বিশ্ব

খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ, ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৯:৭
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে ঠিক কে অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও নয়াদিল্লি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা জানানো হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হয়েছিল। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।

 

ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নয়াদিল্লি তেহরানকে তার বিস্তৃত প্রতিবেশী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে।

 

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় টানা ৪০ দিনের সংঘাতের সময়ও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় ছিল। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

 

এদিকে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও বহন করতে পারে। এখন নজর রয়েছে—ভারত এই আমন্ত্রণে কীভাবে সাড়া দেয় এবং কাকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ, ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে ঠিক কে অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও নয়াদিল্লি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।   গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা জানানো হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হয়েছিল। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।   ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নয়াদিল্লি তেহরানকে তার বিস্তৃত প্রতিবেশী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে।   সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় টানা ৪০ দিনের সংঘাতের সময়ও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় ছিল। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।   এদিকে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও বহন করতে পারে। এখন নজর রয়েছে—ভারত এই আমন্ত্রণে কীভাবে সাড়া দেয় এবং কাকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৯:৭
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরান গাজার মতো ধ্বংস হতো’—পাকিস্তানে পেজেশকিয়ানের মন্তব্য

দীর্ঘ বিরতির পর ভারত থেকে ট্রেন কোচ আসছে বাংলাদেশে

দীর্ঘ বিরতির পর ভারত থেকে ট্রেন কোচ আসছে বাংলাদেশে

যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।

পারমাণবিক সক্ষমতায় নৌবাহিনী জোরদার করছে উত্তর কোরিয়া, আসছে আরও বড় যুদ্ধজাহাজ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আগে নিরাপত্তা গ্যারান্টি চায় উপসাগরীয় মিত্ররা

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের পাল্টা হামলার উল্লেখযোগ্য অংশ এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।   আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আলোচনায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছিল বলে জানা গেছে।   আমিরাত সফর শেষে রুবিওর কুয়েত সফরেরও কথা রয়েছে। সংঘাতের সময় কুয়েতের বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক বন্দর এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়। কুয়েত এসব স্থাপনাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ সুপেয় পানির জোগান আসে এসব প্ল্যান্ট থেকে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে তারা ভবিষ্যৎ যেকোনো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে।   এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশ পরিচালিত হয়। তাই ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।   কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৭:৫
ছবি: এএফপি

ইউরোপে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার

নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্য দেশের নাগরিকদের আস্থা কমছে। প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাসীর চোখে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা, ট্রাম্পের ওপরও আস্থা তলানিতে

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের দাবি ইসরায়েলি সেনাদের পরিবারের, ‘সন্তানদের আর বলি দেব না’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলেও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে অস্পষ্টতা ও ঝুঁকি রয়েছে
ইসরায়েলসহ যে তিন কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কতটা কঠিন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এই সমঝোতার সামনে সবচেয়ে বড় তিনটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   বুধবার সাংবাদিকদের, যাদের মধ্যে বিবিসিও ছিল, ১৪ অনুচ্ছেদের একটি সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেভাগেই এতে স্বাক্ষর করেন।   তেহরানও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে সই করেছেন। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।   চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিনিময়ে তেহরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযানে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবিশ্বাস এখনও রয়েছে এবং ইরানের “আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে”।   লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু প্রাথমিক সমঝোতা ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকেও লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা ও কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন থেকে প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার বহাল থাকবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, লেবানন যুদ্ধের অবসান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহও একই অবস্থান নিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, পরবর্তী আলোচনায় লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।   ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দেশটির বাহিনী লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, লেবানন ইস্যুতে ইরান হামলা চালালে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এইচ. এ. হেলিয়ারের মতে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় একক হুমকি। তার আশঙ্কা, তেহরান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পারমাণবিক ইস্যুতে কার্যকর আলোচনা শুরুর আগেই পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে।   পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অংশ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছিল। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির প্রয়োজন হয়।   তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। নতুন সমঝোতাতেও তারা পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে যে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা হবে এবং এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।   ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান তাদের কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাবেক উপপ্রধান ডারিন সেলনিক বলেছেন, যদি ইরান আবার অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথে এগোয়, তাহলে ট্রাম্প পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারেন। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় অচল হয়ে থাকা এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের পরপরই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বাধা, বিশেষ করে মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   সমঝোতায় বলা হয়েছে, প্রথম ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি টোলমুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ইরান, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জলপথের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে। তবে ভবিষ্যতে ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সেই ফি কী ধরনের সেবার জন্য হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌ চলাচলের জন্য সরাসরি টোল আরোপ করা না গেলেও নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, ভবিষ্যতেও প্রণালিটি কার্যত টোলমুক্ত থাকবে। তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করবে না, যা অবাধ নৌ চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে।   তবুও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেছেন, মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানেই থাকবে।   সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে অত্যন্ত সাহসী কোনো অধিনায়ক প্রয়োজন হবে। ড. হেলিয়ারও সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সমঝোতা কেবল একটি কাঠামোগত স্মারক, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। তার ভাষায়, কঠিন কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৪:১৩
ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: যুদ্ধ থামল, লাভের পাল্লা কার দিকে?

ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন

ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন: জবাবদিহি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

ইউক্রেন ইস্যুতে ফের আলোচনার ইঙ্গিত, সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

0 Comments