- প্রচ্ছদ
- Topic
americabangla
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে বহুজাতিক একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডানসহ ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। জোটটির মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বৈঠকের পর সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, ইয়েমেন, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া যৌথ বিবৃতিতে জোটের প্রতি সমর্থন জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগ দেয়নি। সৌদি আরব জানিয়েছে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে এটি গঠন করা হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রপথে সমন্বিত টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা জোরদার করাই হবে এর প্রধান কাজ। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনও চাপে পড়েছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বিকল্প রুটগুলোর নিরাপত্তা কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ কারণে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভগবান বিষ্ণুর অবতার’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পা ধুয়ে সেই পানি পান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেতা সুধেশ বেরি। ‘বর্ডার’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেতার এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সাক্ষাৎকারে সুধেশ বেরি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের জন্য অসাধারণ কাজ করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ভারত ‘রামরাজ্য’-এর দিকে এগোচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, তিনি মোদির পা ধুয়ে সেই পানি পান করতে চান। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বলেও উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে সুধেশ বেরি আরও দাবি করেন, ‘সিজেপি’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন থেকে তাঁকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেন। অভিনেতার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত ও বিতর্কিত বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। সুধেশ বেরি হিন্দি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বর্ডার’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া বহু টেলিভিশন ধারাবাহিকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসিকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিনেটের একটি তদন্তমূলক শুনানি। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা, উহানের গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্য নিয়ে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাউসি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা আত্মঅভিযোগ এড়ানোর সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুনানির শুরু থেকেই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফাউসির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯-এর উৎস, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এদিনও তিনি জানতে চান, উহানের গবেষণায় মার্কিন অর্থায়নের বিষয়ে ফাউসি কি কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছিলেন, কোভিড-১৯-এর উৎস সম্পর্কে জনগণকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তিনি পূর্ববর্তী সাক্ষ্যে সত্য গোপন করেছিলেন কি না। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে ফাউসি একই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’-এর অধিকার ব্যবহার করছেন। ফলে এসব প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। এরপর রিপাবলিকান সদস্যরা মহামারির সময় নেওয়া বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লকডাউন, স্কুল বন্ধ, মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা, টিকা নীতি এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি বার্তা। তারা জানতে চান, এসব সিদ্ধান্তের ফলে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ফাউসি কোনো ভুল স্বীকার করেন কি না। কিন্তু এসব প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি ফাউসি। তিনি বারবার একই সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে নীরব থাকেন। শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি ফাউসির নীরবতার সীমা যাচাই করতে কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ প্রশ্নও করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিনের নাম, ফাউসির পরা টাইয়ের রং এবং শুনানিকক্ষের কার্পেটের রং সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। কিন্তু এসব প্রশ্নের ক্ষেত্রেও ফাউসি উত্তর না দিয়ে ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করেন। অন্য রিপাবলিকান সদস্য বার্নি মোরেনো মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, চাকরি হারানো মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফাউসি ক্ষমা চাইবেন কি না। এসব প্রশ্নেরও কোনো সরাসরি জবাব দেননি সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তবে শুনানির শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফাউসি বলেন, বহু বছর ধরে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, চলমান পরিস্থিতিতে যেকোনো বক্তব্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনজীবীর পরামর্শে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে র্যান্ড পল দাবি করেন, ফাউসির নীরবতা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর জবাব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তার অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া প্রি-এম্পটিভ ক্ষমার পরও ফাউসির ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, কমিটি ফাউসির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। শুনানিতে রিপাবলিকান সদস্যদের মূল প্রশ্নগুলো ছিল উহান গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, ‘গেইন অব ফাংশন’ গবেষণা, কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য উৎস, মহামারির সময় সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য নন যা ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার। তবে এই অধিকার ব্যবহার করা অপরাধ স্বীকার করার সমতুল্য নয়; বরং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়ানোর একটি সাংবিধানিক সুযোগ। দিনব্যাপী শুনানির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রশ্নেই ফাউসির একই অবস্থান। এতে শুনানি রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকানরা এটিকে জবাবদিহি এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর ফাউসির পক্ষের যুক্তি হলো, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত একটি অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবসে (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক চিত্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ । শুধু ইতালি নয়, গ্রিসে সাগরপথে অভিবাসনেও নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে দেশটি। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মানবঢাল এবং নারী পাচারের মতো ঘটনা মানবপাচার সংকটকে ভয়াবহ আকার দিয়েছে। এ বছরের মার্চে লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানীয় ছাড়াই ভেসে থাকে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসানের তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হন, যাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন । পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয় । এরপরও থামেনি মৃত্যুযাত্রা। ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, ইউরোপমুখী এসব অভিবাসীর বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। তারা মূলত মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা । ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে তারা লিবিয়া পৌঁছান। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো কাজের প্রলোভন দেখানো হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। ৯৩ শতাংশ লিবিয়ায় ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন, ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৬৯ শতাংশ স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার হারিয়েছেন । জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনাও রয়েছে । গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে । পাচারকারীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। ফেসবুকের শতাধিক গ্রুপে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামেও এমন গ্রুপ চালু রয়েছে । নতুন মানবপাচার আইন প্রণয়নের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে । ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় । জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি । কম্বোডিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের জুনেই ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরেছেন । ব্র্যাকের গবেষণায় ফিরে আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফিরে আসা ৯৮ শতাংশ মানুষ চাকরির প্রতিশ্রুতি পেলেও কিছুই পাননি। ৯০ শতাংশকে জোর করে জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ৮৮ শতাংশের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২৭ শতাংশ ভয়াবহ শারীরিক এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । একজন ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরে আলাদা নির্যাতন কক্ষ ছিল । শুধু সাগরপথে ইউরোপ বা সাইবার স্ক্যাম নয়—কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে । ব্র্যাকের সঙ্গে রাশিয়ায় আহত কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করেছেন। স্বজনদের মরদেহ ফেরত আনার আবেদনও এসেছে । ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে । কাজের আশ্বাসে নারী পাচারের ঘটনাও বাড়ছে। বিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভনে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে । বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণা নিয়মিত ঘটছে । বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে রোহিঙ্গা পাচারের ধারাও অব্যাহত রয়েছে । জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্টেটলেসনেস ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি মানবপাচারের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে । ২০২৫ সালে ৬,৫০০ এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে প্রায় ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অ্যান্ডামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা মৃতের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি । গত আট বছরে কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার হয়েছে। শতাধিক মামলা হলেও পাচার থামেনি । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে । পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫০০টি নতুন মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি । গত দেড় বছরে দৃষ্টান্তমূলক সাজার কোনো নজির পাওয়া যায়নি; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন । সরকার নতুন 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে । এতে অভিবাসী চোরাচালানকে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সংঘবদ্ধ পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে । আইনটি তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করেছে । তবে ব্র্যাকের শরিফুল ইসলাম হাসান মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে । মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা জরুরি ।
মিশিগানের মেট্রো ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ট্রেসি ব্রুমফিল্ডের জীবন বদলে দেয় এক সড়ক দুর্ঘটনা। ৩৪ বছর বয়সে মন্টানায় পার্টনার সাথে রোড ট্রিপে গিয়েছিলেন তিনি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে পশ্চিম উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গাড়ি স্কিড করে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর দুজনকেই আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে যান ট্রেসি। সিটি স্ক্যানে দেখা গেল, দুর্ঘটনায় কোনো আঘাত না থাকলেও অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি ভর (মাস) রয়েছে। এটি ছিল 'সলিড সিউডোপ্যাপিলারি টিউমার', অগ্ন্যাশয়ের অত্যন্ত বিরল এক ধরনের টিউমার। মেডিক্যাল জার্নাল রেডিওপিডিয়ার তথ্যমতে, এক্সোক্রাইন প্যানক্রিয়াটিক টিউমারের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ হয় এই টিউমার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টিউমার সৌম্য (বেনাইন) হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা মারাত্মক (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে। ট্রেসির সার্জন জানান, সময়মতো অপসারণ না করলে টিউমারটি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারত। ভাগ্যক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়। তবে অগ্ন্যাশয়ের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলায় পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তিন মাসের মধ্যেই সেরে ওঠেন ট্রেসি। কিন্তু এই সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়—দুর্ঘটনা, টিউমার আবিষ্কার, অস্ত্রোপচার এবং একই সময়ে বাবার মৃত্যু। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রেসি বলেন, 'আমি পুরোপুরি ভাগ্যবান বোধ করছি যে গাড়ি দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং টিউমারটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।' সম্প্রতি থ্রেডস অ্যাকাউন্টে পেটের দাগের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, 'অন্তত একটি মজার গল্প তো আছে!' চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্যানক্রিয়াসের টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেয় না বলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ট্রেসির মতো আকস্মিক আবিষ্কারই অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচিয়ে দেয়। এই ঘটনা নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার গুরুত্ব ও সচেতনতার বার্তা দেয় বলেও মনে করছেন তারা।
আমেরিকার জনপ্রিয় পাইকারি খুচরা বিক্রেতা কোস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন ১৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে একটি মামলার নিষ্পত্তিতে। অভিযোগ ছিল, প্রমোশনাল ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের জরুরি কেনাকাটার চাপ তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি যদিও কোনো দোষ স্বীকার করেনি, তবে এড়িয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 'মাইকেল আলান্ড বনাম কোসকো হোলসেল কর্পোরেশন' শীর্ষক এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে। মামলার অভিযোগ, ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো যে সমস্ত প্রমোশনাল ইমেইল পাঠিয়েছে, তার সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল "আজ সদস্য-এক্সক্লুসিভ সঞ্চয়ের শেষ দিন" অথবা "হট বাই শুধুমাত্র ৫ দিনের জন্য উপলব্ধ" — যা আসলে শেষ সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ জানায়, বিক্রয় শেষ হওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও প্রমোশনগুলো বাড়ানো হত। ওয়াশিংটনের কমার্শিয়াল ইলেকট্রনিক মেইল অ্যাক্ট ও কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় এই মামলায়। ওই আইন অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক ইমেইল পাওয়া প্রতি ইমেইলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই নিষ্পত্তি থেকে প্রতিজন কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে কতজন বৈধ দাবি জানান তার ওপর। যেহেতু মোট তহবিল নির্দিষ্ট, তাই বেশি লোক দাবি জানালে প্রত্যেকের ভাগ কমবে। ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা যাঁরা নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করেন, তাঁরাই এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়তে পারেন: ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাণিজ্যিক ইমেইল পেয়েছেন,ইমেইল পাওয়ার সময় ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন,ইমেইল ঠিকানাটি কোস্টকোর রেকর্ডে সংরক্ষিত ছিল। যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৬ সালের ২৪ আগস্টের মধ্যে একটি দাবিপত্র (ক্লেইম ফর্ম) জমা দিতে হবে। এজন্য কোনো কেনাকাটার রসিদ বা অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন নেই। দাবি জানানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো অনলাইনে ওয়াশিংটনকমার্শিয়ালইমেইলসেটেলমেন্ট ডটকম-এ গিয়ে ফর্ম পূরণ করা। যাঁরা ইতিমধ্যে ইমেইলে নোটিফিকেশন পেয়েছেন, তাঁরা সেখানে উল্লেখিত ক্লেইম আইডি ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না জানালে কোনো অর্থই পাওয়া যাবে না। এই নিষ্পত্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। আদালতের অনুমোদন পেতে হবে, যার শুনানি ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে। তবেই অর্থ বিতরণ করা সম্ভব। যাঁরা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়েন কিন্তু দাবি জানান না, তাঁরা ভবিষ্যতে কোস্টকোর বিরুদ্ধে এই একই বিষয়ে আলাদা মামলা করতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁরা আলাদাভাবে মামলা করার অধিকার সংরক্ষণ করতে চান, তাঁদের ২৪ আগস্টের মধ্যে এই নিষ্পত্তি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে (অপ্ট-আউট)। মামলার নথি অনুযায়ী, এই মামলার সম্ভাব্য ক্লাস সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৪০ হাজার। তবে সবাই দাবি জানাবেন না, তাই প্রকৃত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ এখনও অনিশ্চিত। এই নিবন্ধের তথ্য ফক্স বিজনেস ও আদালতের নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু অবৈধ অভিবাসীরাই নন, বৈধ ভিসা ও গ্রিনকার্ডধারীদেরও তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্তত ১৫টি বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাত্রীদের বাড়তি সতর্কতা দিচ্ছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে উঠলেও ঝুঁকি এড়াতে পারেন না কেউ। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে এক মা ও তাঁর মেয়েকে আটকের ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসে কানাডার এক নাগরিক ও তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা নবায়ন বা গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বিমানে চড়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ সম্প্রতি আইসিই কর্মকর্তারা চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে প্লেইনক্লথে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। যদিও সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা টিএসএ’র সহায়তায় যাত্রী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তবে তাঁদের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি থেকে। তখন টিএসএ’র প্রায় ৫০ হাজার কর্মী বিনাবেতনে কাজ করছিলেন, যার কারণে নিরাপত্তা জট লেগেছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইসিই কর্মীদের বিমানবন্দরে মোতায়েনের নির্দেশ দেন। যদিও অভিযান বাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তবে আইনজীবীরা বলছেন, শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রবাসী নেতারা। বৈধ কাগজপত্র সব সময় সঙ্গে রাখা, অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়ানো এবং কোনো আইসিই কর্মকর্তার মুখোমুখি হলে নীরব থাকার অধিকার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ সমুদ্রসৈকতে ভয়ংকর ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক শিশুর জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী এক লাইফগার্ড এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটি ঘটে সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে একটি শিশু সাগরে ভেসে গেলে ওই কিশোর লাইফগার্ড ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেও তিনি শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং পরে আরেকজন লাইফগার্ডের সহায়তায় তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধার করা শিশুটির বয়স আনুমানিক ১০ বছর বলে জানা গেছে। তাকে চিকিৎসকদের পরীক্ষা করানোর পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ওই লাইফগার্ড ও তার পরিবারকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান এবং তাকে একটি বিশেষ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস জানিয়েছে, বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও লাইফগার্ডরা নিয়মিত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে থাকেন। ওই সপ্তাহান্তে সান্তা ক্রুজ এলাকায় বড় ঢেউয়ের কারণে একাধিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ছাড়া সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পানিতে নামলে নিজেরাও বিপদে পড়তে পারেন। পেশাদার লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই অনেক সময় জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ঘটনা আবারও সমুদ্র নিরাপত্তা ও লাইফগার্ডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনাভিত্তিক বিখ্যাত নৌকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটসের মালিক এডি স্মিথ জুনিয়র নিজের কোম্পানি বিক্রি করে প্রায় ৪০ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেটি দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোম্পানির মুনাফা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হবে, এমন একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একটি ‘পারপাস ট্রাস্ট’-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। ৮৩ বছর বয়সী এডি স্মিথ ১৯৬৮ সালে আর্থিক সংকটে থাকা গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস কিনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চমানের মাছ ধরার নৌকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি বিক্রির জন্য শত শত মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডি স্মিথের একমাত্র ছেলে ক্রিস স্মিথ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। পরে আউটডোর পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ইভন শুইনার্ডের দাতব্য মালিকানা কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেন। নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানিটি ব্যক্তিগত মালিকানায়ই পরিচালিত হবে। ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকবে, তা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির কর্মীদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, লাভের অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন থাকবে। এডি স্মিথ বলেন, জীবনে তিনি যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তার বিশ্বাস। তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের পরিবর্তে নিজের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে কাজে লাগাতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের এভাবে বিক্রির বিপুল অর্থ ছেড়ে দিয়ে কোম্পানিকে স্থায়ীভাবে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও খুবই বিরল। প্যাটাগোনিয়ার পর গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস এ ধরনের মালিকানা কাঠামো গ্রহণ করা অন্যতম বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রিফেকচারে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া সংস্থা উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে এবং হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো প্রিফেকচারের কাছে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর পরপরই আরিয়াকে ও ইয়াতসুশিরো সাগর উপকূলের জন্য সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারে জরুরি ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। ভূমিকম্পের পর কিউশু অঞ্চলের বুলেট ট্রেনসহ বিভিন্ন রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েক হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের কার্যক্রমও নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য স্থগিত করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সড়ক ও ভবনের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন শুরু করেছে। জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আশপাশের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি। তবে শক্তিশালী আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জারি করা সুনামি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ উল্লেখযোগ্য সুনামির কোনো প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। তবে উদ্ধারকারী দল ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, কুমামোতো অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ২০১৬ সালে একই এলাকায় সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
ভারতের কর্ণাটকের বাগলকোট জেলায় ২৩ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন, এমন অবস্থায় তার বাবা-মাকে ভিডিও কলে সেই দৃশ্য দেখানো হয়। পরে ঘটনাটির ভিডিও আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছেও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিহত নারীর নাম ভাগ্যশ্রী জিগালুর (২৩)। অভিযুক্ত তার স্বামী প্রবীণ জিগালুর (২৯)। রবিবার সন্ধ্যায় বিলাগি তালুকের গালাগালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ প্রবীণকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রবীণ প্রথমে একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ভাগ্যশ্রীকে মারধর করেন। এরপর তাকে বাড়ির ভেতরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ভাগ্যশ্রী যখন জীবনের জন্য লড়াই করছিলেন, তখন প্রবীণ সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেন। একই সময়ে তিনি শ্বশুর-শাশুড়িকে ভিডিও কল করে তাদের মেয়ের শেষ মুহূর্ত দেখান। পরে ভিডিওটি বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছেও পাঠানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মান, ব্যয় ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বিবেচনায় ২০২৬ সালের সেরা ও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। এবারের মূল্যায়নে মিনেসোটা দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অধিকারী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, আর সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। ওয়ালেটহাব ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে। এসব সূচকের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ এবং চিকিৎসার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনেসোটার পাশাপাশি আইওয়া, রোড আইল্যান্ড, উটাহ ও নিউ হ্যাম্পশায়ারও শীর্ষ পাঁচে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে মিসিসিপির পাশাপাশি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, আলাস্কা, আরকানসাস ও ওকলাহোমা তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসকের প্রাপ্যতা বেশি, স্বাস্থ্যবিমা সহজলভ্য এবং চিকিৎসার মান উন্নত, সেসব রাজ্য সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বেশি, চিকিৎসক সংকট এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসূচক থাকা রাজ্যগুলো পিছিয়ে পড়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, ভালো স্বাস্থ্যসেবা বলতে শুধু উন্নত চিকিৎসার মান বোঝায় না; সেটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ব্যয়বহুল কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেমন কার্যকর নয়, তেমনি কম খরচের হলেও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবাও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবছর প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মূল্যায়ন নীতিনির্ধারকদের স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে ইরানের সমর্থন রয়েছে। যদিও তেহরান বরাবরই হুথিদের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে সামরিক পদক্ষেপ থেকে ওয়াশিংটন পিছিয়ে থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কারণেই ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না; প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। এদিকে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল-সম্পর্কিত স্থাপনা ও জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন হামলার দাবি করেছে। এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওমান, কাতার, চীন ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, হুথি বিদ্রোহী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘বেইমানি’ করেছিলেন। তার ভাষ্য, এ কারণেই তারা ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাননি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি বলেন, জুলাই মাসে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এনসিপি। তবে দলটির নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রসঙ্গের পরিবর্তে বিএনপির সমালোচনা এবং বিএনপির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের হুমকিই বেশি শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাশেদ খান আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের একটি অডিও থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অডিওতে এমন বক্তব্য রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছিলেন। তবে রাশেদ খানের এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এছাড়া হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও বা অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর বিষয়বস্তু স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে একটি কাঁচা সড়কে ইট-বালু ফেলে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয়। সরকারি অর্থে এমন অস্থায়ী কাজের পর ইট তুলে নেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের সুবিধার্থে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি এই ইট বিছানোর তোড়জোড় চলে। স্থানীয় সূত্রে ও এলজিইডির তথ্যানুযায়ী, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসে 'মেসার্স হক ট্রেডার্স' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। এর মধ্যেই গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। তার এই সফরে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন এবং পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ঘিরেই এলজিইডি জরুরি ভিত্তিতে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে তড়িঘড়ি করে অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানোর ব্যবস্থা করে। এই অস্থায়ী কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। সড়কটিতে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু ফেলার পর তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ইটগুলো মূলত ভাড়া করে আনা হয়েছিল, কারণ কিনে এই কাজ করতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। যেহেতু সড়কটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণের কাজ আগেই বরাদ্দ হয়েছে, তাই ঠিকাদারকে অস্থায়ীভাবে বিছানো ভাড়ার ইটগুলো তুলে নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সীমানা জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী অক্টোবরের মধ্যে মূল কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, অস্থায়ী এই সংস্কার ও আনুষঙ্গিক কাজের ১০ লাখ টাকার মধ্যে গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা এখনো ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে কঠোর হামলার হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে তার দেশ দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেন যে, তার প্রশাসন ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান দ্রুত ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার মার্কিন হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়াটা কোনো শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একটি স্বাধীন জাতির প্রবল ইচ্ছাশক্তির সামনে শত্রুর চরম হতাশারই লক্ষণ। মার্কিন প্রশাসনের এমন আগ্রাসী মনোভাবের মুখে ইরান যে নিজেদের রক্ষায় এক বিন্দুও ছাড় দেবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল থাকবে, বিশ্ববাসীর কাছে সেই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি ব্যবহার করতেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবনের এই একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও অবস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব নিজের কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিলের ওপর থেকে ল্যাপটপটি রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষটিতে বেশ কিছু মানুষের উপস্থিতিও ছিল। পরবর্তীতে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি চালিয়েও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে দাবি করা হয়েছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের ধারণা, ওই ব্যক্তির ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬ তলার মতো সংবেদনশীল স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দর্শনার্থীরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করতে পারেন এবং লিফট থেকে নামার পর কোনো ধরনের নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই সরাসরি দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা যায়, যা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্বিক বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানান, চুরির ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছিল। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লোকবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিশাল এই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য, যা পুরো ভবনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।