আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ বলে দাবি করলেন বিদায়ী সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:৫
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

আগামীকাল মঙ্গলবার অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার একদিন আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনও বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।

 

উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং উভয় দেশই এখন পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বড় বড় সীমান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থাও বেড়েছে।

 

ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিকল্প খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য চালু এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক ও ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

তবে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নজরদারি, রসদ সরবরাহ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাজপথে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অবিলম্বে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া না হলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে বিশাল পদযাত্রা করা হবে।   আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আদিয়ালায় এটিই তার শেষ আগমন এবং সরকার নিজে থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল তিনি আবার ফিরে আসবেন। বুধবার ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নাম থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সার্বিক আচরণে তার মনে হয়েছে, এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই।   সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আফ্রিদি পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকেই দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি দলীয় কর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আফ্রিদির মতে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈরী আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।   পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, দলটির এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আগামী রোববার বান্নুতেও বড় ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আফ্রিদি দাবি করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের পদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য রীতিমতো একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে।   জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে এর প্রমাণ আগেই দিয়েছেন।   আদালতের নির্দেশ বারবার উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও চরম ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নির্দেশ দিলেও গত কয়েক মাস ধরে তা একেবারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না।   আফ্রিদির অভিযোগ, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালত বর্তমানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একেবারেই অসহায়। তার দাবি, খোদ সরকারের মন্ত্রীরাই এখন স্বীকার করছেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং অকার্যকর হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজই না করতে পারে, তবে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় সেগুলো চালু রেখে অর্থের অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৩:৫৫
পুরনো মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড। ছবি:সংগৃহীত

ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি

মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রের কাছ থেকে জব্দ করা জাল নথিপত্র দেখাচ্ছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি

জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা ও প্লাবিত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক শেষ করার পর আনন্দঘন মুহূর্তে দুই শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আয় কমে কর্মী ও কোর্সের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আশঙ্কা করছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।   কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মীসংখ্যায় প্রভাব পড়বে। সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটসও সতর্ক করেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি’র ওপর আরোপিত ৯২৫ পাউন্ডের কর পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করছে।   আর্থিক চাপের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলের কোর্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে কর্মী ও শিক্ষা কার্যক্রমে আরও কাটছাঁট হতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর নীতিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:০
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের

আল্লাহর ঘর দেখেই শেষ হলো জীবনের সফর, মক্কায় কাবার সামনে মৃ ত্যু পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রীর

আল্লাহর ঘর দেখেই শেষ হলো জীবনের সফর, মক্কায় কাবার সামনে মৃ ত্যু পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রীর

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরমাই বোরোজ-পিট ও সুস্থ অবস্থায় ছাগলের ছানা কোলে তার হাস্যোজ্জ্বল রূপ। ছবি: সংগৃহীত

টনসিলাইটিস ভেবে চিকিৎসা, ১১ বছরের শিশুর ধরা পড়ল স্টেজ-৪ ক্যানসার

নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বাসিন্দা ম্যাগনোলিয়া গার্সিয়া লুগো। ধসে পড়া বাড়ি থেকে তিনি প্রথমে নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন। কিন্তু মেয়ে নাতালিয়া ভেতরে রয়ে গেছে বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধারের জন্য আবারও সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, তখনই একটি ভারী দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর, কেড়ে নেয় এই সাহসী মায়ের প্রাণ।   মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ম্যাগনোলিয়ার পরিবার ও তাঁর স্থানীয় চার্চ কমিউনিটিতে। 'মার্সি চার্চ অব গড'-এর মিডিয়া লিড আনা কাস্ত্রো জানান, ভূমিকম্পের পরপরই ম্যাগনোলিয়ার স্বামী এই দুঃসংবাদ পান। ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মা ও মেয়ে দুজনেই চাপা পড়েছেন এবং তাঁদের খোঁজ মিলছে না। চার্চের সহকারী যাজক অস্কার ফার্নান্দো কাস্ত্রো জানান, কলম্বিয়ায় বসবাসরত ম্যাগনোলিয়ার ভাই (যিনি নিজেও একজন যাজক) উদ্ধারকাজে সরাসরি সহায়তা করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর যখন ম্যাগনোলিয়াকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।   গার্সিয়া লুগো পরিবার গত ২২ বছর ধরে নিউজার্সির ওই চার্চের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে ম্যাগনোলিয়া এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণকে কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন চার্চের নেতারা।   এদিকে, নিউজার্সির বার্গেনফিল্ডের মেয়র আরভিন আমাতোরিও জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ও সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। জানা গেছে, বুধবার কলম্বিয়ার নিজ শহরেই ম্যাগনোলিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এক বুক শূন্যতা আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই পরিবারটিকে এখন তাদের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার কঠিন লড়াই শুরু করতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৩:১০
গুয়ায়াকিলের হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে মাতৃকুলের দাদা-দাদির জিম্মায় যাচ্ছে শিশু লুসিয়ানা। ছবি: সংগৃহীত

বারবার মাথা তুলে মাকে খুঁজা সেই চার মাসের ভাইরাল শিশুর ঠাঁই হলো নানাবাড়িতে

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভেঙে ফেলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলিদের ফেরার পথ করতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন

রোমে কিপ্পা পরা এক ফরাসি ইহুদি পর্যটকের ওপর দুই দিনে দুবার হামলার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

রোমে ইহুদি পর্যটককে ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে, দুই দিনে দুবার লাথি হামলার দাবি

0 Comments