সিএনএন জরিপে বড় চমক, জনপ্রিয়তায় শীর্ষে উঠে এলেন জোহরান মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপ। জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের কাছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার পরেই রয়েছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)।
সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক ভোটারদের মধ্যে মামদানির নেট অনুকূল মতামত (নেট ফেভারেবিলিটি) দাঁড়িয়েছে +৫৪ শতাংশ। এওসির ক্ষেত্রে এই হার +৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট অনুকূল মতামত প্রায় +২২ শতাংশ এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের ক্ষেত্রে তা মাত্র +১ শতাংশ।
জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের তুলনায় নতুন প্রজন্মের প্রগ্রেসিভ নেতাদের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বৈষম্যের মতো ইস্যুতে সরব অবস্থান নেওয়ায় মামদানি ও এওসি তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। অনেক পোস্টে বলা হচ্ছে, “জোহরান মামদানি আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট।” কিন্তু সিএনএনের এই জরিপে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিমাপ করা হয়নি। এটি পরিচালিত হয়েছে শুধুমাত্র ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে। ফলে এই ফলাফলকে দেশের সব ভোটারের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
একইভাবে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত “ডেমোক্র্যাট ভোটাররা নিজেদের দলের চেয়েও মামদানিকে বেশি বিশ্বাস করেন” এমন দাবিও জরিপের সরাসরি ফল নয়। কারণ জরিপে ভোটারদের ‘বিশ্বাস’ নয়, বরং বিভিন্ন নেতার প্রতি তাদের ‘অনুকূল বা প্রতিকূল মতামত’ পরিমাপ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জরিপ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলের তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন বাড়ছে কি না, সে প্রশ্নে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে এই ফলাফল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের বাসিন্দা জোডি স্মিথের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও প্যানিক অ্যাটাক ছিল নিত্যসঙ্গী। পরে এপিলেপসি ধরা পড়ার পর ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না আসায় ২৮ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডান পাশের অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস এবং ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। এরপর স্মিথের দাবি, তার জীবনে ভয় অনুভব করার বিষয়টিই যেন বদলে যায়। স্মিথের সমস্যার শুরু হয়েছিল অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বারবার প্যানিক অ্যাটাক দিয়ে। পরে তার এপিলেপসি শনাক্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে খিঁচুনির সূত্রপাত হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে সমস্যা কমানো। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে বিশেষ প্রোব বসিয়ে কয়েক দিন ধরে খিঁচুনির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশ, ডান অ্যামিগডালা ও ডান হিপোক্যাম্পাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই স্মিথ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তিনি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আগে যে পরিস্থিতিতে তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতো, সেসব ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই বদলে যায়। স্মিথের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়ও আগের মতো অনুভূত হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশ কিংবা অন্য কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিতেও তিনি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারছিলেন। এক ঘটনায় নিউ জার্সিতে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেছিল বলে স্মিথ জানিয়েছেন। তার দাবি, পরিস্থিতিটি ছিনতাইয়ের মতো মনে হলেও তিনি আগের মতো আতঙ্কিত হননি এবং সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। মাকড়সার মতো বিষয় নিয়েও তার ভয় অনেকটাই কমে যায় বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা মানুষের ভয় ও হুমকির প্রতিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অ্যামিগডালার কার্যক্রমে পরিবর্তনের পর ভয় অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের ভয় দূর করার জন্য এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন না। স্মিথের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ করা। অস্ত্রোপচারের পর ভয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মিথ কিছু স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এ ধরনের পরিবর্তন দেখায়, ভয় শুধু একটি নেতিবাচক অনুভূতি নয়, বরং বিপদ শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিলেপসি বা নির্দিষ্ট নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ভয়-প্রতিক্রিয়া কমানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলা নিরাপদ বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। জোডি স্মিথের ঘটনাটি তাই শুধু একজন মানুষের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার গল্প নয়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ভয়, স্মৃতি, আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও একটি আলোচিত উদাহরণ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এপিলেপসি চিকিৎসার পাশাপাশি ভয় অনুভবের ক্ষমতায় যে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, সেটিই পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনার একটি আলোচিত চরিত্রে পরিণত করেছে।
মর্টগেজ রেট বাড়ার শঙ্কা, বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমবার স্বীকার করল ওয়াশিংটন
৪ বছর বয়সে চিকিৎসকরা বলেছিলেন সে কখনো স্বাবলম্বী হবে না, আজ তিনি হতে যাচ্ছেন ডাক্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮২ লাখ পরিবারকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচের চাপ সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের এককালীন ভর্তুকির চেক দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এসব চেক ডাকযোগে পাঠানো শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে তা বিতরণ করা হবে। গভর্নর ক্যাথি হকুলের প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট’ বা ‘পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অঙ্গরাজ্য বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ লাখ করদাতা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা কমাতেই এই এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শরৎ ও শীতের মাসগুলো সামনে রেখে ঘর গরম রাখা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ে, তখন এই অর্থ তাৎক্ষণিক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। গভর্নর হকুল বলেছেন, নিউইয়র্কের অনেক পরিবার বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচের চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সরাসরি মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে চাইছে। আয়ের পরিমাণ ও কর দাখিলের ধরন অনুযায়ী চেকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারী দম্পতি বা দম্পতিদের মধ্যে যাদের ২০২৪ সালের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা ২০০ ডলার পাবেন। একই ধরনের করদাতাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে তারা পাবেন ১৫০ ডলার। আর এককভাবে কর দাখিলকারী যাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা পাবেন ১০০ ডলার। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষের জন্য সময়মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরো বছর নিউইয়র্কের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্য কারও কর রিটার্নে নির্ভরশীল ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। চেকগুলো সরাসরি যোগ্য পরিবারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ চলবে। ফলে সব যোগ্য পরিবার একই দিনে বা একই সময়ে চেক পাবে না। নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবেই এই ১ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে। মে মাসে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি জানায়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে ‘পাওয়ার’ চেকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নিউইয়র্ক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল কমাতে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরাসরি সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, আবহাওয়াজনিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মতো কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এককালীন ১০০ থেকে ২০০ ডলারের অর্থ সহায়তা পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কিছুটা কমাতে পারলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যের সমস্যার সমাধান করবে না। তাদের মতে, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন। নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর জন্য জ্বালানি খরচ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। রাজ্য সরকারও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বাজেটে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন প্ল্যান’ নামে একটি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা হলে তার একটি অংশ গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কের নতুন কর্মসূচিটি অবশ্য প্রচলিত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক সহায়তা কর্মসূচি নয়। বরং নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক করদাতাকে একবারের জন্য সরাসরি অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ। রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৮২ লাখ নিউইয়র্কবাসী উপকৃত হবেন এবং মোট ১ বিলিয়ন ডলার মানুষের হাতে পৌঁছাবে। চেক পেতে যোগ্য বাসিন্দাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে না হওয়ায় রাজ্য আশা করছে, অর্থ সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফলে ঠিকানা বা করসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের রেকর্ড ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ও নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিং।
প্রথম দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, পরদিনই গাড়ি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু
ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে