সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইতালি

ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ ড্রোন হা মলা নিয়ে নতুন সতর্কতার তথ্য সামনে এসেছে
ইউরোপে রুশ ড্রোন হা মলার শঙ্কা, স্পেন-ফ্রান্স-ইতালিকে সিআইএর সতর্কবার্তা

স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সমুদ্রপথ থেকে ড্রোন হা মলার সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল মুন্দো’-র বরাত দিয়ে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, কথিত এই সতর্কবার্তায় রাশিয়ার সম্ভাব্য হা মলার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, তারা ওই সিআইএ প্রতিবেদনের অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে সিআইএর মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া সমুদ্র থেকে বিস্ফো রক বহনে সক্ষম ‘গেরবেরা’ ড্রোন ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হা মলার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বন্দর, বিমানবন্দর কিংবা বাইরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের হা মলায় বড় ধরনের ধ্বং সযজ্ঞের বদলে আগুন লাগানো, সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা বা কোনো স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গেরবেরা ড্রোনটি তুলনামূলক ছোট এবং কয়েক কেজি বিস্ফো রক বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটির পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় এসব ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কনটেইনারের মধ্যে লুকিয়ে সমুদ্র থেকে উৎ ক্ষেপণের কথা বলা হয়েছে।   স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করার পেছনে দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশেই ২০২৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যু দ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্লান্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের সীমিত হা মলা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা, কোনো নিশ্চিত হা মলার তথ্য নয়।   এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেসতুতিস বুদরিস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রয়টার্সকে বলেছেন, মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অন্যান্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।   ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, পশ্চিমা ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘন ঘন হা মলা এবং আগের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।   জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোনের একটি ঘটনা এবং পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাগুলোও ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পোল্যান্ডের কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক কিছু অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফো রণ ও ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে সম্ভাব্য হাইব্রিড হা মলার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে এসব ঘটনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দায় সবক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপকে ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে বিরত রাখতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাখনা বলেছেন, ন্যাটোর ওপর আসন্ন রুশ হা মলা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক হবে না। ফলে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সম্ভাব্য ড্রোন হা মলার যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিকে বর্তমানে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদিত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হা মলার সময়, লক্ষ্য বা ব্যবহৃত জাহাজের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন

ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে ডিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ৫৪ বছর বয়সী খান ১৯৯৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বিচারবহির্ভূত ছিল না। ইতালির আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিকভাবে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন। পরদিন বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালত সেই ডিপোর্টের নির্দেশ অনুমোদনও করে।   ইতালির অভিবাসন আইনের ১৩ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিদেশি নাগরিককে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন, এমনকি তিনি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করলেও। এই ধারাটিই খানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর তাকে ডিপোর্ট করা হয়নি। বরং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত দিক পরে আদালতে যাচাই হয়।   সরকারের ডিপোর্টের নির্দেশে খানের বক্তব্য, ধর্মীয় বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকে তার মধ্যে উগ্রপন্থী অবস্থানের প্রকাশ বাড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবিরোধী, ইহুদিবিদ্বেষী, সমকামিতাবিরোধী এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তোলে। এছাড়া কিছু বক্তব্যে হামাসের প্রতি সমর্থন, জিহাদের একটি উগ্র ব্যাখ্যা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের শহীদ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ অবশ্য খানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ডের সমান নয়।   ইতালীয় কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, খানের সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উগ্র ইসলামপন্থী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করেছিল। বোলোনিয়ার একটি মসজিদে তার ধর্মীয় বক্তব্য এবং ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও তদন্তের আওতায় আসে। ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উসকানির অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছিল।   তবে খানের আইনজীবী ফ্রান্সেস্কো মুরু সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য ছিল, খানকে তার মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপকে তিনি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ ডিপোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল কারণগুলো নিয়ে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালত বা টার লাৎসিওতে আপিল করবে।   ৯ অক্টোবর ২০২৪ বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালতের অভিবাসন বিষয়ক শাখা ডিপোর্টের নির্দেশটি অনুমোদন করে। আদালতের ওই পর্যায়ের পর্যালোচনার পর খানকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তার আইনজীবী তখন টার লাৎসিওতে আপিল করার কথা জানান। ফলে ‘বিচার ছাড়াই ডিপোর্ট’ কথাটি সরলীকৃতভাবে বলা হলেও, বাস্তবে প্রক্রিয়াটিতে প্রশাসনিক ডিপোর্টের নির্দেশের পর বিচারিক অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল।   খানের ঘটনাটি ইতালিতে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে সরকার বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধে দণ্ডিত না হয়েও বক্তব্য ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দাকে ডিপোর্ট করা কতটা যুক্তিসংগত। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই মামলাটি ইতালিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ইতালি। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা মেলোনির, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থী

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা থাকলে তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।   রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তবে এগুলো এখনো কার্যকর আইন নয়। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   মেলোনির ঘোষণায় বোরকা ও নিকাবের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সীমিত রাখার একটি নীতি রয়েছে। ২০১০ সালের একটি নির্দেশনায় সাধারণভাবে কোনো স্কুল বা শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী এ নিয়মে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে সব জায়গায় এটি একইভাবে কার্যকর হয়নি।   ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমার কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   মেলোনি বলেন, ইতালিতে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের ইতালীয় ভাষা শেখা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা এবং আইন মেনে চলা প্রয়োজন। স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতার প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ।   বোরকা ও নিকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যার কারণে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্পষ্ট করেছিল, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরা যেতে পারে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্য মুখ দেখাতে হবে।   মেলোনির নতুন পরিকল্পনার আগে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ পার্টিও মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের জন্য একটি বিল এনেছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেটে জমা দেওয়া ওই প্রস্তাবে খেলাধুলা বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।   এদিকে মেলোনির ঘোষণার সঙ্গে ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূতকরণ ইতালির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির ডানদিকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘ফুতুরো নাজিওনালে’ও সাম্প্রতিক সময়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে।   মেলোনির প্রস্তাব নিয়ে ইতালিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতালির সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।   ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা ও প্রয়োগের নিয়ম ভিন্ন।   মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার নিয়ম ঠিক কীভাবে আইনে রূপ পাবে। বিশেষ করে বর্তমান ৩০ শতাংশ সীমার পরিবর্তে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে গেলে এর বিস্তারিত বিধান প্রকাশ পাওয়ার কথা।   সূত্র: রয়টার্স, আনসা, আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা

ইতালির স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে স্কুলব্যবস্থায় একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। প্রস্তাবিত এসব ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার ইতালির ক্ষমতাসীন ব্রাদার্স অব ইতালি দলের যুব সংগঠনের আয়োজিত ফেনিক্স নামের জাতীয় যুব উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।   মেলোনি বলেন, ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় শিশুরা যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে ইতালীয় শিশুরাই নিজেদের কোণঠাসা মনে করে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেই সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা মেলোনি তাঁর বক্তব্যে জানাননি। ফলে এখনো শ্রেণিপ্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা হয়নি।   বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তাদের ইতালীয় সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   এ কারণে স্কুলব্যবস্থায় গুরুতরভাবে একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির বিষয় নয়, তাদের পরিবারের ভাষাগত একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।   স্কুলে পোশাকের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার স্কুলে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করবে। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটিকে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত আইনে নিষেধাজ্ঞার পরিধি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর আরও স্পষ্ট হবে।   মেলোনির এই বক্তব্য এসেছে ইতালির স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ভাষাগত পরিবেশ নিয়ে সরকারের চলমান আলোচনার মধ্যে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়টি সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   মেলোনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ইতালির স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যেখানে ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই সংখ্যালঘু মনে করে। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার পেছনে স্কুলের শিক্ষা ও একীভূতকরণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে এসব ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। মেলোনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনি ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রস্তাবের বিস্তারিত নিয়ম, বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা এবং স্কুলে পোশাকসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।   ইতালির প্রধানমন্ত্রী এমন সময় এসব পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন, যখন দেশটির সরকার স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন নীতি তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানো এবং হিজাব-বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর এর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের যুব সংগঠনের এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে। একইসঙ্গে ইতালীয় ভাষা শেখায় গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সংখ্যা মেলোনি এখনো নির্দিষ্ট করেননি। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষা না জানলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুখঢাকা পোশাকের বিষয়ে মেলোনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। কোনো প্রচলিত রীতি বা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ইতালিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে আছে। ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউর ২০২৩/২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইতালির প্রি-স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অ-ইতালীয় নাগরিক। তারা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অবশ্য ইতালিতেই জন্মেছে। আইএসএমইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা ছোট বয়সে দেশটিতে আসা। ফলে স্কুলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মেলোনির ঘোষিত উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালিতে অভিবাসন, ধর্মীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা
আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা

ইতালিতে নতুন আইফোন ১৮ প্রো বিক্রি শুরুর দিন শুক্রবার ধর্মঘটে গেছেন অ্যাপলের রিটেইল স্টোরের কর্মীরা। কর্মপরিবেশ ও কর্মীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে অসন্তোষের জেরে দেশটির ১৭টি অ্যাপল স্টোরের ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি কর্মী এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।   ফিলক্যামস সিজিআইএল, ফিসাসক্যাট সিআইএসএল এবং ইউইলটিইউসিএস ইউনিয়নের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মিলানের কেন্দ্রীয় এলাকায় অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ কিউব স্টোরের সামনে কয়েক ডজন কর্মী জড়ো হয়ে পতাকা ওড়ান এবং বাঁশি ও অন্যান্য শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে নতুন আইফোন কিনতে ক্রেতাদের দোকানের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।   ইউনিয়নগুলোর দাবি, নতুন আইফোনসহ অ্যাপলের নতুন পণ্য বাজারে আসার সময় রিটেইল কর্মীদের ওপর কাজের চাপ বাড়লেও তাদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নিয়ে যথেষ্ট স্পষ্টতা নেই। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় কর্মপরিবেশের অবনতি এবং কর্মীদের কল্যাণের বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ফিলক্যামস সিজিআইএল।   ইউনিয়নগুলো আরও কর্মী নিয়োগ, নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে থাকা কর্মীদের স্থায়ী চাকরিতে নেওয়া এবং পার্টটাইম কর্মীদের ইচ্ছা অনুযায়ী অতিরিক্ত ঘণ্টা কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নতুন পণ্য লঞ্চের সময় অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত জনবল ও পরিষ্কার দায়িত্ব কাঠামো প্রয়োজন।   তবে ধর্মঘটের কারণে ইতালিতে অ্যাপলের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অ্যাপলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের রিটেইল ও অনলাইন স্টোর স্বাভাবিকভাবেই খোলা রয়েছে এবং গ্রাহকদের যথারীতি সেবা দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানিটি কর্মীদের বেতন ও সুবিধাকে শিল্পখাতে প্রতিযোগিতামূলক উল্লেখ করে জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য প্রাইভেট মেডিকেল, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সাপোর্ট প্রোগ্রাম রয়েছে।   ধর্মঘটের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার বিশ্বজুড়ে আইফোন ১৮ প্রো বিক্রি শুরু হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে নতুন আইফোন উন্মোচন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ডুও উন্মোচন করে, যার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর।   ইতালিতে আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৪৮৯ ইউরো থেকে। নতুন মডেলের বৈশ্বিক লঞ্চের দিনেই কর্মীদের ধর্মঘট হওয়ায় বিষয়টি অ্যাপলের রিটেইল অপারেশন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তবে ধর্মঘটের কারণে ইতালিতে আইফোন ১৮ প্রোর বিক্রি বা অ্যাপলের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়নগুলোর মতে অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন পণ্য লঞ্চের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই দিনটিকেই তারা কর্মীদের দাবি তুলে ধরার জন্য বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপল জানিয়েছে, তাদের স্টোরগুলো স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ইতালির ভেনিসে মর্মান্তিক এক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী। গত শনিবার একটি ওয়াটার ট্যাক্সির সঙ্গে পেশায় জেলে শন মিশিলির (২৫) নৌকার সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   এরপর মঙ্গলবার ভেনিসের লেগুন থেকে তার নিখোঁজ স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা কোয়েরিনোর (২৬) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তার খোঁজ মেলে। জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তরুণ দম্পতি।   তবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছে না গ্যাব্রিয়েলার পরিবার। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার মধ্যে অনেক নীরবতা ও অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমানো গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের রাতে তার স্বামীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।   পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, গ্যাব্রিয়েলা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যাগও গুছিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্রাজিলে বসবাসরত তার মা জিসেল এলোরিয়াগাকে টেক্সট মেসেজ করে জানান যে, তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে এবং তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে যাচ্ছেন। মেসেজে তিনি মাকে এও বলেন, "কাল তোমাকে সব খুলে বলব।"   পরিবারের সন্দেহ মূলত এই মেসেজটি ঘিরেই। তারা জানান, গ্যাব্রিয়েলা মেসেজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না; বরং পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি সবসময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এদিকে মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই ইতালিতে ছুটে যান তার মা।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় তিনি তার দুই সন্তানকেই (মেয়ে ও অনাগত সন্তান) হারিয়েছেন। অন্যদিকে, শনের বোন চ্যান্টালও অনলাইনে এক আবেগঘন বার্তায় ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে 'নটিক্যাল হোমিসাইড' বা নৌ-হত্যাকাণ্ড মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার সময় ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে থাকা দুই মার্কিন পর্যটককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে শনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ ইতালীয় নারীর
‘ঘরের কাজ করানোর জন্যই তারা বিয়ে করে’, ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ ইতালীয় নারীর

ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে এক ইতালীয় ব্যক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, অনেক ভারতীয় পুরুষ মূলত ঘরের কাজ এড়িয়ে চলার জন্য বিয়ে করেন এবং স্ত্রীদের দিয়ে ঘর পরিষ্কারসহ গৃহস্থালির কাজ করানোর প্রত্যাশা করেন।   ভিডিওতে ওই ব্যক্তি ভারতীয় সমাজে পুরুষ ও নারীর ভূমিকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সংসারের কাজের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসম ভূমিকার অভিযোগ।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   তবে অনেকে ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছেন, একটি দেশের সব পুরুষকে একই ধরনের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। তাদের মতে, গৃহস্থালির দায়িত্ব বা দাম্পত্য সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর নির্ভর করে এবং তা দিয়ে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে বিচার করা যায় না।   এ কারণে ভিডিওটি ঘিরে মূল বিতর্ক এখন শুধু দাম্পত্য জীবনে ঘরের কাজ ভাগাভাগি করা নিয়ে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা গোষ্ঠীর মানুষকে সাধারণীকরণ করে মন্তব্য করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা ঠেকাতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
দালালের ফাঁদ এড়িয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি

দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।   মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।   এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে তিন জেলায় যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।   প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।   তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।   খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।   ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বর্তমানে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।   দুই দেশের এই আলোচনায় শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। সূত্র: চ্যানেল ২৪

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

ইতালিতে সম্পর্ক ভাঙার জের ধরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। লোরেনা ইসেরি (৪৬) নামের এক নারীকে অপহরণের পর ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন তার প্রাক্তন প্রেমিক ফেদেরিকো ভেল্লা (৩৬)। এই নির্মম ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেও ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক।   সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "সবাইকে বিদায়" লিখে একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়েছিলেন ভেল্লা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’র সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ভাড়া দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ভেল্লা লোরেনার ফ্লোরেন্সের বাড়ির গ্যারেজে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন। লোরেনা সেখানে পৌঁছালে তাকে মারধর করে পা বেঁধে তার নিজের অডি গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে ফেলেন ভেল্লা। এরপর গাড়িটি নিয়ে উত্তরের শহর বোলোনিয়ার দিকে রওনা হন তিনি।   ট্রাঙ্কের ভেতর একটি ব্যাকপ্যাকে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে লোরেনা প্রথমে তার মা ও এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশকে কল করতে সক্ষম হন এবং আততায়ীর বর্ণনা দিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানান।   পুলিশ লোরেনার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এগিয়ে আসতে থাকে। এদিকে ভেল্লা গাড়িটি একটি ভায়াডাক্টের পাশের ফাঁকা জায়গায় থামান। তিনি ট্রাঙ্ক খুলে লোরেনার হাতে ফোন দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি ছিনিয়ে নেন। এরপর চরম আক্রোশে তাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দেন।   পুলিশ ভেল্লাকে ঘিরে ফেলে এই নৃশংসতার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, লোরেনা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং খারাপ আচরণ করেছেন। এই কথা বলার পরপরই পুলিশের সামনে তিনি নিজেও ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, বিচ্ছেদের ঠিক আগের দিন ভেল্লা তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালির আকাশে বি-২৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক বৈমানিক। ঘটনার আট দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইউএস আর্মি এয়ার ফোর্সের সার্জেন্ট অ্যাডলফ পি. আগুইরে নামের ওই তরুণের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।   ১৯৪৩ সালের ১৬ আগস্ট একটি মিশন শেষে ফেরার পথে তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দীর্ঘ ৮২ বছর পর তার পরিবার অবশেষে প্রিয়জনের অন্তিম পরিণতির কথা জানতে পেরেছে।   চলতি মাসেই তুলারে কাউন্টির এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে বাবা-মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ভিসালিয়ায় ১৯২১ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আগুইরে। তার বাবা মার্গারিটো আগুইরে এবং মা মারি পিমেন্টেল। ১৯৪১ সালে এক্সেটার ইউনিয়ন হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।   পরিবারের কাছে তিনি ‘পাঞ্চো’ বা ‘চিকো’ নামে পরিচিত ছিলেন। বি-২৪ লিবারেটর হেভি বোম্বারে রেডিও অপারেটর ও গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই তরুণ পাইলট। বীরত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘পার্পল হার্ট’ এবং ‘এয়ার মেডেল’ লাভ করেছিলেন।   বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়ে তার বাবা-মাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠানো হলেও, ঠিক কী ঘটেছিল তা তারা কখনই জানতে পারেননি। দশকের পর দশক ধরে তার পরিণতি অজানা থেকে যায়।   ২০২১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী মামলাটি পুনরায় চালু করলে তদন্তে নতুন মোড় আসে। ইতালির লাসেডোনিয়া থেকে নেপলসে স্থানান্তরিত কিছু দেহাবশেষ নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করেন আগুইরের চাচাতো ভাই জুয়ান আগুইরে।   ২০২২ সালের মে মাসে কেনটাকির ফোর্ট নক্স-এ অবস্থিত ইউএস আর্মি হিউম্যান রিসোর্সেস কমান্ড জুয়ানকে ডিএনএ নমুনা প্রদানের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে নেপলসের একটি সমাধিস্থল থেকে দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনা হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুয়ান ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে নিখোঁজ মার্কিন সেনাদের হিসাবরক্ষক সংস্থা 'পাও/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি'-এর সাথে বৈঠক করেন। সে সময় তদন্তকারীদের আরও নিখুঁত জেনেটিক তুলনা করার সুবিধার্থে জুয়ানের ছেলে জুলিয়ানও ডিএনএ নমুনা প্রদান করেন।   টানা কয়েক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার পর, ২০২৬ সালের মে মাসে পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত সেই খবরটি পায়—আগুইরেকে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর ১৬ জুন তারা জানতে পারেন যে, এই বীর সেনানির দেহাবশেষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।   আট দশক আগে যে বাবা-মা সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তাদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এক্সেটার মেমোরিয়াল বিল্ডিংয়ে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সর্বসাধারণকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
মাদারীপুরের ইতালি প্রবাসী মোঃ ইরান শিকদার
ইতালিতে পর্যটকের হারানো ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণ

ইতালির কাতানিয়া শহরে উজবেকিস্তানের দুই পর্যটকের ফেলে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) এবং পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইরান শিকদার। প্রবাসের মাটিতে তার এই মানবিকতা ও সততা বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।   গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে কাতানিয়া শহরের ‘লা বারকা’ নামক রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন উজবেকিস্তানের ওই দুই পর্যটক। খাওয়া শেষে চলে যাওয়ার সময় তারা মনের ভুলে নিজেদের ব্যাগটি রেস্টুরেন্টেই ফেলে যান।   ব্যাগটিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও পাসপোর্টের মতো জরুরি নথিপত্র ছিল। রেস্টুরেন্টে কর্মরত ওয়েটার ইরান শিকদার বিষয়টি খেয়াল করে ব্যাগটি নিরাপদে নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন।   প্রায় এক ঘণ্টা পর চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ওই দুই পর্যটক ব্যাগের খোঁজে রেস্টুরেন্টে ফিরে আসেন। তখন ইরান শিকদার তাদের হাতে অক্ষত অবস্থায় ব্যাগটি তুলে দেন। হারানো অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তারা এবং এই বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।   মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর আলী শিকদারের ছেলে ইরান শিকদার ইতালির সিসিলি প্রদেশে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার এই মহৎ কাজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রস্তাবিত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ৮ হাজার বর্গমিটার জমিতে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যাওয়ার পর আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে।   মেস্ত্রের ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত করাতকলের জমিতে মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি। জমিটি কিনে সেখানে একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।   তবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ভেনিসের নতুন কেন্দ্র-ডানপন্থি মেয়র সিমোনে ভেনতুরিনি প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেন। মেয়রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি আকারে অনেক বড় এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়েও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। ইতালীয় ভাষা শেখা, নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর মতো বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।    মেয়রের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, ভেনিস ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত নামাজের স্থান প্রয়োজন। তাদের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় থেকেই ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকার জমিটি ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য বলছে, আগের পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।    কমিউনিটির প্রতিনিধি প্রিন্স হাওলাদার জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামতে পারেন। এমনকি ধর্মঘটের মাধ্যমে ফিনক্যানতিয়েরি শিপইয়ার্ডসহ স্থানীয় পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রভাব ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। ভেনিস, মেস্ত্রে ও মারঘেরার বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে এমন কর্মসূচি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল ধর্মঘটের এমন উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের দাবিতে এ ধরনের ধর্মঘটকে সমর্থন করছে না।    এদিকে বিরোধের মধ্যেই ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদের আকার ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। প্রকল্পের নকশা আরও ছোট করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।    মসজিদ প্রকল্পটি নিয়ে ইতালির রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দ্য লিগ দলের নেতা মাত্তেও সালভিনি মসজিদ নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘটের হুমকির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র-বামপন্থি রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বাংলাদেশি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।    দীর্ঘদিন ধরে ভেনিস অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিরা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং শিল্প খাতসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মেস্ত্রের প্রস্তাবিত মসজিদ তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   সূত্র: বিডিনিউজ ২৪

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইতালির পুলিশ। গত ২৬ জুন রাতে কাসালোত্তি এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।    ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাতের সঙ্গে নিহত আরজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত বাংলাদেশি নাগরিক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালির পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোমসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।    ঘটনার রাতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আয়ানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত কিছু সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে আয়ান হামলার শিকার হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর শাহাদাত পালিয়ে যান।    হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপুবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার কিছু আগে তিনি এমন একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল। পোস্টটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।    এদিকে শাহাদাতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের কোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়।    নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহাদাতেরও একই উপজেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।    ইতালির পুলিশ এখন শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউজ ২৪

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম

ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল।   ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়।   আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি।   জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা।   এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল।   জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।   ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল।   চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো।   মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
রোমে কিপ্পা পরা এক ফরাসি ইহুদি পর্যটকের ওপর দুই দিনে দুবার হামলার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
রোমে ইহুদি পর্যটককে ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে, দুই দিনে দুবার লাথি হামলার দাবি

ইতালির রাজধানী রোমে কিপ্পা পরা ২২ বছর বয়সী এক ফরাসি ইহুদি পর্যটককে পরপর দুই দিনে দুবার হামলা করা হয়েছে বলে দাবি সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনায় তাকে পেপার স্প্রে করা এবং পরদিন চারজন ঘিরে ধরে লাথি মারার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই ঘটনার সময়ই হামলাকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে চিৎকার করেছে বলেও ওই পর্যটকের দাবি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, গত শুক্রবার রোমের কেন্দ্রস্থলে কিপ্পা পরে চলাচলের সময় প্রথম হামলার শিকার হন ওই পর্যটক। একজন ব্যক্তি তার দিকে পেপার স্প্রে করেন বলে অভিযোগ। হামলার সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।   পরদিন সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আবারও তার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এবার চারজন তাকে ঘিরে ধরে লাথি মারেন এবং এ সময়ও একই স্লোগান দেওয়া হয় বলে তার দাবি।   প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঘটনার পর ৩১ বছর বয়সী এক আলজেরীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ এবং আরও তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে।   তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতালির প্রধান সংবাদ সংস্থা আনসা কিংবা রোম পুলিশের সহজলভ্য প্রকাশিত তথ্যে এই নির্দিষ্ট দুই দিনের ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে পর্যটকের বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং দুই হামলার মধ্যে একই ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন কি না, এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।   রোমে কিপ্পা পরা ব্যক্তিকে হামলার ঘটনা অবশ্য এর আগেও ঘটেছে। গত এপ্রিলে রোমের মারকোনি এলাকার ভিয়া জেরোলামো কারদানোতে কিপ্পা পরা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে হামলা করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল ইতালীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছিল।   ইতালির অন্য শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে কিপ্পা পরা ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে মিলানে কিপ্পা পরা দুই আর্জেন্টাইন ইহুদি পর্যটককে প্রায় ১০ জন ঘিরে ধরে মারধর করার ঘটনায় একজনের নাক ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।   রোমের সর্বশেষ অভিযোগটি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়ে থাকলে তা সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রশ্ন তুলবে। তবে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান বা স্লোগান নিজে থেকে ইহুদিবিদ্বেষের প্রমাণ নয়, তবে কোনো ব্যক্তিকে তার ইহুদি পরিচয় বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইতালীয় আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে তদন্ত হতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার সীমান্ত সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে গত ৩১ জুলাই স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির অধীনে মুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। ইতালির এই আকস্মিক পদক্ষেপে সামুদ্রিক ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার বন্ধ করার পাশাপাশি স্থল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।   ইতালির এই কড়া পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্পেন। স্প্যানিশ সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক’। মাদ্রিদ অবিলম্বে ইতালীয় সরকারকে এই হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের অন্যান্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো সমান চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি, আগামী রোববার (৯ আগস্ট)-এর মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক প্রত্যাহার না করলে স্প্যানিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা বা ‘কাউন্টারমেসার্স’ গ্রহণের কড়া হুমকি দিয়েছে স্পেন। তবে সম্ভাব্য এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে মাদ্রিদ এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে একে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে একটি ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে সেউটা সংকটের পরপরই তিনি অন্যান্য ইইউ নেতাদের সঙ্গে মিলে ভিসা-মুক্ত সেনজেন অঞ্চল থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন, যদিও আইনগতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্পেনের দাবি, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ফায়দা লুটতেই ইতালির সরকার এ ধরনের দূরত্ব ও নিষ্ফল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ভাবাবেগ, সাধারণ জ্ঞান এবং পারস্পরিক সদিচ্ছারই জয় হবে।   উল্লেখ্য, অভিবাসী অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেউটায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন এবং এই সংকটে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও ঐক্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন, ঘুম ভাঙার পর আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নারী

থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন।   ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন ।   মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ।   অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান ।   বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে ।   ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে ।   ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত

ইতালিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে ইতালীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পুলিশের তথ্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওই বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। ইতালির আদালতের গোপনীয়তা নীতির কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার চল্লাবাজ এলাকায়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।   তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।   এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গোরিৎসিয়া আদালত তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ত্রিয়েস্তে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।   রায়ের পর ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরিৎসিয়া পুলিশের অভিবাসন বিভাগ তাদের একটি নারী সহায়তা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বাংলাদেশির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই মঙ্গলবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।   এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট বলেন, যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি সম্মান দেখায় না, তাদের ইতালিতে থাকার অধিকার নেই।   মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসানও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চাইলে দেশটির আইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।   এদিকে মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইতালীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবহিত করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত
সেউতা সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিত করল ইতালি

উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে।   তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।   ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নেপলসে ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে ৪.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রেন চলাচল বন্ধ

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের উপকণ্ঠে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে (১৭:৪৬ জিএমটি) এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নেপলস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, সাময়িকভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (আইএনজিভি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে অবস্থিত কাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। ভূগর্ভের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্রস্থল হওয়ায় কম্পনটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়।   ইতালীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত অবস্থায় বাইরে জড়ো হতে দেখা গেছে।   ইতালির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কয়েকটি ভবনে ফাটল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া কাউকে উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন আসেনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে নেপলসের কিছু রেলপথ ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে সেবা চালু করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।   কাম্পি ফ্লেগ্রেই ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলোর একটি এবং এটি একটি সুপারভলকানো হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে সেখানে ভূকম্পন ও ভূত্বকের অস্বাভাবিক নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ইতালির ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে। তবে এবারের মতো শক্তিশালী কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ের ধারাবাহিক ভূকম্পনের কারণে হাজার হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল।   ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইতালির অতীতেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৬ সালে মধ্য ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এরও আগে ১৯৮০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের এরপিনিয়া অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হন এবং শত শত শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি

গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০