আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী-মডেল সিমরিন লুবাবা-এর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক-এ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও পোস্টটি তাঁর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে, লুবাবার বিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মা জাহিদা ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া পরিবারের সূত্র থেকেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লুবাবার পোস্টে থাকা ছবিতে বর ও কনের চেহারা পরিষ্কার নয়। পাত্রের পরিচয়ও তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবী করলেও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত বছরের শেষদিকে হঠাৎ করেই বিনোদন জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন লুবাবা। তখন তিনি জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে মনোনিবেশ এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিমরিন লুবাবার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেও বিয়ে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
হলিউড অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন তাঁর দীর্ঘদিনের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িটি প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছেন। বাজারে ছাড়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িটির ক্রেতা পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয়েছে ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৭২ ডলারে, যা তাঁর নির্ধারিত ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে সামান্য কম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Realtor.com–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকোটা জনসন ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বাড়িটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। সে সময় জনপ্রিয় ‘ফিফটি শেডস’ চলচ্চিত্র সিরিজে অভিনয় করে পাওয়া পারিশ্রমিকের একটি অংশ দিয়ে তিনি এই সম্পত্তি কেনেন। পশ্চিম হলিউডের একটি শান্ত আবাসিক এলাকায় অবস্থিত তিন শয়নকক্ষ ও তিন বাথরুমের এই বাড়িটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। এর নকশা করেছিলেন মধ্য-শতাব্দীর আধুনিক স্থাপত্যধারার খ্যাতিমান স্থপতি কার্ল ম্যাস্টন। প্রায় ৩ হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িটি ক্যালিফোর্নিয়ার আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম সুন্দর উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। বাড়িটির বিশেষ আকর্ষণ হলো কাঠ, কংক্রিট ও কাচের সমন্বয়ে তৈরি নকশা, যেখানে ঘরের ভেতর ও বাইরের পরিবেশের মধ্যে স্বাভাবিক সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিশাল কাচের দেয়াল দিয়ে প্রাকৃতিক আলো সরাসরি ঘরে প্রবেশ করে এবং সেগুলো খুলে দিলে পেছনের সুইমিং পুল ও বাগানের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় পুরো বসার জায়গা। বাড়িটি কেনার পর ডাকোটা জনসন খ্যাতনামা ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠান Pierce & Ward–এর সহযোগিতায় এর ব্যাপক সংস্কার করেন। পরে ২০২০ সালে Architectural Digest-এর জন্য নিজের এই বাড়ির দরজা খুলে দেন তিনি। সেই প্রতিবেদনে অভিনেত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের নানা স্মৃতিচিহ্নও দেখান। এর মধ্যে ছিল তাঁর দাদি ও অভিনেত্রী টিপি হেড্রেনের লেখা একটি নোট, ২০১৫ সালে Saturday Night Live অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার একটি ছবি এবং শিল্পী ডেভিড হকনি ও হারমনি কোরিনের আঁকা শিল্পকর্ম। এক সময় এই বাড়িকে নিজের ‘ট্রি হাউস’ বা গাছবাড়ি বলে উল্লেখ করেছিলেন ডাকোটা। চারপাশে ঘন সবুজ গাছপালায় ঘেরা পরিবেশের কারণে বাড়িটি তাঁর কাছে ছিল বিশেষ প্রিয়। মজার বিষয় হলো, মাত্র ছয় বছর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, এই বাড়ি বিক্রি করার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই। Architectural Digest-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রথমবার বাড়িটি দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমি কখনোই এই বাড়ি বিক্রি করতে চাইব না।’ তিনি আরও বলেছিলেন, অভিনয়জীবন দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সময় নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা প্রয়োজন ছিল। তাই ‘ফিফটি শেডস’ সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় বিনিয়োগ। ডাকোটা জনসনের ভাষায়, ‘আমার কাজের কারণে সময়সূচি খুব দ্রুত বদলে যায়। তাই এমন একটি জায়গা দরকার ছিল, যেখানে ফিরে এসে মনে হবে এটি পুরোপুরি আমার। মানসিকভাবে এই বাড়িই ছিল আমার নোঙর।’ বাড়িটির ইতিহাসও তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। স্থপতি কার্ল ম্যাস্টন মধ্য-শতাব্দীর আধুনিক স্থাপত্যের দুই কিংবদন্তি রিচার্ড নিউট্রা ও জন লটনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ডাকোটার ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাস্টন ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বাড়ির অতীতও তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। সংস্কারের সময় মূল নকশার অনেক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা হয়। কাঠের দেয়াল, উন্মুক্ত বিম, লাল ইটের অংশ এবং বিস্তৃত কাচের দেয়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে উপরের তলার কর্কের মেঝে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি পরিবর্তন করে টেকসই হার্ডউড ফ্লোরিং বসানো হয়। বিশেষভাবে সাজানো হয় মূল শয়নকক্ষও। সেখানে বড় ওয়াক-ইন ক্লোজেট, প্রশস্ত বাথরুম এবং একটি বড় স্নানটব রাখা হয়েছে। বাথরুমের দেয়ালে ব্যবহৃত গোলাপি রঙটি অনুপ্রাণিত হয়েছিল বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড The Row–এর একটি সোয়েটারের রঙ থেকে। একই সঙ্গে সেখানে ডাবল ওয়াশবেসিনও রাখা হয়েছে, যা নিয়ে একসময় মজা করে ডাকোটা বলেছিলেন, ‘সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি হলো দুটি আলাদা সিংক।’ বাড়ির বাইরে রয়েছে সুইমিং পুল, বারবিকিউ করার জায়গা, ফায়ার পিট, একাধিক খোলা বসার স্থান এবং উঁচু একটি প্যাটিও, যেখান থেকে পুরো বাগান দেখা যায়। ডাকোটা জনসন কেন এই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। তবে গত বছর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের আউটপোস্ট এস্টেটস এলাকায় প্রায় ৫৩ লাখ ডলার দিয়ে আরেকটি ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের বাড়ি কিনেছেন। নতুন বাড়িটিতে রয়েছে চারটি শয়নকক্ষ, সাড়ে চারটি বাথরুম এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের বসবাসের জায়গা। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও সম্প্রতি আলোচনায় রয়েছেন ডাকোটা জনসন। কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টানার পর তাঁর সঙ্গে সংগীতশিল্পী রোল মডেল, যার প্রকৃত নাম টাকার পিলসবারি, সম্পর্কে থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডালাসের স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা Shakira। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে গ্যালারির একটি মুহূর্ত, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রচার ক্যামেরা যখন শাকিরার দিকে ঘুরে যায়, তখন তার পাশে বসা এক তরুণকে দেখা যায় গালে স্নেহের চুমু দিতে। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ওই তরুণের পরিচয় নিয়ে নানা জল্পনা শুরু করেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, তিনি হয়তো শাকিরার নতুন কোনো ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা বিশেষ ব্যক্তি। তবে পরে জানা যায়, রহস্যময় সেই তরুণ আসলে অন্য কেউ নন, শাকিরার বড় ছেলে Milan Piqué Mebarak। ফুটবল ম্যাচ দেখতে শাকিরা তার দুই ছেলে মিলান ও Sasha Piqué Mebarakকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া মুহূর্তটি ছিল মা ও ছেলের স্বাভাবিক পারিবারিক ভালোবাসার প্রকাশ। শাকিরার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যারা খুব বেশি অবগত নন, তাদের অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ছেলেদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পর দ্রুতই সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ম্যাচ চলাকালে শুধু এই একটি মুহূর্তই নয়, আরও কয়েকবার ক্যামেরার ফোকাসে আসেন শাকিরা। এক পর্যায়ে তাকে দুই ছেলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। দর্শকদের উদ্দেশে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিতেও দেখা গেছে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে। স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহের জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, শাকিরা ও সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার Gerard Piquéর দুই ছেলে মিলান ও সাশা দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম ও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও পারিবারিক আয়োজনে তাদের মায়ের সঙ্গে দেখা যায়। ফলে সাম্প্রতিক এই ভাইরাল মুহূর্তটিও শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ পারিবারিক দৃশ্য হিসেবেই সামনে এসেছে। মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল লড়াই শেষ হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শাকিরা ও তার দুই ছেলের উপস্থিতি। বিশেষ করে মা-ছেলের স্নেহময় মুহূর্তটি ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই এটিকে একজন মায়ের সঙ্গে সন্তানের স্বাভাবিক ও সুন্দর সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোয়েল মল্লিক ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে চলা তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি ইমেইল মারফত তিনি নিজের চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় পরাজয়ের পর দলটির ভেতরে যে চরম অভ্যন্তরীণ জটিলতা তৈরি হয়েছে, মূলত সেই পরিস্থিতির মাঝেই কোয়েল মল্লিক এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে দলটির রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। কোয়েল মল্লিকের এই ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগেই তৃণমূলের প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক একে একে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের সেই পথ অনুসরণ করে এবার পশ্চিমবঙ্গের এই প্রথম সারির জনপ্রিয় অভিনেত্রীও নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে ভারতের রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ১৩ জন থেকে এক ধাক্কায় কমে মাত্র ৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের এই বড় ধরনের ভাঙন বা সংকট এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলটির আরও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম যখন গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় দেখা গিয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের ভেতরের অনেকেই বেশ অবাক হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। সে সময় সক্রিয় রাজনীতিতে আসা এবং জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রসঙ্গে কোয়েল মল্লিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মানুষের সেবা করা এবং দেশের সেবার মতো মহৎ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি সদস্যপদ থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন।