আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে সোজা দেশ থেকে বের করা হবে: প্রেসিডেন্ট মিলেই
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সম্প্রতি একটি জরুরি ডিক্রিতে সই করেছেন যার মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা কটূক্তি করা বিদেশিদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন ব্যক্তিদের আর্জেন্টিনায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বৈরী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে যারা এই দেশের ওপর আক্রমণ চালাবে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক এবং জাতীয় প্রতীকগুলোর সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো আপস করা হবে না।
জরুরি প্রয়োজনীয়তা ও তাগিদ ডিক্রি বা ডিএনইউ অনুযায়ী যে সকল বিদেশি নাগরিকের মধ্যে আর্জেন্টিনার জাতীয়তাকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, বৈষম্য বা সহিংসতা ছড়ানোর প্রমাণ মিলবে তাদের জন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কেবল মৌখিক আক্রমণ নয় বরং দেশের জাতীয় দেশপ্রেমিক প্রতীকগুলোকে অবমাননা বা অপমান করার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ব্যক্তিরা পড়বে।
যদিও সরকারের এই অফিশিয়াল নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনো একক ঘটনার নাম উল্লেখ করা হয়নি তবুও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা সাম্প্রতিক ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে অনলাইনে তৈরি হওয়া তীব্র সমালোচনার জবাবেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া ওই টুর্নামেন্টে বেশ কিছু বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যার রেশ এখনো কাটেনি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কিন্তু আর্জেন্টিনার দাবি করা ওই অঞ্চল নিয়ে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কেবল ব্যানার প্রদর্শন নয় বরং সমর্থকদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান এবং মাঠে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ শুরু হতে দেরি হওয়া, স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া এবং গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠের ভেতর বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার ঘটনাগুলো নিয়েও বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্পেনের বিপক্ষে মাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং আর্জেন্টিনা দলের কর্মকর্তা রবের্তো আয়ালার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্ভাব্য শারীরিক লাঞ্ছনার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাঠে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্রীড়াঙ্গনের শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রশাসন আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।
এছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যেও নাম রয়েছে যেখানে মোলিনা এবং থিয়াগো আলমাদার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দল স্পেনের তরুণ তারকা গাভির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাঠের ভেতরের এসব বিশৃঙ্খলা এবং বাইরের তীব্র অনলাইন সমালোচনার পটভূমিতেই মূলত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের এই বহুল আলোচিত ও কঠোর জরুরি ডিক্রি জারি করার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এই হামলায় আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে আল-আজরাক ঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গারে এই হামলা চালানো হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, জর্ডানে তাদের ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের রেশ ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জর্ডান জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে যে ইরানের হামলায় সেখানে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে কনফিগারেশন অনুযায়ী কেবল বিমানগুলোর আর্থিক ক্ষতিই ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক প্রেক্ষাপটে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমান। রাডার ফাঁকি দেওয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে বিশেষভাবে কার্যকর।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে সোজা দেশ থেকে বের করা হবে: প্রেসিডেন্ট মিলেই
ইরানের পরামর্শে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা হুথিদের
ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের ঢল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েনের দাবি
দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশদের জন্য চলতি বছর কার্যকর হওয়া নতুন ভ্রমণ বিধির কারণে বিদেশে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন অনেক পরিবার। বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে ফিরতে না পারায় একাধিক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট টু দ্য রাইট অব অ্যাবোড’ বহন করতে হচ্ছে। শুধু অন্য দেশের পাসপোর্ট দিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার সুযোগ থাকছে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। এর মধ্যে রোমে এক কিশোরী এক মাসের বেশি সময় আটকে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আবার ডেনমার্ক থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় ড্যানিশ পাসপোর্টধারী দুই শিশুকে নিয়ে এক ব্রিটিশ নাগরিককে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। একইভাবে একজন ব্রিটিশ-আমেরিকান নাগরিকও কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট থাকায় যাত্রা করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট, আইরিশ পাসপোর্ট অথবা অন্য দেশের বৈধ পাসপোর্টের সঙ্গে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ ব্যবহার করতে পারবেন। ব্রিটিশ বা আইরিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) প্রযোজ্য নয়। পার্লামেন্টের গবেষণা নোটে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার আইনগতভাবে অক্ষুণ্ন থাকলেও, বাস্তবে বিমান বা অন্য আন্তর্জাতিক পরিবহনে উঠতে বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়া ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই অনেক যাত্রী যাত্রার আগেই বিমানবন্দরে বাধার মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ, নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি এবং গন্তব্য দেশের প্রবেশের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্টের বৈধতা নিশ্চিত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিলাসবহুল গাড়ি নয়, ফুলে সাজানো সাইকেলেই বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে
ভিয়েতনামে প্রথম সফল লিঙ্গ প্রতিস্থাপন, নতুন জীবন পেলেন ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কারণে কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে ২৮ বছর বয়সী এক নারী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। কায়লা বোইসভার্ট নামের ওই তরুণী পেশায় একজন ইভেন্ট প্যারামেডিক বা চিকিৎসাকর্মী। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাত সোয়া ২টার দিকে সালমো শহরের শাম্ভালা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথভাবে জোর তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওর ট্রেনটনের বাসিন্দা কায়লা কেবল এই উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্যই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, রবিবার বিকেলে 'থ্রেডস'-এ এক বন্ধুর সঙ্গে হাসিমুখে তোলা একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, অবশেষে এই রত্নের (বন্ধুর) সঙ্গে আনন্দ করতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। উৎসবস্থলে তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে কায়লার সঙ্গে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে কায়লার ফোন বন্ধ বা সংযোগের বাইরে রয়েছে। কায়লার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ওই বন্ধু ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন যে, তিনি স্থানীয় সব হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু কোথাও কায়লার কোনো নাম বা তথ্য নেই। নিখোঁজ হওয়ার সময় কায়লার পরনে একটি গ্রাফিক টি-শার্ট ও সাইকেডেলিক বা রঙিন প্যাটার্নের প্যান্ট ছিল এবং তার পিঠে একটি ব্যাকপ্যাক ছিল। জনসাধাণের সাহায্যে তাকে যেন দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়, সেজন্য ওই বন্ধু কায়লার সর্বশেষ পরিহিত পোশাকের ছবিও অনলাইনে শেয়ার করেছেন।
নতুন ‘এশিয়ান পপ’ ক্যাটাগরির প্রতিবাদে গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা বিটিএসের
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা, সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা