আন্তর্জাতিক

আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন? দেশটি সম্পর্কে এই তথ্যটি হয়তো আপনার জানা নেই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:১৪
লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাস আর্জেন্টিনা I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাস আর্জেন্টিনা I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল-সাদা জার্সি, বিশ্বকাপের উন্মাদনা আর লিওনেল মেসির জাদুকরী ফুটবল। প্রতি বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই উড়তে দেখা যায় আর্জেন্টিনার পতাকা। তবে ফুটবলের এই দেশটির আরেকটি পরিচয় অনেকের কাছেই অজানা। আর্জেন্টিনায় বসবাস করেন আনুমানিক ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ মুসলমান, যারা দেশটির সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় জীবন পালন করছেন।

 

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায় মূলত সিরিয়া, লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কয়েক প্রজন্ম আগে অভিবাসন করে সেখানে স্থায়ী হওয়া পরিবারগুলোর উত্তরসূরি। বর্তমানে রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

 

আর্জেন্টিনার সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। ফলে মুসলমানরা স্বাধীনভাবে মসজিদে নামাজ আদায়, রমজানে রোজা পালন, ঈদ উদযাপন এবং ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। দেশজুড়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ধর্মীয় সংগঠন ও মসজিদগুলো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

রাজধানী বুয়েনস আইরেসে অবস্থিত কিং ফাহদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মসজিদটির বিশাল স্থাপত্য, ইসলামিক লাইব্রেরি, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়, পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। এটি দেশটির ধর্মীয় সহাবস্থান ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

 

শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডই নয়, আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায় ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, আইন, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

 

বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাস আর্জেন্টিনা। যদিও মুসলমানরা দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ, তবুও তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি ধরে রেখে সমাজের মূলধারায় সফলভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

 

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতি মানুষের আবেগ মূলত ফুটবলকে ঘিরে। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, যে দেশকে কোটি বাংলাদেশি ভালোবাসে, সেই দেশেই প্রায় ১০ লাখ মুসলমান শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় জীবন পালন করছেন। এটি আর্জেন্টিনার এমন একটি দিক, যা ফুটবলের বাইরেও দেশটিকে নতুনভাবে জানার সুযোগ করে দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। ফরাসি সরকার তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন-সহায়তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অ-ইইউ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি আবাসন ভাতা বা এপিএল কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।   ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরের যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ক্রুসের (CROUS) সামাজিক বৃত্তি পান না, তাঁরা আর কাফের (CAF) মাধ্যমে দেওয়া এপিএল আবাসন ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।   এতদিন ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মাসিক বাসাভাড়ার একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা হিসেবে পেতেন, যা শহর ও বাসস্থানের ধরন অনুযায়ী তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি এনে দিত। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত সরকারি ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের মাঝে সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা ও সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা আগের মতোই এই আবাসন ভাতা পাবেন।   এর পাশাপাশি ক্রুসের সামাজিক বৃত্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। সরকার আরও নিশ্চিত করেছে যে, আবাসন ভাতার নিয়ম পরিবর্তন হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রুস পরিচালিত অন্যান্য সুবিধা, যেমন—স্বল্পমূল্যের খাবার এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো আগের মতোই চালু থাকবে।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, এসব দেশের অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে যান এবং খরচের দিক থেকে তাঁরা এই আবাসন ভাতার ওপর বেশ নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।   ফলে ভবিষ্যতে ফ্রান্সে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে সুযোগ খোঁজার দিকে ঝুঁকবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৫:২০
নতুন আঞ্চলিক জোটে যুক্ত কাতার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান I ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের নেতৃত্বে নতুন আঞ্চলিক জোটে যুক্ত কাতার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান

ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী ৩৯ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নারী (ছবি: সংগৃহীত)

মোনাকো বোমা হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ইউক্রেনীয় নারীকে শনাক্ত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি

লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাস আর্জেন্টিনা I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন? দেশটি সম্পর্কে এই তথ্যটি হয়তো আপনার জানা নেই

জাহরার ছোট কফিন I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
খামেনির শেষ বিদায়ে হৃদয় কাঁদাল ১৪ মাসের নাতনি জাহরার ছোট কফিন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় লাখো মানুষের ঢল নামে। তবে শোকাহত এই বিশাল আয়োজনে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আটকে যায় খামেনির কফিনের ঠিক পাশেই রাখা একটি ছোট কফিনের দিকে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ওই ছোট কফিনটিতে রয়েছে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির নিথর দেহ।   ভয়াবহ সেই হামলায় আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। শুক্রবার খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তাঁদের কফিনগুলোও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি এবং তাঁর ছেলের বউ (বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেল। তবে সকলের মাঝে সবচেয়ে বেশি শোকের ছায়া ফেলেছে ছোট্ট শিশু জাহরার কফিনটি। কফিনটির পাশে শিশুটির একটি ছবিও রাখা ছিল, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।   এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানটি কেবল একজন শীর্ষ নেতার প্রয়াণের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের ওপর নেমে আসা মর্মান্তিক পরিণতির এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা চলবে আগামী কয়েকদিন ধরে, এবং এরপর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। হাজারো মানুষের ভিড়ে ছোট্ট জাহরার কফিনটি যেন এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যুদ্ধের নির্মমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে পুরো বিশ্বের সামনে এক নীরব বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৩:১৪
ইরানি স্পিকার গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন I ছবি: সংগৃহীত

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ইরানি স্পিকার গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খামেনির জানাজা থেকে প্রতিশোধের বজ্রগর্জন— ‘রক্তের বদলা’ নেওয়ার হুংকার ইরানের সেনাপ্রধানের

সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু উপকূলে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

সংগৃহীত
বেঁচে যাওয়া চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নেওয়ায় চাকরিচ্যুত কর্মী, ১৭ বছর পর আদালতের রায়

ভারতের ঝাড়খণ্ডে দীর্ঘ ১৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা এক চুক্তিভিত্তিক অফিস সহায়ককে (পিয়ন) অফিসে বেঁচে থাকা সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মন্তব্য করে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।   আদালতের এই রায় দেশটিতে কর্মক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা ও কর্মীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, রঞ্জিত কুমার হিমাংশু নামের ওই কর্মী বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিএ) চুক্তিভিত্তিক অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে অফিসের কিছু সামগ্রী অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নোটিশে কোন কোন জিনিস অনুপস্থিত ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   পরে শুনানিতে তার পক্ষের আইনজীবী জানান, রঞ্জিত অফিসে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা কিছু চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি তিনি সেগুলো অফিসে ফিরিয়েও দেন। এরপরও ২০২২ সালের ২ মে তার চাকরি বাতিল করা হয়।   এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।   মামলার শুনানি শেষে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের গুরুত্ব এবং তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবন—উভয় বিষয়ই বিবেচনায় রাখা উচিত। আদালতের মতে, সামান্য একটি ঘটনার জন্য দীর্ঘদিনের একজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।   রায়ে আরও বলা হয়, শাস্তি সব সময় অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অভিযোগে যদি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি, দুর্নীতি বা অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ না থাকে, তাহলে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।   হাইকোর্ট প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে রঞ্জিত কুমার হিমাংশুকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত ইঙ্গিত দেয় যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মানবিক দিক এবং ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।   ঘটনাটি ভারতে কর্মক্ষেত্রে শাস্তির নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শ্রম আইন সংশ্লিষ্ট মহলে অনেকেই মনে করছেন, ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা, সাময়িক ব্যবস্থা বা বিকল্প শাস্তি বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে সরকারি দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে অফিসের সম্পদ ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলার গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে।   এদিকে আদালতের রায়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্মী আবারও চাকরিতে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। এই রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   প্রকাশিত আদালতের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলার মূল প্রশ্ন ছিল—একজন কর্মীর সামান্য ভুলের জন্য তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবন সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেওয়া কতটা ন্যায্য। হাইকোর্টের রায়ে সেই প্রশ্নের উত্তর এসেছে কর্মীর পক্ষে, যেখানে ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৫:১৩
সেশেলসের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কার নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি | ছবি: স্টেট হাউস অফিস, সেশেলস

ভুল বানানে ‘এআই’ দিয়ে তৈরি পুরস্কার নিলেন মোদি! নেট দুনিয়ায় হাসির রোল

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত আবাসিক ভবন | ছবি: এপি

৫০০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর হামলা, নিহত ২১

আটলান্টার মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মিডল স্কুলে পড়াশোনা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির এক অভিনব উদ্যোগ | ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টার এক স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের গল্প, তাতেই শিক্ষার্থীদের মারামারি কমল অর্ধেক

0 Comments