দক্ষিণ লেবাননের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল
দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও অস্ত্র অপসারণের দায়িত্ব পালন করবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ওই কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত গ্রামটিতে বাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন করা হবে, যাতে লেবাননের নিয়মিত সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। পরিকল্পনাটি সফল হলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের পর সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ওই সংঘাতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ নিহত হন এবং সীমান্তের দুই পাশ থেকে হাজার হাজার বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
মার্কিন সমর্থিত এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী এলাকায় লেবাননের রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি না রাখা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হলে সীমান্তে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমতে পারে এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফেরার পথ সহজ হতে পারে।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হিজবুল্লাহ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি। একইভাবে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকেও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে লেবানন বরাবরই সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফলে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreবাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুযায়ী, পর্যটন, আতিথেয়তা ও গণমাধ্যমে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং অন্যান্য দৃশ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সঙ্গে এশিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাও তাঁর কাজের অংশ হবে। সিআইএফএফটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং মানসম্মত পর্যটন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ। ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, সরকারি প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করবেন তিনি। ভিয়েনায় অবস্থিত সিআইএফএফটির প্রধান কার্যালয় এবং এশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। ডাল্টন জহিরের পেশাগত অভিজ্ঞতা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিস্তৃত। তিনি ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল গোষ্ঠীতে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, ওশান প্যারাডাইস, লেকশোর হোটেল এবং রোজ ভিউ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পর্যটন ও গণমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ট্রাভেলারকি, ইউরোপকি, ট্রাভেলারটাইমস ও ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামের উদ্যোগগুলোর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নকারীদের সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইএফএফটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা, যা বর্তমানে ‘ইউএন ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, তার সহযোগী সদস্য হিসেবে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্রচার ও স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে। এর কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসবের নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে পর্যটন প্রচারে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি দেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে আকর্ষণীয় দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দেশটিকে পরিচিত করতে পারে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রচারপদ্ধতি প্রাসঙ্গিক। তবে ডাল্টন জহিরের এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশে কতসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাড়বে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে কিংবা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা নিশ্চিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর নতুন দায়িত্বের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন প্রচারে অর্জিত ফলাফলের ওপর। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত এশীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগে বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা
মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ
হিজাব পড়ার জন্য ছাড়াতে হলো ২১ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষিকাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় দিলেন ছাত্ররা
সৌদি আরবের রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই চারজন সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং কতজন ভারতীয়, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের নাম কিংবা রিয়াদ অঞ্চলের ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে তথ্যও জানানো হয়নি। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জননিরাপত্তা বিভাগের ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দান করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সরকারি অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনুমোদিত মাধ্যমে অনুদান দিলে তা প্রকৃত সহায়তাপ্রত্যাশীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সহজ হয়। সৌদি সংবাদমাধ্যম সাবকও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহ দেওয়া এড়াতে দাতাদের অনুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা পাঠাতে বলা হয়েছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যান্ডের পোশাকের দোকানে জামা চুরি করেন স্ত্রী! দেখামাত্রই তা ফিরিয়ে দেন স্বামী
ক্রুজ জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়ে ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নারী!
তিন দেশে কোম্পানি চালান ১২ বছর বয়সের ৭ম শ্রেণির মানা!
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কার অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবরাসার সাজা বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র জানিয়েছেন, ১৩ অক্টোবর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়। পরদিন তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন। শ্রীলঙ্কার সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আইনজীবীদের আপিলের পর এই রায় এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী শিবরাসা গত ২৮ জুন ফেসবুকে একটি ভিডিওর নিচে তামিল ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন। মন্তব্যটি মহানবী হজরত মুহাম্মদকে অবমাননাকর বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি সেটি মুছে দিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে মন্তব্যের স্ক্রিনশট তাঁর নিয়োগকর্তা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায় বলে পরিবারের এক সদস্য সংগঠনটিকে জানিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ জুলাই আল আহসার ফৌজদারি আদালত সাইবার অপরাধবিরোধী আইনের আওতায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলের আপিল আদালত সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সংগঠনটির ভাষ্য, গ্রেপ্তার থেকে প্রথম রায় ঘোষণার আগপর্যন্ত তিনি আইনজীবীর সহায়তা পাননি। মৃত্যুদণ্ডের পর শ্রীলঙ্কা থেকে একটি বিশেষ আইনজীবী দল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আপিলের প্রস্তুতি নেয়। শ্রীলঙ্কার সানডে টাইমস জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আপিল জমা দেওয়া হয়। দুই দিন পর আইনজীবীরা জানতে পারেন, আপিল আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রিয়াদে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসও যুক্ত ছিল। আইনজীবী দলের সদস্য হাফিল ফারিস সানডে টাইমসকে বলেছেন, শিবরাসার নামে নথিভুক্ত স্বীকারোক্তির ভাষায় অস্পষ্টতা ছিল বলে তাঁরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের আরও বক্তব্য ছিল, আপিল আদালতে অপরাধের আইনি ধরন বদলে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অভিযোগ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি শিবরাসাকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও শিবরাসার মুক্তি বা দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। ফারিস জানিয়েছেন, মূল আদালতের রায়সহ মামলার পরবর্তী আইনি অবস্থান তখনো স্পষ্ট হওয়া বাকি ছিল। ফলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে খালাস বা তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ হিসেবে দেখছেন না তাঁর আইনজীবীরা।
কারারক্ষীর চোখ হারানোর ঘটনায় আইএস বন্দির সাজা বাড়লো আরও ৫০ বছর
রাতভর বিক্ষোভ ও লুটপাটে ফ্রান্সের ১৯ শতকের টাউন হলে আ গু ন, গ্রে প্তা র এক ব্যক্তি