ভারতের ভেতরে কয়েক কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে চীনা সেনা, দাবি অরুণাচলের স্থানীয়দের
ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দাবি, চীনা বাহিনী সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরির পাশাপাশি স্থানীয়দের চারণভূমি ও কৃষিজমি দখল করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন এই অনুপ্রবেশের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের এ বিষয়ে আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বহু যুগ ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা যেসব জমিতে শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করতেন, সেগুলো এখন পুরোপুরি চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। স্মারকলিপির তথ্য থেকে জানা যায়, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। আসফিলা এলাকার ওয়িং, পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাংয়ে এই দখলদারির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি স্থান স্থানীয়দের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত। কেরু চাদের জানান, প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়লেও ২০২০ সাল থেকে তারা কৌশলগতভাবে পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
তখন থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নিজেদের ভূমি হারানোর আশঙ্কায় তারা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো এই ঘটনাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে আদিবাসী সংগঠনের তোলা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশের দাবি সরাসরি এবং জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে লাদাখেও চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় দাবি করেছিল যে তাদের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বেহাত হয়নি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন। নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে। সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির
ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে ভুয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত সেসব বিদেশি শ্রমিককে লক্ষ্য করত, যারা বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় একই রেখে ভুয়া নথি তৈরি করা হতো। এরপর সুস্থ ব্যক্তিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অভিযানে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জব্দ করা উপকরণের পরিমাণ দেখে চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না; ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এর কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাল নথি তৈরিতে জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের
মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ করেই আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল মনে। সেই টানে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়েছিলেন পবিত্র মক্কায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাবার সামনে পৌঁছাতেই ঘটল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে 'আল্লাহু আকবার' ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে পবিত্র মসজিদুল হারামে এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে। ‘বাও’ নামে পরিচিত আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে তিনি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট জমা দেন। এরপর গত ১১ আগস্ট ছেলে আরসালানকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। জেদ্দা থেকে মক্কার পথে তিনি বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত কাবার সামনে যাওয়ার জন্য চালককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। ছেলেকে তিনি বারবার বলছিলেন যে তার শরীর পুরোপুরি সুস্থ, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘরটি তিনি একবার দেখতে চান। বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি তাকে দমাতে পারেনি। বিশ্রাম না নিয়েই ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি সরাসরি হারাম শরিফে ছুটে যান। আরসালান জানান, কাবার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তার বাবার মাঝে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল; শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল আর তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে জিকির করতে করতেই একপর্যায়ে তিনি সেখানে বসে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসকরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ততক্ষণে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ওমরাহ শেষে আর দেশে ফেরা হলো না আবদুল লতিফের। তবে জীবনের শেষ ও সবচেয়ে লালিত স্বপ্ন—আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখা—পূরণ করেই যেন পরম শান্তিতে এই পৃথিবীর সফর শেষ করলেন তিনি।
টনসিলাইটিস ভেবে চিকিৎসা, ১১ বছরের শিশুর ধরা পড়ল স্টেজ-৪ ক্যানসার
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা