রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ বিদেশ থেকে ফেরার সময় ১৪ বোতল অ্যালকোহলসহ আটক হন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তবে আইন অনুযায়ী মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও রহস্যজনকভাবে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি গত ১৭ আগস্টের। ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তার স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল লিকার উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বহন ও আমদানি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন বেআইনি। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যাত্রীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আটক সংক্রান্ত নোটে উল্লেখ করা হয় যাত্রীরা যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘন করে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য বহন করেছেন। জব্দ পণ্য আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য আটক রাখা হয়েছে। নোটে ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলীর স্বাক্ষর রয়েছে।
বর্তমানে সিলেটে কর্মরত মো. মোতাকাব্বির আলী বলেন, “আটকের পর সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
সূত্র জানায়, ঘটনাটিতে দায়িত্বে থাকা দুই প্রটোকল কর্মকর্তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তবে অভিনেত্রী মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। মামলা না করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মেহজাবীন, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। মোবাইল ফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি। এক অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেহজাবীন ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
আইন অনুযায়ী যেখানে মামলা ও অধিদপ্তরে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে, সেখানে কী কারণে তা অনুসরণ করা হয়নি এ প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে জনমত।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ বিদেশ থেকে ফেরার সময় ১৪ বোতল অ্যালকোহলসহ আটক হন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তবে আইন অনুযায়ী মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও রহস্যজনকভাবে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি গত ১৭ আগস্টের। ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তার স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল লিকার উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বহন ও আমদানি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন বেআইনি। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যাত্রীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আটক সংক্রান্ত নোটে উল্লেখ করা হয় যাত্রীরা যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘন করে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য বহন করেছেন। জব্দ পণ্য আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য আটক রাখা হয়েছে। নোটে ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলীর স্বাক্ষর রয়েছে। বর্তমানে সিলেটে কর্মরত মো. মোতাকাব্বির আলী বলেন, “আটকের পর সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” সূত্র জানায়, ঘটনাটিতে দায়িত্বে থাকা দুই প্রটোকল কর্মকর্তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তবে অভিনেত্রী মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। মামলা না করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে মেহজাবীন, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। মোবাইল ফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি। এক অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেহজাবীন ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আইন অনুযায়ী যেখানে মামলা ও অধিদপ্তরে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে, সেখানে কী কারণে তা অনুসরণ করা হয়নি এ প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে জনমত।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতি ভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে। তবে পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বয়াতির মন্তব্যের পর সমর্থন ও প্রতিক্রিয়ার ধারা কমেন্ট সেকশনে ছড়িয়ে পড়েছে। কুদ্দুস বয়াতি দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়েও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। কুদ্দুস বয়াতি বাংলাদেশের লোকসংগীত, গ্রামীণ ও বাউল গানের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। ১৯৯২ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত প্রাথমিক শিক্ষার প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘এই দিন, দিন না আরো দিন আছে’ শিরোনামের গান গেয়ে পরিচিতি পান। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়ে ব্র্যাকের ‘জাইনা চলেন, মাইনা চলেন’ প্রজেক্টে অংশ নেন। প্রকাশিত দুটি একক অ্যালবাম ছাড়াও অসংখ্য জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে গান গেয়েছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজীবপুর গ্রামে। বয়াতি ভোট ও নির্বাচনী সচেতনতার বিষয়ে সরব হয়ে সমাজে একটি প্রাসঙ্গিক বার্তা দিচ্ছেন, যা বর্তমানে দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা শোবিজের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও ধর্মীয় অনুশীলন নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালন করেন তিনি। গত বছর ওমরাহ পালন করতে মক্কায় গিয়ে ফিরে এসে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী। সে সময় তিনি জানান, ভবিষ্যতে সন্তানদের বড় করার দিকে মনোযোগ দিতে সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াবেন। নিজের ঘোষণায় এখনো অটল রয়েছেন বর্ষা। বর্তমানে তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না। তবে মাঝে মাঝে ফটোশুট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। অবসর সময়ে তিনি বই পড়তে ভালোবাসেন, বিশেষ করে ধর্মীয় বই পড়ায় তার আগ্রহ বেশি। সম্প্রতি তেমনই একটি বই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বর্ষা। সেখানে তিনি জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে আজহারীর লেখা ‘এক নজরে কুরআন’ বইটির কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। ক্যাপশনে বর্ষা লেখেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বইটি পড়তে আগ্রহী ছিলেন। তিনটি কপি অর্ডার করেছিলেন, যার মধ্যে দুটি তার বোনদের জন্য। বইগুলো হাতে পেয়ে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, জীবনে অনেক কিছুই এখনো অজানা, তবে এই বইটি পড়ে তিনি অনেক নতুন বিষয় জানতে পারবেন বলে আশা করছেন। পাশাপাশি বইটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ড. মিজানুর রহমান আজহারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার মঙ্গল কামনা করেন। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বর্ষার। এতে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। তাদের সংসারে আরিজ ইবনে জলিল ও আবরার ইবনে জলিল নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।