সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২:৩৬
ছবি: আল জাজিরা
ছবি: আল জাজিরা

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার সেখানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সমাবেশ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সরকারকে আগামী সাত দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সেখানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানা গেছে।

 

সমাবেশে আসা আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচ বা তেলাপোকার মাস্ক, যা অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সিজেপি প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেবল দেশ, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নামে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং ফুল দেখা যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে নিয়ে সরাসরি এই সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দিপক।

 

তরুণদের এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজের এমন সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনম ওয়াংচুক। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় অভিজিৎ দিপক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে তার মা কেঁদেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবাসের ভয়ে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেলেও দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিক্রি হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আলটিমেটাম ঘোষণা করে বলেন, হয় ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন, না হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বরখাস্ত করুন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে এবং আজ থেকেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলো। নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন আন্দোলন থেকেই মূলত এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে উঠেছে।

 

এদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জনকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস না করে কেবল অফিশিয়াল বার্তার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
রের আদালতে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেলেন টিভি উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা
মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকা সারাহ খলিফার মৃত্যুদণ্ড

মাদক মামলায় মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা এবং আরও ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার কায়রোর একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল সংগ্রহ ও পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। মামলায় মোট ২৮ জন আসামি ছিলেন। আদালত একই মামলায় আরও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং সাতজনকে খালাস দিয়েছেন। মামলায় ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামে একটি নিরাপত্তা ও অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। বেসরকারি আল-মেহওয়ার টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে; ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী দুই মিলিয়নের বেশি। তবে খলিফা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি বলেছেন, জীবনে কখনো সিগারেটও পান করেননি এবং তিনি নির্দোষ। মামলার তদন্তে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই চক্র বিদেশ থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করত। পরে আবাসিক ভবনে এসব উপকরণ মজুত করে কৃত্রিম মাদক তৈরি করা হতো। চক্রের সদস্যদের মধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহ, মাদক তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও জব্দ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তদন্তের অংশ হিসেবে সারাহ খলিফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আদালতকে এ মতামত নিতে হয়। তবে এই মতামত বাধ্যতামূলক নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিচারিক সংস্কারের আওতায় আসামিরা প্রথমে আপিল আদালতে পুনর্বিচারের আবেদন করতে পারেন এবং এরপর ক্যাসেশন কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে শনিবারই একই আদালত অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফাকে তার গাড়িচালককে মারধর ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মিসরে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৬:১৭
এফবিআইয়ের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক মনজিৎ সিং ভারতে গ্রেপ্তার

৬ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে পলাতক, ভারতে ধরা পড়ল এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ প্রতারক

সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন
গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

গাজা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর প্রকৃত মালিক কেবল ফিলিস্তিনের জনগণ। গাজার মর্যাদা নিয়ে নিজেদের এই শক্ত অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেছে চীন। সম্প্রতি এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন।   তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাজাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক খেলায় দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বেইজিং যে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেটি আবারও স্পষ্ট করা হলো।   চীনের এই বক্তব্য মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি দেশটির অব্যাহত সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং গাজার বর্তমান মর্যাদা বা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে দেশটি।   সংঘাত-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি যেসব প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর প্রেক্ষিতেই সরকারি সংবাদ সম্মেলনে গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে চীন বরাবরই এই সংঘাতের একটি সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে কথা বলে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৭:৫৫
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

৩ বছরে গাজায় ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ৬৪ বছরের নারী

কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ভালোবাসার বাসে অশ্রুসিক্ত বিদায়! ১৮ বছর পর প্রিয় বাসকে চুমু খেয়ে অবসরে কেএসআরটিসি চালক

কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। দীর্ঘ কর্মজীবনে যে বাসটি বছরের পর বছর চালিয়েছেন, অবসরের শেষ দিনে সেই বাসকেই আবেগঘনভাবে বিদায় জানান তিনি। শেষ যাত্রা শেষে বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দিয়ে এবং বাসটিকে স্যালুট করে নীরবে সেখান থেকে চলে যান পল।   ২ সেপ্টেম্বর ইদুক্কির কুমিলি ডিপো থেকে নিজের শেষ যাত্রা শুরু করেন পল কুরিয়ান। দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনের পর এটিই ছিল তার শেষবারের মতো বাস চালানো। যাত্রা শেষে বাস থেকে নামার সময় প্রিয় বাসটির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি।   শেষ যাত্রা শেষ হওয়ার পর পল কুরিয়ান বাসটির স্টিয়ারিংয়ের কাছে যান। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তিনি স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেন। এরপর বাসটির দিকে ফিরে স্যালুট করেন। সবশেষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে বাসটি ছেড়ে চলে যান তিনি।   পল কুরিয়ানের এই আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্তটি কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তটি প্রকাশের পর তা অনলাইনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দীর্ঘদিন ধরে একই পেশায় থাকা একজন চালকের কর্মজীবনের শেষ মুহূর্তের এই দৃশ্য অনেকের মন ছুঁয়ে যায়।   ১৮ বছর ধরে কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে কাজ করার সময় বাসটি পল কুরিয়ানের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বাসটি চালানোর পর অবসরের দিনে সেটির প্রতি এমন আবেগঘন বিদায় তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে।   শেষ যাত্রার পর বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়ার পাশাপাশি পল কুরিয়ান সেটিকে স্যালুটও করেন। এরপর তিনি চুপচাপ সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। অল্প সময়ের এই দৃশ্যেই ফুটে ওঠে দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ।   কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা ছবির ও ভিডিওর মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পল কুরিয়ানের বিদায়ের আবেগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনের সঙ্গী একটি বাসকে অবসরের দিনে এভাবে বিদায় জানানোর দৃশ্যটি মানুষের কাছে বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে উঠেছে।   পল কুরিয়ানের শেষ যাত্রার এই মুহূর্তে কোনো দীর্ঘ বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না। বরং বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়া, সেটিকে স্যালুট করা এবং এরপর নীরবে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।   ১৮ বছর ধরে যে পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অবসরের দিন সেই পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে এভাবে বিদায় জানান পল কুরিয়ান। তার শেষ যাত্রা এবং বাসটির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মনোযোগ কেড়েছে।   দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে পল কুরিয়ানের এই বিদায় তাই তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা সেই দৃশ্যেই দেখা যায়, শেষবারের মতো প্রিয় বাসটিকে চুমু দিয়ে ও স্যালুট করে নীরবে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:১৫
মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯ জন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের জন্য পাত্রী মিলছে না, ভারতের এক জেলায় ৬ মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

নিজ হাতে অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় বিট্টু তাবাহি

নিজ হাতে নদী পরিষ্কার করে ভাইরাল ভারতীয় তরুণ পেলেন ডাচ পরিবেশ সংস্থার চাকরি!

তুরমুস আয়ায় ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে বসতিস্থাপনকারীর হুমকি

ফিলিস্তিনি পরিবারের ছাদে উঠে হুমকি, ‘আল্লাহ আমাকে ওয়াদা করেছেন, এটা আমার দেশ, আমার জমি’

0 Comments