লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!
যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেও কাজ পাননি এক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের বাস্তব চাকরির বাজারের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না।
ধ্রুভ নাথালাল নামের ওই তরুণ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে কলেজের দুটি কোর্স সম্পন্ন করার পর গত ১২ মাস ধরে তিনি খুচরা বিক্রয় (রিটেইল), আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির জন্য ধারাবাহিকভাবে আবেদন করে আসছেন। তবে শত শত আবেদন পাঠিয়েও একটি চাকরির প্রস্তাব পাননি।
ধ্রুভ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল না যে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। তার দাবি, তিনি এমন অনেক তরুণকে দেখেছেন, যারা ভালো ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না।
তার মতে, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই অনেক তরুণ বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধানের মুখোমুখি হচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এর সর্বশেষ তথ্যও দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা এবং তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
ধ্রুভর অভিজ্ঞতা এখন যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। শত শত আবেদন করেও চাকরি না পাওয়ার ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমাঝআকাশে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও যাত্রীদের রক্ষায় ভূমিকা রাখা ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাঁর সঙ্গে সম্মানিত হয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের অন্য পাইলট ও ক্রুরাও। গত ২৭ অক্টোবর তাঁদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব জায়েদ টু’ সম্মাননায় ভূষিত করেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী বিমানে হামলার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন দুবাইয়ের যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। তিনি সংকটের মুহূর্তে ক্রুদের দায়িত্ববোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ফ্লাইদুবাইয়ের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা গ্রহণ করে ক্রুরা আমিরাতের প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের সেবা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পেয়ে গর্বিত হওয়ার কথাও জানান তাঁরা। সম্মাননা অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তখনো তাঁর মাথায় হামলার ক্ষতচিহ্ন এবং বাঁ হাতে সহায়ক স্লিং দেখা যাচ্ছিল। ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ তাঁর মাথার আঘাতের অবস্থা দেখেন এবং সুস্থ হতে কত দিন লাগতে পারে, তা জানতে চান। জবাবে ক্যাপ্টেন জানান, আরও প্রায় দুই মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। হামলার প্রায় এক মাস পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর আঘাতের চিহ্নগুলো দৃশ্যমান ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও অনুষ্ঠানের ছবিতে তাঁর মাথার সেলাইয়ের দাগ দেখা যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই দিন আবুধাবিতে সংশ্লিষ্ট ক্রুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। সেখানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমও উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটি নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে ক্রুদের সাহস ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করেন দুই নেতা। মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা আমিরাতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। সাক্ষাতে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পথে সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন। মাথায় আঘাত ও গুরুতর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে প্রবেশ করে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পান। কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে আটকে দেন। এরপর বিমানে থাকা অতিরিক্ত দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণের ব্যবস্থা করেন। বিমানটি অবতরণ করানো ওই দুই পাইলট হলেন ফিজির হেনসন স্টিভেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ। তাঁদেরও একই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তাঁরা ওই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন। ককপিটে হামলার পর তাঁদেরই বিমান পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামান। সম্মাননা দেওয়ার পর দুই পাইলটের নিজ নিজ দেশের সংবাদমাধ্যমে তাঁদের পরিচয় প্রকাশিত হয়। এর আগে আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ফ্লাইদুবাইয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও তাবুকে নিরাপদ অবতরণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমান সংস্থাটি জানায়, যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় সেখানে দুটি বিকল্প বিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র নিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে যান। সংস্থার প্রধান নির্বাহী গাইথ আল গাইথ আহত ক্যাপ্টেন, বিমান অবতরণ করানো পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের ধন্যবাদ জানান। সংকটের সময় সহায়তা করা যাত্রীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও পেশাদার সাড়ার প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় ফ্লাইদুবাই। সম্মাননা দেওয়ার পর ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফ্লাইদুবাইয়ের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম আমিরাতের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যাত্রীদের সুরক্ষায় সহকর্মীদের সাহস ও পেশাদারত্ব তাঁদের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশের মানুষকে নিয়ে গড়ে ওঠা আমিরাতের সমাজে নিরাপত্তা ও অগ্রগতির প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সহকর্মীদের কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাঁদের প্রতি দেওয়া যত্ন ও সহায়তার জন্য বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান। সূত্র: এমিরেটস নিউজ এজেন্সি, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দপ্তর, ফ্লাইদুবাই, গালফ নিউজ, ওয়াইনেট ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ফেল, নিজ চেষ্টায় হলেন ১৩০ কোটি রুপির কোম্পানির মালিক
দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদিবিরোধী জনস্রোত, ভোট চুরির প্রতিবাদে লাখো মানুষের সমাবেশ
ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমেরিকানদের ৫ লাখ ডলারের বেশি ক্রিপ্টো চুরি, অভিযুক্ত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে বড় ধরনের আইনি জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদারপন্থি আপিল আদালত সম্প্রতি নিম্ন আদালতের দেওয়া ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ স্থগিত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই লটারি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আদালতের এই রায়ের ফলে তা আপাতত বহাল থাকছে। প্রতি বছর নিম্ন-অভিবাসনের দেশগুলো থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকেন। গত নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও 'কিছু পরিবর্তন বাস্তবায়নের' কথা বলে ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছিলেন। এর এক মাস পরই ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার জেরে লটারি ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০১৭ সালে ডিভি লটারি বিজয়ী ক্লাউদিও ম্যানুয়েল নেভেস ভ্যালেন্তে নামের এক পর্তুগিজ নাগরিক ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও নয়জনকে আহত করে। এছাড়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপক খুনের সঙ্গেও ওই হামলাকারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে 'রেড ইগল' নামের একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্ম মামলা দায়ের করলে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জিনসুক ওহতা লটারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নাইনথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর তিন বিচারপতির প্যানেল ৩-০ ভোটের সর্বসম্মতিক্রমে সেই নির্দেশ বাতিল করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো আইনগত অধিকার বা 'স্ট্যান্ডিং' ওই ল ফার্মের নেই। কারণ ডিভি লটারি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য অভিবাসনকে উৎসাহিত করা, কোনো ল ফার্মের আয়ের উৎস তৈরি করা নয়। আদালত সতর্ক করে বলেন, এমন কাল্পনিক ক্ষতির ভিত্তিতে মামলা করার অনুমতি দিলে আইনজীবীরা সরকারের ভুল খুঁজতে দেশজুড়ে অহেতুক মামলার বন্যা বইয়ে দেবেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই রায় কেবল বিচারিক প্রক্রিয়ার (প্রসিডিউরাল) ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে; পররাষ্ট্র দপ্তর আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা এখানে বিবেচনা করা হয়নি। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই ভিসা লটারি প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধী। তিনি বরাবরই মেধার ভিত্তিতে ভিসা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে আসছেন, এই লটারির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের 'সবচেয়ে খারাপ' মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি দেওয়া উদারপন্থি আমেরিকানদের অনেকেরই এখন দেশে ফেরার ইচ্ছা
১০ বছর আগে আম্বানির অর্ধেক সম্পদ, এখন ১১ গুণ এগিয়ে ইলন মাস্ক!
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই বিয়ে করলেন সাংবাদিক নিধি রাজদান
যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী এবং রাজকীয় বিমানবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে ব্রিটিশ বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে 'শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী নীতি ও কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণের যে নীতি যুক্তরাজ্য অনুসরণ করছে, তার কড়া জবাব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে নানা শত্রুতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটি ও রসদ সরবরাহের সুযোগ দেওয়াকে এই ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই যুক্তরাজ্যের 'স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬'-এর আওতায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তু করার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তেহরান এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের বিধান এবং পারস্পরিক পদক্ষেপ গ্রহণের নীতির আলোকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা সংক্রান্ত আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান তাদের বিবৃতির শেষে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার ব্রিটিশ সরকারকেই বহন করতে হবে।
পর্তুগালে বাড়িভাড়া নিয়ে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, ১৩ জন গ্রেপ্তার
ইরানের শক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই, হুঁশিয়ারি তেহরানের