মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের ড্রোন কারখানাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত এবং এর বেশিরভাগ স্থাপনা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। ড্রোনের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সিংহভাগও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের বর্তমান সমরাস্ত্রের মজুত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরানের হাতে এখনও কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের পূর্ববর্তী সামরিক সক্ষমতার মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ বর্তমানে টিকে আছে। এই অবশিষ্ট অস্ত্রকেও তিনি পরিমাণে ‘অনেক’ বলে স্বীকার করলেও, আগের বিশাল মজুতের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঝুলে থাকা শান্তি চুক্তি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে তিনি ইরানের নেতৃত্বের ‘অহংকার’কে দায়ী করেছেন।
ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়লেও তারা বর্তমান পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে তাদের এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, যা তারা আগে কখনও কল্পনাও করেনি। তবে অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে আসতেই হবে বলে তিনি মনে করেন।
এতকিছুর পরও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা না দিলেও, চলতি সপ্তাহান্তেই একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের বর্তমান ও সম্ভাব্য ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযান শেষ হয়েছে। হামলায় ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেন্টকমের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় শত শত নাবিকের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে। ইরানের আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের আশপাশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর শহরেও অন্তত দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে ওই কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইরানের যৌথ সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সতর্ক করেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। হামাদান প্রদেশের কাবুদারাহাং এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বন্দরনগরী কোনারাক ও চাবাহারের আকাশে যুদ্ধবিমান দেখা গেছে এবং কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরান যুদ্ধের ব্যয় এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই হিসাবে ইতোমধ্যে হওয়া ব্যয়ের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি হিসাবে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন, যার বড় অংশ ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ নিয়ে কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রশাসন যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে যথেষ্ট তথ্য দেয়নি। চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন শুনানিতে বলেন, সামরিক সদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। হেগসেথ কংগ্রেসকে ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই প্রায় প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক দশমিক এক শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম এক শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ ঘিরে ঝুঁকি বাড়ায় তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহনের সময় ও ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে তিনি এই হালনাগাদ হিসাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পেন্টাগনের জন্য অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পূরক তহবিলের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি। সেনেটের এই শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্সও সাক্ষ্য প্রদান করেন। সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে নতুন করে আরও তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য। প্রাণহানি ও ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্যানেলের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সেনেটর প্যাটি মারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সাথে এই সংঘাত অচিরেই আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ (ফরেভার ওয়ার) রূপ নিতে পারে। নিজের লিখিত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে প্যাটি মারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ৪০ বারের বেশি দেশবাসীকে বলেছেন যে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে। কিন্তু এখন তিনি নতুন করে আরও বিশাল অঙ্কের তহবিল দাবি করছেন এবং সবাইকে শুধু আশ্বস্ত থাকতে বলছেন যে সবকিছু এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।