সৌদি আরবের নেতৃত্বে নতুন আঞ্চলিক জোটে যুক্ত কাতার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ভারসাম্য বজায় রাখতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কাতার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন একটি অনানুষ্ঠানিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই বলয় থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে রিয়াদ ও আবুধাবির ভিন্নধর্মী কৌশল ও স্বার্থের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম হয়েছে।
বিশ্লেষণধর্মী মার্কিন সাময়িকী 'ফরেন পলিসি'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম না দেওয়া হলেও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই বলয়টিকে 'সুন্নি জোট' বা 'বর্ধিত ইসলামিক ন্যাটো' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য দুটি— সিরিয়া ও লেবাননে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্প্রসারণ প্রতিহত করে নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করা এবং একইসঙ্গে ইসরায়েলের লাগামহীন সামরিক অভিযানের ওপর আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টি করা।
বিশেষ করে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানের পর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কৌশলগতভাবে কাছাকাছি এসেছে। এই জোটে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি বড় প্রতিরোধ-শক্তি বা ডেটারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আরব বসন্ত-পরবর্তী ভূরাজনীতিতে একসময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও আমিরাতের বর্তমান অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ আলাদা। আমিরাত যেখানে 'আব্রাহাম চুক্তি'র অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও নিবিড় অর্থনৈতিক-প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার পথে হাঁটছে, রিয়াদ সেখানে ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক দেশগুলোকে কাছে টানছে।
সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ালেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে দেশটির অর্থনীতিকে সুবিধাজনক স্থানে রেখেছে। পাশাপাশি, এই নতুন মেরুকরণ থেকে জোটের অন্য দেশগুলোও নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তৎপর। মিসর তাকিয়ে আছে সৌদি আরবের বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগের দিকে, তুরস্ক খুঁজছে তাদের সমরাস্ত্র রপ্তানির নতুন বাজার এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিপরীত দিকে, আরব আমিরাত সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারায় নিজেদের নিরাপত্তা বলয় সাজাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তারা ফুজাইরাহ ও ওমান উপসাগরীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন মতে, যুদ্ধ চলাকালে আমিরাত ইসরায়েলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সুবিধাও লাভ করেছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত দুটি ভিন্ন ও বিপরীতমুখী কৌশলগত শিবিরে বিভক্ত।
একদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বলয়টি ইরান ও ইসরায়েল—উভয় শক্তিরই প্রভাব সীমিত করে অঞ্চলে ভারসাম্য আনতে চাইছে, আর অন্যদিকে আমিরাত ইরানকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তামূলক সম্পর্ক জোরদারে চূড়ান্ত অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভূরাজনৈতিক এই সুস্পষ্ট বিভক্তিই আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, সংঘাত ও কূটনীতির মূল গতিপথ নির্ধারণ করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় প্রতিবেদনে তাঁকেই নিহত লস্কর ই তৈয়বা সদস্য হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আসিফকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন সামরিক মুখপাত্র। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় অভিযানে মুহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নামে লস্কর ই তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসিফ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে নিজ জেলা অ্যাটকে বসবাস করছেন। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। আসিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের তিনি জানান, জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরিচয় স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান তিনি। আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে সাজানো বয়ান প্রচারের অভিযোগ করেন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ ফোরামে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিই ভারতের অভিযানে নিহত বলে শনাক্ত করা ব্যক্তি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে বোমা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটি সরাসরি নাকচ করেননি। গত বুধবার ইসরায়েলের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইরান যদি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানা হবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।" এদিকে, ইরানকে যেকোনো মূল্যে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ইরান যদি এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির "আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" এর মাত্র কয়েকদিন আগেই অবশ্য ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়াটি উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর
বিমানে হামলা ঠেকানো চার যাত্রীকে সম্মাননার সুপারিশ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের, ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬-এর শিক্ষার্থী ব্যবসা উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক ইফতেখার সাফিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করার পর একাধিক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন সাফিন। বাছাই শেষে তিনি এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়িত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি নিজের প্রকল্প বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন। সাফিনের বিজয়ী প্রকল্পের নাম ‘স্কিলব্রিজ আয়-অংশীদারিত্ব কাঠামো’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পথে থাকা আর্থিক বাধা দূর করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার শুরুতে কোনো অগ্রিম কোর্স ফি দিতে হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার পর তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো আগে দক্ষতা অর্জন, এরপর কর্মসংস্থান এবং তারপর আয়ের সঙ্গে যুক্ত কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ। সাফিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬ মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন। বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দেশের তরুণ উদ্ভাবনশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর মতো একটি বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন সাফিন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর ফাঁকি দিয়ে হাজার কোটি ডলার সম্পদ পাচার করা হাইতির বিতর্কিত ধনকুবেরের প্রয়াণ
ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসায় দেরি: মধ্যপ্রদেশে ৩২ শিশুর মৃত্যু