উচ্চশিক্ষা

ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ, যাত্রা শুরু ২০২৭ সালে

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব (Islamic Theology) অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদগুলোকে একই ক্যাম্পাসে একত্রিত করা হবে।   জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরে ২০২১ সাল থেকে ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এর নির্মাণকাজ চলছে। নতুন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা।   নবগঠিত ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই অনুষদের প্রতিষ্ঠা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, নতুন অনুষদে ইসলামের উদার, গবেষণাভিত্তিক এবং মুক্তচিন্তার ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   খোরশিদে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান ও বিভিন্ন তহবিল পাওয়ার সুযোগও আরও বাড়বে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি। বর্তমানে সেখানে আটজন অধ্যাপক এবং ৫০ জনের বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   জার্মানির সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া-তে প্রায় তিন হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩০ জন। ফলে নতুন অনুষদটি শিক্ষক সংকট দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোরশিদে জানান, ২০২৭ সাল থেকে ‘ইসলাম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামে একটি নতুন স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কোর্সের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, হাসপাতালভিত্তিক ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হবে।   নতুন অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সহাবস্থান, কোরআনের সমসাময়িক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চরমপন্থা, ইসলামবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খোরশিদে বলেন, অনুষদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।   তার মতে, বিশ্বের অনেক মানুষ ইসলামের উদার ও গবেষণানির্ভর ব্যাখ্যার প্রতি আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদে মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ইসলামিক গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ক্যাম্পাসে খ্রিস্টান ও ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদ প্রতিষ্ঠা আন্তধর্মীয় বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।   অন্যদিকে জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইউরোপে একাডেমিক ধর্মতত্ত্ব চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বাংলাদেশিসহ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা বাতিল

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। ফরাসি সরকার তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন-সহায়তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অ-ইইউ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি আবাসন ভাতা বা এপিএল কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।   ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরের যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ক্রুসের (CROUS) সামাজিক বৃত্তি পান না, তাঁরা আর কাফের (CAF) মাধ্যমে দেওয়া এপিএল আবাসন ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।   এতদিন ফ্রান্সে পড়তে যাওয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মাসিক বাসাভাড়ার একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা হিসেবে পেতেন, যা শহর ও বাসস্থানের ধরন অনুযায়ী তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি এনে দিত। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত সরকারি ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের মাঝে সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা ও সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা আগের মতোই এই আবাসন ভাতা পাবেন।   এর পাশাপাশি ক্রুসের সামাজিক বৃত্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। সরকার আরও নিশ্চিত করেছে যে, আবাসন ভাতার নিয়ম পরিবর্তন হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রুস পরিচালিত অন্যান্য সুবিধা, যেমন—স্বল্পমূল্যের খাবার এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো আগের মতোই চালু থাকবে।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, এসব দেশের অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে যান এবং খরচের দিক থেকে তাঁরা এই আবাসন ভাতার ওপর বেশ নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।   ফলে ভবিষ্যতে ফ্রান্সে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে সুযোগ খোঁজার দিকে ঝুঁকবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ বা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে ৬-১ ভোটে বিতর্কিত এই নীতিটি পাস হয়। এর ফলে ফ্লোরিডার ২৮টি স্টেট কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা কার্যক্রমগুলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।   অরল্যান্ডো সেন্টিনেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র ভোটটি দিয়েছেন বোর্ডের সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি, যিনি নিজে একজন ব্রাজিলীয় অভিবাসীর সন্তান এবং প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান। তবে বোর্ড অব এডুকেশন দাবি করেছে, ভর্তি সংক্রান্ত নতুন মাপকাঠি নির্ধারণের এই ক্ষমতা ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনেই তাদের দেওয়া হয়েছে।   হায়ার এড ড্রাইভের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল। গত বছরই ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডেকা) কর্মসূচির আওতাধীন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ‘ইন-স্টেট টিউশন’ বা হ্রাসকৃত বেতন সুবিধা বাতিল করেছিল ফ্লোরিডা প্রশাসন।   নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পর জনসাধারণের মতামতের অংশে অ্যালেক্স লিবারম্যান নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের হাতিয়ার হতে পারে না।" ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ভার্জিনিয়া বোল্টন একে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষা বিভাগের আদর্শেরই পরিপন্থী নয়, বরং এটি মার্কিন সংবিধানেরও ঘোর বিরোধী।   অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট দলীয় স্টেট সিনেটর কার্লোস গুইলারমো স্মিথ এই নতুন নীতিকে সরাসরি ফ্লোরিডা আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যের আইনে স্টেট কলেজগুলোতে সবার জন্য ‘উন্মুক্ত দ্বার’ ভর্তি নীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যা এই নিয়মের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া সংবিধানে সবার জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিকেও চরমভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বোর্ডের এই ভোটাভুটি ও সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন। স্পেকট্রাম নিউজের শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আপনি এখানে অবৈধভাবে অবস্থান করবেন আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন, এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। আমি চাই ওই আসনগুলোতে ফ্লোরিডার বৈধ বাসিন্দারাই সুযোগ পাক।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ এবং কিছু ঋণের সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবহার করছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ওপর এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা অফিস এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া SAVE (Saving on a Valuable Education) ঋণ পরিশোধ কর্মসূচিকে ঘিরে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, SAVE কর্মসূচি আর আগের মতো চালু থাকছে না। বর্তমানে এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ঋণগ্রহীতাদের অন্য একটি অনুমোদিত পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের এ বিষয়ে ধাপে ধাপে নোটিশ পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি পরিশোধ ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হতে পারে, যেখানে মাসিক কিস্তির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।   একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রহণকারীদের জন্যও নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রধান দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর একটি আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে ঋণগ্রহীতার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হবে। অন্যটি নির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।   নতুন নিয়মে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Graduate PLUS Loan কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি Parent PLUS Loan-এর ক্ষেত্রেও ঋণের সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য ফেডারেল ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগ সময়মতো ঋণ পরিশোধে উৎসাহ দিতে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ (AutoPay) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ ছাড়ের সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এ সুবিধা গ্রহণ করলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় পেতে পারেন।   উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমানে যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন পরিশোধ পরিকল্পনা তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, তা দ্রুত যাচাই করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং যেসব পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্যও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে ঋণের নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। তাই যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের শিক্ষা বিভাগের নোটিশ এবং নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের বার্তাগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়।   রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।”   সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধে নতুন নিয়ম অনুমোদন | ছবি: অরল্যান্ডো বিজনেস জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবৈধ অভিবাসীদের কলেজে ভর্তি ও জিইডি প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষামূলক ‘জিইডি’ (GED) প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে রাজ্য শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়মটি পাস করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডকে এখন থেকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মার্কিন নাগরিক কিংবা আইনগতভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুল ও স্টেট কলেজগুলোতে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং জিইডি কোর্সেও অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসী অধিকারকর্মী। তাদের দাবি, ফ্লোরিডার আইনসভা বা লেজিসলেচার চলতি বছর যে বিধিনিষেধগুলো পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, শিক্ষা বোর্ড এখন সেই নিয়মগুলোই জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গভর্নর রন ডেসান্টিসের নিযুক্ত করা বোর্ড সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেন।   ফ্লোরিডার কলেজ বিভাগের চ্যান্সেলর ক্যাথি হেবদা অবশ্য বোর্ড সদস্যদের জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনের সাথে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই নিয়মগুলো আপডেট করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের আইনসভা অধিবেশনে এই ধরনের বিল ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন নতুন করে এই প্রশাসনিক নিয়ম চালুর প্রয়োজন হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।   অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অরল্যান্ডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যানা এসকামানি বলেন, কোনো শিশুর নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইমিগ্রেশন নথির অজুহাতে তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অ-আমেরিকান এবং সংবিধান পরিপন্থী। এমনকি আইনসভার দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রশাসনিক পদ্ধতি কমিটিও এই নতুন নিয়মের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষা বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ ওর্ল্যান্ডো

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন | ছবি: বেঞ্জামিন জন/আলামি
আবাসন সংকটে ব্রিটেন, হোস্টেল ছেড়ে বাড়িতে ফিরছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা!

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও চড়া বাড়ি ভাড়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাস জীবনকে সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক 'ইন্টারজেনারেশনাল অডিট' রিপোর্টে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকার প্রায় ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজেদের বাড়িতে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এর বিপরীতে ধনী এলাকার মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইলেটস জানান, এটি কোনো স্বাধীন বা স্বাভাবিক পছন্দ নয়, বরং সম্পূর্ণ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনের সামাজিক নেটওয়ার্ক ও সুযোগকে প্রভাবিত করছে।   লন্ডন রেন্ট বা উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই দৈনিক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, সকালে ক্লাস শেষ হলেও ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা সেমিনার বা সামাজিক ক্লাবের অনুষ্ঠান থাকে সন্ধ্যায়, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাঁকে ক্যাম্পাসে অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ও অর্থের অপচয় এড়াতে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ারের বড় বড় সুযোগগুলো হাতছাড়া করছেন।   তবে এই পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, বাড়িতে থাকার কারণে তাঁকে বাড়তি ভাড়ার টাকা জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করতে হচ্ছে না, ফলে তিনি পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। হাইয়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিক হিলম্যান বলেন, বাড়িতে থাকার অর্থ হলো কম ঋণ, পরিবারের দৃঢ় সমর্থন এবং পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া। মূল বিষয় হলো শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন কি না।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস এবং সাটন ট্রাস্টের গবেষকরা অবশ্য মনে করছেন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কোর্স পাওয়া যায় না, যার ফলে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেন না। দেশটির বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের এই বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং সাউথ এশিয়ান লিডারস ইনিশিয়েটিভ’ (ওয়াইএসএএলআই) ফেলোশিপ পেয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত। এই বিশেষ সাফল্যের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান এক্সিলেন্স, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে তিনি নিজ দেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি গত ৩০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের নিয়ে আয়োজিত অত্যন্ত চমৎকার ও শিক্ষণীয় এই পুরো প্রোগ্রামটি আয়োজনে বিশেষ সহায়তা করেছে আমেরিকার ওমাহার নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটি এবং দ্য ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টার।   বর্তমানে শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ব্যাপী সেই ফলপ্রসূ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি লব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।   এবারের আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশ থেকে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ারসহ মাত্র ৬ জন দক্ষ শিক্ষার্থী।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় এই বিশেষ আঞ্চলিক প্রোগ্রামটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় তরুণদের নেতৃত্বের বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং যুব ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গৃহীত একটি অনন্য উদ্যোগ।   এই মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিভাবান তরুণ সমাজকে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে নিজ নিজ অঞ্চলের অভিন্ন বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই ভূমিকা রাখতে পারেন।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।   চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”   বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে।   ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে জার্মানি। তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকেও এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।   ভিসাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’-এর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।   জানা গেছে, জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সাধারণত এটি দুই বছরের জন্য বৈধ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ ভিসার আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৭৫ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকার মতো।   স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমেই জার্মানির স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো জমা থাকার প্রমাণ দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে বৈধ স্কলারশিপ থাকলে তা-ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।   এ ছাড়া ভর্তিকৃত কোর্সের ধরন অনুযায়ী জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হতে পারে।   তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশের আগে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।   অন্যদিকে, ভিসামুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্সে ভর্তি হন, তাহলে তাদেরও আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। তবে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে।   পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী জার্মানিতে বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়ন, জার্মান ভাষা কোর্স, স্টুডিয়েনকলেগ, প্রস্তুতিমূলক কোর্স এবং বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপের জন্য পৃথক ভিসা দেওয়া হয়।   আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করা যায়। অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও রয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব।   ভিসা আবেদনের সময় সাধারণত পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রমাণ, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, ভাষাগত দক্ষতার সনদ, ভ্রমণবীমা, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), মোটিভেশন লেটার এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়।   আর্থিক প্রমাণ হিসেবে স্কলারশিপের কাগজপত্র, জার্মানিতে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির স্পনসরশিপ ঘোষণা, ব্লকড অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অভিভাবকের আর্থিক বিবরণী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি ঘোষণা, আবেদন ১৫ জুন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে লেফট্যানেন্ট গভর্নর শিলা অলিভার প্লাজায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র চলতি বছরের স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন।   ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার মোট ৫২টি স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের হাইস্কুল সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০টি এবং ট্রেড স্কুল, মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি স্কলারশিপ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারেন।   বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে অবশ্যই আটলান্টিক সিটির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসের সদস্য অথবা সম্প্রতি মাস্টার্স কিংবা ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া থাকতে হবে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে যারা এই স্কলারশিপ পেয়েছেন, তারা এবার নতুন করে আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন না। বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।   সিটি প্রশাসন জানায়, সিটি কর্মচারী ও কমিউনিটির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন বৃত্তি কমিটি আবেদনপত্র মূল্যায়ন করবে। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক স্কোরিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে।   সংবাদ সম্মেলনে সিটি কাউন্সিল সভাপতি অ্যারন রেনডলফ, সহসভাপতি কলিম শাহবাজ এবং কাউন্সিলর এট লার্জ স্টিফেনি মার্শালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের আগামী সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যেমন বড় অর্জন, তেমনি ভিসা পাওয়ার পর তা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পড়াশোনা ও বৈধ অবস্থান উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।   ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাতিল হতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি বা যথাযথ তথ্য ছাড়া পাঁচ মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাহলে তার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড সঠিকভাবে আপডেট না করলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে। ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া কাজ করা অথবা অন্য কোনো ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তিনি আর ভিসার শর্ত পূরণ করছেন না, সেক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বা অপরাধের অভিযোগও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।   ভিসা বাতিল হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে জানতে হবে কোন কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ত্রুটি, দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভুল সিদ্ধান্ত হলে বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন বা আপিল করা   জটিল পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ট্রাভেল বা স্টুডেন্ট ইনস্যুরেন্সে ভিসা বাতিলজনিত সুবিধা আছে কি না তা যাচাই করা   শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হওয়া কঠিন পরিস্থিতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপ, সঠিক তথ্য জানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশন্স’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   বৈঠকে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   চার্লস জে হার্ডার বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের খাদ্য কর্মসূচি, শিশুস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সারাদেশে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক সরবরাহ এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা।   তিনি আরও জানান, শিক্ষার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষাকে আনন্দমুখর করতে বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও কৃষি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।   বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানান তিনি।   এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

Unknown এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। গত এক বছরে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa) প্রত্যাখানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার আকাশচুম্বী হয়ে ৬১ শতাংশে ঠেকেছে। একই ধারায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্নও থমকে গেছে ভিসা না পাওয়ায়। কেন বাড়ছে রিফিউজালের হার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটগুলো এখন আবেদনকারীদের 'ইমিগ্রেশন ইনটেন্ট' বা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার মানসিকতা নিয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ এবং সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ত্রুটিকেও এই গণহারে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও সে তুলনায় ভিসা ইস্যুর হার ছিল অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রত্যাখ্যান হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইইএলটিএস (IELTS) এবং জিআরই (GRE) দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ায় তাদের ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ফাইল ফটো
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যান

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভিসা অনুমোদনের হারের রেকর্ড গড়েছে।   টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ভিসা আবেদনের মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। নেপালে ৬৫ শতাংশ, ভারতে ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন আবেদনকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ কি না, তা যাচাইয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণেই বিপুল সংখ্যক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় আবেদন বৃদ্ধির হার নেপালে ৯১ শতাংশ এবং ভারতে ৩৬ শতাংশ হলেও চীন থেকে আবেদনের হার কমেছে।   ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর 'ঝুঁকি' রেটিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।   অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
‘লিডনেক্সট ২০২৬’ ফেলোশিপ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আবেদন করুন এখনই

বিশ্বমঞ্চে আগামীর দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লিডনেক্সট ২০২৬: অ্যাম্বাসেডর ফর এ গ্লোবাল ফিউচার’ (LeadNext 2026: Ambassadors for a Global Future) প্রোগ্রামের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন। এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান তরুণ নেতাদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়া ভ্রমণের সুযোগ। এটি চার মাস মেয়াদী একটি হাইব্রিড (অনলাইন ও সরাসরি) ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে ভার্চুয়াল মাস্টারক্লাসে অংশ নেবেন। প্রোগ্রামের শেষ পর্যায়ে আগামী বছরের (২০২৬) সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে-এরিয়াতে এক সপ্তাহব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তারা। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা, যারা সমাজ পরিবর্তন বা নেতৃত্বে আগ্রহী, তারা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই প্রোগ্রামের যাবতীয় খরচ (আবাসন, যাতায়াত ও প্রশিক্ষণ) তারা বহন করবে। বিশেষ করে অংশগ্রহণকারীদের মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভিসা সাপোর্ট লেটার প্রদান, ফি মওকুফ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নতুন কার্যকর হতে যাওয়া ‘ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি’ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা: আবেদনের শেষ সময়: ৫ মে, ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী)। ফলাফল ঘোষণা: জুন মাসের শুরুতে। ক্যালিফোর্নিয়া সামিট: ১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরণের আন্তর্জাতিক বিনিময় প্রোগ্রাম দক্ষ জনশক্তি ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা বা পেশাদার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য ‘লিডনেক্সট’ একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এশিয়া ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে। স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কঠিন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার স্বপ্ন: ভিসা অনুমোদন কমলো ১১ শতাংশ

বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই মার্কিন ভিসা অনুমোদনের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ২.৫ লক্ষ কম। বিশ্বব্যাপী এই পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে যেখানে ১ কোটি ১৫ লক্ষ নন-ইমিগ্রেন্ট বা বি-১ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদনের হার এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। গত বছরের ৩.৪৪ লক্ষের বিপরীতে এ বছর ভিসা পেয়েছেন মাত্র ২.৩৮ লক্ষ শিক্ষার্থী। এছাড়া কাজ, পর্যটন এমনকি আকাশপথ বা জলপথের কর্মীদের ভিসার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেবল অস্থায়ী ভিসাই নয়, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি। পারিবারিক এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক— উভয় ক্ষেত্রেই ভিসার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলসহ কঠোর স্ক্রিনিং এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যাবিগেল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জনমত নিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন এবং বর্তমান নীতিগুলো তারই প্রতিফলন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল সময়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দেশে প্রবেশের লড়াই আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাবাস্সুম মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

হত্যাকারী চিকিৎসকের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

দুই ছেলেকে হত্যার পর নিজ চেম্বারে অগ্নিসংযোগ, শেষে গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চিকিৎসকের

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০