বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা মঞ্চে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর ‘কালো জাদু’ করে আলোচনায় আসা ঘানার সেই তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম এবার আলবিসেলেস্তে শিবিরে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করে দেবে পুচকে দল কেপ ভার্দে। তার এই রহস্যময় মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে সাদা পাউডার ছিটিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই ঘানার তান্ত্রিক। সেই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত দাবি করেছিলেন বোন্সাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার কারণে তিনি ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে কোনোভাবেই গোল করতে পারবেন না। কাকতালীয় কিংবা অলৌকিক মনে হলেও সত্যি যে, ঘানার বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হ্যারি কেইন কোনো গোল পাননি। শুধু তাই নয়, শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে কোনো শট পর্যন্ত নিতে পারেনি ইংল্যান্ড দল এবং ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়। কেইনের ওপর করা জাদুর কার্যকারিতা প্রমাণের পর এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভবিষ্যৎবাণী করে নতুন করে লাইমলাইটে এলেন বিতর্কিত এই তান্ত্রিক। একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বোন্সাম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করবে।’ তবে লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে তিনি নিজে কোনো কালো জাদু প্রয়োগ করবেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নবাগত ও চমক জাগানো দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও অসাধারণ গোলকিপিং নৈপুণ্য দিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন ও সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে এবং ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে রূপকথার জন্ম দিয়েছে এই নবাগত দলটি।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা আবারও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। জিওভানি লো সেলসো, লাউতারো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের বিশেষ অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করে মার্টিনেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি। সত্যিই দেশটিকে ভালোবাসি।’ বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি তারা কতটা পাগল আমাদের জন্য। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি আমি। তাদের সমর্থন আমি ভালোবাসি। তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে দেখে, আমার অনেক ভালো লাগে। আমার পূর্ণ ভালোবাসা বাংলাদেশের জন্য।’ ২০২৩ সালে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। সেই সফরের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে বলেই আবারও বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি মায়ামির তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও দলটির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচের সময়সূচি ও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বছরের এ সময়ে মায়ামির গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি করে। গ্রুপ পর্বে এই ভেন্যুতে খেলা দলগুলোর কাছেও আবহাওয়াই ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। এবার সেই একই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দেকে। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা খুব গরম আবহাওয়ায় খেলব, এমন সময়ে যা বোঝানো কঠিন। তবে সবাই একই পরিস্থিতিতে খেলেছে, তাই অভিযোগ করার কিছু নেই।’ সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর হওয়ায় এ সময় মায়ামিতে গরম ও আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে প্রতিপক্ষের চাপের পাশাপাশি কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। তাই শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। বুধবার (২৪ জুন) বিভিন্ন দেশের নেতারা ত্রাণ, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানায় বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে বলিভিয়ার জনগণ ভেনেজুয়েলার পাশে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দেশটি প্রস্তুত। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারাকাসে অবস্থিত ব্রাজিলীয় দূতাবাসকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভেনেজুয়েলার প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট যমন্দু ওরসি এক বার্তায় ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, উরুগুয়ে তা দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানবিক সহায়তার বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনাও। দেশটির প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এক বিবৃতিতে বলেন, কূটনৈতিক মতভেদ থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আর্জেন্টিনা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভেনেজুয়েলার এই সংকটময় সময়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সংহতি ও সহায়তার আশ্বাস আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক শিরোপা জিতে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও আরাধ্য স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বজয়ের সেই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর ফুটবল মহলের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এবার হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখবেন তিনি। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার প্রায় ৬ মাস আগেই লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে সামনে এগোতে চান। ক্লাবের চলমান মৌসুম শেষ করার পর যখন বিশ্বকাপের আর মাত্র ৬ মাস বাকি থাকবে, ঠিক তখনই তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেসের স্তর মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার বা এমএলএস মৌসুমের শেষে নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জনান এই ফুটবল জাদুকর। বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত-সমর্থকদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মহামঞ্চে মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত ও চোখধাঁধানো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। এই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে পাঁচ গোল করে ফুটবল ইতিহাসের নতুন অনেক রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন এলএমটেন। এর মাধ্যমে তিনি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডটিও নিজের দখলে নিয়েছেন। চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেখানে মাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যতদিন আমি জাতীয় দলের জন্য কার্যকর অবদান রাখতে পারবো, শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট ও ভালো থাকবো এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারবো, ততদিন পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবো।" তবে ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মেসি আরও বলেন, "আমি আসলে সেটা জানি না। এখনই এটি নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা করছি না। কারণ সেখানে পৌঁছাতে এখনও অনেক সময় বাকি আছে। আমি এখন ডে বাই ডে ধরে এগোচ্ছি এবং শুধুমাত্র বর্তমানের দিকেই আমার পুরো মনোযোগ দিচ্ছি।"
শুরুটা হয়েছিল হতাশায়- পেনাল্টি মিস করে ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়লেন এবং দলকে নিয়ে গেলেন শেষ ৩২-এ। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে নামে আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢোকা মাত্র শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর পরীক্ষার পর অষ্টম মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। কিন্তু তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দেন। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করেছিলেন, তবে সেভ করতে হয়নি তাকে। ২১ মিনিটে মেসি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকলেও আলাবা পেছন থেকে বলে ছুঁয়ে দেন এবং বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। ৩৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া পাস শ্লাগার আটকে দিতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসি সঙ্গে সঙ্গে শট নিলেও আলাবা সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল ব্লক করেন। ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে মেসির চমৎকার কর্নার কিকে বল পেয়ে গঞ্জালেস দুর্দান্ত হেড করলেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে গঞ্জালেসের আরেকটি শটও ব্লক হয়ে যায়। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলভারেসের শট শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে। গোললাইনে বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে থাকলেও দমে যাননি মেসি। প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় শটে গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। জে গ্রুপে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকেও হারিয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটের দৌড়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল মেসিদের মূল লক্ষ্য যেহেতু ফাইনাল, তাই নকআউট পর্বে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের সামনে কোন প্রতিপক্ষ আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিশেষ করে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচের ফলাফল তাদের কোন সমীকরণের দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত এক ক্রীড়া প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপের বর্তমান সূচি ও সমীকরণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি 'জে' গ্রুপ থেকে শীর্ষ দল অর্থাৎ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উন্নীত হতে পারে, তবে শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হতে হবে 'এইচ' গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় সেরা দলের। এই মুহূর্তে 'এইচ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে। এই গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন এবং উরুগুয়ের সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও কেবল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান করছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণটি বেশ সহজ। আজ অস্ট্রিয়া এবং পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানকে সরাসরি হারাতে পারলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই লিওনেল মেসিরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্বে চলে যাবেন। তবে আর্জেন্টিনা যদি কোনো ম্যাচে পয়েন্ট হারায়, তাহলেও তাদের গ্রুপ সেরা হওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে 'জে' গ্রুপের অন্য দুই দল আলজেরিয়া ও জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচগুলোর ফলাফল আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ন্ত্রক বা প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে 'এইচ' গ্রুপের আগামী ২৭ জুনের দুটি ম্যাচের ফলাфলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। ওই দিন স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরব মাঠে নামবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলোতে যদি উরুগুয়ে জয়লাভ করে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা পরাজিত হয়, তবে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে স্পেনের মুখোমুখি হতে হবে আর্জেন্টিনার। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দলই যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়, তবে গোল ব্যবধান, গোল সংখ্যা কিংবা ফেয়ার প্লে টেবিলের ভিত্তিতে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারা আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে। অন্যান্য সমীকরণের মধ্যে, যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ম্যাচ দুটিই ড্র হয়, তবে তারা প্রথম স্থানের বদলে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে এবং সমীকরণ অনুযায়ী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার কম গোলের ব্যবধানে জেতে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে কেপ ভার্দেই হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ। কিন্তু কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। আর উরুগুয়ে যদি নিজের ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ হয় এবং সৌদি আরব জয়লাভ করে, তবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে সৌদি আরবের। তবে কোনো কারণে আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে যায় এবং স্পেন যদি 'এইচ' গ্রুপের শীর্ষে থাকে, তবে শেষ ৩২-এর মঞ্চেই দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ। আর মেসিরা যদি চরম অঘটনের শিকার হয়ে গ্রুপে তৃতীয় হন, তখন তাদের গ্রুপ ডি, জি, এল, বি অথবা কে-এর চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হতে হবে। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিল নির্ধারিত হচ্ছে অলিম্পিক পদ্ধতিতে, যেখানে পয়েন্ট সমান হলে যথাক্রমে হেড-টু-হেড ম্যাচ, গোল ব্যবধান, সামগ্রিক গোল পার্থক্য, ফেয়ার প্লে পয়েন্ট এবং সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ম্যাচ দেখতে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের বহনকারী একটি উবার গাড়ি লক্ষ্য করে চলন্ত গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে এক বন্দুকধারী। এই ভয়াবহ ধারাবাহিক গুলিবর্ষণের (সিরিয়াল শ্যুটিং) ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে শহরের প্রায় ৫ মাইল এলাকা জুড়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। ঘটনার সময় দুই আর্জেন্টিনা সমর্থক উবারে করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দেখার জন্য অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে ইন্টারস্টেট মহাসড়কে আচমকা একটি গাড়ি তাদের পাশে এসে দুটি গুলি ছোড়ে। এতে উবার চালকের পায়ে গুলি লাগে। পরে পুলিশ ওই সমর্থকদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে জবানবন্দি নেয় এবং নিজেদের টহল গাড়িতে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত চালক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আধা ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোট পাঁচটি গুলির ঘটনা ঘটে। সব ভুক্তভোগীই চলন্ত গাড়িতে থাকা অবস্থায় এই হামলার শিকার হন। মহাসড়কের পর শহরের প্রধান সড়ক ট্রুম্যান রোডেও গুলি চালায় ওই বন্দুকধারী। সেখানে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেলে পুলিশ চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার শরীরে গুলির আঘাত শনাক্ত করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কানসাস সিটি পুলিশের কর্মকর্তা জ্যাকব বেকিনা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে এই ধারাবাহিক হামলাগুলো একই সন্দেহভাজন ব্যক্তি চালিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কানসাসের শহরতলি ইনডিপেনডেন্সের একটি বাড়িতে অভিযান চালালেও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ২২ বছর বয়সি এক যুবক এখনও পলাতক রয়েছে। তার কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে এবং সে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাকে গ্রেফতারে পুরো শহর জুড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন পুলিশ। সূত্র: এবিসি নিউজ
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন। ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে। এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল। এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি, লাথি এবং একে অপরের ওপর বস্তু ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই উন্মুক্ত মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন। জানা গেছে, গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়। একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা প্রথমে একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ফিগারো’ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায় এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থানে এই প্রকাশ্য মারামারির ঘটনাটি ঘটলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ফ্যান-জোনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায়, এই ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দুই পক্ষের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়। তা ছাড়া, আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় সমর্থকদের আবেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন স্টেডিয়াম ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার আমলে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া নিজের ছেলের খোঁজে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি মানবাধিকার কর্মী লিদিয়া 'তাতি' আলমেইদা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তার এই প্রয়াণে আর্জেন্টিনা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলমেইদা ছিলেন দেশটির বিখ্যাত অধিকার রক্ষা সংগঠন 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো'-র সভাপতি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী একনায়কতন্ত্রের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই মায়েরা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের সামনের চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতীকী পদযাত্রা করে আসছিলেন। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে আর্জেন্টিনার সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক নয় মাস আগে আলমেইদার ছেলে আলেহান্দ্রোকে কমিউনিস্ট-বিরোধী আধাসামরিক বাহিনী অপহরণ করে। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আলমেইদা তার সন্তানের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য উন্মোচনের জন্য অবিরাম সন্ধান চালিয়ে যান। আলেহান্দ্রোকে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে এই দীর্ঘ পথচলায় আলমেইদা হয়ে উঠেছিলেন এক অনুকরণীয় নৈতিক শক্তির প্রতীক এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের এক অন্যতম বাতিঘর। তিনি জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত একনায়কতন্ত্রের বর্বরতার বিচার দাবির পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন। আলমেইদার পরিবার জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বুয়েনস আইরেসের একটি হাসপাতালে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন আগে অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার এই মানবিক কাজ চালিয়ে গেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাবার্তায় বলা হয়, "আমাদের এটি শেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ যে ভালোবাসার অপর নামই হলো প্রতিরোধ করা। আমরা কেবল সেই লড়াইয়েই হেরে যাই যা আমরা ছেড়ে দিই এবং ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে আর নেই।" লিদিয়া স্তেলা মার্সিডিজ মি উরাঙ্গা নামের এই সাহসী নারী ১৯৩০ সালের ২৮ জুন বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী হোর্হে আলমেইদার সাথে সংসারে তাদের তিনটি সন্তান ছিল। সমাজকর্মী বা আন্দোলনের কর্মী হওয়ার আগে তিনি মূলত একজন শিক্ষক ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের পরিবার লালন-পালনেই ব্যস্ত ছিলেন। আলমেইদার বাবা ছিলেন একজন সামরিক ক্যাভালরি অফিসার। ফলে ১৯৭৫ সালে যখন আলেহান্দ্রো নিখোঁজ হন, তখন তার প্রথম সহজাত তাগিদ ছিল সহায়তার জন্য সামরিক জানাশোনা লোকদের কাছে যাওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি স্বৈরাচারের ভয়াবহ নৃশংসতার সত্য জানতে পারেন এবং নিজের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খোঁজে থাকা অন্যান্য মায়েদের সাথে পরিচিত হন, তখন তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় আলেহান্দ্রো বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন এবং একই সাথে তিনি একটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী গেরিলা দল 'পিপলস রেভল্যুশনারি আর্মি'-র সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে একজন কবিও ছিলেন। ২০০৮ সালে আলমেইদা তার ছেলের একটি ডায়েরি থেকে খুঁজে পাওয়া কবিতার সংকলন বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন, যা তিনি ছেলের অপহরণের পর উদ্ধার করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৮০-এর দশকে মূল সংগঠনটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালে আলমেইদা 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো ফাউন্ডিং লাইন'-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারসহ দেশটির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই মহান নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে এমন একজন অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি জীবনকে সম্মানিত করে গেছেন।
প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে। তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে। লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়। ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক। কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা। আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা। আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন। হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে। অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন। এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে। এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না। তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি। সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য। যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে। তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে। বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আজ সোমবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতেই আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মাস্টারমাইন্ড। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনির সাথে আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম এখনো কৌশলগত কারণে গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, আজ কোচের পাশে আসন গ্রহণ করতে পারেন স্বয়ং আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগের দিনও স্কালোনির সাথে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও সেই উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারাই। চার বছর পর বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্কালোনি কোনো লাকি টোটকা বা কুসংস্কারের পথ অবলম্বন করতে চান কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এদিকে আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একমাত্র নিশ্চিত দুঃসংবাদ হলো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ইনজুরি। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিতভাবেই মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক রিকভারির ওপর। তাগলিয়াফিকোর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক পজিশনে স্কালোনি কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছুদিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহের চোটের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা দল এখন মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের পরিচালনায় আগামীকাল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। তার আগে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই দল নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে মেসি ক্যাপশনে লিখেছেন—‘২০০৬⚽২০২৬’। ২০ বছর আগের জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষটা যেন একই ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি। মেসির পাশাপাশি চলতি আসরে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার সামনেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ছোঁয়ার পাশাপাশি এবার মেসির সামনে রয়েছে বেশ কিছু মহাকাব্যিক মাইলফলক ভাঙার সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। লিওনেল মেসি বর্তমানে ১৩টি গোল নিয়ে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন। তবে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির একমাত্র প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে নেমেই মেসির সমান ১৩টি গোল নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। পেলেকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ২টি এবং এককভাবে শীর্ষে উঠতে প্রয়োজন ৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির পর ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার এবং রেকর্ড ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তি মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায়, মেসি যদি তার ম্যাচ এবং মিনিটের এই সংখ্যাকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যান, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অলক্ষ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল পরাশক্তিদের এমন কিছু কট্টর সমর্থকের আবাসস্থল, যাদের উন্মাদনা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবল ভক্তদের সহজেই হার মানাবে। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও এদেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের রাস্তাঘাট রঙিন জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। সাধারণ দৃষ্টিতে একে স্বাভাবিক মনে হলেও একটি বিষয় বেশ অদ্ভুত—এই পতাকাগুলোর সব কটিই ভিনদেশের। মে মাস থেকেই ফুটবল ভক্তরা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় দুই চিরদ্বন্দী দেশের বিশাল সব পতাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এটি এক বিরল সময়, যখন প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক এই জাতি ভিনদেশের রঙকে সম্পূর্ণ নিজের করে নেয়। ঢাকার গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার স্পোর্টস মার্কেটগুলোতে প্রায় ৫০০ টাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের রেপ্লিকা জার্সি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য ভক্ত। লাতিন আমেরিকার এই দুটি দেশের প্রতি বাংলাদেশের ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলেও তাদের প্রতি এদেশের মানুষের ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ চলাকালীন এই ভালোবাসাই মাঝেমধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও বড় শত্রুতে পরিণত করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হবিগঞ্জে একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অন্য দিকে শরীয়তপুর এলাকায় একদল যুবক এক অভিনব ঘোষণা দিয়েছেন যে, ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের ট্রফি জেতার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউ বিয়ে করবেন না। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই উন্মাদনার মূল কেন্দ্রে থাকে, তবে মাঝেমধ্যে অন্যান্য দেশের প্রতিও মানুষের ভিন্ন রকম আগ্রহ দেখা যায়। ৭২ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন এ সপ্তাহে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন নিজের পৈতৃক জমির একটি অংশ বিক্রি করে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করার মাধ্যমে। দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, আমজাদ হোসেনের মূল স্বপ্ন হলো এই বিশাল আকৃতির পতাকাটি জার্মানির কোনো বড় জাদুঘরে স্থান পাবে। এদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নরওয়ে বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। দেশটি বাংলাদেশি সমর্থকদের তাদের দল 'ভাইকিং'দের সমর্থন দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান দূতাবাস সমর্থকদের কাছে করা আবেদনে দুই দেশের ঐতিহাসিক গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে উল্লেখ করেছে যে, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল নরওয়ে। এবারের বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম আসর যেখানে মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ২০২২ সালে ফিফা এবং আর্জেন্টিনার মূল খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও মিলেছে। নিজ দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি জাতির কাছ থেকে পাওয়া এমন অবিশ্বাস্য সমর্থন তাদের ভীষণভাবে অভিভূত করেছিল। আর্জেন্টিনার প্রতি এই ভালোবাসার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবল খেলাটি ১৯ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় প্রবর্তন করেছিল। ষাট ও সত্তরের দশকে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, তখন হতোদ্যম যুবসমাজ আশা ও নায়কদের খুঁজছিল। সেই সময়ে তরুণরা ব্রাজিলের মধ্যে সেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়, যারা ছিল সেই প্রজন্মের সেরা দল। পেলে হয়ে ওঠেন এদেশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে কয়েক প্রজন্মের ফুটবলারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশে টেলিভিশনের মালিকানা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ক্রিকেট পাগল দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাংলাদেশির কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল রঙিন পর্দায় দেখা বিশ্বকাপের প্রথম ঝলক। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার আইকনিক গোলগুলো নিছক ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সময়ের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী বিজয় হিসেবে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তরুণ ভক্তদের কাছে ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি, আর ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নেইমার। তবে এই উন্মাদনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগেও বেশ কয়েকবার সহিংস রূপ নিয়েছে, এমনকি তা প্রাণঘাতীও প্রমাণিত হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সমর্থকদের পারস্পরিক সংঘর্ষে ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। ২০১৪ সালে বৈদ্যুতিক তারে পতাকা টানাতে গিয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে 'টাইম' ম্যাগাজিন জানিয়েছে। ২০১৮ সালে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় এবং সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলের সময় সংঘর্ষে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালকে আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপার স্বাদ পাননি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের আসর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল। সেই সম্ভাবনার মধ্যেই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন Kylian Mbappé। ফরাসি অধিনায়ক জানিয়েছেন, আবারও যদি বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ফ্রান্স জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে। ইতালীয় সাংবাদিক Fabrizio Romanoর এক প্রশ্নের জবাবে এমবাপে বলেন, ফ্রান্স সবসময় জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলে এবং দলটি এখনো সেই একই মানসিকতা ধরে রেখেছে। তার ভাষায়, তারা ক্ষুধার্ত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। ফরাসি এই তারকা বলেন, "আমরা সবসময় যেমন থাকি, তেমনি জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষুধার্ত থাকব।" শুধু ভালো ফল নয়, পুরো টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। এমবাপের মতে, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নতুন ইতিহাস লেখা। তিনি বলেন, "আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছি। এখনও সেটা করতে পারিনি। আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে চাই।" বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে এবারও টুর্নামেন্ট শুরু করেছে France national football team। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন Argentina national football teamও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফলে দুই দলের সম্ভাব্য আরেকটি ফাইনাল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিকও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ৩-৩ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে Lionel Messi এবং এমবাপের পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করেছিল। সেই ম্যাচে তরুণ এমবাপের অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। চার বছর পর কাতারের ফাইনালে সেই পরাজয়ের জবাব দেয় আর্জেন্টিনা। দুই তারকার মধ্যে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা নিয়েও চলছে আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। মেসির বিশ্বকাপ গোল বর্তমানে ১৩টি। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা Miroslav Kloseর ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন আরও চারটি গোল। অন্যদিকে মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও পাঁচ গোল। টুর্নামেন্টের নকআউট সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স নিজ নিজ গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে উঠতে পারলে তারা ভিন্ন অংশে অবস্থান করবে। ফলে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলের দেখা হতে পারে শুধুমাত্র ফাইনালে। সেই কারণে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এখন থেকেই আরেকটি আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। আর যদি সত্যিই সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ২০২২ সালের ঐতিহাসিক ফাইনালের নতুন অধ্যায় দেখার সুযোগ পাবে বিশ্ব ফুটবল।
২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এমন সময় বড় ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের অন্যতম ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তার পরিবর্তে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচ Lionel Scaloni আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে ডান পায়ের পেশির চোট থেকে সময়মতো সেরে উঠতে পারবেন না বালের্দি। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনার টিম ম্যানেজমেন্ট। এরপরই বিকল্প হিসেবে সুযোগ পান ২৮ বছর বয়সী মার্কোস সেনেসি। সম্প্রতি ক্লাব পর্যায়ে নতুন অধ্যায় শুরু করা এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের আগে বড় সুখবর পেলেন। টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পরদিনই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন তিনি। সেনেসির জন্য এটি বিশেষ এক অর্জন। কারণ এর আগে তিনি কখনো বিশ্বকাপের মূল দলে সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিন ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবারই প্রথম। ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সেনেসির ওপর বাড়তি নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। ডিফেন্সে তার অভিজ্ঞতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেনেসির সামনে ইতালির জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগও ছিল। ইতালীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় তিনি সেই সুযোগ পেতে পারতেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তের পুরস্কার হিসেবেই এখন বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেন এই ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা দল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে। সেনেসিও সেখানে যোগ দিতে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে নামছে আর্জেন্টিনা। ফলে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে স্কোয়াডে এই পরিবর্তন দলটির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, সেনেসির অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বালের্দির অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। এবার মার্কোস সেনেসিও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসরকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক অপ্রত্যাশিত ও আলোচিত ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মহাযাত্রার ধারাবাহিকতায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ইতিহাসের নানা স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়। পেলে, গারিঞ্চা, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের ফুটবল-ঐতিহ্যের ধারায় ২০১৪ বিশ্বকাপ যোগ করে নতুন এক অধ্যায়। এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল স্বাগতিক ব্রাজিলের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার। এর মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু ফাইনাল থেকেই ছিটকে যায়নি, নিজেদের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদও গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা জয় করে। এই টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় মাইলফলক স্থাপিত হয়, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে দেন। আর্জেন্টিনার ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দলকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। এই ফলাফলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। প্রথমটি ছিল ভ্যানিশিং স্প্রে, যার মাধ্যমে ফ্রি কিকের সময় রক্ষণভাগের দেয়ালের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। দ্বিতীয়টি ছিল গোললাইন প্রযুক্তি, যেটি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করত বল সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না। বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে ব্রাজিল বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় পর্যন্ত ৩৫টি প্রকল্প অসমাপ্ত ছিল। কিছু কাজ বিলম্বিত হয়, কিছু কাজ বন্ধ থাকে এবং কিছু শুরুই হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায়। প্রস্তুতিপর্বে দুর্ঘটনাও ঘটে। বেলো হরিজন্তেতে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ফিফার তৎকালীন মহাসচিব জেরোম ভালকে ব্রাজিলের কাজের গতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে তিনি ফিফা থেকে বহিষ্কৃত হন। বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এ ব্যয়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলজুড়ে দুর্নীতি ও জনসেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভও হয়। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার দুই দেশের হয়ে মুখোমুখি হওয়া দুই ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং এবং জেরোম বোয়াটেং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হন। ঘানা ও জার্মানির এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়। ২১ জুন কাস্তেলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই ভাই প্রথমার্ধ পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। বিরতিতে জেরোম বোয়াটেংকে বদলি করা হয়। ম্যাচ শেষে জার্মানি গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে, অন্যদিকে ঘানা গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয়। ইতালি ও উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের শেষ দিকে জর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে। রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় খেলা চালু থাকে এবং কিছুক্ষণ পর ডিয়েগো গডিনের গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়, ইতালি বাদ পড়ে। পরে ভিডিও বিশ্লেষণে ফিফা সুয়ারেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো কামড় সংক্রান্ত শাস্তি। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য তৈরি হয়। সুইডেনের একটি দোকানে তার দাঁতের আদলে বোতল ওপেনার এবং একটি সেক্স টয় শপে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য বাজারে আনার ঘটনাও আলোচিত হয়। বেটিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বাজি ধরার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৬৭ জন ব্যক্তি অংশ নেয় এবং বিজয়ীরা ১৭৫ গুণ লাভ পান। ২০১৪ বিশ্বকাপে বিরল এক ঘটনা ঘটে ব্রাজিল ও চিলির ম্যাচে। সাধারণত খেলোয়াড় বা কোচ লাল কার্ড পেলেও এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্রাজিলের ফ্রেড ও চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন পাইভা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক চিলিয়ান খেলোয়াড়কে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে এবং জরিমানা আরোপ করে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনালের টিকিট কিনেও ম্যাচে যেতে পারেননি জোয়েদির বেলমন্তে, কারণ তিনি অসুস্থ মায়ের পাশে ছিলেন। সেই টিকিট তিনি ৬৪ বছর ধরে সংরক্ষণ করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি সেই ঐতিহাসিক টিকিট ফিফাকে দান করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে দুটি ফাইনাল টিকিট পান। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেই দুইটি টিকিট হারিয়ে ফেলেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রত্যাশামতোই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে জায়গা দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালেও তিনি থাকছেন দলের মূল কাণ্ডারি হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে উত্তর আমেরিকার পরিবেশ মেসির জন্য বেশ পরিচিত। নিজের চেনা আঙিনায় শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে মেসি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার পর কিছু চমক বা হতাশা থাকেই। স্কালোনির এই ২৬ জনের স্কোয়াডও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন চেনা মুখের বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও অভিজ্ঞদের ভিড়ে আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডারকে এবার স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতে এবং দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই আকুনিয়াকে বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোচকে। স্কালোনির এই স্কোয়াডে কাতার বিশ্বকাপের মূল কাঠামোটি সযত্নে ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গোলবার সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে যথারীতি এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক যে বড় মঞ্চের খেলোয়াড়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে গড়া হয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়াল। অন্যদিকে, স্কালোনির দর্শনের একটি বড় দিক হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে দলকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিশীল নন, বরং তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছেন। এই প্লেমেকারদের সাথে রিয়াল বেটিসের জিওভানি লো সেলসো এবং বায়ার লেভারকুজেনের এক্সেকিয়েল পালাসিওসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে। আক্রমণভাগে মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। এই পরীক্ষিত ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজের মতো তরুণ রক্ত দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সবকিছুই তিনি জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ফুটবলের ইতিহাসে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই বিরল রেকর্ডের ভাগিদার হতে হলে স্কালোনিকে তার ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আবারও দেখাতে হবে। স্কালোনি বরাবরই দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এই ২৬ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রেও তিনি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্যের কোনো বিকল্প নেই। স্কালোনির বাছাই করা এই স্কোয়াড সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে কাগজ-কলমে আর্জেন্টিনা যে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একনজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা) হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই) হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই) নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ) গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট) লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার) নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা) ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই) নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স) রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি) ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ) জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস) এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন) অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল) এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি) ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি) হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো পাজ (কোমো) হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস) লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)
ভারতের কেরালায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সফর বাতিলকে ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যটির ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুরাহিমান। তার দাবি, প্রায় ২৫০ কোটি রুপি সংগ্রহ করার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেরালায় আসেনি আর্জেন্টিনা দল, যা ‘প্রতারণার শামিল’। বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ভি আব্দুরাহিমান বলেন, আর্জেন্টিনা দলকে কেরালায় এনে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। বিশেষ করে Lionel Messi-কে ঘিরে ছিল ব্যাপক পরিকল্পনা ও আগ্রহ। এ জন্য স্পন্সরের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে তার অভিযোগ, অর্থ সংগ্রহের পরও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দলটি কেরালায় আসেনি। “এভাবে তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এমন আচরণ আশা করিনি,” বলেন তিনি। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, শুধু কেরালাই নয়—আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে আর্জেন্টিনা দল। অর্থ নেওয়ার পরও সেখানে গিয়ে ম্যাচ খেলেনি তারা। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে আমাদের মামলা করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে।” কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের হতাশার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা দলের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো সমর্থক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল হওয়ায় ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে চলতি বছরের মার্চে আর্জেন্টিনা দল কেরালা সফরে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও সম্প্রতি Lionel Messi ভারত সফর করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও মুম্বাইসহ বিভিন্ন স্থানে অংশ নিয়েছেন।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের মাত্র ৭৬ দিন বাকি, কিন্তু আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি এখনো নিশ্চিত করেননি তিনি খেলবেন কি না। ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শেষ বিশ্বকাপ খেলার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তবে নাটকীয় জয়ের পরও আকাশী নীল জার্সিতে মাঠে সমহিমায় তিনি এখনো উজ্জ্বল। মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দুটি প্রীতি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলিতে তাকে হয়তো বেঞ্চে রাখা হতে পারে, যদিও কোচ লিওনেল স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন, মেসি দুটি ম্যাচেই জাতীয় দলে থাকবেন। স্কালোনি বলেন, “মেসির বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার নিজের ব্যাপার। মানসিক ও শারীরিক অবস্থার ওপর এটি নির্ভর করছে। আমরা চাই সে খেলুক, কিন্তু তাড়া নেই। সে নিজের ও দলের ভালোর জন্য সিদ্ধান্ত নেবে।” আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে তাদের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। স্কালোনি আশাবাদী, মেসি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকলে তিনি দলের শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।