ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে ইউক্রেন, শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক আলোচনা
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন এবং মলদোভার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মলদোভাকেও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বলয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। বিশ্বের বৃহত্তম এই ট্রেডিং ব্লকে যুক্ত হওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আলোচনাটি আগামী সোমবার লুক্সেমবার্গে শুরু হবে। ইউক্রেন মনে করে, রাশিয়ার সাথে চলমান সংঘাতের অবসানের পর একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য ইইউ সদস্যপদ তাদের জন্য একটি বড় 'নিরাপত্তা গ্যারান্টি' হিসেবে কাজ করবে।
ন্যাটো সদস্যপদ ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় হতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত তা সম্ভব নয়। তাছাড়া, যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অন্যান্য মিত্রদেরও ঘোর আপত্তি রয়েছে। রাশিয়া এর তীব্র বিরোধী এবং ২০২২ সালে তাদের পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন চালানোর পেছনে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল মস্কো।
তবে, কিয়েভের ইইউ সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে রাশিয়া সরাসরি কোনো আপত্তি জানায়নি। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইউরোপজুড়ে "শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি" জোরদার করার একটি কৌশলগত পছন্দ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা উভয় দেশের দৃঢ়তা, সাহস ও পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখেও সংস্কারমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হতে ইচ্ছুক দেশগুলোকে কৃষি থেকে শুরু করে বাণিজ্য পর্যন্ত মোট ৩৫টি নীতিগত ক্ষেত্রে (যাকে 'চ্যাপ্টার' বলা হয়) দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন করতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। সোমবারের আন্তঃসরকারি সম্মেলনে এই ব্লকের প্রতিষ্ঠা ও মূল নীতি-সম্পর্কিত প্রধান চ্যাপ্টার বা 'ক্লাস্টার'গুলোর দ্বার উন্মোচন করা হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউতে যোগদানের আবেদন করেছিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ইউক্রেন বেশ কিছু সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় ইইউ কমিশন দেশটির প্রশংসা করেছে, তবে দুর্নীতি ও বিচার ব্যবস্থার মান নিয়ে এখনো কিছু গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ সম্প্রতি তার ইইউ মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনকে 'অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ' বা সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে করে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি নতুন গতি আনা যায়। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও পূর্ণ সদস্যপদের বদলে দ্রুত ইউক্রেনকে ব্লকের আওতায় আনার বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছে।
মার্জের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউক্রেন ভোটাধিকার ছাড়াই ইইউর বিভিন্ন বৈঠক, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে আমেরিকার মনোযোগ ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি আলোচনা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি নিজস্ব আলোচনা শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নতুন নীতিগত চ্যাপ্টার খোলা ও বন্ধ করার ক্ষেত্রে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সম্মতি প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হাঙ্গেরি দীর্ঘদিন ধরে এই আলোচনার পথ আটকে রেখেছিল, তবে বুদাপেস্টে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের সেই কঠোর অবস্থানে নমনীয়তা এসেছে, যা ইউক্রেন ও মলদোভার জন্য এই ঐতিহাসিক আলোচনার পথ সুগম করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreউত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সেউতা শহর থেকে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সংখ্যা ও জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এদিকে কয়েকজন অভিবাসীকে আদালতের সুরক্ষামূলক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পেনের অভিবাসননীতি ও আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি অধিকার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন ও ক্যামেরুনের নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। তবে প্রত্যেক দেশের কতজন অভিবাসী রয়েছেন, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। স্পেনের সরকার জানিয়েছে, মরক্কো এসব ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সেউতা হলো আফ্রিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বশাসিত শহর। এর এক পাশে মরক্কো এবং অন্য পাশে ভূমধ্যসাগর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ড হওয়ায় আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে সেউতায় পৌঁছানো মানেই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার কিংবা ইউরোপে বসবাসের অনুমতি পাওয়া নয়। আশ্রয়ের আবেদন, পরিচয় যাচাই এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে সেউতায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষ প্রবেশ করেন। ঘটনাটি স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সীমান্তসংকট তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রবেশকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ৮০ হাজারের কথা উল্লেখ রয়েছে। জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর সেউতায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই এবং মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করে স্পেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তাঁদের বড় অংশের প্রত্যাবর্তনকে সরকার স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু অভিবাসী বাস্তবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাননি। পুলিশের চাপ এবং ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় তাঁদের মরক্কোয় যেতে হয়েছে বলে সংগঠনগুলোর দাবি। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেননি। ফলে তাঁদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো আইনসম্মত বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। স্পেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল পাইসের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন এবং ইয়েমেনের একজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর সময় আদালতের জরুরি সুরক্ষামূলক আদেশ কার্যকর ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের আইনজীবীরা। এসব আদেশের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় স্পেন থেকে ফেরত পাঠানো বন্ধ রাখা। আইনজীবীদের দাবি, তা সত্ত্বেও তাঁদের মরক্কোয় পাঠানো হয়েছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন ইয়েমেনি অভিবাসীর ঘটনায় স্পেনের ন্যাশনাল কোর্ট জরুরি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে এল পাইস। কিন্তু এর মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্ত পৌঁছানোর আগেই তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে এ ঘটনায় প্রশাসনিক সময়সূচি ও আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টির আইনগত পর্যালোচনা দাবি করেছেন। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আশ্রয়প্রার্থী কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তাঁর নির্যাতন, অমানবিক আচরণ বা অন্য দেশে পুনরায় ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে এই নীতিকে নন-রিফাউলমেন্ট বলা হয়। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মরক্কোয় ফেরত পাঠানো কয়েকজন অভিবাসীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিশেষ করে যাঁরা মরক্কোর নাগরিক নন, তাঁদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মরক্কোয় অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে দেশটিকে সাধারণভাবে নিরাপদ বলে বর্ণনা করলেই প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে স্পেনের সরকার বলছে, ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে। স্পেনের এল পাইস জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সেউতায় আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতে আপিল করছেন। আবার অনেকেই আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের সিদ্ধান্ত, আপিল করার সময়সীমা এবং ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে আইনজীবী ও প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা স্পেন বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর আপিলের সময়সীমা এবং আইনগত সুরক্ষা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তবে স্পেনের একটি নির্দিষ্ট আশ্রয়প্রক্রিয়ায় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অর্থ সব বাংলাদেশি নাগরিকের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। প্রতিটি আবেদন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি মরক্কো হয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো আইনসম্মত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আবেদনকারীর জাতীয়তা, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি, আশ্রয়ের আবেদন এবং আদালতের সুরক্ষামূলক নির্দেশ বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের আপিল বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদেশ কার্যকর রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে সেউতা থেকে ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর ঘটনা স্পেনের অভিবাসননীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি থাকার তথ্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, যদিও সরকার জাতীয়তা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ফলে প্রত্যাবাসনের আইনগত বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স; দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, এল পাইস।
স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সং ঘ র্ষ, প্রাণ হা নি বেড়ে অন্তত ৩৯ জনে, বাড়ছে উদ্বেগ
‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ যুক্তিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল তালেবান, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রোগীরা
নির্বাচনে হারার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবারসহ ভিসা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় মহিন্দ্রা থার এসইউভি ও একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি পূরণ না করায় স্ত্রীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টুইঙ্কল নামের ওই নারীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী রিতিশ শর্মা রাস্তায় তাঁকে চুল ধরে টেনেছেন, চড় মেরেছেন এবং লাথি মেরেছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। টুইঙ্কলের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী দামি গাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। নিজের সেলুন ব্যবসা থেকে স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তুলতেন, তাহলে স্ত্রী কেন তাঁর চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, নবরাত্রি উৎসবের সময় মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে টুইঙ্কল এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে ছুটে যান। কিন্তু তাঁর স্বামী সেখানে গিয়েও হামলা চালান বলে অভিযোগ। এ সময় আশপাশের লোকজন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। টুইঙ্কল পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টুইঙ্কলকে সহায়তা করতে তাঁর ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে দাম্পত্য সম্পর্কে দামি উপহার বা যানবাহনের দাবি এবং তা পূরণ না হলে নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মুসলিমদের নামাজের কষ্ট দেখে দরজা খুলে দিল জার্মানির গির্জা, প্রশংসিত ধর্মীয় সম্প্রীতি
ছেলেকে নার্সারিতে পৌঁছে দিতে গিয়ে মায়ের কোলের নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে শিশুর মৃত্যু
কানাডার আলবার্টায় মসজিদের ইমামকে ঘিরে পুরোনো মার্কিন মামলা, যৌন অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) অনুপ্রবেশ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্তে চীনের কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি এবং এ ধরনের অভিযোগ তাঁর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বসিরাম সিরাম জানান, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় চীনা সেনারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন, চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে পাহাড়ের উঁচু চূড়াগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। আসাফিলার মতো বেশ কিছু কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি অবিলম্বে প্রকৃত অবস্থা জানতে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। অরুণাচল সীমান্তে চীনা তৎপরতা নিয়ে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুনে 'নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি' নামের একটি স্থানীয় সংগঠন এবং আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টিও ভারতীয় টহল দলকে বাধা দেওয়া এবং চীনা উপস্থিতির বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছিল। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সরকার বরাবরই এসব দাবিকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবি নাকচ করেছেন, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে বসিরাম সিরাম প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে যদি সত্যিই কোনো আগ্রাসন না ঘটে থাকে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেন বারবার একই অভিযোগ করছেন। তাই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পিছিয়ে, ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে পারে আরব দলগুলো
কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে ৩ নভেম্বর থেকে নতুন নিয়ম, যোগ্য চাকরিতে মিলবে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট