আন্তর্জাতিক

লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১০:২৫
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্র্যাজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্র্যাজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেও কাজ পাননি এক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের বাস্তব চাকরির বাজারের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না।

 

ধ্রুভ নাথালাল নামের ওই তরুণ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে কলেজের দুটি কোর্স সম্পন্ন করার পর গত ১২ মাস ধরে তিনি খুচরা বিক্রয় (রিটেইল), আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির জন্য ধারাবাহিকভাবে আবেদন করে আসছেন। তবে শত শত আবেদন পাঠিয়েও একটি চাকরির প্রস্তাব পাননি।

 

ধ্রুভ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল না যে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। তার দাবি, তিনি এমন অনেক তরুণকে দেখেছেন, যারা ভালো ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না।

 

তার মতে, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই অনেক তরুণ বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধানের মুখোমুখি হচ্ছেন।

 

যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এর সর্বশেষ তথ্যও দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা এবং তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

 

ধ্রুভর অভিজ্ঞতা এখন যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। শত শত আবেদন করেও চাকরি না পাওয়ার ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মলের ছত্রাকের টাইমল্যাপস ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আলফ্রেড। ছবি: সংগৃহীত
মলের ছত্রাকের ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় স্কটল্যান্ডের তরুণ গবেষক

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী ২৭ বছর বয়সী প্রশিক্ষণরত আইনজীবী আলফ্রেড ড্রামন্ড-হার্ডম্যান পশুর মলে জন্মানো ছত্রাকের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর তোলা ছবি একত্র করে তৈরি করা তার টাইমল্যাপস ভিডিও লাখো মানুষের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে গবেষণার মাধ্যমে তিনি নতুন দুটি ছত্রাকের প্রজাতিও শনাক্ত করেছেন।   আলফ্রেডের শোবার ঘরেই গড়ে উঠেছে ছোট একটি গবেষণাগার। সেখানে গরু, খরগোশ ও গ্রাউস পাখির মল সংরক্ষণ করে বিশেষ পাত্রে ছত্রাকের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এসব নমুনা থেকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের বিকাশের পুরো প্রক্রিয়া ক্যামেরাবন্দি করেন।   করোনা মহামারির সময় স্কটল্যান্ডের ওচিল হিলসে হাঁটতে গিয়ে গরুর মলে জন্মানো নানা ধরনের ছত্রাক দেখে এ বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নিজ উদ্যোগে ছত্রাক নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি অন্যান্য গবেষক ও আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করে ব্রিটেনে পাওয়া বিভিন্ন ছত্রাক শনাক্ত ও নথিভুক্ত করছেন।   তার ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। পশুর মলে জন্মানো ছত্রাক ছাড়াও স্লাইম মোল্ড ও অন্যান্য বিরল জীবের টাইমল্যাপস ভিডিওও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া একটি গরুর গোবরেও অসাধারণ বৈচিত্র্যময় জীবজগত লুকিয়ে থাকে, যা খুব কম মানুষই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।   আলফ্রেড জানান, তৃণভোজী প্রাণীর মল মূলত অপরিপাকিত উদ্ভিদজাত উপাদানে তৈরি হওয়ায় এগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ হয় না। তিনি মনে করেন, তার ভিডিওগুলো মানুষের মধ্যে ছত্রাক ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   তার লক্ষ্য শুধু নতুন প্রজাতির নামকরণ নয়, বরং জীববৈচিত্র্য গবেষণায় ট্যাক্সোনমির গুরুত্ব মানুষের সামনে তুলে ধরা। তার মতে, প্রজাতি শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা ছাড়া আবাসস্থল সংরক্ষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নিয়ে কার্যকর গবেষণা সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১১:৪৪
মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটায় প্রবেশের পর রাস্তায় ও পার্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ

ভুলবশত বসবাসের অনুমতি দেওয়ায় ইইউ নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। ছবি: সংগৃহীত

ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, হাজারো নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!

লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্র্যাজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!

গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে তিন সন্তানকে হারানোর পর এবারের হামলায় সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও হারালেন ফিলিস্তিনি মা

গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। তার মৃত্যু শুধু আরেকটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি এমন এক মায়ের জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো সব আশা ভেঙে পড়ার গল্প, যিনি এর আগে একই যুদ্ধে নিজের তিন ছেলেকেও হারিয়েছিলেন।   ৩৮ বছর বয়সী ফাতিমা নোফাল জানান, ২০ জুলাই গভীর রাতে প্রচণ্ড গরমে জানালার পাশে ঘুমিয়ে ছিল তার ছেলে জায়েদ। রাত প্রায় ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। হামলায় ফাতিমা নিজেও আহত হন। তার দুই মেয়ের একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং আরেকজনও আহত হয়।   ফাতিমার জীবনে এটি প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর আল-জাওয়াইদা এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর আরেকটি বিমান হামলায় তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে আমিন, ১১ বছর বয়সী হামজা এবং মাত্র ২২ দিনের নবজাতক আহমেদ নিহত হয়। সেই হামলায় স্বামীর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।   তিন সন্তান হারানোর প্রায় ১০ মাস পর ফাতিমা জানতে পারেন, তিনি আবার সন্তানসম্ভবা। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেয় জায়েদ। পরিবারটির কাছে সে ছিল নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, যুদ্ধের অন্ধকারে একটুকরো আলো। পরিবারের সদস্যরা তার নাম নিহত ভাইদের নামে রাখতে চাইলেও ফাতিমা নতুন নামই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ছেলেটির নিজের মতো একটি জীবন হোক। কিন্তু সেই স্বপ্নও মাত্র ১৫ মাসেই শেষ হয়ে যায়।   ফাতিমা বলেন, জায়েদ তার পুরো জীবন ঘরের ভেতরেই কাটিয়েছে। যুদ্ধের কারণে তাকে কখনো পার্কে বা খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তার সমবয়সী অনেক আত্মীয়ও আগের হামলায় নিহত হয়েছে।   জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শত শত শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার এ পরিস্থিতিকে “যুদ্ধবিরতির এক নির্মম ও প্রাণঘাতী বিভ্রম” বলে মন্তব্য করেছেন। ইউনিসেফের মতে, গাজায় শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার সংকট এখনো তীব্র।   এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, হামাসের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়।   ফাতিমা নোফালের কাছে অবশ্য কোনো তদন্ত, পরিসংখ্যান বা প্রতিবেদন তার চার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আহত মেয়ের পাশে হাসপাতালে বসে এখন তিনি শুধু ভাবছেন, ছোট মেয়েটিকে কীভাবে জানাবেন—যার জন্য সে অপেক্ষা করছে, সেই ছোট ভাই জায়েদ আর কখনো ফিরে আসবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৯:৩৩
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে সিআইএ ও মোসাদের যৌথ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিআইএ ও মোসাদ

রানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

'দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণই', ইরানিদের বীর আখ্যা পেজেশকিয়ানের

দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের
মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের

বেইজিংয়ের পারমাণবিক কৌশলে যুক্ত হলো নতুন ও ভয়ংকর এক মাত্রা। নিজেদের উপকূলীয় জলসীমা থেকেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘জেএল-৩’ (JL-3)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। শনিবার (১ আগস্ট) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই যুগান্তকারী পরীক্ষা চালায়। ৬ জুলাইয়ের ওই উৎক্ষেপণে একটি ডামি (নকল) ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা প্রায় আট হাজার কিলোমিটার (পাঁচ হাজার মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে নির্দিষ্ট স্থানে পতিত হয়। ১৯৮২ সালের পর এটিই চীনের প্রথম নিশ্চিত সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে পরিচালিত প্রথম প্রকাশ্যে আসা উৎক্ষেপণ। যদিও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরনটি সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-র মালিকানাধীন ‘গ্লোবাল টাইমস’ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পরীক্ষিত এই আধুনিক সমরাস্ত্রটি মূলত জেএল-৩।   ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া চীনের ‘জুলাং’ (গ্রেট ওয়েভ) কর্মসূচির সর্বশেষ ও সবচেয়ে বিধ্বংসী সংযোজন হলো এই জেএল-৩। এর আগে ১৯৮৬ সালের দিকে প্রথম প্রজন্মের জেএল-১ (যার পাল্লা ছিল মাত্র ১,৭৭০ কিলোমিটার) এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের জেএল-২ (৭,২০০ কিলোমিটার পাল্লা) পরিষেবায় যুক্ত হয়। তবে জেএল-২ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে হলে চীনা সাবমেরিনগুলোকে প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ অতিক্রম করতে হতো, যা চীনের জন্য বড় ধরনের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিবন্ধক। এই সীমাবদ্ধতা চিরতরে দূর করতেই জেএল-৩ তৈরি করা হয়েছে। এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর ঝুঁকি নিয়ে উন্মুক্ত জলসীমায় না গিয়ে নিজেদের নিরাপদ উপকূল থেকেই মার্কিন ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব হবে।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তৈরি হওয়া এই জেএল-৩ মূলত একটি তিন ধাপবিশিষ্ট কঠিন জ্বালানিচালিত (সলিড-ফুয়েল) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। কঠিন জ্বালানি হওয়ায় এটি তরল জ্বালানির তুলনায় বেশি নিরাপদ, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং সাবমেরিন থেকে যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো ‘মার্ভ’ (MIRV) প্রযুক্তির ব্যবহার। এর ফলে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক স্বাধীন লক্ষ্যভেদী পারমাণবিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা যায়। ধারণা করা হয়, এর প্রতিটি ওয়ারহেডের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ২৫০ থেকে ১,০০০ কিলোটন, যা দিয়ে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব।   ২০১৮ সালের নভেম্বরে বোহাই সাগরে জেএল-৩-এর কোল্ড-লঞ্চ ইজেকশন সিস্টেম পরীক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এরপর টাইপ-০৩২ ডিজেল-ইলেকট্রিক এবং টাইপ-০৯৪ পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে আরও কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়। বর্তমানে চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্রধান ভরসা হলো টাইপ-০৯৪ (জিন-শ্রেণি) সাবমেরিন। প্রচলিত সাবমেরিনের চেয়ে এগুলোর গোপন চলাচলের সক্ষমতা এবং সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষমতা অনেক বেশি। বর্তমানে চীনের অন্তত ছয়টি এমন পারমাণবিক সাবমেরিন সক্রিয় রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১২টি করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সফল পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিকতায় জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০২২ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের নৌবহরে যুক্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন উদ্বেগের কারণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৩:৩২
অস্ট্রেলিয়ার কিয়ামা পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর পর ফেরত এলো বই। ছবি: সংগৃহীত

১৫০ বছর পর ফেরত দেওয়া হলো লাইব্রেরির বই, জরিমানা ২৮ হাজার ডলার

পাকিস্তানের ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসে বিশ্বখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা নিহত। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে তুষারধসে নিহত বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন

মহারাষ্ট্রে বন্যার পানির স্রোতে গাড়ি নদীতে ভেসে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

গাছে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী, স্রোতে ভেসে গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ে

0 Comments