ত্বক দ্রুত তামাটে বা ট্যান করতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝাতে ব্যবহৃত ইউভি সূচককেই উল্টো কাজে লাগাচ্ছেন ইসরায়েলের একদল তরুণ। যে সূচক মূলত মানুষকে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে সতর্ক করার জন্য তৈরি, সেটিতে মাত্রা ৯, ১০ কিংবা ১১-এর ওপরে উঠলেই কেউ কেউ রোদে বেরিয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি ও স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
শনিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পশ্চিম গ্যালিলির শাভেই জিয়ন সৈকতে ১৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল উলফ জানান, ইউভি সূচক ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালোভাবে ট্যান হওয়ার জন্য প্রায় ৪০ মিনিট রোদে থাকেন।
ইউভি সূচক তৈরি হয়েছিল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। সূচকে ১১ বা তার বেশি মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রবণতায় এই সতর্কতাকেই দ্রুত ট্যান হওয়ার উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ক্লালিট হেলথ সার্ভিসেসের সিনিয়র শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এফরাত বার-ইলান জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে এই প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। অনেকেই ইউভি রশ্মির ক্ষতির কথা জানেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের রঞ্জক পদার্থে প্রভাব ফেলে ত্বককে তামাটে করতে পারে। অন্যদিকে ইউভিবি ত্বকের ওপরের স্তরে ক্ষতি ও সানবার্ন ঘটাতে পারে এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন এবং স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
স্কিন ক্যানসারের মধ্যে বেসাল সেল ও স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মেলানোমা বেশি বিপজ্জনক। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মেলানোমার হার থাকা ৩০টি দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে মেলানোমায় মৃত্যুহার ইসরায়েলে সবচেয়ে কম। ইসরায়েল ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৯১ শতাংশ স্কিন ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়।
সানস্ক্রিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিও নাকচ করেছেন ডা. বার-ইলান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত সানস্ক্রিন নির্দেশনা মেনে ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিপরীতে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত।
চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। তরুণ বয়সে বারবার অতিরিক্ত রোদে থাকার প্রভাব বহু বছর পর গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ট্যান হওয়ার জন্য ইউভি সূচকের উচ্চমাত্রাকে ‘সুযোগ’ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবেই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ দেশটির বিতর্কিত মধ্যপ্রাচ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে সম্পূর্ণ 'অপ্রয়োজনীয়' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের কখনোই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতে জড়ানো উচিত হয়নি। সম্প্রতি একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের অতিরিক্ত প্রভাব এবং দেশটিকে দেওয়া বিপুল সামরিক সহায়তার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ডেমোক্র্যাট নেতা এল-সায়েদ জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন একটি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা প্রকারান্তরে তাদের জন্যই একটি বিশাল ফাঁদ। অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সবসময়ই ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সেই সতর্ক অবস্থান থেকে সরে এসে একটি বড় ধরনের ভুল করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রভাবিত করে এই যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছেন। তার দাবি, গত কয়েক দশক ধরেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলকে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের তীব্র বিরোধিতা করে এল-সায়েদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইসরায়েলি সরকারকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেন, কোনো দেশের সরকারের ভুল নীতির সমালোচনা করার অর্থ ওই দেশের জনগণ বা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়। রাজনৈতিক সমালোচনা এবং জনগণের প্রতি শত্রুতাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করার একটি বড় নৈতিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শুধু ইসরায়েল নয়, মিশরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগের কারণে মিশর ও অন্যান্য দেশকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তাও অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েও বিপদে নারী, উল্টো ২৯ হাজার ডলারের বিল পাঠাল সিটি কর্তৃপক্ষ
নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, বাধা হয়ে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র
‘ছেলের আঘাত গুরুতর নয়’ বলতেই ভারতে চিকিৎসকের ওপর পুলিশ সদস্যের হামলা
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি সরকারি গ্রন্থাগারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা সন্দেহজনক বই এবং ভুয়া লেখক-প্রকাশকের নামে বই কেনার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত কোয়েম্বাটুরের পেরিয়ার আরিভুলাগাম গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞানকেন্দ্রে শত শত বইয়ে ঐতিহাসিক ভুল, ব্যাকরণগত ত্রুটি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বিশিষ্ট তামিল সাহিত্যিক পেরুমাল মুরুগান। অভিযোগের পর বই কেনার প্রক্রিয়া তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ইভি রামাসামি পেরিয়ারের নামে প্রতিষ্ঠিত সাততলা এই গ্রন্থাগারে বিপুলসংখ্যক বই কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পেরুমাল মুরুগান। অনলাইন সাময়িকী ‘সিন্ধাই’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, অখ্যাত কিংবা অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এমন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার বই অস্বাভাবিক দামে কেনা হয়েছে। এসব বইয়ের অনেকগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি লেখার লক্ষণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘আগাল ভিলাক্কু’ নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। গ্রন্থাগারের চতুর্থ তলায় তামিল বইয়ের সংগ্রহে এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৮০০টি বই রয়েছে। চার দশক ধরে সাহিত্যজগতে কাজ করলেও প্রতিষ্ঠানটির নাম আগে শোনেননি বলে জানিয়েছেন মুরুগান। অনেক বইয়ের দাম ১ হাজার ৪০০ রুপির বেশি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘নালাদিয়ার ভাজকাইয়িন ভাজকাট্টি’ নামের একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেন। ৩০০ পৃষ্ঠার বইটির দাম ১ হাজার ৪৪৫ রুপি। বইটিতে নালাদিয়ারকে একজন বিখ্যাত তামিল কবি ও দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অথচ নালাদিয়ার মূলত জৈন সাধকদের রচিত ৪০০টি চারপদী কবিতার সংকলন। আরেকটি বইয়ে প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্ম ‘মাদুরাই কাঞ্চি’র লেখক হিসেবে একজন রাজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ স্বীকৃত তথ্য অনুযায়ী, এই সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কবি মাঙ্গুদি মারুথানার। তামিলনাড়ুর ইতিহাস নিয়ে লেখা অন্য একটি বইয়ে ১৯৪৭ সালের প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির নামও ভুল লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুরুগান। এ ছাড়া কয়েকটি বইয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভুল ছবি ব্যবহার এবং পরিচিত সাহিত্যিকদের নামে সন্দেহজনক রচনা প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। মুরুগানের দাবি, এসব বইয়ের ভাষা ও উপস্থাপনায় এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের লক্ষণ পাওয়া যায়। তবে বইগুলো সত্যিই এআই দিয়ে লেখা হয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। এনডিটিভিকে মুরুগান জানান, আগাল ভিলাক্কু ও ফিনিক্স পাবলিকেশনস নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গ্রন্থাগারে বই সরবরাহের উদ্দেশ্যেই এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। ফিনিক্স পাবলিকেশনস থেকে প্রায় ১০০টি বই সরবরাহ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিতর্কিত বইগুলোর লেখক হিসেবে তৃষা বিজয়, বিজয় আদিথান, মনিকা সূর্য, মনিকা রবি ও মনীষা সারাভানানের মতো নাম পাওয়া গেছে। অনেক বইয়ে একই ধরনের বিষয়বস্তু ও শিরোনামের পুনরাবৃত্তি রয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বই কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে নির্মিত পেরিয়ার আরিভুলাগাম গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞানকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল আগের ডিএমকে সরকারের সময়ে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়। গত ১৬ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় গ্রন্থাগারটি উদ্বোধন করেন। অভিযোগ প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আগের ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিতর্কিত বই কেনার ঘটনা আগের সরকারের সময়কার অনিয়মের উদাহরণ। অন্যদিকে ডিএমকে অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান সরকারের সময়েই এসব বই কেনা বা সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে। টিভিকে একটি ক্রয়াদেশ প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির তারিখ রয়েছে। তবে নথিটিতে স্বাক্ষর ও সরকারি সিল না থাকায় এর সত্যতা এবং বই সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে ডিএমকের দাবি, বিতর্কিত বইগুলোর কিছুতে জুন মাসের তারিখের সিল রয়েছে, যখন নতুন সরকার ক্ষমতায় ছিল। ফলে বই কেনার সময়, সরবরাহের দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম নিয়ে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। এদিকে তামিলনাড়ুর স্কুলশিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়মের সঙ্গে যাঁরাই জড়িত থাকুন না কেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক কমল হাসানও। তাঁর মতে, ভুল তথ্যে ভরা বই শিক্ষার্থী, গবেষক ও পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে পারে। তিনি বিতর্কিত বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা মানিকম ঠাকুর শুধু একটি গ্রন্থাগার নয়, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন সরকারি গ্রন্থাগারে বই কেনার পুরো প্রক্রিয়া অডিট করার দাবি জানিয়েছেন। বিজেপিও অভিযোগের জন্য ডিএমকেকে দায়ী করেছে। পেরুমাল মুরুগান নিজেও আগের সরকারের গঠিত বই সুপারিশ কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে বিতর্কিত বইগুলো ওই কমিটির সুপারিশে কেনা হয়েছিল, নাকি কমিটির অজান্তে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তিবাদ ও সমালোচনামূলক চিন্তার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রন্থাগারে ভুল তথ্যে ভরা বই থাকার অভিযোগ ভারতের শিক্ষা ও প্রকাশনা খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে বই কেনার প্রকৃত প্রক্রিয়া, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি সংসদ সদস্যের
একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ, আইফোন পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না কর্মী
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ভালোবাসার জয়, গাজায় একসঙ্গে বিয়ে করলেন ২৫০ যুগল
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। শনিবার (৭ নভেম্বর) হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত দ্বীপটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উৎস, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে কিংবা কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই এলাকায় আকাশ থেকে দুটি বস্তু আছড়ে পড়তে দেখা গেছে। এর আগে আকাশে উড়োজাহাজের শব্দও শুনেছেন তাঁরা। বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটি ধ্বংস করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দাবির নিশ্চিতকরণের তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) একই দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করার খবর প্রকাশ করে ইরানি গণমাধ্যম। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, সেটি ছিল এমকিউ-১ মডেলের ড্রোন। ফলে পরপর দুই দিনে দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সামনে এনেছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি বলে প্রচারিত একটি খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দোহা। হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর এবং মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। একই সময়ে সংঘাত বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে। সূত্র: তাসনিম
মেয়ের বিয়েতে কোটি টাকা খরচ না করে ৯০ গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার দিলেন বাবা
ভুল করে কানাডা সীমান্তে গিয়ে পুলিশের জালে মার্কিন নাগরিক, গাড়িতে ছিল অ স্ত্র ও গাঁজা