আইআরজিসির দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর। সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির
ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা
মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর বলে প্রচারিত একটি ভিডিওতে এক শিক্ষিকাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কাঁদতে কাঁদতে বিদায় জানাতে দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় তিনি চাকরি ছেড়েছেন। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার কারণ এবং ২১ বছর শিক্ষকতা করার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। উজবেকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জামিন ১১ অক্টোবর ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষিকাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাচ্ছে। ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি হিজাবের কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার দাবি উল্লেখ করেছে। তবে ওই শিক্ষিকার বিষয়ে অতিরিক্ত সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে। ভিডিওটি এমন সময়ে ছড়িয়েছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকের বিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেইদান টিভির তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত নিয়ম সংশোধন করে মন্ত্রিসভা। এতে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং সাধারণ শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনা হয়। সিদ্ধান্তে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও আলাদা বিধান অনুমোদন করা হয়। এতে পেশাগত পরিবেশের উপযোগী পোশাক পরা এবং পোশাকের উপকরণ শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। বাকু শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ৯ অক্টোবর স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পোশাকবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। তবে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সরাসরি জবাব ওই ঘোষণায় ছিল না বলে জানিয়েছে মেইদান টিভি। এই বিতর্কের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিদায়ের ভিডিওটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে দৃশ্যটির সঙ্গে প্রচারিত চাকরি ছাড়ার বিবরণ এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষিকা নিজে পদত্যাগ করেছেন, নাকি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিক গ্রেপ্তার
ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যান্ডের পোশাকের দোকানে জামা চুরি করেন স্ত্রী! দেখামাত্রই তা ফিরিয়ে দেন স্বামী
ক্রুজ জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়ে ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নারী!
বাবার কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে অনেক ফোনের উত্তর দেওয়া হতো না। ছোট একটি প্রতিষ্ঠানের এই সমস্যা দেখেই ভার্চুয়াল রিসেপশনিস্ট ‘ভক্সা’ তৈরি করেছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছরের মানা জামপালা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু করা সেবাটির লক্ষ্য, কর্মীর স্বল্পতায় ছোট ব্যবসাগুলো যাতে সম্ভাব্য ক্রেতার ফোন হারিয়ে না ফেলে। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে মানা। মানার ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ বছর বয়সে বাবার কর্মস্থলে গিয়ে সে দেখত, অল্প কয়েকজন কর্মী কাজ সামলাতে গিয়ে সব ফোন ধরতে পারছেন না। কখনো তাঁরা ফোনের শব্দ খেয়াল করতেন না, কখনো ব্যস্ততার কারণে উত্তর দিতে পারতেন না। এই অভিজ্ঞতা থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরির চিন্তা আসে তার। ভক্সা সার্বক্ষণিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি। এটি ফোনের উত্তর দেওয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা, রেস্টুরেন্টের অর্ডার নেওয়া এবং কথোপকথনের সারসংক্ষেপ তৈরির মতো কাজ করতে পারে। জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মানা জানিয়েছিল, সেবাটি এরই মধ্যে কয়েক শ কল সামলেছে। তবে সে সময় প্রথম অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক পাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। প্রযুক্তির প্রতি মানার আগ্রহ শুরু হয় নয় বছর বয়সে। এরপর স্ক্র্যাচ কোডিং ক্যাম্পে অংশ নেওয়া ও পাইথন শেখার পাশাপাশি নিজের প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে থাকে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বেড়াতে গিয়ে কলেজ পর্যায়ের একটি বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কারও পেয়েছে সে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তাকারী ১৫১৭ মেডিচি প্রজেক্ট থেকে অনুদান পেয়েছে মানা। সফটওয়্যার তৈরিতে কোডিং সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও একবারে পুরো প্রোগ্রাম তৈরি করায়নি মানা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট ছোট অংশের কোড তৈরি করে সেগুলো পরীক্ষা করেছে, ত্রুটি খুঁজেছে এবং সংশোধন করেছে। শুরুতে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করলেও পরে নিজের তৈরি ব্যবস্থায় কাজ এগিয়ে নিয়েছে। কম বয়সে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে এগোতে গিয়ে সংশয়ের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি সেবা তুলে ধরার সময় অনেকেই তার বয়স ও অভিভাবকের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। অনলাইনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্য আলোচনায় সেবাটির কার্যকারিতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানিয়েছে মানা। ভক্সার পাশাপাশি সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সহকারী তৈরির জন্য ‘ভক্সা এজেন্টস’ নামেও আরেকটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সে।
ফেসবুক পোস্টে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান নাগরিক মুক্তি পেলেন নিজ দেশের কূটনৈতিকদের তৎপরতায়
কারারক্ষীর চোখ হারানোর ঘটনায় আইএস বন্দির সাজা বাড়লো আরও ৫০ বছর