রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষে ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে সারাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। একই সঙ্গে হবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল ভোট হবে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ বুধবার রাতের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম। আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালট হবে গণভোটের।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ৩টি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন 'একতরফা', ২০১৮ সালে নির্বাচন 'রাতের ভোট' ও ২০২৪ সালের নির্বাচন 'আমি-ডামির নির্বাচন' হিসেবে পরিচিতি পায়। ভোটারদের একটি বড় অংশই বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারেননি। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছরের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় দলটির কর্মী-সমর্থকদের সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। অবশ্য গতকাল ইসি বলেছে, তারা আশা করছে, ভোটার টার্ন আউট (ভোট পড়ার হার) ভালো হবে।
আগে আইনে সুযোগ থাকলেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট তেমন কার্যকর ছিল না। এবার প্রবাসী, সরকারি কর্মচারী, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, সেগুলো গণনা করা হবে। এরপর আসা ব্যালটগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে।
২ হাজার ২৮ প্রার্থী, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার। নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এবার ভোটাররা সশরীর ভোট দেবেন, এমন ভোটকেন্দ্র আছে ৪২ হাজার ৬৫৯টি। আর ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা করা হবে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৯৫৮টি।
তিনি জানান, নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও কিছু বাড়তে পারে।
এই নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৮ জন আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আছেন ৬৫৭ জন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গোদাগাড়ী ও তানোর দুই উপজেলা মিলিয়ে এ আসনে মোট ১৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। তানোর উপজেলায় মোট ৬১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনীসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তানোর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রিসাইডিং অফিসারদের মাঝে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ দায়িত্বে নির্বাচনী সামগ্রী বুঝে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় কেন্দ্রে রওনা হন। নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নাঈমা খান জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলাতেও পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সেনাবাহিনীর বরিশালের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশন বরিশাল বিভাগের সকল জেলা এবং মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মোতায়েন আছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশালে নির্বাচনকালীন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনী মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে পেশাদারিত্বের সাথে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটের জন্য সুষ্ঠ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের মুল লক্ষ্য। এ কাজে বাধাদানকারী সে যেই হোকনা কেন, আমরা কঠোর হস্তে তাদের দমন করবো এ ব্যাপারে আমরা অনড় এবং দৃঢ়। তিনি বলেন, যে কোনো জরুরী প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে বিজার্ভ ফোর্স আনা হবে। শুধু বরিশাল নয়, ৭ পদাতিক ডিভিশনের যে কোনো স্থানে অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত আছে। তিনি জনগণকে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে এসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাত পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালীন ভোট কেন্দ্রে উদ্ভূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর জরুরী প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় একটি ভোট কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কাল্পনিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও এর সমাধানের মহড়া পরিচালনা করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার অংশ নেয়। মহড়ায় বরিশাল বিভাগ,জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোড়ে মোড়ে, স্টেশনে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ, কোনো গাড়ি আসলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। কোনো মতে ঝুলে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে কর্ণফুলী ব্রিজের উভয় প্রান্ত, মইজ্জারটেক, চাতরী চৌমুহনী এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়। দেখা যায়, গাড়ি না পেয়ে কর্ণফুলী শাহ্ আমানত ব্রীজ হেঁটেই পার হচ্ছেন অনেকেই। কারও হাতে, কারও কাঁধে রয়েছে ব্যাগ। অতিরিক্ত যাত্রীর সুযোগে কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। রেহেনা আক্তার নামের এক যাত্রী জানান, ব্রীজ থেকে বাঁশখালী গুনাগুরি সিএনজি ভাড়া স্বাভাবিকভাবে ৮০-১০০ হলেও এখন ২০০-৩০০ টাকা দাবি করছেন সিএনজি চালকেরা। এদিকে অতিরিক্ত যানজট এবং গাড়ি স্বল্পতার কথা জানিয়েছেন চালকেরা। অপরদিকে বাড়ি ফিরতে শত কষ্ট এবং ভোগান্তি পোহাতে হলেও যাত্রীদের মুখে এক অন্যরকম হাসি। রাফ্সান নামের এক কলেজ ছাত্র জানান, আমরা নতুন ভোটার, এবারের মতো ভোটের আমেজ আর কখনো দেখা যায়নি। এবার তরুণ-যুবকদের ভোটের মাধ্যমেই জনগণের সরকার নির্ধারণ করব। আব্দুল কাদের নামের এক ব্যক্তি বলেন, নবম সংসদ নির্বাচনের পর এই নির্বাচনেই মানুষের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এরপর থেকে কোনো নির্বাচনে বাড়ি যায়নি। এবার বিভিন্ন প্রার্থীর লোকও যোগাযোগ করেছেন ভোটের বিষয়ে। তাই ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি।