আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ লেবাননের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৯:৪৩
মার্কিন নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও অস্ত্র অপসারণের দায়িত্ব পালন করবে।


ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ওই কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত গ্রামটিতে বাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন করা হবে, যাতে লেবাননের নিয়মিত সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। পরিকল্পনাটি সফল হলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এই উদ্যোগ এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের পর সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ওই সংঘাতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ নিহত হন এবং সীমান্তের দুই পাশ থেকে হাজার হাজার বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।


মার্কিন সমর্থিত এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী এলাকায় লেবাননের রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি না রাখা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হলে সীমান্তে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমতে পারে এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফেরার পথ সহজ হতে পারে।


তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হিজবুল্লাহ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি। একইভাবে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকেও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।


ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে লেবানন বরাবরই সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফলে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
দীর্ঘ ১৪ বছর পর লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস চালুর উদ্যোগ
দীর্ঘ ১৪ বছর পর লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস চালুর উদ্যোগ, কংগ্রেসে ৪১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রায় ১৪ বছর পর নিজেদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উপস্থিতি ফেরাতে ৪১ মিলিয়ন (৪ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা একটি নথিপত্র অনুযায়ী, সোমবার আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে যে এই অর্থ লিবিয়ায় পর্যায়ক্রমে দূতাবাস কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সুরক্ষায় এই উদ্যোগটি অপরিহার্য।   কারণ, লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি সেখানে রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, যা উত্তর আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বড় হুমকি। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে লিবিয়ার কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং অভিবাসন প্রবাহের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকা লিবিয়ার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিনিধিরা সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলোসসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ত্রিপোলিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।   এরপর থেকে লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা প্রতিবেশী তিউনিসিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মাল্টা থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। নতুন এই তহবিল মূলত ত্রিপোলির বর্তমান একটি ছোট স্যাটেলাইট কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়াতে ব্যবহৃত হবে, যা বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমেই সেখানে একটি স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হবে।   লিবিয়ায় এই নতুন উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিজেদের বন্ধ থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর ভেনিজুয়েলার কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে বর্তমান প্রশাসন। এছাড়া, নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে দামেস্কেও বন্ধ হয়ে যাওয়া দূতাবাস খোলার জোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৮:২১
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, আরও ৬৭ বিলিয়ন চায় পেন্টাগন

ফিলিপাইনে চীনা নাগরিককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বুঝে নিল চীন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে ফেরত পাঠানো হলো ফিলিপাইনে চীনা নাগরিক অপহরণ-হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন

বাবার শেষকৃত্য শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত চিকিৎসক ও তাঁর স্ত্রী। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বাবার শেষ বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল চিকিৎসক দম্পতির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ শীর্ষ নেতারা আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে উত্তেজনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।    কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগের দিন শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন তারা।    বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ উপস্থিত কংগ্রেস নেতাদের আটক করে। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।    কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।    এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং তা ঘিরে দিল্লিতে সংঘটিত সহিংসতা। ওই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১০:৩৭
সামরিক অভিযানে মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করল আইআরজিসি। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

আইআরজিসির দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

মার্কিন নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল

নিহত সেনাদের প্রতিশোধ নিতে দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর নতুন দফার বিমান হামলা। ছবি সংগৃহীত

মার্কিন হামলার জবাবেই পাল্টা আগুন, একসঙ্গে তিন দেশে আঘাত হানল ইরান

সুপারমার্কেট. ছবি: সংগৃহীত
কম খরচের তালিকায় ওয়ালমার্ট-আলডিকে ছাড়িয়ে গেল যে সুপারমার্কেট!

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় দুই খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও আলডিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মুদি পণ্যের চেইন হিসেবে উঠে এসেছে ক্রোগার। স্টোর ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেস্তোরাঁ ইকুইপমেন্ট ও রিটেইল বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট ফার্নিচার প্লাস চারটি বড় সুপারমার্কেট চেইনের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে এ গবেষণা পরিচালনা করে। এতে দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস, চিনি, স্প্যাগেটি, টমেটোসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।    গবেষণায় দেখা যায়, একই ধরনের ১৫টি পণ্যের ঝুড়ির মোট দাম ক্রোগারে ছিল ৩০ ডলার, যা চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই তালিকার পণ্যের জন্য ওয়ালমার্টে খরচ হয় ৩০ দশমিক ৯৫ ডলার, আলডিতে ৩৩ দশমিক ১৫ ডলার এবং অ্যালবার্টসন্সে ৩৫ দশমিক ৫৮ ডলার।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টি পণ্যের মধ্যে ১০টির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কম দাম ছিল ক্রোগারের। বিশেষ করে ডিম, চিনি, স্প্যাগেটি ও ক্যানজাত টমেটোর মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম মূল্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দুগ্ধজাত কিছু পণ্যে আলডি প্রতিযোগিতামূলক দাম দিলেও সামগ্রিক হিসাবে শীর্ষে থাকতে পারেনি।    গবেষণায় কস্টকো, ট্রেডার জো’স, এইচ-ই-বি ও পিগলি উইগলির মতো কিছু খুচরা বিক্রেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ হিসেবে সদস্যভিত্তিক কেনাকাটার ব্যবস্থা, পণ্যের প্রাপ্যতা ও ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    মার্কিন বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন সুপারমার্কেটে তুলনামূলক কম খরচে কেনাকাটা করা সম্ভব, তা নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহও বেড়েছে। সর্বশেষ এই গবেষণায় সেই দিক থেকেই ক্রোগারকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৯:২
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০

সাগর। ছবি:সংগৃহীত

সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা, লোহিত সাগরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের (ইউনাইটেড স্টেটস) প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি:সংগৃহীত

ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় কানাডার বনপথে যুক্তরাষ্ট্রে,ব্রিটিশ নাগরিকের কারাদণ্ড

0 Comments