সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান

Unknown প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৫:৫৫

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ইসলামাবাদের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো এক আবেদনে পাঁচ বছর মেয়াদি এই দ্বিপক্ষীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তহবিলের অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে, যাতে রুপির ওপর চাপ কমে এবং আন্তর্জাতিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পায়।

জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছিল, তার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়। ইসলামাবাদের আশা, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাত বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। সেই কর্মসূচির শর্ত পূরণে সরকার কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। রাজনৈতিকভাবে এসব পদক্ষেপ বিতর্কিত হলেও অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে এগুলো প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছে সরকার।

প্রস্তাবিত তহবিল অনুমোদন হলেও আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ থেকে এ ধরনের সহায়তা খুবই বিরল। সাধারণত কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, কারেন্সি সুয়াপ বা আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পরিচালিত স্থায়ী ডলার সুয়াপ ব্যবস্থার অংশ নয়।
এর আগে ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এবং ২০০২ সালে উরুগুয়ে একই ধরনের সহায়তা পেয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পৃথক ডলার সুয়াপ ব্যবস্থার বর্তমান আকার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ট্রাভেল কোম্পানির সব ভ্রমণ স্থগিত—সেপ্টেম্বরের যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ
জনপ্রিয় ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানির সব ছুটি স্থগিত, যাত্রীদের ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল তাদের সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যাদের এই কোম্পানির মাধ্যমে ভ্রমণের কথা ছিল, তাদের আপাতত ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ব্রিস্টলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। মালদ্বীপ, জাপান, পেরু ও কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন করত তারা।   এক বিবৃতিতে ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত। হিসাব ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   ভ্রমণ সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব বন্ডেড ট্রাভেল অর্গানাইজার্স ট্রাস্ট জানিয়েছে, ওয়েফেয়ারার ট্রাভেলের কিছু গ্রাহকের বুক করা ভ্রমণসেবা আর দেওয়া নাও হতে পারে।   সংস্থাটি ২ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য দাবি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। যাদের ভ্রমণের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার আগে, তাদের ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। আর পরবর্তী সময়ের বুকিং থাকা যাত্রীদের নতুন তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।   এ বছর যুক্তরাজ্যে কোনো ট্রাভেল কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে স্কি ইয়ডল নামে আরেকটি ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানি অবসায়নে যাওয়ার পর তাদের সব ছুটির বুকিং বাতিল করা হয়।   নরউইচভিত্তিক স্কি ইয়ডল ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে ছুটি, শ্যালেট, অ্যাপার্টমেন্ট ও হোটেল বুকিংয়ের সেবা দিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:১৭
সম্পদ উত্তোলন নিয়ে টাটা কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে কেনিয়া

'আমরা তোমাদের গোলাম নই': ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ

মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা

মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি

নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি

পুণ্যভূমি কৈলাসে তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপালে এক ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন টেক্সাস প্রবাসী এক ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি। নিহতদের নাম দীপক আহুজা এবং মধু আহুজা।   একটি সংঘবদ্ধ তীর্থযাত্রী দলের অংশ হিসেবে তারা টেক্সাস থেকে নেপালে গিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   ড. কুশল সাংভি নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই দম্পতির মৃত্যুর খবরটি শেয়ার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবার তাদের সন্ধান পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবরটিই নিশ্চিত হয়।   সংবাদমাধ্যম ও মার্কেটিং কমিউনিটির পরিচিত মুখ দীপক ও মধুর এই অকাল প্রয়াণকে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের জন্য এক 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই ট্র্যাজেডিকে জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপের একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক হিসেবে অভিহিত করে সাংভি লেখেন, "জীবন সত্যিই খুব ছোট।"   টেক্সাসের ডালাস-ভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় রেডিও স্টেশন 'রেডিও রংরেজ ৯৪.১ এফএম এইচডি৩'-এর সঙ্গেও এই দম্পতির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। রেডিও স্টেশনটি তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দীপক ও মধুর আন্তরিকতা এবং অমায়িক ব্যবহার বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। কমিউনিটিতে তাদের ইতিবাচক প্রভাব এবং তৈরি করা সুন্দর সম্পর্কগুলোর জন্যই মানুষ তাদের চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৩৪
শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আহত নারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে

মুসলিম পরিচয়ের কারণে দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে মারধর, পুলিশের নির্যাতন

২০২২ সালে সাইপ্রাসে বিয়ে করা এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্রাইট যুক্তরাজ্যে স্পাউস ভিসায় আসেন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান বলে ডনের অভিযোগ

৬৮ বছরের ইংরেজ নারীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে, ভিসা পাওয়ার পরই উধাও যুবক

নয় দিন অন্ধকার টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কবির মহার্জনকে

৯ দিন পর টানেল থেকে আরও এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধার, নেপালে ফিরছে আশার আলো

ইসরায়েলের বাজারে একক জুতা বিক্রির প্রচারণায় সাবেক সেনাসদস্য শালেভ বিটনকে যুক্ত করেছে অ্যাডিডাস। ছবি: সংগৃহীত
গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনা অ্যাডিডাসের জুতার বিজ্ঞাপনে; সমালোচনা

জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস ইসরায়েলের বাজারে চালু করা একক জুতা বিক্রির নতুন কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটন নামের এক সাবেক ইসরায়েলি সেনাসদস্যকে যুক্ত করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এক পা হারানো বিটনকে এই প্রচারণায় ব্যবহার করায় মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।   অ্যাডিডাসের ইসরায়েল শাখা সম্প্রতি ‘একক জুতা সেবা’ নামে এই কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় নিম্নাঙ্গের কোনো অংশ হারানো বা এমন শারীরিক অবস্থার মানুষ, যাদের একটির বেশি জুতার প্রয়োজন নেই, তারা পুরো জোড়ার বদলে একটি জুতা কিনতে পারবেন। একটি জুতার দাম রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ জোড়ার দামের অর্ধেক।   এই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনকে বিভিন্ন অ্যাডিডাসের দোকানে দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার একটি পা কেটে ফেলতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে হাঁটতে শেখেন।   বিটনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই একক জুতা বিক্রির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাধারণত জুতা জোড়ায় বিক্রি হওয়ায় একটি পা হারানো ব্যক্তিদেরও দুটি জুতা কিনতে হয়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে একটি জুতারই প্রয়োজন থাকায় অন্যটি অব্যবহৃত থেকে যায়। অ্যাডিডাসের নতুন কর্মসূচি সেই সমস্যার একটি বাণিজ্যিক সমাধান হিসেবে চালু করা হয়েছে।   তবে বিটনের সামরিক পরিচয় সামনে আসার পরই প্রচারণাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক সেনাসদস্যকে ব্যবহার করে অ্যাডিডাস তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছেন, পা হারানো ফিলিস্তিনিদের জন্যও অ্যাডিডাস একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে কি না। অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, অ্যাডিডাসের উচিত দ্বিতীয় জুতাটি গাজার শিশুদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।   কেউ কেউ আবার অ্যাডিডাসের এই প্রচারণা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির মূল বিষয় হলো, গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে কেন প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মসূচির প্রচারণার মুখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাটিকে কেন্দ্র করে অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বর্জনের আহ্বানও দেখা গেছে।   অ্যাডিডাসের একক জুতা বিক্রির কর্মসূচি অবশ্য শুধু ইসরায়েলেই শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু করেছিল। পরে আগস্টে ইসরায়েলের বাজারেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়। ইসরায়েলে অ্যাডিডাসের নিজস্ব দোকান ও ছাড়ের দোকানগুলোতে এই সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   অ্যাডিডাসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত নিম্নাঙ্গের প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানির কারণে যাদের একটি জুতার প্রয়োজন, তাদের জন্য আলাদা করে জুতা কেনার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনের অংশগ্রহণের কারণে বিষয়টি এখন মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।   অ্যাডিডাসকে ঘিরে এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি জুতার প্রচারণা থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। সে সময় ইসরায়েলি সরকার ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের বিষয়টি সামনে এসেছিল।   বর্তমান ঘটনাতেও একদিকে অঙ্গহানির শিকার মানুষের জন্য একক জুতা কেনার সুবিধার কথা সামনে এসেছে, অন্যদিকে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে যুক্ত করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে অ্যাডিডাসের নতুন এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:৫
ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

‘চিকেনস নেক’-এ চার লেনের মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত, ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি

থাইল্যান্ডে মারামারিতে জড়ানো দুই মার্কিন সেনাসদস্যকে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, মার্কিন রণতরিতে ফেরত পাঠানো হলো দুই সেনাকে

মধ্যপ্রদেশের ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসনের অপেক্ষা না করে, হাতে ইনফেকশন হওয়া স্বত্তেও একাই নদী পরিষ্কারে ২০ বছরের এই ছাত্র

0 Comments