ইতালির আগ্রিজেন্তো শহরে পাঁচ স্বদেশি যুবককে যৌন নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়ে ৩৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। প্রাথমিক শুনানিতে বিচারক মিশেল ডুবিনি এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন। সরকারি কৌঁসুলি এলেত্রা কনসোলি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় অপরাধীর ১২ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ভয়াবহতা ও মাত্রা বিবেচনায় আদালত শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ১৪ বছর নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পরিবারহীন ও অসহায় অবস্থায় ইতালিতে পাড়ি জমানো প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকদের চরম দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাদের নিজের বাসায় বা আশপাশে আশ্রয় দেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ডেকে নিয়ে সহিংসতা, প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়ন চালান। জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী পাঁচ যুবকের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এমনকি নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে এক ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়েছিলেন বলেও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। অপরাধ আড়াল করতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের ওপর নিয়মিত মানসিক চাপ ও হুমকি প্রয়োগ করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পুলিশ এক ভুক্তভোগীকে তথ্যদাতা হিসেবে থানায় তলব করলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পুরো ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশের কাছে মুখ খুললে বা সাক্ষ্য দিলে তাকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালভাতোরে পেনিকা আদালতে দাবি করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তিনি খালাসের আবেদন জানানোর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে গুরুতর অভিযোগগুলো বিবেচনায় না নিয়ে আসামিকে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেন। তবে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকায় আদালত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশি বর্তমানে ইতালির কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ইতালিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতালির আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার গরমজনিত কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে লোদি অঞ্চলে মাঠে কাজ করার সময় ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পিয়াচেঞ্জা প্রদেশের একটি আঙুরখেতের ৬১ বছর বয়সী কৃষক, গারলাসকোর ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, নেপলসের এক গৃহহীন ব্যক্তি এবং পাদোভার এক শ্রমিক। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যে নয়, পর্যটন খাতেও পড়তে শুরু করেছে। ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক উফিজি গ্যালারির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের ভর মৌসুমে এমন পরিস্থিতি পর্যটন খাতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওরাজিও শিল্লাচি জরুরি কারিগরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রবীণ, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তীব্র গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে আব্রুজ্জো অঞ্চলের পেসকারা ও তেরামো এলাকায় শত শত পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। কোথাও কোথাও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে, যা নগর জীবনে বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের কারণে ইতালিতে এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপপ্রবাহের অন্যতম উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকা। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না, যা মানবদেহের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশজুড়ে কঠোরতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইতালিজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের ১৫টি শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আক্রান্ত শহরগুলোর মধ্যে রাজধানী রোম এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলানও রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করা এই সতর্কতাকে সর্বোচ্চ মাত্রার জনস্বাস্থ্য সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে লাল সতর্কতার আওতায় থাকা শহরের সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ১৬-তে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের কারণে অনেক অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণের জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। নাগরিকদের হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভেজানো বা শরীরে পানি ছিটিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এবং পানিশূন্যতা থেকে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চরম আবহাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইতালির সর্বশেষ এই সতর্কতা সেই উদ্বেগকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন পরিবেশ ও জলবায়ু বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের বরাতে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে আরও কিছু শহরকে সতর্কতার আওতায় আনা হতে পারে।
ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে সরকারি জমিতে চলা একটি অবৈধ খননের সূত্র ধরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন রোমান যুগের একটি বিলাসবহুল ভিলা। ভিলাটিতে পাওয়া গেছে চমৎকার মোজাইক মেঝে, মার্বেলের অলংকরণ এবং মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত জীবনযাত্রার নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভিলাটি কাস্তেল দি গুইদো গ্রামের কাছে অবস্থিত। রোম থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরের এই এলাকাটি রোমান সাম্রাজ্যের সময় ‘লোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল, যেখানে রাজপরিবার ও অভিজাতদের আবাসস্থল ছিল। এখনও খনন ও গবেষণা চললেও ইতোমধ্যে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, কেন্দ্রীয় আঙিনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি জলাধার উন্মোচিত হয়েছে। এসব স্থাপনার চারপাশে কালো-সাদা নকশার উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক অলংকরণে সাজানো মোজাইক মেঝে পাওয়া গেছে। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে এই অঞ্চল সম্রাট হ্যাড্রিয়ান, অ্যান্টোনিনাস পিয়াস এবং মার্কাস অরেলিয়াসের মতো শাসকদের নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। তদন্তে গিয়ে ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরি দেখতে পায়, প্রত্নসম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ খননের একাধিক লক্ষণ সেখানে রয়েছে। রাতের বেলা কাজ চলা, মাটির স্তূপ এবং অনুমোদিত খননের কোনো চিহ্ন না থাকায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে জানা যায়, একদল ব্যক্তি খননযন্ত্র ব্যবহার করে বেড়া কেটে সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ একটি বিশাল স্থানে খনন চালাচ্ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান বন্ধ করা হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। সেখানে আবিষ্কৃত হয় আগে অজানা একটি প্রাচীন ভিলার ধ্বংসাবশেষ, যেখানে বহু নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ খনন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্য যুগের একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আলেসিয়া কন্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিলাটিতে বিলাসবহুল মোজাইক, সূক্ষ্ম মার্বেল অলংকরণ এবং রোমান গ্রামীণ দেবতা সিলভানাসের একটি ভাস্কর্যের অংশ পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভিলাটি রোমান অভিজাত শ্রেণির এমন সদস্যদের ছিল, যাদের সঙ্গে সম্রাটের দরবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ খননের সময় কিছু অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রত্নবস্তু চুরি হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ লুটের ঘটনা ঘটে আসছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে এসব নিদর্শনের অনেকগুলো বিদেশে পাচার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে পৌঁছেছিল। পরবর্তীকালে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। খননকাজ এখনও চলমান রয়েছে। শনিবার প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সময়সূচির মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করা হবে। আগামী কয়েক মাসে আরও দর্শনসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বানানো গল্প’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মেলোনি। ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। দুই নেতার এই প্রকাশ্য বাকবিনিময় এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে মার্কিন নীতির প্রশ্নে গত কয়েক মাসে তাদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে দীর্ঘ সময় আলাপ করতে দেখা যায়। সম্মেলন শেষে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং পারস্পরিক কোনো ক্ষোভও নেই। কিন্তু এরপর ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, “উনি (মেলোনি) আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য অনুনয় করছিলেন; তার জন্য আমার মায়া হচ্ছিল।” এভিয়াঁর সম্মেলনে একাধিকবার দুই নেতাকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা হয়। একটি ছোট সোফায় বসে তাদের গভীর আলোচনায় মগ্ন থাকতেও দেখা যায়। সেসময় মেলোনিকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, তাতেই হয়তো উনি খুশি।” তবে লা-৭ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে তার ইতালীয় অনুবাদ সম্প্রচার করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন মেলোনি। ইনস্টাগ্রামে তার ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি বলেন, “আমি সত্যিই স্তম্ভিত।” তিনি আরও বলেন, “জানি না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। মেলোনির ভাষায়, “আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমের শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি এই ধরনের দৃঢ়তা দেখান না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। উল্টো ওই সব শত্রু দেশের নেতাদের প্রতি তার অনেক বেশি নরম মনোভাব দেখা যায়।” তিনি আরও বলেন, “তবে তার একটা জিনিস মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি, কেউই কখনও কারও কাছে অনুনয় করে না।” এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মেলোনির প্রতিক্রিয়া আকস্মিক নয়। এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনার কারণে দুই নেতার রাজনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসা মেলোনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মেলোনিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাব্য সেতু হিসেবে দেখছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন মেলোনি। এর প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিলে ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমার ভুল হয়েছিল।” পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ট্রাম্প যখন ‘অপরাধ দমনে দুর্বল ও পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত খারাপ’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন, তখন মেলোনি ওই মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছিলেন।ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা অবিলম্বে মেলোনিকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দেন। ইতালির প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারাও মেলোনির সমর্থনে এগিয়ে আসেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই। ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে বলেন, ইতালি এই ধরনের অপমান প্রাপ্য নয়। ওয়াশিংটনের অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের বিনিময়ে হতে পারে না। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির সিনেট নেতা লুচো মালান বলেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিভিন্ন ইউরোপীয় নেতার প্রতি তার ধারাবাহিক আপত্তিকর আচরণেরই অংশ। এর ফলে অন্য কারও নয়, খোদ ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ও কর্তৃত্বই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জি-৭ সম্মেলনের ভিডিওতে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তা ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজনের মুহূর্তে ওয়াশিংটনকে ‘না’ বলার যে নজির মেলোনি গড়েছেন, সেটিই সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিরক্ত করেছে। সরকারের জোটসঙ্গী লিগ পার্টির নেতা মাত্তেও সালভিনি বলেন, “যিনি জর্জিয়াকে আক্রমণ করছেন, তিনি আমাদের সবাইকেই আক্রমণ করছেন।” মেলোনি ও ট্রাম্পের এই বিরোধকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একসময় ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি তুলনামূলক সহনশীল অবস্থান নিলেও এখন তারা প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাতে বেশি আগ্রহী। আফগানিস্তানে ব্রিটেন ও যৌথ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাম্প্রতিক সময়ে মেলোনিসহ আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। নিজেদের বিমানঘাঁটি মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিতেও অনেক ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়েছেন তারা। কূটনীতিকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে আরও দৃঢ় মনোভাব গড়ে উঠেছে। আটলান্টিকের ওপারের মিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ইউরোপ কীভাবে কৌশলগতভাবে আরও স্বনির্ভর হতে পারে, তা নিয়ে মহাদেশটির বিভিন্ন রাজধানীতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপজুড়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রনেতাদের অবস্থানেও সেই রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে ইউরোপের যেসব ডানপন্থি রাজনৈতিক দল একসময় ট্রাম্পপন্থী শিবিরকে রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করত, তারাও এখন মার্কিন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে।
জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “ভিক্ষা” করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শুরুতে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মেলোনির অনুরোধে তিনি সম্মত হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ভিক্ষা চায় না। মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এক বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি জানেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় মিত্রদের ক্ষেত্রে এমন আচরণ হতাশাজনক। এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য পুরো ইতালির প্রতি অপমান। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
ইতালির মিলান শহরে নারী যাত্রীদের গোপন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে কুৎসিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ট্রাম চালককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মিলানের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'এটিএম'-এর সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে নারী যাত্রীদের শরীর লক্ষ্য করে ছবি তুলে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানো হয়। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিলানের সরকারি কৌঁসুলিরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গণপরিবহন প্রতিষ্ঠানের অন্তত একজন কর্মীর বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেমে প্রবেশ ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরও পাঁচজন পুরুষ কর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত। অভিযুক্ত চালকরা ট্রামের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নারী যাত্রীদের পা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি কেটে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নোংরা মন্তব্য ও কৌতুক করতেন। গত শনিবার ১৫ নম্বর রুটের একটি ট্রামে ভ্রমণের সময় এক নারী যাত্রী এই পুরো জালিয়াতি ধরে ফেলেন। তিনি লক্ষ্য করেন, তার সামনে বসা ডিউটি শেষ করা এক ট্রাম চালক ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেই তার ফোনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাট দেখছেন। সেখানে ট্রামের সিসিটিভি থেকে নেওয়া নারীদের আপত্তিকর ছবি এবং তাদের শরীর নিয়ে নোংরা কৌতুক করা হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী কৌশলে চালকের ফোনের স্ক্রিনের একটি ছবি তুলে নেন এবং সেটি এক পরিচিত নারী অধিকার কর্মীর কাছে পাঠান। পরবর্তীতে ওই কর্মী পুরো বিষয়টি পরিবহন সংস্থা এটিএম-কে জানান। পরিবহন সংস্থা এটিএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বরখাস্ত করেছে। তারা গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার সৎ কর্মীর সম্মান রক্ষার্থে এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই ছবিগুলো কেবল একটি ট্রাম নাকি একাধিক ট্রামের সিসিটিভি থেকে নেওয়া হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইতালির গ্রাহক অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা 'কোডাকনস'-এর আঞ্চলিক প্রধান মার্কো মারিয়া দোনজেলি মিলানের আদালতে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, "এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি অপরাধ। ঘটনা সত্যি প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ফৌজদারি আইনে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং ভুক্তভোগী নারীরাও দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।" দেশটির বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লিঙ্গ সমতা ও মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন থেকে নিরাপত্তার কারণে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়া শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিয়েভ সরকার বলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত ও দত্তক প্রক্রিয়ার কারণে এসব শিশুদের দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকা শিশু এবং এতিমসহ প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিশুকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে অন্তত কয়েক ডজন শিশুর ইউক্রেনে প্রত্যাবর্তন ইতালির আদালতের রায়ের কারণে আটকে আছে বলে দাবি কিয়েভের। এর মধ্যে কিছু শিশু ইতালিতে দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় চলে গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এপ্রিল মাসে, যখন ইউক্রেন জানায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ‘সাশা’কে ইতালির একটি পরিবার আইনগতভাবে দত্তক নিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ওই কিশোরের মা এখনও তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চান। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং শিশুদের দেশে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, বিদেশে থাকা শিশুদের স্থায়ীভাবে অন্য দেশে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দিমিত্রো লুবিনেতস অভিযোগ করেছেন, ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না এবং শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইউক্রেনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এটি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে। অন্যদিকে ইতালি বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইতালির আইন অনুযায়ী, অভিভাবকহীন নাবালকদের সুরক্ষায় কঠোর বিধান রয়েছে, যার ফলে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। ইতালিতে আশ্রয় পাওয়া শিশুদের অনেককে শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য নতুন আইনি অভিভাবক নিয়োগ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় তত্ত্বাবধানের পরিবর্তে ইতালীয় তত্ত্বাবধান কার্যকর হয়। কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, কিছু শিশু ধীরে ধীরে জন্মভূমির ভাষা ও পরিচয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ইতালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে শিশুদের স্থায়ীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য জনমিতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে কিছু ইতালীয় অভিভাবক পরিবার বলছে, তারা শিশুদের নিরাপদ জীবন ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে এবং যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতভিত্তিক একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার ও অভিভাবকত্ব ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের নাটকীয় লড়াইয়ে ইতালিকে হারিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হিসেবে মাঠের ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন একজনের নাম পুরো বলকান রাষ্ট্রজুড়ে মুখে মুখে ফিরছে— তিনি হলেন ১৪ বছর বয়সী এক ‘বল বয়’, আফান সিজমিক। ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার পেনাল্টি শ্যুটআউটের গোপন নোট সরিয়ে ফেলে এখন বসনিয়ার জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন এই কিশোর। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? গত ৩১ মার্চ জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি ও বসনিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার এই বাঁচা-মরার লড়াই গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শ্যুটআউটের ঠিক আগে ডোনারুম্মা একটি কাগজে লেখা নোট বারবার পড়ছিলেন এবং সেটি তার তোয়ালের নিচে লুকিয়ে রাখছিলেন। ওই কাগজে বসনিয়ার পেনাল্টি শ্যুটারদের শট নেওয়ার ধরন ও দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিল। মাঠের পাশেই অবস্থান করা বল বয় আফান সিজমিক বিষয়টি লক্ষ্য করেন। ডোনারুম্মা যখন পোস্টের দিকে এগিয়ে যান, আফান ক্ষিপ্র গতিতে এসে তোয়ালের নিচ থেকে সেই নোটটি তুলে নিয়ে দৌড়ে দূরে সরে যান। পরবর্তীতে শ্যুটআউট শুরু হলে ডোনারুম্মা তার নোটটি খুঁজে না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি তিনি প্রতিপক্ষ বসনিয়ান গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের নোট কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। ডোনারুম্মার এই অস্থিরতার সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগায় বসনিয়া। চারটির মধ্যে একটি পেনাল্টিও সেভ করতে পারেননি ডোনারুম্মা, অন্যদিকে ইতালি তিনটি শট মিস করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইতালি। বীরোচিত সংবর্ধনা ও মহানুভবতা ম্যাচ পরবর্তী সময়ে আফান সিজমিককে নিয়ে বসনিয়ায় উন্মাদনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন টকশো এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই কিশোর। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফান বলেন, “আমি দেখছিলাম ও বারবার কাগজে কী যেন পড়ছে। তখন মনে হলো এটি সরিয়ে ফেলা উচিত। আমি যা করেছি, ইতালিতে খেলা হলে হয়তো তাদের কোনো বল বয় আমাদের সাথে এটাই করত।” তবে কেবল মাঠের চালাকি নয়, আফান তার মহানুভবতা দিয়েও মানুষের মন জয় করেছেন। ঐতিহাসিক সেই চিরকুটটি তিনি একটি প্লাস্টিক কভারে যত্ন করে রেখেছেন এবং জানিয়েছেন এটি নিলামে তোলা হবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ আর্তমানবতার সেবায় দান করবেন তিনি। বসনিয়ার ফুটবল ভক্তরা এখন দাবি তুলেছেন, বিশ্বকাপে জাতীয় দলের সাথে আফানকেও যেন আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এনকে চেলিক ক্লাবের যুব দলের এই খেলোয়াড় স্বপ্ন দেখেন একদিন নিজেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার আগেই ‘বুদ্ধিমান’ এক বল বয় হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে। যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান। উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ককে পাম সানডে’র গণপ্রার্থনা বা 'মাস' উদযাপনে বাধা দেওয়ায় ইসরায়েলি পুলিশের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে ইতালি। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। লাতিন প্যাট্রিয়ার্কেট সূত্রে জানা গেছে, জেরুজালেমের চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাচ্ছিলেন কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজাবাল্লা। তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ক্যাথলিক বিচারব্যবস্থার প্রধান আর্চবিশপ। তবে সেখানে প্রবেশের সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাকে পথিমধ্যে আটকে দেয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেন, "এই ঘটনাটি কেবল মুমিনদের জন্যই নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে এমন যে কোনো সম্প্রদায়ের জন্য একটি অবমাননাকর বিষয়।" ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন যে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতালির সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় গণভোটে ‘না’ জয় পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রথম বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এই ফলাফলের পর তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর এটি বর্তমান সরকারের প্রথম উল্লেখযোগ্য পরাজয়। এই ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো মেলোনির ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি এলি শ্লিন একে ‘বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। গণভোটের এই ফলাফলের পর মেলোনির সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পার্লামেন্টে পুনরায় আস্থা ভোট নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ২০১৬ সালে মাত্তেও রেনজি গণভোটে হেরে পদত্যাগ করলেও মেলোনির ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যম রেপুব্লিকার তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল অবস্থানে থেকে মেয়াদের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে আগাম নির্বাচন দিয়ে বিরোধীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারেন তিনি। অন্যদিকে, নতুন নির্বাচনি আইন প্রণয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে বিরোধীদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিজয়ী জোটকে বড় ধরনের ‘মেজোরিটি বোনাস’ দেওয়ার মতো আইন আনার চিন্তা করছে সরকার। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই ফলাফলকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালি জোটভিত্তিক শক্তিশালী বোনাস ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছে। বর্তমানে পদত্যাগের সম্ভাবনা কম থাকলেও মেলোনিকে এখন পার্লামেন্ট ও জনগণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার প্রমাণ দিতে হবে। বিরোধীরা নতুন জোট গঠনের আগেই তিনি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।