ফ্রান্স

ফ্রান্সের দাবানল নেভাতে সামরিক বিমানকে বানানো হলো ওয়াটার বোমারু
ফ্রান্সের দাবানল নেভাতে সামরিক বিমানকে বানানো হলো ওয়াটার বোমারু

ইউরোপের সবচেয়ে বড় সামরিক বিমানটিকে এবার ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হয়েছে। এয়ারবাসের তৈরি 'এ৪০০এম অ্যাটলাস' (A400M Atlas) নামের এই বিমানটি সাধারণত সেনা ও সামরিক যান বহনে ব্যবহৃত হলেও, প্রকৌশলীদের জরুরি পরিবর্তনের পর এটি এখন ২২ টন ধারণক্ষমতার বিশালাকার 'ওয়াটার বোমারু' হিসেবে কাজ করছে। কার্গো হোল্ডে বসানো এই বিশেষ পানির ট্যাংক ব্যবহার করে বিমানটি মাটি থেকে মাত্র ১০০ ফুট ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে উন্মুক্ত র‍্যাম্পে বসানো পাইপের মাধ্যমে পানি বা রাসায়নিক ফায়ার রিটার্ডেন্ট (অগ্নিনির্বাপক পদার্থ) ফেলতে সক্ষম।   ২০২২ সাল থেকে এই অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলছিল। তবে ফ্রান্সে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ফরাসি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে গত সপ্তাহে এর চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম এয়ারবাস বিমানটি বোর্দোর কাছাকাছি অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এই দাবানলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের 'সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যার কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।   এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গিয়ম ফোরি জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা না হলেও, সামরিক বাহিনীতে সহজলভ্য হওয়ায় এই বিমানগুলোকে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজে লাগানো হচ্ছে। সচরাচর ব্যবহৃত হলুদ রঙের ক্যানাডায়ার (Canadair) ওয়াটার বোমারুর চেয়ে এটি তিনগুণ বেশি তরল বহন করতে পারে। মাত্র এক আঘাতেই এটি ৪,৪০০ গ্যালন তরল ফেলতে পারে, যা ১,৩০০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এলাকা ভিজিয়ে দিতে সক্ষম। ক্যানাডায়ারের মতো এটি হ্রদ বা সমুদ্র থেকে সরাসরি পানি তুলতে না পারলেও, মাটি থেকে ফায়ার রিটার্ডেন্ট লোড করার ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকর।   মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে কার্গো বিমানের পেছনের র‍্যাম্প দিয়ে সহজেই এই পানির ট্যাংক প্রবেশ করানো যায় এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই একটি সাধারণ সামরিক বিমানকে অগ্নিনির্বাপক বিমানে রূপান্তর করা সম্ভব। ঘণ্টায় ৫৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম এই বিমানটি সাধারণ ক্যানাডায়ার বিমানের চেয়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি হওয়ায় দুর্গম বা অস্থায়ী রানওয়েতেও এটি সহজেই ওঠানামা করতে পারে।   এয়ারবাস জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে কীভাবে বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে তারা আরও পাইলটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চলতি বছরেই এই ফায়ারফাইটিং কিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্পেনও তাদের সামরিক বহরে থাকা এ৪০০এম বিমানগুলোকে একইভাবে রূপান্তর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা, জাতিসংঘে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়েছে। ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে তুলনা করার পর প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে বের হয়ে যায় মার্কিন প্রতিনিধিদল।   ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে ভলকার টুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের নিয়োগ নিয়ে ভোটাভুটিকে ঘিরে। ওই ভোটে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিলে টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ভোট দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ১৪৪টি দেশের সমর্থনে তার পুনর্নিয়োগ অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।   ভোটের পর জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখন আর সেই অবস্থানে নেই। এ মন্তব্যে ওয়াশিংটন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।   জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ পাল্টা অভিযোগ করেন, ফ্রান্স এমন একজন কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে সমালোচনা করেন, অথচ দমনমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। তবে নিজের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।   ভলকার টুর্ক এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।   জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া জানিয়েছেন, ফ্রান্স তাদের "অসম্মানজনক বক্তব্য" প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও অর্থায়নের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই বিরোধ ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের সম্পর্কের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।   অন্যদিকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট ভলকার টুর্ককে "বিবেকের কণ্ঠস্বর" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, টুর্ক প্রথম মেয়াদে দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি শুধু বলেছেন, জাতিসংঘ আশা করে সব সদস্য রাষ্ট্র সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অরেঞ্জ শহরের একটি বাড়িতে রাখা কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ৩২ বছর বয়সী এক নারী ওই বাড়িতে সন্তান জন্ম দেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বাড়িতে থাকা কিছু সন্দেহজনক বিষয় সম্পর্কে চিকিৎসকদের জানান।   ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানান, নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি অনেক দেরিতে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করার সময় তিনি মানুষের দেহাবশেষের মতো কিছু দেখতে পান।   তথ্য পাওয়ার পর সোমবার রাতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হাড় পরীক্ষা করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সেগুলো পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ হতে পারে।   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে এখনো তার সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। ওই নারীর পরিবারে ৮ ও ৯ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে।   মঙ্গলবারও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। দুইতলা বাড়িটির প্রবেশপথ নিরাপত্তা টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সে নবজাতকের দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে একটি বাড়ির ফ্রিজ থেকে দুই নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত।   পুলিশ জানিয়েছে, অরেঞ্জের ঘটনার ক্ষেত্রে ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে দেহাবশেষের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
অরেঞ্জের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ছাড়াই ২০ বছর সম্পূর্ণ বেতন দেয়ায় সেই কোম্পানির বিরুদ্ধেই করলেন মামলা

ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। তার অভিযোগ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোম্পানি নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিলেও তাকে কোনো কাজ, দায়িত্ব বা কর্মস্থল দেয়নি। ফলে তিনি পেশাগতভাবে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা, মানসিক অবসাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।    জন্মগতভাবে আংশিক পক্ষাঘাত ও মৃগীরোগে আক্রান্ত লরেন্স ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ফ্রান্স টেলিকমে যোগ দেন, যা পরে অরেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে তিনি সচিব ও মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০২ সালে বাসস্থানের কাছাকাছি বদলির আবেদন করার পর তার কর্মজীবনে মোড় আসে। তার দাবি, নতুন কর্মস্থল তার শারীরিক অবস্থার উপযোগী ছিল না এবং পেশাগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামতেও সেটি উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে কার্যত তাকে কোনো নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।    লরেন্সের অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে তিনি কোনো অফিস, নির্দিষ্ট কর্মস্থল, সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বা পেশাগত দায়িত্ব ছাড়াই কেবল বেতন পেয়ে গেছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি বাইরে থেকে সুবিধাজনক মনে হলেও বাস্তবে এটি তাকে গভীর মানসিক সংকটে ফেলে। দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় থাকায় তিনি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হন।    তার আইনজীবীর দাবি, অরেঞ্জ প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য আইনসম্মত ও যৌক্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাকে এমন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চাকরিতে থেকেও কার্যত কর্মজীবনের বাইরে চলে যান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।    অন্যদিকে অরেঞ্জ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, লরেন্সের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে শতভাগ বেতন অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং তার জন্য উপযোগী বিভিন্ন পদে কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিয়মিত অসুস্থতার ছুটির কারণে সেসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।    এই মামলাটি ফ্রান্সে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী কর্মীদের অধিকার এবং নিয়োগকর্তার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মামলার বিচার এখনো চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভের অভিযোগ এবং অরেঞ্জের জবাব, উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
প্যারিসে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগ I ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগ

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইন ব্যবস্থার নানা জটিলতা এবং সেবা গ্রহণে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। প্রবাসীদের এই ভোগান্তি লাঘব করতে এবং ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দূতাবাস এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এদিন ৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সফলভাবে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন অনেক আবেদনকারী। সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছিল দূতাবাস। কিন্তু সীমিত স্লট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেকেই সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। এই বিশেষ সেবা সেই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।   পাসপোর্ট সেবার এই কারিগরি দিক ও বর্তমান চাপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। এখানে আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ নানা তথ্য যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।   দূতাবাসের এই বিশেষ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স এবং বিএনপি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করছেন।   কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপি ফ্রান্সের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদুর রহমান জুনেদ এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মিল্টন সরকার জানান, প্রবাসীরা যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতেই তারা প্রবাসীদের পাশে থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর দূতাবাসের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে সেবাকে আরও গতিশীল ও প্রবাসীবান্ধব করার আহ্বান জানান। সাধারণ প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত ও কার্যকর করা হবে, যাতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ই-পাসপোর্ট সেবার পূর্ণ সুবিধা সহজেই পেতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ ও দ্রুত করতে বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে প্যারিস দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে প্যারিস দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগ, সহায়তায় প্রবাসী কমিউনিটি

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইনের নানা জটিলতা এবং সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।   শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত জরুরি সেবা গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে অনেকে এই দিনে সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আগামী ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবারে এই বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে।   সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ওয়েবসাইটভিত্তিক নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে দূতাবাস। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপের কারণে অনেক প্রবাসী যথাসময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের কিছু কারিগরি সমস্যার কথাও জানান অনেকে। এসব সমস্যা এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেবার মান বাড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, ই-পাসপোর্ট হলো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ যাবতীয় তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের পরেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপে কিছুটা কাজের চাপ তৈরি হলেও প্রবাসীদের নির্বিঘ্ন সেবা দিতে দূতাবাস সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।   এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রমে দূতাবাসের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের স্বেচ্ছাসেবীরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পুরো কার্যক্রমটিকে তারা আরও সুশৃঙ্খল করে তুলেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দূতাবাসের এই সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও হয়রানিমুক্ত করা হলে এই সেবা আরও জনবান্ধব হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া, জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বড় ধরনের অভিযান চলছে। পরিস্থিতিকে উভয় দেশই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছে।    ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোর্দোর উপকণ্ঠ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিরন্দ অঞ্চল থেকেই প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সে প্রায় দুই লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।    দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় দেড় হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।    অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করায় দেশটির সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।    শনিবার মাদ্রিদের কাছে সেনিসিয়েন্তোস এলাকার অগ্নিনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো কঠিন লড়াই বাকি রয়েছে।    মাদ্রিদ অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দাবানল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকেও অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স
দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স, ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি বড় দাবানলের কারণে স্পেন সীমান্তসংলগ্ন অন্তত দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।   ফ্রান্সের পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে শুরু হওয়া এ দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শত শত দমকলকর্মী, অগ্নিনির্বাপণ যান এবং আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তাই নতুন করে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিযোগিতার নির্ধারিত ফিনিশিং এলাকায় দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবাকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। তবে প্রতিযোগিতা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।   ফ্রান্সে চলতি গ্রীষ্মের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, আর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, অনুকূল আবহাওয়া না ফিরলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচিত প্রার্থীরা
অভিবাসন ইস্যুতেই গরম হচ্ছে ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক-নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেছে, যা প্রধান দলগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্গঠনে বাধ্য করছে।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফার ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে দেশটির সংবেদনশীল ‘অভিবাসন ইস্যু’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।   এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   তবে ডানপন্থি শিবিরের মূল নেতৃত্ব নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; দলটির প্রধান মুখ মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। আদালতের রায়ে তিনি যদি অযোগ্য ঘোষিত হন, তবে দলটির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থি শিবির দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধ অভিবাসন চালু রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কথা বলছে এবং বামপন্থি দলগুলো একে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে।   এই নির্বাচনী টানাপোড়েনের কারণে ফ্রান্সে বসবাসরত বিশাল অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব এবং পরিবার পুনর্মিলন সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তাদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।   তবে ফরাসি প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতিই অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা যথাযথ আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের ২০২৭ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।   সূত্রঃ যুগান্তর 

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। ফরাসি সরকার তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন-সহায়তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অ-ইইউ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি আবাসন ভাতা বা এপিএল কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।   ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরের যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ক্রুসের (CROUS) সামাজিক বৃত্তি পান না, তাঁরা আর কাফের (CAF) মাধ্যমে দেওয়া এপিএল আবাসন ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।   এতদিন ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মাসিক বাসাভাড়ার একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা হিসেবে পেতেন, যা শহর ও বাসস্থানের ধরন অনুযায়ী তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি এনে দিত। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত সরকারি ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের মাঝে সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা ও সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা আগের মতোই এই আবাসন ভাতা পাবেন।   এর পাশাপাশি ক্রুসের সামাজিক বৃত্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। সরকার আরও নিশ্চিত করেছে যে, আবাসন ভাতার নিয়ম পরিবর্তন হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রুস পরিচালিত অন্যান্য সুবিধা, যেমন—স্বল্পমূল্যের খাবার এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো আগের মতোই চালু থাকবে।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, এসব দেশের অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে যান এবং খরচের দিক থেকে তাঁরা এই আবাসন ভাতার ওপর বেশ নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।   ফলে ভবিষ্যতে ফ্রান্সে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে সুযোগ খোঁজার দিকে ঝুঁকবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের জন্মহার বৃদ্ধি ও অনুর্বরতা রোধে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নতুন মহাপরিকল্পনা | ছবি: এএফপি
জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বেতনসহ অতিরিক্ত ছুটির নিয়ম চালু

দেশের আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া জন্মহার বাড়াতে মা ও বাবা উভয়ের জন্যই নতুন বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পূর্বঘোষিত ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   আগের নিয়ম অনুযায়ী ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা প্রায় চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন এবং বাবারা সন্তানের জন্মের পর ২৮ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারতেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মা ও বাবা এখন থেকে এই বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি আরও এক বা দুই মাসের অতিরিক্ত ছুটি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে তারা মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ আর্থিক সুবিধা হিসেবে পাবেন।   নতুন এই নিয়মটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা এর পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এমনকি যারা সন্তান দত্তক নিয়েছেন, সেইসব অভিভাবকরাও সমপরিমাণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ফরাসি সরকারের আশা, এই আর্থিক ও ছুটি সংক্রান্ত প্রণোদনা তরুণ দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করবে।   ইউরোপজুড়েই বর্তমানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, যার ব্যতিক্রম নয় ফ্রান্সও। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত বছর ফ্রান্সে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। ফলে দেশটিতে এক ধরণের জনসংখ্যাগত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   তবে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এটি পুরোপুরি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে স্থানীয় নারীবাদী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এই নতুন নিয়মে পরিবারে নারী-পুরুষের সমতা খুব বেশি বাড়বে না। কারণ বাস্তবতার নিরিখে সাধারণত দম্পতির মধ্যে যার আয় কম (অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী), তিনিই এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এপি
বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নতুন মাইলফলক দেশমের, শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম। তাঁর অধীনে বিশ্বকাপে ১৮তম জয়ের দেখা পেয়েছে ফ্রান্স, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো কোচের সর্বোচ্চ জয়। একই ম্যাচে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা।   মঙ্গলবার (১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশমের কৌশল মাঠে দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেন তাঁর শিষ্যরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৫৭ বছর বয়সী দেশম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নিজের ১৮তম জয় তুলে নিলেন। এর আগে গত সপ্তাহে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শনের ১৭ জয়ের রেকর্ড ভেঙেছিলেন।   তবে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ায় সেই ম্যাচে ডাগআউটে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। এবার মাঠে ফিরে দলের আরেকটি জয় দেখলেন স্বচক্ষে। ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের আগে, ৪৫তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।   বিরতির পরও আধিপত্য ধরে রাখে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪তম মিনিটে অলিসের আরেকটি রক্ষণচেরা পাস ধরে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। তাঁর জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।   এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন দিদিয়ের দেশম।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের কাছে ট্রোকাদেরো ফোয়ারায় নেমে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি নিচ্ছেন মানুষ। ছবি: গনজালো ফুয়েন্তেস
তীব্র দাবদাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ফ্রান্স

ফ্রান্সে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে অন্তত ১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) না থাকা নিয়ে মার্কিন পর্যটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সমালোচনার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শহরটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি মেয়র অড্রে পুলভার। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে সৃষ্ট তাপপ্রবাহের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক দায়ী করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অড্রে পুলভার লেখেন, ‘প্রিয় মার্কিন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা, কয়েক দিন ধরে আপনারা প্যারিসের সমালোচনা করছেন, কারণ এই শহরের প্রতিটি ঘরে এসি নেই। এটি নিয়ে উপহাস করার কিছু নেই।’   তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে ফ্রান্সে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দায় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আপনাদের শহরগুলোর ৯০ শতাংশ জায়গায় এসির ব্যবহারও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’   প্যারিসের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমাদের উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন। আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’   যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে এসির ব্যবহার অনেক কম। দেশটিতে মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিবারের ঘরে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনেক ফরাসিই এসিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। চলতি মাসে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ফরাসি নাগরিকের মতে, এসির ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তারা দাবদাহের কষ্টও সহ্য করতে প্রস্তুত।   তবে সাম্প্রতিক তীব্র গরমে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দেশজুড়ে বহনযোগ্য এসির চাহিদা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।   ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।   ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের প্রভাব বিলম্বিতভাবে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও তরুণদের ক্ষেত্রে। অনেক সময় দাবদাহ শেষ হওয়ার পাঁচ থেকে ১০ দিন পরও রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন।’   তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।   প্যারিসের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩ হাজার ৪০০টি কল পেয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি। একই সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   প্যারিসের পশ্চিমে ইভলিন অঞ্চলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ১৫ বছর বয়সী ভাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন চিকিৎসাকর্মীরা। এছাড়া তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে এ পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিসের কানাল সেন্ট-মার্টিনে সাঁতার নিষিদ্ধ এলাকায় ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।   প্রচণ্ড গরমে অনেক প্যারিসবাসী নিজেদের উত্তপ্ত অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বাট-শমঁ পার্কের মতো খোলা সবুজ এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এসিযুক্ত হোটেলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।   রোববার রাতে বজ্রঝড়ের কারণে প্যারিসে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রপাতে আইসিন, ইভলিন ও ইন্দ্র-এ-লোয়ার অঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্যারিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার থেকে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ১ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে লিফট, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সবাইকে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি আপনার কোনো প্রতিবেশী একা থাকেন, তাহলে এখনই তার দরজায় কড়া নাড়ুন। আমাদের প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে।’

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১১

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কাইডাইভারদের বহনকারী একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে টমব্লাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে একজন পাইলট ও ১০ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী স্কাইডাইভার এবং পাঁচজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক রয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা কেউই বেঁচে যাননি।   মার্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ইভ সেগুই বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।   স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ স্কুলের পরিচালিত বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে ওঠার পর বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে বিধ্বস্ত হয়।   দুর্ঘটনার সময় রানওয়ের কাছে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই চোখের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন, যা এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে।   দুর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। এছাড়া দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।   কারিগরি ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের টম্বলেন এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন | ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জনের মৃত্যু

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ন্যান্সি শহরের কাছে টম্বলেন এলাকায় একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে পাইলটসহ বিমানের ভেতরে থাকা মোট ১১ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১১টার কিছু পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক প্রশাসন।   দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটি মূলত স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণার্থী এবং পাঁচজন পেশাদার প্রশিক্ষক ছিলেন। তাদের সাথে বিমানের পাইলটও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ন্যান্সি এসে অ্যারোড্রোম থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাছাকাছি একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।   উদ্ধারকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ম্যুর্ত এ মোজেল অঞ্চলের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় তারা সালভাদর আলেন্দে স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকায় জনসাধারণকে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। একই সাথে জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে সহায়তার জন্য সবাইকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।   ম্যুর্ত এ মোজেল প্রিফেকচার জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিভাগীয় অপারেশনাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। প্রিফেক্ট ইভ সেগি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই আছড়ে পড়ল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের নান্সি শহরের কাছে সড়ক দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল | ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সে পর্যটকবাহী স্কাইডাইভিং বিমান ভেঙে পড়ে নিহত ১১, রানওয়ের কাছেই বড় বিপর্যয়

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ১১ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে একটি স্কাইডাইভিং স্কুলের বিমান উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন স্কাইডাইভিংয়ের শিক্ষার্থী এবং ৫ জন প্রশিক্ষক ছিলেন।   ম্যুর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভস সেগুই জানান, বিমানটি ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরপরই হঠাৎ এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রানওয়ের একদম কাছেই এটি আছড়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, বিমানটি যদি আর মাত্র কয়েক ডজন মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ত, তবে লোকালয়ে বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তবে সৌভাগ্যবশত মাটিতে থাকা কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হননি।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এবং নার্সিং কাউন্সিলের প্রধান থিয়েরি পেচেই নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ৫ শিক্ষার্থী পেশায় নার্স ছিলেন। তারা সবাই সহকর্মী এবং চলমান তীব্র তাপদাহের ক্লান্তি দূর করে একটু মানসিক শান্তির খোঁজে প্রথমবারের মতো দল বেঁধে স্কাইডাইভিং করতে এসেছিলেন। তারা সবাই একজন করে প্রশিক্ষকের সাথে যুক্ত হয়ে ‘ট্যান্ডেম জাম্প’ বা যৌথভাবে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ন্যান্সির মেয়র ম্যাথিউ ক্লেইন জানিয়েছেন, স্কাইডাইভিং দেখতে আসা নিহতদের বেশ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের সদস্য রানওয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখের সামনে বিমানটিকে আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়তে দেখে তারা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেছে।   জন কুরাকু নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি তার বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার শব্দ পান এবং এর পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বিমানের ভেতর আর কেউ বেঁচে নেই এবং প্রচণ্ড ধাক্কায় দুটি মরদেহ বিমান থেকে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জরুরি ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) সকালে তোম্বলেইন শহরের কাছাকাছি বিমানবন্দরের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি অংশ প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।   ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তোম্বলেইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণত স্বল্প উচ্চতায় উঠানামা করে এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট আকারের বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন বড় ধরনের প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।    একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।   বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।    তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।   ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে।   ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।"   স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে।   সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপজুড়ে তীব্র গরমের প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে এসি ও পাখা কিনতে ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের একটি দোকানে পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও বৈদ্যুতিক পাখা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভেতরে ঢুকে শেষ কয়েকটি শীতলীকরণ যন্ত্র সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন।   ঘटनাটি ফ্রান্সের শামব্রে-লে-তুর (Chambray-lès-Tours) এলাকার একটি দোকানে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দোকান খোলার আগেই বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক ডজন ক্রেতা। নিরাপত্তা শাটার উঠতেই তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও পাখার তাক প্রায় খালি হয়ে যায়।   এই কেনাকাটার চাপের পেছনে রয়েছে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ। ফ্রান্স, স্পেনসহ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে নামার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে প্যারিসের উপকণ্ঠের সাঁ-গ্রাসিয়াঁ এলাকায় পরিবারের একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৪৫ মিনিট পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসে সাময়িকভাবে জনসমক্ষে মদ্যপানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ফ্রান্সের হাজারো স্কুল, বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও দৈনন্দিন জনজীবন এই তীব্র গরমে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।   অন্যদিকে, স্পেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
দেম্বেলের রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স l ছবি: সংগৃহীত
দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

আর্লিং হালান্ডকে ছাড়া মাঠে নামা নরওয়ের জন্য গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক চরম দুঃস্বপ্নে। শুরুর একাদশে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে নরওয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফলস্বরূপ, মাত্র সপ্তম মিনিটেই দলের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন দেম্বেলে। এর কিছুক্ষণ পর, ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই গোল হজমের পর নরওয়েও দ্রুত লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ডের দারুণ এক গোলে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে তারা। কিন্তু ফরাসিদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে নরওয়ের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রতিরোধ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।   ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এক অসাধারণ দলীয় বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে অরেলিয়েন চুয়ামেনির বাড়ানো বল বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, যেখানে নরওয়ের গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। মাত্র ৩২ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসেবে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্ট।   বিরতির পর নরওয়ে ম্যাচে ফেরার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি বক্সে অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের নেওয়া দুর্বল স্পটকিকটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিঁয়া। এরপর ফরাসিদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের মাঝেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এএফপি
ইউরোপে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।   ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে।   ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়।   আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না।   ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।

Unknown জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০