আন্তর্জাতিক

ইতালির রেস্তোরাঁয় ভারতকে কটূক্তি, বাংলাদেশি ওয়েটারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন ভারতীয়রা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৯:৩৪
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি ওয়েটার হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি ওয়েটার হোসেন | ছবি: সংগৃহীত

ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

 

প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা।

 

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

 

ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।

 

খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি ওয়েটার হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
ইতালির রেস্তোরাঁয় ভারতকে কটূক্তি, বাংলাদেশি ওয়েটারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন ভারতীয়রা

ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।   প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা।   পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।   ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।   খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৯:৩৪
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে আর নিরপেক্ষ মানতে নারাজ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ, পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ঢুকতে দেবে না ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলকে সমর্থন করায় মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে কফি শপে নিষিদ্ধ, তোলপাড় নিউইয়র্কে

ছবি: সংগৃহীত
২ হাজার ডলার কর বকেয়ার জেরে ২ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি ৭৬ হাজারে, সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেল পরিবার

মাত্র ২ হাজার ২৪১ ডলার কর বকেয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের একটি বাড়ি নিলামে বিক্রি হয়ে যায় ৭৬ হাজার ডলারে। সেই বাড়ির মালিক পরিবারের দাবি ছিল, সম্পত্তিটি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হওয়ায় তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।   সোমবার দেওয়া সর্বসম্মত রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কর বকেয়ার কারণে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সম্পত্তি জব্দ করে নিলামে বিক্রি করলে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বাজারমূল্য নয়, বরং নিলামে পাওয়া প্রকৃত বিক্রয়মূল্যই বিবেচ্য হবে। মামলাটি মিশিগানের ইসাবেলা কাউন্টির পাং পরিবারকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের বাড়িটির বিপরীতে ২ হাজার ২৪১ ডলার ৯৩ সেন্ট সম্পত্তি কর বকেয়া ছিল। কর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ বাড়িটি জব্দ করে এবং পরে নিলামে বিক্রি করে। নিলামে বাড়িটির বিক্রয়মূল্য ছিল ৭৬ হাজার ৮ ডলার।   পাং পরিবারের দাবি, বাড়িটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। সে হিসেবে তারা প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারের সম্পত্তিগত মূল্য হারিয়েছেন। যদিও নিলাম থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল, তবুও তারা আদালতে যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।   তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। নয় বিচারপতির সর্বসম্মত মতামতে বলা হয়, সংবিধান সরকারকে কোনো সম্পত্তির অনুমানভিত্তিক বাজারমূল্যের ওপর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে না। আদালতের মতে, উন্মুক্ত ও আইনসম্মত নিলামে যে মূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড।   রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, বাজারমূল্যকে বাধ্যতামূলক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলে স্থানীয় সরকারগুলোর কর আদায় ও সম্পত্তি জব্দ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   তবে আদালত মামলার একটি অংশ নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠিয়েছে। সেখানে সম্পত্তি জব্দ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্যভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারের অন্যান্য অভিযোগ পুনর্বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, ইসাবেলা কাউন্টি কর্তৃপক্ষ আদালতে জানিয়েছে, পাং পরিবার কর অব্যাহতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি, কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিলও করেনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পাঠানো একাধিক নোটিশের পরও তারা বকেয়া কর পরিশোধে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি জব্দ ও বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করে কাউন্টি প্রশাসন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর বকেয়ার কারণে জব্দ হওয়া সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভবিষ্যতের মামলাগুলোতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি সম্পত্তির মালিকদের অধিকার ও স্থানীয় সরকারের কর আদায়ের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৬:১৫
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানের রহস্যময় ‘জেলিফিশ’ ড্রোনে ভূপাতিত হয়েছিল মার্কিন যুদ্ধবিমান? পাইলটের বর্ণনায় নতুন চাঞ্চল্য

ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল l ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল, ব্রাসেলসে নির্বাসন ইস্যুতে বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চায় আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে সাড়ে ৫ হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুক আটক, পার্লামেন্টে মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সৌদি আরবে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি পাকিস্তানি ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে। শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) পাকিস্তানি নাগরিকদের এভাবে দলে দলে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে খোদ দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এই লজ্জাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   পার্লামেন্টে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, "আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরব যখন ৫ হাজার ৫০০ ভিক্ষুককে আটক করে আমাদের বলে যে এদের আপনারা পাঠিয়েছেন, তখন আমাদের আর কী করার থাকে? একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন এই বিপুল সংখ্যক ভিক্ষুকদের নিয়ে আমাদের কাছে কৈফিয়ত চায়, তখন আমরা কী জবাব দেব?"   মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ পাকিস্তানি প্রবাসী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন, যা দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্সের মূল উৎস। কিন্তু সেখানে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক ভিক্ষাবৃত্তি সিন্ডিকেট এবং অবৈধ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কারণে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক দীর্ঘদিনের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে পাকিস্তানকে এখন তীব্র খোঁটা ও কূটনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।   নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক এই সংকটের আলোচনার মাঝেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের নাগরিকত্ব ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর তথ্যও জানান। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বৈত নাগরিকত্ব চুক্তি রয়েছে এবং আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পাকিস্তান একাধারে চরম অর্থনৈতিক মন্দা, অভ্যন্তরীণ উগ্রপন্থী হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। এই দ্বিমুখী সংকট সামাল দিতে ইসলামাবাদ তাদের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অবৈধ অভিবাসন রোধকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’র প্রেমের ফাঁদে কুপোকাত রুশ সেনারা

ছবি: সংগৃহীত

ছুটির ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে প্রতারণা, কানাডায় তীব্র ক্ষোভ

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ | ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৭০ করার পরিকল্পনা, চ্যান্সেলর মের্জের সমর্থন

0 Comments