আন্তর্জাতিক

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১১:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র ও রেকর্ডব্রেক দাবদাহে পুড়ছে সমগ্র ইউরোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে দেশটিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও কম বয়সী। এই আকস্মিক ও নৃশংস আবহাওয়ায় ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি এক সাক্ষাৎকারে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, দাবদাহের এই কঠিন সময়ে লাইফগার্ড বা নজরদারিবিহীন বিপজ্জনক জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর 'মেতেও ফ্রান্স' জানিয়েছে, চলমান এই চরম আবহাওয়া অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফ্রান্সের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল বা ৫৪টি বিভাগে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতাসূচক 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে।

 

প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার তীব্র গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক সময়সূচি পরিবর্তন করে রাতে খোলা রাখার পরিবর্তে বিকেলেই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং বা এসি ব্যবস্থা না থাকায় বহু স্কুল, গণপরিবহন এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন ও রাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছেছে।

 

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও এই তীব্র গরমে পুড়ছে। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় তাপমাত্রা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে গ্রীষ্মকালের প্রথাগত সময়ের বাইরেও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ আঘাত হানছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস'-এর মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ।

 

এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরও বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য তীব্র দাবদাহের রেড ওয়ার্নিং জারি করেছে। সেখানে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রেললাইন গলে যাওয়ার বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে একাধিক ট্রেন অপারেটর তাদের সেবা বাতিল করেছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আগামী পাঁচ বছরে গরমের এই ধরনের আরও অনেক রেকর্ড ভাঙতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও বনের দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল l ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল, ব্রাসেলসে নির্বাসন ইস্যুতে বৈঠক

আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফেরার প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আমন্ত্রণে ব্রাসেলসে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তালেবান প্রতিনিধিদল। ইউরোপে থাকার অধিকার না থাকা এবং আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।   বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর গত সোমবার তালেবানের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে বেলজিয়ামে প্রবেশের জন্য মাত্র এক দিনের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, ২৭ জাতির এই জোটে অবৈধভাবে প্রবেশ করা আফগানদের নির্বাসনের বিষয়ে আলোচনা করতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই বৈঠকের অর্থ কোনোভাবেই ব্রাসেলস কর্তৃক তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া নয়। বরং এটি কেবল অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর একটি প্রায়োগিক পদক্ষেপ।   ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট সংবাদ সম্মেলনে জানান, যেসব আফগান নাগরিক গুরুতর অপরাধে জড়িত কিংবা যারা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাদের ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছে ইইউর সদস্য দেশগুলো। মূলত ইউরোপ জুড়ে কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান এবং অভিবাসন নীতির প্রতি জনসাধারণের কঠোর মনোভাবের কারণেই ইইউ দেশগুলো অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এর আগে গত বছর প্রায় ২০টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্কের অভাবে এতদিন তা সীমিত ছিল।   তবে ইইউর এমন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো এই বৈঠক বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, তালেবান শাসনভার নেওয়ার পর থেকে আফগানিস্তানে নারী অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং দেশটিতে বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক ও খাদ্য সংকট চলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইউরোপীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইভ গেডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মাত্র কয়েক বছর আগেই আফগানিস্তান থেকে ইউরোপীয় কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মরিয়া হয়ে পালানোর দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে। এমন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আফগানদের জোরপূর্বক সেখানে ফেরত পাঠানো হবে চরম অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৩:২২
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চায় আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে সাড়ে ৫ হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুক আটক, পার্লামেন্টে মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’র প্রেমের ফাঁদে কুপোকাত রুশ সেনারা

ছবি: সংগৃহীত
ছুটির ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে প্রতারণা, কানাডায় তীব্র ক্ষোভ

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের হাজার হাজার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। ঠিক এমন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে "জুন হলিডে" শিরোনামে আসা একটি ইমেইল তাদের সাময়িক স্বস্তি ও আনন্দ দিয়েছিল। ইমেইলটিতে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পেছনে স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে তাদের একদিনের জন্য 'সবেতন ছুটি' বা পেইড লিভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি মূলত একটি ভুয়া ইমেইল এবং কর্তৃপক্ষের তৈরি করা সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা বা 'ফিশিং টেস্ট'।   কর্তৃপক্ষের এই অসংবেদনশীল রসিকতা ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রদেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইমেইলে বলা হয়েছিল, ছুটির সুবিধাটি পেতে হলে কর্মীদের একটি লিংকে ক্লিক করতে হবে। কিন্তু লিংকে ক্লিক করার পরদিনই তাদের জানানো হয় যে এটি কোনো আসল ছুটি ছিল না, বরং কর্মীদের সাইবার সচেতনতা যাচাই করার জন্য একটি কৃত্রিম পরীক্ষা ছিল। ছুটির এমন নিষ্ঠুর মিথ্যা আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত একজন কর্মী ক্ষোভে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।   স্থানীয় পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেরি আর্ল এই ঘটনাটিকে একটি ‘নিষ্ঠুর প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর ছুটির লোভ দেখিয়ে এমন তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এর চেয়ে অনেক ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে রেজিস্টার্ড নার্সেস ইউনিয়নের সভাপতি ইভেট কফি এই পরীক্ষাকে চরম 'অসংবেদনশীল এবং অসম্মানজনক' বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।   হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রায়শই হ্যাকারদের সাইবার হামলার শিকার হয়ে থাকে, তাই এই ধরনের সচেতনতামূলক পরীক্ষা নেওয়া জরুরি বলে মনে করে প্রশাসন। তবে এই বিশেষ ইমেইলটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রন জনসন ইতিমধ্যে কর্মীদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই পরীক্ষাটি তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করার সঠিক পদ্ধতি ছিল না এবং কীভাবে এই ইমেইলটি পাঠানো হলো তা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১২:১৮
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ | ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৭০ করার পরিকল্পনা, চ্যান্সেলর মের্জের সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত

ব্রেক্সিটের ১০ বছর: ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে চায় ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

মাউন্ট এভারেস্টে | ছবি: ফাইল ফটো
মাউন্ট এভারেস্টে ৩০ বছর ধরে জমে থাকা পর্বতারোহীর লাশ উদ্ধারে নামছে ভারত

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে প্রায় ৩০ বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণ হারানো এক ভারতীয় পর্বতারোহীর হিমায়িত বা বরফাবৃত লাশ উদ্ধারের জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করছে ভারত কর্তৃপক্ষ। তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী বিশেষ বাহিনী 'ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ' বা আইটিবিপি এভারেস্টের উত্তর ঢাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত ওই পর্বতারোহীর দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চ-উচ্চতার উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে।   সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত উদ্ধারকারী দলটিকে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে এই লাশটি উদ্ধার করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে আসতে হবে। এভারেস্টের ইতিহাসে এটি অন্যতম সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং উদ্ধার অভিযান হতে যাচ্ছে। নেপালভিত্তিক এভারেস্ট শেরপা এক্সপিডিশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিরিং জাংবু শেরপা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান সাধারণ পর্বতারোহণের চেয়ে দ্বিগুণ বিপজ্জনক এবং পুরো উদ্ধারকারী দলের জন্য এটি একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ মিশন।   উদ্ধারকারী দল ও পর্বতারোহীদের কাছে কয়েক দশক ধরে এই লাশটি এভারেস্টের অন্যতম একটি পরিচিত চিহ্ন বা ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। মৃতদেহের পায়ে থাকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের জুতো বা বুটের কারণে এটিকে 'গ্রিন বুটস' নামে ডাকা হতো। এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই লাশটি মূলত তিব্বত দিক থেকে পর্বত জয় করতে যাওয়া আরোহীদের জন্য পথ চেনার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। এই উচ্চতাটি এভারেস্টের 'ডেথ জোন' বা মৃত্যু অঞ্চলের অন্তর্গত, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে মানুষের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।   দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে এই লাশটি ২৮ বছর বয়সী ভারতীয় পর্বতারোহী সেওয়াং পালজরের, যিনি ১৯৯৬ সালের মে মাসে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে এক আকস্মিক ও তীব্র তুষারঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তবে ভারতের সাম্প্রতিক নথিপত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লাশটি আসলে পালজরের সাথে থাকা অন্য এক ভারতীয় সেনা সদস্য দর্জে মোরুপের। সেই ঝড়ে এই দলের মোট তিনজন আরোহী প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কেবল এই মোরুপেরই সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।   মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টিরও বেশি মৃতদেহ বরফের নিচে বা পাহাড়ি ঢালে পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অধিকাংশ লাশই উদ্ধার না করে ওভাবেই রেখে দেওয়া হয়। পর্বতারোহণ জগতের অনেকেই মনে করেন যে মৃতদের সম্মান জানিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা উচিত, আবার অনেকের মতে এর জন্য জীবিত মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক নয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের হারিয়ে যাওয়া বীর সেনার দেহাবশেষ সসম্মানে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এই বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১১:৪৫
ইসরায়েলি নাগরিক মাইকেল মোশে মিজরাহি | ছবি: সংগৃহীত

কানাডার মন্ট্রিয়েলে বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি নাগরিক নিহত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্টেফান করনেলিয়াস | ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি সেনা রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করল জার্মানি

0 Comments