আর্জেন্টিনা

২০১২ সালের আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি আবারও আলোচনায় এসেছে আদালতের রায়কে ঘিরে। ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রেমিক: ক্ষুব্ধ বাবা ৭ তলা থেকে ফেলে হত্যা করলেন কিশোরকে

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পারগামিনো শহরে ২০১২ সালে এক কিশোরকে সপ্তম তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় আদালতের রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ছিল।   স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি সকালে ১৬ বছর বয়সী ইভান হোর্তিগেরা তার ১৪ বছর বয়সী বান্ধবী তামারার বাসায় রাত কাটানোর পর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তামারার বাবা নরবের্তো নুনিয়েজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পান।   অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি ইভানকে মারধর শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, মারধরের একপর্যায়ে কিশোরটির চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।   প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানালা দিয়ে ঘটনাটির কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আদালতে জানান, বাসা থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনার পর তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়।   ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, ইভানের হাতে আত্মরক্ষার কোনো চিহ্ন ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই অচেতন ছিলেন। এই তথ্য প্রসিকিউশনের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে।   অভিযুক্ত নরবের্তো নুনিয়েজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ইভান নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে দেওয়া হুমকির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি গ্রহণ করেননি।   পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড।   ইভানের বোন লুসিয়া হোর্তিগেরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও তার মনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়।   ঘটনাটি আর্জেন্টিনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। এমন ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ রোজারিওতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শেষ পর্যন্ত শনিবার আর্জেন্টিনার রোজারিওতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ নিজ শহরে পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সময়ে লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে গোল করে সেই গোল মেসিকে উৎসর্গ করেছেন তার সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো ডি পল।   স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে, রাত ২টার দিকে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল থেকে উড়ে এসে শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিও বিমানবন্দরে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান। বিমানবন্দর থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তারা রোজারিওর পাশের শহর পেরেজে যান, যেখানে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে।   আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কবরস্থানের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। তারা মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং এই কঠিন সময়ে মানসিক সমর্থন জানাতেই সেখানে উপস্থিত হন।   লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হোর্হে মেসি ছিলেন তার অন্যতম বড় সমর্থক ও অভিভাবক। অনেক সময় তিনি ছেলের প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফুটবলজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও হোর্হের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।   বাবার মৃত্যুর কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ থেকে মেসিকে অব্যাহতি দেয় ক্লাব। শেষকৃত্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানা গেছে।   ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা 'ফোর্সা, লিও' অর্থাৎ 'শক্ত থাকো, লিও' লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে মেসির প্রতি সমর্থন জানান।   ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে গোল উদযাপনের সময় তিনি জার্সি খুলে ভেতরে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি গোলটি শোকাহত বন্ধু ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে উৎসর্গ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইন্টার মায়ামি।   হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব, খেলোয়াড় ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল এবং নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিল মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিরোধ ও সমালোচনার মধ্যে এই দুই দেশের সমর্থন পেলেন ইনফান্তিনো। একই সময়ে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে মতবিরোধও তীব্র হয়েছে।   সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের আঞ্চলিক কনফেডারেশনের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি বা অনুমোদন করবে না।   মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর আহ্বানের সঙ্গে একমত হয়ে ২১১ সদস্য সংস্থার স্বার্থে সম্মিলিতভাবে ফুটবলের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চায়। ফেডারেশনটি বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে তারা সমর্থন করছে।   এদিকে বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনও ইউরোপীয় ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার সংস্থাগুলোর অবস্থানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনও বৃহস্পতিবার এমন যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে ফিফার ২১১ সদস্যের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন একই অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তৈরি বিতর্কের জন্য সদস্যদের কাছে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।   এই বিতর্ক আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলেছে। দুই মাস আগেও তার পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তবে মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো স্পষ্ট প্রার্থী এখনো সামনে আসেননি। এর মধ্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছেন।   ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বৃহস্পতিবার ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইনফান্তিনোকে দেওয়া এক চিঠিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ বছরে ফিফার কাজের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও পরিষ্কার শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্বীকার করেছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি নিশ্চিততার তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং এতে ভুলও হয়েছে। তাদের মতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হলো আগামী বছরের কংগ্রেসের আগে ফিফার নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাওয়া।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন এর আগে ফিফার পক্ষ থেকে বারবার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংলাপের পথে না যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য চালু করা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।   এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আলোচনার পর অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি শুধু পরিচালনাগত ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার। অন্যদিকে ফিফা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্বত্বের প্রস্তাব নিয়ে নেওয়া সব পদক্ষেপ তাদের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ভুলগুলো পরিচালনাগত নিয়ম ভঙ্গের কারণে নয়; বরং প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দমকলকর্মীসহ নি হত ৭

আর্জেন্টিনার পশ্চিমাঞ্চলীয় সান হুয়ান প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় কর্মকর্তারা এই দুর্ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেল ৪১২ মডেলের ওই হেলিকপ্টারটি মূলত সান হুয়ানের ইসচিগুয়ালাস্তো প্রাকৃতিক উদ্যানে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।   এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সান হুয়ানের গভর্নর মার্সেলো অরেগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তারা এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দমকলকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা ও বেসামরিক সুরক্ষা কর্মী রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেজান্দ্রা মন্টেওলিভাও শোকসন্তপ্ত পরিবার ও নিহতদের সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।   জরুরি সেবা বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে উড্ডয়নের পর পরই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি পার্শ্ববর্তী লা রিওহা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।   মর্মান্তিক এই প্রাণহানির জেরে সান হুয়ানের স্থানীয় সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়কালে জাতীয় ও প্রাদেশিক পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আয়তনে প্রায় অস্ট্রিয়ার সমান আধা-শুষ্ক অঞ্চল লা রিওহার পার্বত্য এলাকায় সপ্তাহের শুরু থেকেই ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় দমকলকর্মীদের তথ্যমতে, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেখানে শত শত হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে বিদেশিদের সরাসরি বহিষ্কারের জরুরি ডিক্রিতে সই করলেন প্রেসিডেন্ট মিলেই। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে সোজা দেশ থেকে বের করা হবে: প্রেসিডেন্ট মিলেই

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সম্প্রতি একটি জরুরি ডিক্রিতে সই করেছেন যার মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা কটূক্তি করা বিদেশিদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন ব্যক্তিদের আর্জেন্টিনায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বৈরী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে।   প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে যারা এই দেশের ওপর আক্রমণ চালাবে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক এবং জাতীয় প্রতীকগুলোর সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো আপস করা হবে না।   জরুরি প্রয়োজনীয়তা ও তাগিদ ডিক্রি বা ডিএনইউ অনুযায়ী যে সকল বিদেশি নাগরিকের মধ্যে আর্জেন্টিনার জাতীয়তাকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, বৈষম্য বা সহিংসতা ছড়ানোর প্রমাণ মিলবে তাদের জন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কেবল মৌখিক আক্রমণ নয় বরং দেশের জাতীয় দেশপ্রেমিক প্রতীকগুলোকে অবমাননা বা অপমান করার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ব্যক্তিরা পড়বে।   যদিও সরকারের এই অফিশিয়াল নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনো একক ঘটনার নাম উল্লেখ করা হয়নি তবুও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা সাম্প্রতিক ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে অনলাইনে তৈরি হওয়া তীব্র সমালোচনার জবাবেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া ওই টুর্নামেন্টে বেশ কিছু বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যার রেশ এখনো কাটেনি।   বিশ্বকাপ চলাকালীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কিন্তু আর্জেন্টিনার দাবি করা ওই অঞ্চল নিয়ে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে।   ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কেবল ব্যানার প্রদর্শন নয় বরং সমর্থকদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান এবং মাঠে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ শুরু হতে দেরি হওয়া, স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া এবং গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠের ভেতর বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার ঘটনাগুলো নিয়েও বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে।   টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্পেনের বিপক্ষে মাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং আর্জেন্টিনা দলের কর্মকর্তা রবের্তো আয়ালার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্ভাব্য শারীরিক লাঞ্ছনার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাঠে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্রীড়াঙ্গনের শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রশাসন আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।   এছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যেও নাম রয়েছে যেখানে মোলিনা এবং থিয়াগো আলমাদার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দল স্পেনের তরুণ তারকা গাভির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাঠের ভেতরের এসব বিশৃঙ্খলা এবং বাইরের তীব্র অনলাইন সমালোচনার পটভূমিতেই মূলত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের এই বহুল আলোচিত ও কঠোর জরুরি ডিক্রি জারি করার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!
থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!

২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উত্তরসূরি থিয়াগো? আর্জেন্টাইনদের নতুন স্বপ্নের কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ পুত্র।   লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষের পথে—এমন আলোচনা যতই জোরালো হোক, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কল্পনায় নতুন এক স্বপ্ন জায়গা করে নিচ্ছে। সেই স্বপ্নের নাম থিয়াগো মেসি। বাবার পথ অনুসরণ করে একদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারে মেসির জ্যেষ্ঠ ছেলে—এমন সম্ভাবনাকে ঘিরেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে।   বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তার অগ্রগতি নজর কাড়ায় অনেক সমর্থকই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে দেখার আশা করছেন।   নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় থিয়াগোর বয়স হবে প্রায় ১৮ বছর। সে সময়ের মধ্যে যদি তার ফুটবলীয় উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয় এবং পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই; সবকিছুই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ওপর।   থিয়াগোর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও, বিভিন্ন সময় সে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। বাবার মতোই আকাশি-নীল জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সাক্ষাৎকারে।   মেসি পরিবারের ফুটবল চর্চা অবশ্য শুধু থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সন্তানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়। তাই থিয়াগোর বিকাশের এই পর্যায়ে অযথা চাপ না দিয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   লিওনেল মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে থিয়াগো নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের কাছে নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার নাম।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফাইনালে হারলেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারলেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে গেলেও জাতীয় দলের জন্য এ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিলেই জানান, "উচ্ছ্বাস উদযাপনের দিনটি নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ওই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।"   রোববারের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও বুয়েনস আইরেসে জাতীয় দলকে স্বাগত জানানোর সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও দলীয় কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলের একাংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে আর্জেন্টিনায় এসে পৌঁছাবে। অপরদিকে, বাকি খেলোয়াড়দের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সরাসরি তাদের নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটির জন্য অন্যান্য গন্তব্যে রওনা হবেন।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন
শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।   দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।   ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।   দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা।   অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সোমবার গভীর রাতের ফাইনাল ম্যাচের কারণে কেরালার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছুটি ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ভারতের কেরালায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভারতের কেরালা রাজ্যে এখন অভূতপূর্ব উন্মাদনা বিরাজ করছে। ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই হাই-ভোল্টেজ মহাদূন্দ্ব উপলক্ষে সোমবার রাজ্যের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   খেলাটির সময়সূচি গভীর রাতে হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেরালা প্রশাসন। একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশাপাশি সব ধরনের পেশাদার উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ছুটির আওতায় থাকবে।   রাত জেগে প্রিয় দলের জমজমাট লড়াই দেখার পর পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টিসহ বিরোধী দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ ছুটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসান সোমবার রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।   অবশ্য ক্লাস স্থগিত থাকলেও আগে থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সূচিতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই পরীক্ষাগুলো চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরালা সরকার।   ফুটবলের প্রতি কেরালার মানুষের আবেগ চিরকালই একটু আলাদা। আন্তর্জাতিক যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবারের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি মিশরের। ছবি: গেটি ইমেজেস
মেসি ও আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মিশরের! রেফারিদের বহিষ্কারের দাবি

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং তাদের সেটি করার প্রয়োজনও ছিল। প্রথম দুইটি নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে এবং মিশরকে সহজে গুঁড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হলেও, আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানের জয়গুলোর জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে।   যদিও মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকান এই দেশটি তাদের শেষ ১৬-র পরাজয়ের দায়িত্বে থাকা ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছে। মিশর অভিযোগ করেছে, আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং তাদের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানো হয়েছে।   ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান বলেন, মিশরের প্রতি “অন্যায় আচরণ” করা হয়েছে এবং তারা “অবিচারের শিকার” হয়েছে। ফিফাও পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মি. হাসান। তিনি বলেন, “হয়তো তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন লড়াইয়ে টিকে থাকে।”   এরপর সুইজারল্যান্ডকে ১০ জনের দলে নামিয়ে আনতে আর্জেন্টিনার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল। একইসঙ্গে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালটি ৩-১ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের সেমিফাইনাল জয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষেই গিয়েছিল।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প, টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জয় বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনালের আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই আসরের মাধ্যমে বিশ্ব দেখেছে যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ।    নিউইয়র্কে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করেছে।    রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন।    এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করেছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আসরটি।    ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ম্যাচটিকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।    তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি সমর্থন জানাননি। ফলে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, কার হাতে তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে শুধুই মাঠের লড়াইয়ের ফলাফলে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
FIFA ছবি: সংগৃহীত
তিন মহাদেশের, ৬ দেশে হবে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ

২০২৬ বিশ্বকাপ একদম শেষ প্রান্তে। যেখানে শিরোপা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এরইমাঝে শুরু হয়ে গেছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এবার এক অভিনব আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশ ও ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ।   বিশ্বকাপের ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।   ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও'র ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে একটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামেও একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে।   এরপর মূল পর্বের বাক সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের দর্শনার্থীদের সঙ্গে ডেটিংয়ে মেতেছেন স্থানীয় সিঙ্গেলরা

আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন এই ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমাজের অপ্রত্যাশিত কিছু ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান।   এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, মিয়ামি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ মোট ১১টি মার্কিন শহরে এবারের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠা এই শহরগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রকম এক উন্মাদনা। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের কাছে এবারের বিশ্বকাপটি যেন শুধুই একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম (DatingAdvice.com)-এর দেশব্যাপী পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের অবিবাহিত বা সিঙ্গেল মানুষদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই জানিয়েছেন যে, তারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে ডেটে গেছেন বা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন।   টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক ডেটিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি থাকা শহরগুলোর তালিকায় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। শুধু একটি শহরই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো আয়োজক শহরের সামগ্রিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া আয়োজক শহরগুলোর ৬৮ শতাংশ সিঙ্গেল মানুষের দাবি, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ডেটিং জীবনে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নতি এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাচ শেষে জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো নোট দেখছেন লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। ছবি: সংগৃহীত
টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত ছিল ইংল্যান্ড, গোলরক্ষকের বোতলে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি ‘চিট শিট’ দেখে কৌতূহলী মেসিরা

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে।   ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড।   তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি।   ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে।   যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, সর্বনিম্ন কত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইপ্রোফাইল এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের কিছু টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার থেকে।   চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন মাঠে নামবেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।   পরাশক্তিদের এই লড়াই মাঠে বসে দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের পকেটের বড় একটি অংশই খসাতে হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির সবচেয়ে কমদামী টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার। এই মূল্য গত মঙ্গলবারের ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দামের তুলনায় প্রায় ঠিক দ্বিগুণ।   যারা গ্যালারির একদম সামনে থেকে মেসি ও কেইনের দ্বৈরথ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের একদম লোয়ার লেভেলের ১০০-লেভেলের গ্যালারির টিকিটগুলোর মূল্য বর্তমানে শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৬৬৯ ডলার থেকে, যা মূলত সেকশন ১২২-এর আসনের জন্য প্রযোজ্য।   আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি শুরু হবে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের জন্য দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার একটি টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং অন্যটি আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন।   এই সেমিফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামও ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ৬ হাজার ৮৪২ ডলার থেকে। আর একদম মাঠের কাছাকাছি লোয়ার-লেভেলের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ১৩ হাজার ৭০ ডলার থেকে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
কানসাসে আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার I ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার

চলমান বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমগুলোর আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এবার কানসাসে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিউইয়র্ক থেকে সময়ের হিসেবে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকা কানসাসে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   সাধারণত অন্যান্য বিশ্বকাপে ম্যাচের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার খোলা থাকলেও, আমেরিকায় নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। এখানে খেলা শুরুর ঠিক চার ঘণ্টা আগে মিডিয়া সেন্টারের দরজা খোলে। আর অবাক করা বিষয় হলো, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার।   লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এবারের বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, যা মিডিয়ার এই বিপুল আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। কানসাস শহরটি মূলত এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখান থেকেই টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল দলটি, আর এবার সেই একই ভেন্যুতে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামছে।   স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে প্রায় দশ মিনিট হাঁটার পর মিডিয়া সেন্টারে পৌঁছাতে হয়। সেখানে কয়েক শ সাংবাদিকের জন্য আসন বরাদ্দ থাকলেও, খেলা শুরুর অনেক আগেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এমনকি সেন্টারের এক পাশে থাকা ক্যাফেটেরিয়াতেও বসার জায়গা না পেয়ে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়েই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।   মিডিয়া সেন্টারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকরাও আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘিরে এমন বাড়তি উন্মাদনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, অন্য যেকোনো দলের ম্যাচের তুলনায় আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো বেশি। ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাঁচবারের শিরোপাজয়ী দল ব্রাজিলের ম্যাচেও সাধারণত প্রচুর সাংবাদিকের সমাগম ঘটে। তবে এবারের আসরে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা। কানসাসে খেলা শুরুর চার ঘণ্টা আগেই মিডিয়া সেন্টারের এমন উপচে পড়া ভিড় যেন সেই সত্যেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
প্রেস ব্রিফিংয়ের মাঝে আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীর বিতর্কিত ফুটবল মন্তব্য। ছবি সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ম্যাচে মিশরকে ঠকানো হয়েছে, বললেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী

চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে মিশরের বিদায় নেওয়ার ঘটনাটি এখন বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিতর্কে রূপ নিয়েছে। এবার সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মিশরকে অন্যায়ভাবে বা ডাকাতি করে হারানো হয়েছে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   গত বুধবার নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ও বাস সেবা উন্নতকরণ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মেয়র জোহরান মামদানী। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাস রুট দ্রুত করা হলে সাধারণ যাত্রীদের কীভাবে দৈনিক সময় বাঁচবে, সেই হিসাব দিচ্ছিলেন তিনি। তবে রুটিনমাফিক সেই আলোচনার মাঝেই হুট করে ফুটবল বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ম্যাচটি নিয়ে কথা বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের পুরোপুরি চমকে দেন মেয়র।   মেয়র মামদানী জানান, নতুন বাস রুটের কারণে যাত্রীদের যে বাড়তি সময় বাঁচবে, তা দিয়ে তারা পরিবারকে সময় দেওয়া কিংবা বাচ্চাদের খেলাধুলা দেখতে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারবেন। এর পরপরই তিনি যোগ করেন, ওই বেঁচে যাওয়া সময়ে যাত্রীরা চাইলে বন্ধুদের সঙ্গে এই আলোচনাতেও অংশ নিতে পারবেন যে গত পরশু দিনের ম্যাচে মিশরকে কীভাবে আসলে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে।   পরবর্তীতে একজন সাংবাদিক যখন মেয়রকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেন যে বাস সেবা দ্রুত হওয়ার পর মেয়রের নিজের যে বাড়তি সময় বাঁচবে, তা দিয়ে তিনি কী করবেন? জবাবে মামদানী ক্ষোভ ও রসিকতার সুরে বলেন, তিনি সম্ভবত আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের সেই বিতর্কিত ম্যাচটির ভিডিও চিত্র বারবার রিপ্লে করে দেখবেন।   গত মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মিশরকে তিন-দুই ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে মোস্তফা জিকোর গোলে মিশর এগিয়ে গেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেই গোল বাতিল করে দেয়। মাঠের অন্য প্রান্তে প্রায় বিশ সেকেন্ড আগে ঘটে যাওয়া একটি ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে জয়সূচক গোলের ঠিক আগমুহূর্তে মিশরের অধিনায়ককে ফাউল করা হলেও রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশরীয় শিবির।   ম্যাচ শেষে মিশরের ফুটবলার জিকো এই রেফারিং পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অন্যায্য বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান ম্যাচটিকে সরাসরি পাতানো ম্যাচ হিসেবে আখ্যা দেন। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের নেতৃত্বাধীন ম্যাচ পরিচালনাকারী দলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

তাবাস্সুম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ
আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫ থেকে ১০ লাখ

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা—ফুটবল, ট্যাঙ্গো নৃত্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে অনেকের অজানা, লাতিন আমেরিকায় মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ আজ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের অন্যতম বড় আবাসস্থল হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে।   ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমরা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের আশায় এখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের হাত ধরেই মুসলিম সমাজ আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত হয়ে ওঠে।   দেশটিতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ মূলত শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদকে আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে গড়ে ওঠে ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে গ্রন্থাগার, শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্মুক্ত পার্ক—যা মুসলিম সমাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়। নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ঐতিহ্যগত ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় মানসম্মত ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণার অভাব এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার ঘাটতি ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।   তারপরও দীর্ঘ শতকের অভিজ্ঞতা, শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে এখনো দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ আরও সুসংহতভাবে বিকশিত হবে এবং আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মুসলমানদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করান শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানের বাইরে ঝাঁপ দিলেন প্রশিক্ষক, নিরাপদে অবতরণ করালেন শিক্ষার্থী

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে এক ফ্লাইট প্রশিক্ষক বিমানের বাইরে চলে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বিমানে থাকা ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত শনিবার আর্জেন্টিনার একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ঘটে। নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বের্তাসো। তিনি স্থানীয় ফ্লাইং প্যারট কর্দোবা ফ্লাইং স্কুলের প্রশিক্ষক ছিলেন। প্রসিকিউটরদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ চলাকালে বের্তাসো তার শিক্ষার্থী রোসারিওকে বলেন, “তুমি জানো কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।” এরপর তিনি নিজের হেডসেট খুলে ফেলেন এবং বিমানের বাইরে চলে যান। ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।   প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থী রোসারিও একাই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। তীব্র মানসিক চাপের মধ্যেও তিনি সফলভাবে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএন-এর বরাতে জানা গেছে, ফ্লাইং প্যারট কর্দোবা ফ্লাইং স্কুলের পরিচালক বলেছেন, প্রশিক্ষকের আচরণে আগে থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত তারা লক্ষ্য করেননি। একই দিন তিনি আরেক শিক্ষার্থীকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাইটের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো এ বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিশ্বকাপের মাঝেই অর্থপাচারের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা বা এফবিআই। আর্জেন্টাইন দৈনিক ‘লা নাসিওন’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফএ সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়ার নেতৃত্বে সংস্থাটি কীভাবে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর করেছে এবং এর সাথে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে কি না, মূলত সেটিই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের বিতর্কিত জয়ের পরপরই এই তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসায় ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।   লা নাসিওন-এর দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’ (TourProdEnter LLC) নামের যে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে এএফএ-এর আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনা করে, সেটিও বর্তমানে এফবিআইয়ের স্ক্যানারে রয়েছে। বেশ কিছু নথিপত্রের ভিত্তিতে ওই পত্রিকা দাবি করেছে, সিটিব্যাংক, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপিএমরগ্যান চেজ, পিএনসি ব্যাংক ও সিনোভাসের মতো পাঁচটি প্রথম সারির মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ২৬ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রাজস্ব নাড়াচাড়া করেছে ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি। এই বিপুল অর্থের একটি অংশের বৈধ পরিচালন ব্যয়ের হিসাব পাওয়া গেলেও, অন্তত ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার কোনো নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ছাড়াই বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগীর কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কোনো ধরনের দৃশ্যমান সেবা প্রদান না করেই এমন কিছু কোম্পানির অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার পাঠানো হয়েছে, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণকারীদের অনেকেই আর্জেন্টিনার বারিলোচে বা বুয়েনস এইরেসের বাসিন্দা এবং তারা সরকারি সমাজকল্যাণমূলক ভাতাও পেয়ে থাকেন।   তবে এখন পর্যন্ত এফবিআই এই তদন্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বা অর্থপাচারের এই অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলাও দায়ের হয়নি। অন্যদিকে এএফএ সভাপতি তাপিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় জড়ানোর পুরোনো ইতিহাস রয়েছে; গত মার্চেই তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ ওঠে এবং দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সাথেও তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এএফএ বা ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি কেউই এখন পর্যন্ত এই নতুন অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০