ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
‘ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না’: ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মেলোনির

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।   চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।   এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়।   একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না।   এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই।   অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ।   ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের ৫৩ প্রশাসনিক এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা

ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।   আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কঠোর শর্ত দিল ফ্রান্স

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না ফ্রান্স।   শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।   বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় নিশ্চিত হলেই কেবল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভেটো ক্ষমতাধারী দেশ হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।   তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”   চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অর্থ ও অবকাঠামোগত সংকটে জর্জরিত বিশ্ব বিখ্যাত লুভর জাদুঘর

বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীপ্রাপ্ত জাদুঘর লুভর মিউজিয়াম জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের জন্য অর্থসংকটে পড়েছে। সম্প্রতি এক শুনানিতে জাদুঘরটির নতুন পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন।   ফ্রান্সের সিনেট কমিটির সামনে দেওয়া বিবৃতিতে লেরিবো বলেন, ‘এর রাজকীয় মহিমান্বিত রূপ এবং কর্মীদের প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম সত্ত্বেও লুভর মিউজিয়াম আসলে এখন ধুঁকছে। এর ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর মেয়াদ বা কার্যকারিতা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।’   অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ লেরিবো গত ফেব্রুয়ারি মাসে লুভরের দায়িত্ব নেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে দিনের আলোয় জাদুঘর থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের রাজকীয় অলংকার চুরির ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন। ওই ঘটনার পর জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।   লুভর মিউজিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও দর্শনার্থীমুখর জাদুঘরগুলোর একটি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৯০ লাখ দর্শনার্থী এই জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সেন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ, যা একসময় ফরাসি রাজপরিবারের সরকারি বাসস্থান ছিল।   পরিচালক লেরিবো আরও জানান, ভবনসংক্রান্ত জরুরি সমস্যাগুলো ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের বিনিয়োগ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মঘটের কারণে রাজস্ব ক্ষতি, প্রায় ১ কোটি ইউরো মূল্যের টিকিট জালিয়াতি, ভবনে পানি চুইয়ে পড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প প্রতিষ্ঠান।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ রয়টার্স
ফ্রান্সের জি৭ সম্মেলনে নিজেকে ‘বস’ বললেন ট্রাম্প, নরম সুরে ইউরোপ

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে নিজেকে ‘বস’ বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে সাংবাদিক ও বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কী প্রেক্ষাপটে তিনি এমন দাবি করেছেন, তা খোলসা করেননি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ কোনো রাষ্ট্রনেতাই ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কোনো প্রতিবাদ জানাননি।   বরং, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে এতদিন ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে আসা ইউরোপীয় নেতারাও এবার বেশ নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন।   গত ১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলন চলবে ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। বুধবারের অধিবেশনে মূলত দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ, বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে ‘বস‌’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের এমন সুর বদলের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এক বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির তখন তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ।   হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প ইউরোপের সাহায্য চাইলেও বেশির ভাগ শক্তিধর দেশ সে সময় পিছিয়ে যায়, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বারবার ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের জি৭ বৈঠকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ৪৭ নম্বর লেখা একটি ফুটবল জার্সিও উপহার দেন, যা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের এই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই নাটকীয় সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি। গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স–যুক্তরাজ্য যৌথ নৌ মিশন প্রস্তুত: হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর ঘোষণা ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়তার জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক মিশন প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পর সোমবার তিনি এ কথা জানান।   ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স–যুক্তরাজ্যের এই যৌথ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই সমুদ্রপথে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।   হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নৌচলাচল বিঘ্নিত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনে সহিংসতার জেরে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অবৈধ বসতি স্থাপনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক নেতার ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই যৌথ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সাথে একযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— পশ্চিম তীরে যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং ঔপনিবেশিক তৎপরতা আরও জোরালো করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ফ্রান্সের এই নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ছাড়াও ইসরায়েলের চারজন প্রভাবশালী বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনের নেতা এবং ২১ জন উগ্রপন্থী সেটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না।   বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি এই মন্ত্রী সক্রিয়ভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিরলস প্রচার চালাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে এমন দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ বসতি তৈরি, গাজা পুনরুপনিবেশকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো নীতিকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে যাচ্ছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো সতর্ক করে বলেন, স্মোট্রিচের এসব কট্টরপন্থী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা কোনোভাবেই এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারে না। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এবং তার অংশীদার মিত্ররা মিলে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফরাসি ফুটবল তারকা কামাভিঙ্গা।  ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন ফরাসি ফুটবল তারকা

ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল। তবে সেই হতাশাকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার পর অবসর সময়কে কাজে লাগাতে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিনি।   মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা কামাভিঙ্গা গত কয়েক মৌসুম ধরে স্পেনের জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। ফ্রান্সের জাতীয় দলেও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য কোচ দিদিয়ের দেশমের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রানার্সআপ হওয়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কামাভিঙ্গা। সেই আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় ফরাসিদের।   তবে এবারের বিশ্বকাপের আগে তার পরিস্থিতি ভিন্ন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে নিয়মিত একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে। জাতীয় দলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হারাতে হয়েছে তাকে।   কিন্তু হতাশায় ডুবে না থেকে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছেন কামাভিঙ্গা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের বিনোদন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট একটি কোর্সে ভর্তি হওয়ার খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কামাভিঙ্গা লেখেন, “কিছুদিন শেখা, শোনা এবং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যয় করতে চাই।”   ফুটবলের বাইরে শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, আধুনিক ক্রীড়াবিদদের জন্য মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠক, শিল্পোদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীরা নিয়মিত এখানকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে থাকেন।   মজার বিষয় হলো, ফ্রান্স জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে যে এলাকায় অবস্থান করবে, তার কাছাকাছিই রয়েছে হার্ভার্ডের ক্যাম্পাস। ফলে কামাভিঙ্গা একদিকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন, অন্যদিকে সতীর্থদের বিশ্বকাপ অভিযানও কাছ থেকে অনুসরণ করার সুযোগ পাবেন।   আগামী ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, অরেলিয়েন চুয়ামেনিদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দলটি এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও কামাভিঙ্গার সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। বয়স এবং প্রতিভা বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফরাসি মিডফিল্ডার আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষার সময়টুকু তিনি কাজে লাগাচ্ছেন শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে।

নীলুফা নিশাত জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান।   বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উভয় পক্ষ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বর্তমান সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।   ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খোলা দরকার, তবে ‘যেকোনো মূল্যে নয়’—ফ্রান্সের সতর্ক বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন হলেও তা ‘যেকোনো মূল্যে’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন কীভাবে নিরাপদভাবে পুনরায় শুরু করা যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিবাস্টার আতঙ্কে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিল স্থগিত

প্রবল জনরোষ এবং বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিলটির ওপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও 'ফিলিবাস্টার' বা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন আটকে দেওয়ার আশঙ্কায় এর প্রস্তাবকরা সাময়িকভাবে বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নতুন এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা। ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানেও একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে প্রস্তাবিত এই বিলটি সেই সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর করার কথা বলেছিল। বিলটির প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বরং জুন মাসে পুনরায় আলোচনার টেবিলে পেশ করা হবে। মূলত বিরোধীদের রণকৌশলের কাছে নতিস্বীকার করেই আজ এটি আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিলটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সমালোচকদের দাবি, এই বিলটি পাস হলে ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। তাদের মতে, বিলটিতে 'ইসরায়েল রাষ্ট্র' এবং 'ইহুদি জনগোষ্ঠী'কে একই সূত্রে গেঁথে ফেলা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হলে তা উল্টো ইহুদিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিলটি স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিলের বিপক্ষে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। স্থগিতাদেশের পর প্যারিসের রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও একটি বিতর্কিত আইন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ফিরলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলে ফ্রান্সে কারাবন্দী সেই ইরানি তরুণী

ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার জেরে ফ্রান্সে এক বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ইরানি নাগরিক মাহদিয়া এসফানদিয়ারি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মাহদিয়া এসফানদিয়ারি ২০১৮ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছিলেন এবং লিঁও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সেখানে অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের অভিযানের পর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনলাইনে সরব হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদে উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। তেহরানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদিয়া ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সবার কাছে এখন এটা পরিষ্কার যে, অন্তত ফ্রান্সে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আদালতের রায়টি ছিল চরম অন্যায়।” উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁর ওপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। মাহদিয়ার এই মুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন এক সপ্তাহ আগেই ইরান তাদের দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দী দুই ফরাসি নাগরিক সিসিল কোহলার এবং জ্যাক প্যারিসকে মুক্তি দিয়েছে। যদিও ফ্রান্স সরাসরি এটিকে ‘বন্দী বিনিময়’ হিসেবে স্বীকার করেনি, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা আগেই জানিয়েছিল যে, ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে মাহদিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফ্রান্সে মাহদিয়ার মুক্তির দাবিতে এর আগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সামনে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার দেশ দুটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (এলিসি প্যালেস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘বিশুদ্ধ রক্ষণাত্মক মিশন’ (Purely defensive mission) পরিচালনার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অপারেশন চালুর বিষয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংকট নিরসনেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে এই বিশেষ সুরক্ষা মিশন গঠন করতে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের যুগান্তকারী রায়: ফ্রান্সে মুসলিম মহাসমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল

প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশাল এক বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের পথ প্রশস্ত হলো। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে এই সমাবেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি প্রশাসনিক আদালত।  আজ নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে আদালত এই রায় প্রদান করেন, যা ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার রক্ষায় একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্যারিস পুলিশ বিভাগ দাবি করেছিল, চার দিনব্যাপী এই ‘অ্যানুয়াল এনকাউন্টার অব মুসলিমস অব ফ্রান্স’ চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তবে আয়োজক সংস্থা ‘মুসলিমস অব ফ্রান্স’ (এমএফ) এই নিষেধাজ্ঞাকে মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হয়নি যা দিয়ে প্রমাণ হয় যে সমাবেশটিতে বড় কোনো হামলার ঝুঁকি রয়েছে বা এটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আয়োজকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তাই পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার অজুহাতটিও গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১৯ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনটি ইউরোপের অন্যতম বড় মুসলিম মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ফরাসি সরকারের নতুন 'বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী' আইনের প্রেক্ষাপটে এই আইনি লড়াইটিকে দেশটির গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রযটার্স
ট্রাম্পের হাসিঠাট্টার জবাব দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরান-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ না নেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ম্যাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন।   স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটনের একটি মধ্যাহ্নভোজে ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণ অনুকরণ করে বলেন, “ম্যাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, আর ম্যাখোঁ এখনও তার চোয়ালে ঘুষির ধাক্কা সামলাচ্ছেন।” ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন ২০২৫ সালের একটি ভিডিও দেখার পর, যেখানে ভিয়েতনাম সফরের সময় ব্রিজিত ম্যাখোঁকে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে হালকা ধাক্কা দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ ও ‘মানসম্মত নয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হ্যানয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই। এ ধরনের মন্তব্য মার্জিত এবং সম্মানজনক নয়। আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।”   ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলও ট্রাম্পের এই আচরণকে সমালোচনা করেছে। সংসদের নিম্নকক্ষের সভাপতি ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, “এ সময় যখন বিশ্বের ভবিষ্যৎ ও ইরানের লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে, একজন রাষ্ট্রপতি হাসছে ও অন্যকে উপহাস করছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।” কট্টর-বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড-এর সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ডও ম্যাখোঁর সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।   রক্ষণশীল ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে সাহায্য পেলে খুশি হব, যদিও আমরা দুষ্কৃতকারী ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূলের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছি। যদি পারেন, অবিলম্বে জাহাজ পাঠান।” এরপর ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণে ম্যাখোঁর জবাব অনুকরণ করে বলেন, “না না না, আমরা তা করতে পারি না, যুদ্ধ জেতার পর করতে পারব।”   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প নিজেও ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসান। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফিলিস্তিনপন্থী রিমা হাসান আটক

ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সদস্য রিমা হাসানকে আটক করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। 'সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া' বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।  তবে তার দল 'লা ফ্রান্স ইনসুমিজ' (এলএফআই) এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধ করার একটি রাজনৈতিক অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। ফরাসি পত্রিকা লে পারিসিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে ইসরায়েলের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার সাথে জড়িত কোজো ওকামোতো-কে নিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রেক্ষিতে তদন্তের অংশ হিসেবে রিমাকে আটক করা হয়। যদিও রিমা হাসান পরবর্তীতে এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে সেই পোস্টটি মুছে ফেলেছিলেন। এলএফআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলাঁশঁ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "একটি রিটুইটকে কেন্দ্র করে রিমা হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ ফ্রান্সে এখন আর পার্লামেন্টারি মেম্বারদের কোনো দায়মুক্তি বা ইমিউনিটি নেই। এটি অসহনীয়।" সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আটকের সময় রিমার কাছে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে রিমা হাসান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ৩৩ বছর বয়সী রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী বহরেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। রিমার এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলএফআই-এর পার্লামেন্টারি মেম্বার সোফিয়া চিকিরু বলেন, "ফরাসি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থকদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।" দলের অন্য এক নেত্রী মাথিল্ড প্যানট একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর 'নজিরবিহীন দমনপীড়ন' বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রিমা হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যাকেও তিনি এক ধরণের 'সেন্সরশিপ' বলে দাবি করেছিলেন। এখন ফ্রান্সে তার এই আটক হওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপে চলমান উত্তজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তীব্র সমালোচনা ফরাসি প্রেসিডেন্টের

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রয়োগের আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা ম্যাখোঁ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু সংকটের কোনো সমাধান আনতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, মিত্র দেশগুলো তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যথাযথ সমর্থন দিচ্ছে না। তিনি প্রকাশ্যেই আহ্বান জানিয়েছিলেন, অন্য দেশগুলোর উচিত হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে সেটি দখল করে নেওয়া। এর জবাবে ম্যাখোঁ বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কথা বলার সময় প্রতিদিন নিজের অবস্থানের পরিবর্তন করা মোটেও দায়িত্বশীল আচরণ নয়।" ম্যাখোঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান বিরোধী চলমান এই অভিযান মূলত মার্কিন-ইসরায়েল জোটের একটি নিজস্ব পরিকল্পনা এবং ফ্রান্স এতে কোনোভাবেই অংশ নেবে না। তার মতে, একটি সফল সমাধানের জন্য প্রয়োজন: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা। ইরানের সাথে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে একটি 'রিঅ্যাসুরেন্স মিশন' বা নিরাপত্তা দল গঠন করা। ম্যাখোঁ আরও উল্লেখ করেন যে, বাইরের প্রতিনিধিদের দিয়ে যথাযথ পরিদর্শন ছাড়া চলমান এই সামরিক পদক্ষেপ মোটেও ফলপ্রসূ হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে দক্ষ জনবল এবং গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যেভাবে রয়ে গেছে, তাতে কয়েক সপ্তাহের টার্গেটেড হামলা এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান দিতে অক্ষম।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সচল রাখতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান ফরাসি নৌপ্রধানের

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চীনের আরও সরাসরি এবং সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজুর। বুধবার প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের নৌযান সংখ্যা দেশটির চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।   অ্যাডমিরাল ভোজুর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। চীন ও ইরানের মধ্যে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ চলছে, কিন্তু তা পুরো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট নয়।   তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ফ্রান্স ও জাপানের

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।  টোকিও’র আকাসাকা প্রাসাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বিশ্বনেতা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাপান সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও জাপান উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুকতা তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের দ্রুত প্রশমন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিবেশে ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গভীর হওয়া অত্যন্ত অর্থবহ। দুই নেতাই মনে করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ট্রাম্পের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনড় ফ্রান্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে এলিসি প্যালেস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, "প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, এখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।" ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া দেখালো প্যারিস।  ওই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ফ্রান্স "একদমই সাহায্য করছে না" এবং সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমানগুলোকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0