আমেরিকা

ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো, সাধারণ গ্রাহকরা কি পাবেন?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৭:৫২
ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো
ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ বা শুল্ক রিফান্ড চেক পেতে শুরু করার পর, সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই বিশাল অর্থের কোনো অংশ সরাসরি তাদের পকেটে আসবে কি না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ককে 'অবৈধ' ঘোষণা করার পর মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি) ব্যবসায়ীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করে।

 

এক আদালত নথিতে জানা গেছে, ট্যারিফ প্রদানকারী হাজার হাজার মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ১৬৬ বিলিয়ন ডলার দেনা ছিল সরকারের, যার অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরতের আওতায় বড় বড় করপোরেট জায়ান্টদের মধ্যে অ্যাপল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার, আমাজন ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং নাইকি ৩০০ মিলিয়ন ডলার রিফান্ড পাচ্ছে।

 

এর আগে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ২০০০ ডলারের উদ্দীপনা বা ‘স্টিমুলাস চেক’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তবে প্রশাসন কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে এই ধরনের চেক বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা পাওয়া অত্যন্ত দূরহ।

 

অন্যদিকে, গবেষণা সংস্থা ‘ট্যাক্স ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ১,০০০ ডলার বেশি খরচ করতে হয়েছে এবং ২০২৬ সালে এটি পরিবারপ্রতি করের বোঝা প্রায় ৯০০ ডলার বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত চাপ সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতারা সরকারের কাছ থেকে এই রিফান্ডের টাকা সরাসরি পাবেন না, কারণ নিয়মানুযায়ী কেবল যেসব আমদানিকারক বা অনুমোদিত কাস্টমস ব্রোকার সরাসরি শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তারাই এই রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য।

 

তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউপিএস (UPS) বা ফেডেক্স (FedEx)-এর মতো আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহনকারী মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনিয়ে যারা সরাসরি শুল্ক প্রদান করেছিলেন, তারা ট্র্যাকিং নম্বরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে পারেন। এসব পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে রিফান্ড পেলে তা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এছাড়া ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক সরাসরি আদায় করেছিল, কেবল সেই সীমিত ক্ষেত্রেই তারা রিফান্ড ইস্যু করবে। অন্যদিকে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া শুল্কের টাকা তারা সরাসরি গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে না পাঠিয়ে স্টোরের বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য বাঁচলেন চালকরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টির সেলমা সংলগ্ন ৯৯ নম্বর মহাসড়কে (Highway 99) একটি বিশাল জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ঘটা এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ট্যাংকার থেকে বিশাল আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া আকাশের দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) জানিয়েছে, সেকেন্ড স্ট্রিটের কাছে সাউথবাউন্ড লেনে একটি ফুয়েল ট্যাংকার এবং একটি বক্স ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানি মজুত ছিল, যা দুর্ঘটনার পরপরই সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। পাশাপাশি বক্স ট্রাকটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবিসি৩০ নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এত ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও উভয় যানের চালকরা অলৌকিকভাবে কেবল সামান্য আঘাত নিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অনিরাপদভাবে লেনের দিক পরিবর্তন করার কারণেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ক্যালট্রান্স (Caltrans) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণে ৯৯ নম্বর মহাসড়কের সাউথবাউন্ড লেনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ফ্লোরাল অ্যাভিনিউ এক্সিটে স্টেট রুট ৪৩-এর দিকে ট্রাফিক ডাইভার্ট করে দেওয়া হয়েছে।   এর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের কয়েক ঘণ্টা যানজটের সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটেও সেকেন্ড স্ট্রিটের কাছে স্টেট রুট ৯৯-এর সাউথবাউন্ড লেনগুলো বন্ধ ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৮:৪৮
নিউইয়র্কের সাবওয়ে লাইনে পড়ে বাবার শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারলেন না মার্কিন সেনাসদস্য

নিউইয়র্কের সাবওয়ে লাইনে পড়ে বাবার শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারলেন না মার্কিন সেনাসদস্য

ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো

ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো, সাধারণ গ্রাহকরা কি পাবেন?

বিমানে ওঠার আগে সাবধান! বাড়তি তল্লাশি এড়াতে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখছেন, সেদিকে নজর দিন

বিমানে ওঠার আগে সাবধান! বাড়তি তল্লাশি এড়াতে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখছেন, সেদিকে নজর দিন

বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া
বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় বসবাসরত কায়লা নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী সম্প্রতি তার নিজের ঘরে ফিরে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তার মা তাকে একটি চুক্তিপত্র ধরিয়ে দিয়েছেন, যেখানে শর্ত দেওয়া হয়েছে—বিনা ভাড়ায় বাড়িতে থাকতে হলে তাকে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার ভাড়া গুণতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে ফুল-টাইম কলেজ কোর্স করা কায়লা জানান, কাজের চাপে তিনি এমনিতেই খুব কম সময় বাড়িতে থাকেন, তার ওপর মায়ের এমন অদ্ভুত চুক্তিতে তিনি বেশ অবাক হয়েছেন।   কায়লার এই পরিস্থিতি অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা রেকর্ড ছুঁয়েছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ তরুণ-তরুণী (প্রতি তিনজনে একজন) বাবা-মায়ের সাথে থাকছেন, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের চেয়েও অনেক বেশি। রিয়েলটর ডটকম-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই কর্মজীবী, যা প্রমাণ করে যে ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণেই তারা বাধ্য হয়ে বাড়িতে থাকছেন।   বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যকার আনুষ্ঠানিক চুক্তির মতো করে তৈরি করা ওই চুক্তিপত্রে বেশ কিছু সাধারণ ও কড়া নিয়মের কথা বলা হয়েছে। নিজের খাওয়া শেষ হওয়া খাবার বা পানীয়ের জায়গা পূরণ করা, মেঝেতে ময়লা না ফেলা, রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া শেষে দ্রুত তা শুকানোর মতো সাধারণ কিছু নিয়ম এতে রয়েছে। তবে এর বাইরেও ড্রয়িংরুম পরিষ্কার করা, কুকুরকে গোসল করানো, রাতে ১টার মধ্যে অবশ্যই বাড়ি ফেরা, মায়ের মেসেজের দ্রুত উত্তর দেওয়া এবং বাড়িতে অতিথি আনতে হলে আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার মতো কঠিন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কায়লার সঙ্গীকে রাতে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চুক্তিপত্রটি টিকটকে শেয়ার করার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কায়লা যদি আলাদা থাকতেন, তবে এই কাজগুলোর পাশাপাশি তাকে ভাড়াও গুণতে হতো।   এই বিষয়ে নিউজউইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কায়লা জানান, তিনি এমনিতেই সবকিছু পরিষ্কার রাখেন, তাই এই চুক্তিপত্রটি তার কাছে একেবারেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘরের কাজগুলো করা আমার জন্য কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু এই বয়সে এসে আমার ওপর রাতে বাড়ি ফেরার সময়সীমা বা কারফিউ চাপিয়ে দেওয়াটা বিরক্তিকর। আমি নিজের উপার্জনে কেনা গাড়ি চালাই এবং কাজের চাপে প্রায় সারাদিনই বাইরে থাকি।” মায়ের এই পদক্ষেপকে তিনি নিয়মশৃঙ্খলার চেয়ে বরং নিজের ওপর ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বলেই মনে করেন। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, মেয়েকে স্বাবলম্বী করে আলাদা বাসা নিতে বাধ্য করতেই হয়তো মা এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। কায়লা জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বর বা বড়জোর জানুয়ারির মধ্যেই নিজের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৭:২৪
জরুরি প্রয়োজনে নয়, নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ব্যবহার করছেন ৫৬% মার্কিনি

জরুরি প্রয়োজনে নয়, নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ব্যবহার করছেন ৫৬% মার্কিনি

লুইজিয়ানায় ভয়ংকর ‘ফ্লেশ-ইটিং’ ব্যাকটেরিয়ায় পাঁচজনের প্রাণহানি

লুইজিয়ানায় ভয়ংকর ‘ফ্লেশ-ইটিং’ ব্যাকটেরিয়ায় পাঁচজনের প্রাণহানি, জারি বিশেষ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীদের ড্রাইভিং: তিন নারীর ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীদের জন্য ড্রাইভিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সাক্ষাৎকারে তিন নারীর তিন অভিজ্ঞতা

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বিস্ফোরণে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল তৃতীয় ম রদেহ
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বিস্ফোরণে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল তৃতীয় ম রদেহ

গত বুধবার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট অব নিউইয়র্ক (এফডিএনওয়াই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ৩৭৪ ইস্ট ২০৯ নম্বর স্ট্রিটের ওই ভবনের দোতলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তেই ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে সবকিছু ভস্মীভূত করে দেয়।   অগ্নিকাণ্ডের দিনই ভবনের দোতলার ঠিক ওপরের তলায় বসবাসরত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এরপর থেকেই ওই ব্যক্তির স্ত্রী, ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা নিখোঁজ ছিলেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন ব্রঙ্কসের বোরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবনটির ভেতর থেকে দ্বিতীয় এবং শনিবার বিকেলে তৃতীয় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে পরে উদ্ধার হওয়া এই দুই মৃতদেহের পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ভবনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। নিখোঁজ ওই বৃদ্ধার প্রতিবেশী এলিসি ফ্যালকন নামের এক নারী জানান, তাকে ফোনে না পেয়ে সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে রেড ক্রসের পক্ষ থেকে গৃহহীন বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও, নিজের দুটি সার্ভিস অ্যানিমেলকে (পোষা প্রাণী) ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় ফ্যালকন বর্তমানে বাধ্য হয়ে নিজের গাড়িতেই বসবাস করছেন। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকেও তিনটি কুকুরকে ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা।   ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শহর কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো পুরোপুরি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত করার মতো নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়ায়, আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৬:৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন

শিকাগোতে মৃতদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রে চরম অবহেলা, উদ্ধার ৫০টির বেশি পচনশীল মরদেহ

শিকাগোতে মৃতদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রে চরম অবহেলা, উদ্ধার ৫০টির বেশি পচনশীল মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেল মডার্নার যুগান্তকারী এমআরএনএ ফ্লু টিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেল মডার্নার যুগান্তকারী এমআরএনএ ফ্লু টিকা

0 Comments