ইতালির রেস্তোরাঁয় ভারতকে কটূক্তি, বাংলাদেশি ওয়েটারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন ভারতীয়রা
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।
খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপাকিস্তান এমন একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, যার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। একই কোম্পানি এর আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির চুক্তি করেছে। বিষয়টি পাকিস্তান-ভারতের প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন-সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। পাওয়ারাস জানিয়েছে, এমওইউটি কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতিও তৈরি হয়নি। চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রযুক্তি উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে। এই চুক্তির সঙ্গে ভারতের সংযোগটিই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩০ জুন ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া নথিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, পাওয়ারাস তাদের গার্ডিয়ান-১ ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ একই মার্কিন কোম্পানি পাকিস্তানে ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারাস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের এমওইউতে প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত অর্ডারও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও চুক্তিতে কাঠামো রাখা হয়েছে। পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি। কোম্পানিটি নাসডাক-তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক নথির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প আমেরিকান ভেঞ্চারস নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারাসে বিনিয়োগ করেছেন। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি একজন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির পরিচালনা বা চুক্তিতে তার কোনো ভূমিকা নেই। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে তুরস্ক ও চীনের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি ড্রোন রয়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাওয়ারাসের প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ভবিষ্যতে সরবরাহ, স্থানীয় উৎপাদন এবং পরবর্তী ক্রয়চুক্তি কীভাবে এগোয়, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একই উৎসের প্রযুক্তি পাকিস্তান ও ভারতের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে যাওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির জন্য দুই পক্ষের চাহিদা ও তথ্যের নিরাপত্তা আলাদাভাবে পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সোর্স- আল জাজিরা, রয়টার্স, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্রিটেনে নার্স সংকটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হাড় ভাঙার মতো ঘটনা, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
৫ বছর সানস্ক্রিন না ব্যবহারে নারীর মুখে দেখা গেল ত্বকের বড় পরিবর্তন
বিচারককে কাঁদাতে এআই দিয়ে ভুক্তভোগীর বিবৃতি লেখালেন পুলিশ অফিসার
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় সাতজন ইরানি ও একজন লেবানিজ হিজবুল্লাহ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির একটি আদালত। লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সন্ত্রাসী হামলায় ৮৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। সোমবার আর্জেন্টিনার বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন দশক পর এই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশটির বিচার ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ফেডারেল বিচারক ড্যানিয়েল রাফেকাস তার রায়ে এই হামলাকে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তৎকালীন ইরানি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে হিজবুল্লাহর মাধ্যমে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি চালানো হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আলি ফাল্লাহিজান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর ভেলায়াতি এবং হিজবুল্লাহর লেবানিজ অপারেটিভ সালমান রউফ সালমান। ইরান বরাবরই এই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসামিদের প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সরকারের আমলে পাস হওয়া নতুন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে আসামিদের শারীরিক অনুপস্থিতিতেই এই ঐতিহাসিক বিচারকাজ পরিচালিত হবে। আদালত ইতোমধ্যে প্রত্যেক পলাতক আসামির ওপর ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া বিচারক ১৯৯২ সালে বুয়েনস আইরেসে ইসরায়েলি দূতাবাসে হওয়া অপর একটি প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গেও এই ঘটনার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে দুর্নীতির অভিযোগ, সরকারি গাফিলতি এবং ইরানের অসহযোগিতার কারণে এই মামলার বিচারকার্য বারবার থমকে ছিল। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে আদালতের এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে একে 'রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে নৈতিকতার জয়' বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত অ্যাক্সেল ওয়াহনিশ একে দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর 'ন্যায়বিচারের মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বিগত সরকারগুলো যেখানে সন্ত্রাসবাদ ঢাকতে ইরানের সঙ্গে আপস করেছিল, বর্তমান নেতৃত্ব সেখানে সন্ত্রাস ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নতুন কেনা ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের, আলোচনার প্রস্তাব