে এল পাইস। কিন্তু এর মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্ত পৌঁছানোর আগেই তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে এ ঘটনায় প্রশাসনিক সময়সূচি ও আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টির আইনগত পর্যালোচনা দাবি করেছেন। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আশ্রয়প্রার্থী কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তাঁর নির্যাতন, অমানবিক আচরণ বা অন্য দেশে পুনরায় ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে এই নীতিকে নন-রিফাউলমেন্ট বলা হয়। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মরক্কোয় ফেরত পাঠানো কয়েকজন অভিবাসীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিশেষ করে যাঁরা মরক্কোর নাগরিক নন, তাঁদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মরক্কোয় অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে দেশটিকে সাধারণভাবে নিরাপদ বলে বর্ণনা করলেই প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে স্পেনের সরকার বলছে, ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে।  স্পেনের এল পাইস জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সেউতায় আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতে আপিল করছেন। আবার অনেকেই আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের সিদ্ধান্ত, আপিল করার সময়সীমা এবং ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে আইনজীবী ও প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা স্পেন বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর আপিলের সময়সীমা এবং আইনগত সুরক্ষা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তবে স্পেনের একটি নির্দিষ্ট আশ্রয়প্রক্রিয়ায় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অর্থ সব বাংলাদেশি নাগরিকের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। প্রতিটি আবেদন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি মরক্কো হয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো আইনসম্মত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আবেদনকারীর জাতীয়তা, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি, আশ্রয়ের আবেদন এবং আদালতের সুরক্ষামূলক নির্দেশ বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের আপিল বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদেশ কার্যকর রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে সেউতা থেকে ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর ঘটনা স্পেনের অভিবাসননীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি থাকার তথ্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, যদিও সরকার জাতীয়তা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ফলে প্রত্যাবাসনের আইনগত বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স; দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, এল পাইস।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:৫৮
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা

জাপানে চাকরির সুযোগ পেতে প্রয়োজন ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবেন ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, কোন খাতে কতজনের চাকরির সুযোগ

মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ

ঢাকার মেট্রোরেলে আড়াই লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, বড় কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশি মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি হাচিবুর রহমানে বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ৩৩ বছর বয়সী রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনেশুনে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটররা ২৭ অক্টোবর এ মামলার অভিযোগ দাখিলের কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড জেলার অ্যাটর্নি অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী, মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি ঘোষণা করেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় রহমান জানতেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হয়।   মামলার তদন্তে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) নেতৃত্ব দিয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস তদন্তে সহায়তা করেছে। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এটি সর্বোচ্চ শাস্তি। প্রকৃত সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা ও প্রাসঙ্গিক আইনি বিষয় বিবেচনা করবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণত দেশটির নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মামলায় অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রহমান নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৩:৩১
মেট্রোরেলে স্ট্রোকের পরও সিটে বসতে দেয়নি কেউ, মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃ ত্যু শিক্ষকের

মেট্রোরেলে স্ট্রোকের পরও সিটে বসতে দেয়নি কেউ, মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃ ত্যু শিক্ষকের

ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলেই ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনা

: মাথাপিছু জিডিপির পূর্বাভাসে বাংলাদেশ ও ভারত

২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফের

শ্যালিকাকে বিয়ে ঘিরে নওগাঁয় মাসুদ রানাকে নিয়ে বিতর্ক (ছবি: সংগৃহীত)
শ্যালিকাকে বিয়ে করে বিতর্কে মাসুদ রানা, এবার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিল গ্রামবাসী

নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই নিজের শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা বাধার মুখে পড়ছিলেন মাসুদ রানা। প্রথমে বদলগাছী উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকতে সমস্যায় পড়েন তিনি। পরে সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে (২১) সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর দুই স্ত্রীর বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে তিনি বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের শ্যালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ। তাঁর দাবি, পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতি নিয়েই এ বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছীতে ভাড়া বাসায় থাকার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন মাসুদ। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ও পূর্ণিমা বাসার মালামাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে তাঁরা মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রামে পূর্ণিমার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদের মুখে চুন-কালি মাখিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাঁদের পরিচয় কী এবং এরপর মাসুদ রানা কোথায় গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে তাঁরা মাসুদকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্যালিকাকে বিয়ে করার কারণ ব্যাখ্যা করে মাসুদ রানা জানান, পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাঁদের আগে ধারণ করা টিকটক ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে তিনি হয়রানির আশঙ্কা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন। এদিকে দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার বিষয়ে ইসলামী বিধানের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। স্থানীয় মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর বোনকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী তাঁর বোনকে বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা এ ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৫:৫৬
তাশরীফের বাবার বিয়ে নিয়ে মা পরিচয় দেওয়া নারীর দাবি (ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত)

তাশরীফের বাবার ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ের দাবি, ভিডিওতে যা বললেন মা পরিচয় দেওয়া নারী

অপূর্ণ রয়ে গেল ৪০০ কবর খোঁড়ার স্বপ্ন

৩৯৬টি কবর খুঁড়ে বিদায় নিলেন হাফেজ শিকদার, অপূর্ণ রয়ে গেল ৪০০ পূরণের স্বপ্ন

বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রয়োজন হওয়ায় ই-টিন সার্টিফিকেট

ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

0 Comments