রাতে হামলা করতে পারে ইরান, ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও তীব্রভাবে বেজে উঠেছে। এর চরম প্রতিশোধ হিসেবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে ইরান সরাসরি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই নজিরবিহীন হামলা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে গোটা ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ইরান সরাসরি আক্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। আইডিএফ এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ চালাতে তাদের সব বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো কোনো আগ্রাসনকেই তারা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য হামলার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে জনসমাগমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বড় অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না। সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই নিয়ম আরও কঠোর করে খোলা স্থানে সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের জমায়েত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের স্কুলগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগেও বৈরুতে হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও এই ধরনের পদক্ষেপ চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনার এই সময়ে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে রোববারের ওই বিমান হামলায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সমগ্র অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে এক সুতোর ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের আসাম রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যের বিশ্বনাথ চারিয়ালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে পুরোনো ঘটনাটি নতুন করে প্রকাশিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শওকত আলী প্রায় ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় খাবার ও মাংসের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক বাজারে গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি করার অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর ও অপদস্থ করা হয়। হামলায় আহত শওকত আলীকে পরে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কাদাপানিতে ভরা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন শওকত আলী। তাঁকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। তাঁর কাছে গরুর মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কি না, তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কি না এবং আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে তাঁর নাম রয়েছে কি না, এসব জানতে চাওয়া হয়। শওকত আলীর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে শাস্তি দেওয়ার নামে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করে। মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। ফলে এ ধরনের আচরণ তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরও আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এনডিটিভি সে সময় জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনার পর শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমল থাপা নামের আরেক ব্যক্তিও হামলাকারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পুলিশ দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৯ এপ্রিল ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরও পাঁচজনকে আটক করে পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন আসাম পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া জানিয়েছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ায়। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আসামে ১৯৫০ সালের গবাদিপশু সংরক্ষণ আইন কার্যকর ছিল। ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট পশুচিকিৎসকের অনুমোদন সাপেক্ষে গবাদিপশু জবাইয়ের বিধান ছিল। তবে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু খেতে বাধ্য করার অধিকার কারও নেই। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ২০২৬ সালের নয়। এটি ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের একটি ঘটনা, যা সম্প্রতি আবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনায় তদন্তের পর চূড়ান্ত বিচারিক ফলাফল কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে নিরাপত্তাকর্মী হত্যায় বাংলাদেশি অভিযুক্ত, ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করল পুলিশ
ইতালির নেপলস বিমানবন্দর এক মাস বন্ধ, বিকল্প বিমানবন্দরে যাত্রীদের ফ্লাইট
অ্যামাজনের গুদামে ১০ লাখের বেশি রোবট, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে দেশটির কাছে ২১০ কোটি ডলার মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। শুক্রবার এক বিবৃতিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই অস্ত্র ক্রয়ের অর্থ ইউক্রেন নিজেই পরিশোধ করবে, যেখানে কানাডা, জার্মানি এবং নরওয়ের মতো মিত্র দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা থাকছে। এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো সরকারি তহবিল ব্যবহৃত হবে না। অস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে লকহিড মার্টিন এবং যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, এর ফলে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এই সামরিক সহায়তাকে ইউরোপে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিসাইল বিক্রির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, গত দুই সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি ও জনজীবন রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে ৩০টিরও বেশি ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মার্কিন ও পশ্চিমা মিত্রদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেছেন, আগামীকালের জন্য নয়, বরং এখনকার এই চরম বিপদের মুহূর্তেই মানুষের জীবন রক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি একটি বিকল্প প্রস্তাবও রেখেছেন। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, মিত্ররা যেন তাদের বর্তমান মজুত থেকে অবিলম্বে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ইউক্রেনকে সরবরাহ করে এবং পরবর্তীতে নতুন চুক্তিতে কেনা ৫০০টি মিসাইল দিয়ে নিজেদের মজুত পুনরায় পূর্ণ করে নেয়। রাশিয়ার নিয়মিত ও প্রাণঘাতী বিমান হামলা ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন এই মিসাইলের মজুত ফুরিয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহে ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ করে আসছিল। রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা প্রত্যাহার করায় দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই এই বিশাল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন সামনে এল।
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ
ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে স্কুলে তরুণ, দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের
স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া আর অনলাইন বিনোদনের যুগে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বই পড়া। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন জেডের অনেক তরুণ এখন মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রলিংয়ের পরিবর্তে বই হাতে সময় কাটাতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁদের কাছে বই পড়া শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ, ব্যক্তিগত রুচি এবং নিজস্ব পরিচয় প্রকাশেরও একটি উপায় হয়ে উঠছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের এই পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মধ্যে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের এমন আগ্রহ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত নতুন ভিডিও, ছবি ও পোস্ট দেখার অভ্যাস থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চাইছেন অনেক তরুণ। সেই জায়গায় বই পড়াকে তাঁরা তুলনামূলক শান্ত ও মনোযোগ ধরে রাখার একটি কার্যক্রম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বই পড়ার এই প্রবণতাকে অনলাইন স্ক্রলিংয়ের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের কাছে বই পড়ার আকর্ষণ কেবল একান্ত ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ক্রমেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে উঠছে। বই নিয়ে আলোচনা, পছন্দের লেখক সম্পর্কে মতবিনিময় এবং পড়ার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে পাঠাভ্যাস নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ফলে বই এখন শুধু ব্যক্তিগত সময় কাটানোর উপকরণ নয়, সমমনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিরও একটি মাধ্যম। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই নতুন প্রবণতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেক্সটহিপ’। অর্থাৎ বই পড়াকে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ হিসেবে দেখা। রাজধানী সিউলের বিভিন্ন বইয়ের দোকান, ক্যাফে ও পাঠচক্রে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। অনেকে বইয়ের প্রচ্ছদ, বুকমার্ক এবং বইসংক্রান্ত বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তাঁরা। দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের জাতীয় পাঠাভ্যাস জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বছরে অন্তত একটি বই পড়ার হার ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে দেশটির সামগ্রিক প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর বই পড়ার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশে। অর্থাৎ সব বয়সের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস বাড়ছে না, বরং তরুণদের একটি নির্দিষ্ট বয়সী গোষ্ঠীতে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বইয়ের প্রতি আগ্রহের প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও। দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন বই বিক্রেতা ইয়েস২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কিশোর ও তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে উপন্যাস, কবিতা ও নাটকের বই কেনার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর দেশটিতে সাহিত্য নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সিউলের চেওংগিচেওন এলাকার একটি উন্মুক্ত পাঠাগারে বই পড়তে আসা তরুণদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২৬ বছর বয়সী এক নারী জানান, স্মার্টফোনে ছোট ছোট ভিডিও দেখার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি বই পড়া ও ডায়েরি লেখার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বই পড়া একসময় নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হবে এবং ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে এই বইপড়ার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। অনেক তরুণ বই পড়ার পাশাপাশি বইয়ের প্রচ্ছদ, বুকমার্ক ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে বইয়ের প্রতি এই আকর্ষণ দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাসে পরিণত হবে, নাকি সাময়িক ফ্যাশন হিসেবেই থেকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও স্মার্টফোননির্ভর প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে বই নিয়ে নতুন আগ্রহ দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠসংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইএস সংশ্লিষ্ট অভিবাসী ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিবেদন
হিন্দুরা গরুর মূত্র খায়! এবং গরুর পূজা করে, ভারত নিয়ে উপহাস ইসরায়েলি ধর্মীয় নেতার