অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সরবরাহ চেইন-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেলে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ চিপ, আরও ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা, বড় ব্যাটারি এবং নতুন লঞ্চ কৌশল দেখা যেতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি হতে পারে নতুন এ২০ চিপ। ধারণা করা হচ্ছে, টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রসেসর আগের তুলনায় আরও দ্রুতগতির হবে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমাবে। পাশাপাশি সিপিইউ, জিপিইউ, নিউরাল ইঞ্জিন ও মেমোরির সমন্বিত কার্যক্ষমতাও বাড়বে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ছবি তোলা কিংবা দৈনন্দিন অন্যান্য কাজে বর্তমান প্রজন্মের আইফোনও যথেষ্ট দ্রুত। ফলে অধিকাংশ ব্যবহারকারী নতুন চিপের বাড়তি সক্ষমতা সব সময় স্পষ্টভাবে অনুভব নাও করতে পারেন।
ক্যামেরা বিভাগেও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা পরিবেশের আলো অনুযায়ী নিজে থেকেই অ্যাপারচার পরিবর্তন করতে পারবে। এর ফলে কম আলো ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল পরিবেশ, উভয় ক্ষেত্রেই আরও উন্নত ছবি তোলা সম্ভব হতে পারে। যদিও সাধারণ ব্যবহারকারীদের ছবি তোলার অভ্যাসে খুব বড় পরিবর্তন আসবে না, তবে ছবির মানে উন্নতি দেখা যেতে পারে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অ্যাপল ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থানান্তর করতে পারে। এতে ডাইনামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট হবে এবং পুরো ডিসপ্লে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে প্রায় ৫,২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে, যা আগের মডেলের তুলনায় বড়। নতুন প্রসেসর ও উন্নত মডেমের কারণে চার্জ ব্যাকআপও বাড়তে পারে। তবে বড় ব্যাটারির কারণে ফোনটি কিছুটা মোটা ও ভারী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
এবার লঞ্চ কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে অ্যাপল। একাধিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকের দাবি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রো মডেল ও সম্ভাব্য ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হতে পারে। এরপর ২০২৭ সালের বসন্তে সাধারণ আইফোন ১৮, আইফোন এয়ার ২ এবং আইফোন ১৮ই বাজারে আনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে পারে ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, কম আলোয় উন্নত ছবি তোলার সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় একই গতিতে ফোন ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা। অর্থাৎ, নতুন প্রযুক্তির চেয়ে প্রতিদিনের ব্যবহারকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও আরামদায়ক করে তোলাই আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়ে উঠতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreঅ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন। ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন। নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য। জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর। ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন। সূত্র: ফোর্বস
পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড
আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’
বড় চমক নিয়ে আজ অ্যাপলের ইভেন্ট, আসছে আইফোন ১৮ ও ভাঁজ করা আইফোন!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত। তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান
আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!
মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের পরিবারের। নিজের পাসপোর্ট করাতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকেই ঘুষের অভিযোগ জানানোর জন্য তৈরি করেছেন ‘ঘুষ ডট সাইট’। ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন শাহেদের মা আমিনা খাতুন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অসুস্থতায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর পরিবারের পাওনা ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড। শাহেদের পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। পরিবারটির দাবি, এখনো কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থের ফাইল এগিয়ে নিতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহেদ। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি ও কোডিংয়ে আগ্রহ রয়েছে তার। দুই ঘণ্টায় তৈরি ‘ঘুষ ডট সাইট’ একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে সাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় সাইটটি চালু করা হয়। গত ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়েই এটি আলোচনায় আসে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে সাইটটিতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করতে বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল কাজ করছে। যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার উদ্যোগ অভিযোগকারীরা যাতে নতুন করে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য তাদের পরিচয় গোপন রাখছে ‘ঘুষ ডট সাইট’। আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমও ছেলের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে তাকেও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং এখনো প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থ পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনও বলেন, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছেন শাহেদ। তার লক্ষ্য—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যেন কাউকে ঘুষ দিতে না হয় এবং অনিয়মের তথ্য মানুষের সামনে আসে।
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০