বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার সেখানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সমাবেশ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সরকারকে আগামী সাত দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সেখানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানা গেছে।
সমাবেশে আসা আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচ বা তেলাপোকার মাস্ক, যা অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সিজেপি প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেবল দেশ, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নামে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং ফুল দেখা যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে নিয়ে সরাসরি এই সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দিপক।
তরুণদের এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজের এমন সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনম ওয়াংচুক। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় অভিজিৎ দিপক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে তার মা কেঁদেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবাসের ভয়ে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেলেও দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিক্রি হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আলটিমেটাম ঘোষণা করে বলেন, হয় ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন, না হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বরখাস্ত করুন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে এবং আজ থেকেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলো। নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন আন্দোলন থেকেই মূলত এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে উঠেছে।
এদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জনকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস না করে কেবল অফিশিয়াল বার্তার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ইসলামাবাদের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো এক আবেদনে পাঁচ বছর মেয়াদি এই দ্বিপক্ষীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তহবিলের অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে, যাতে রুপির ওপর চাপ কমে এবং আন্তর্জাতিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পায়। জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছিল, তার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়। ইসলামাবাদের আশা, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাত বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। সেই কর্মসূচির শর্ত পূরণে সরকার কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। রাজনৈতিকভাবে এসব পদক্ষেপ বিতর্কিত হলেও অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে এগুলো প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছে সরকার। প্রস্তাবিত তহবিল অনুমোদন হলেও আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ থেকে এ ধরনের সহায়তা খুবই বিরল। সাধারণত কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, কারেন্সি সুয়াপ বা আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পরিচালিত স্থায়ী ডলার সুয়াপ ব্যবস্থার অংশ নয়। এর আগে ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এবং ২০০২ সালে উরুগুয়ে একই ধরনের সহায়তা পেয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পৃথক ডলার সুয়াপ ব্যবস্থার বর্তমান আকার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।
ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক চিকিৎসক ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে টোকান্টিন্স অঙ্গরাজ্যের রাজধানী পালমাসের একটি ছোট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি পারা অঙ্গরাজ্যের রেডেনসাও শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। এতে পাইলটসহ মোট তিনজন আরোহী ছিলেন। নিহতরা হলেন ৬৮ বছর বয়সী চিকিৎসক এডারসন দা সিলভা এবং তার ৬২ বছর বয়সী স্ত্রী রোজেলি আমারিলদা পেচুলো সিলভা। তারা পারা অঙ্গরাজ্যের রেডেনসাও শহরের বাসিন্দা এবং সেখানে সাও লুকাস হাসপাতালের মালিক ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারা চিকিৎসকের বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই উড্ডয়ন করেছিল। তবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এরপর একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং বিমানটি একটি খামারসংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। রোজেলিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসক এডারসনকে জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হলেও পরে তারও মৃত্যু হয়। পাইলট হ্যামিলটন লোপেস দা কনসেইসাও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকলেও তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে। ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের ঘটনার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের শিরাজ, কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানায়, তারা বাহরাইনে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত আবাসন এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির নাবিকদের লাইফবোটে আশ্রয় নিতে হয়। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। তবে ঘটনাগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি। সংঘাতের এই নতুন পর্যায় শুরু হয় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর। এর ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং হরমুজ প্রণালি—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ—নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তানে গিয়ে মধ্যস্থতা পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।