সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:২
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা

ইউক্রেনের মারিউপোল যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরেছিলেন ইউক্রেনীয় নৌসেনা ওলেক্সান্দর কিরিয়েঙ্কো। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পর তার আগের ও পরের দুটি ছবি সামনে আসে। ছবিতে বন্দিদশার সময় তার শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

 

কিরিয়েঙ্কো ইউক্রেনের ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের প্রধান সার্জেন্ট এবং স্নাইপার প্লাটুনের প্রধান সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পূর্ণমাত্রার রুশ আগ্রাসন শুরু হলে তিনি মারিউপোলের প্রতিরক্ষায় অংশ নেন। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ইলিচ কারখানা থেকে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় তিনি রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হন। 

 

এরপর প্রায় তিন বছর রাশিয়ার বন্দিদশায় কাটে তার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দিদশায় তাকে নির্যাতন ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের বন্দিত্ব, কঠিন পরিস্থিতি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবের কারণে তার ওজন প্রায় ৪০ কেজি কমে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। 

 

বন্দিদশার সময় তাকে রাশিয়ার মর্দোভিয়ার একটি কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিরিয়েঙ্কো পরে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো এবং তাদের খাবার ও চিকিৎসা নিয়েও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব বক্তব্য তার নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। 

 

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অবশেষে ইউক্রেনে ফেরেন কিরিয়েঙ্কো। দেশে ফেরার পর তিনি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানের দুটি ছবিতে তার আগের শক্তসমর্থ চেহারার সঙ্গে মুক্তির পরের শারীরিক অবস্থার বড় পার্থক্য দেখা যায়। 

 

কিরিয়েঙ্কোর বন্দিদশার অভিজ্ঞতা পরে আরও আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাপার আজেলিয়া ব্যাংকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিরিয়েঙ্কোর বন্দিত্বের আগে ও পরে তোলা ছবি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে কিরিয়েঙ্কো বলেন, নির্যাতন একটি অপরাধ এবং বন্দিত্বের এমন অভিজ্ঞতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। 

 

মারিউপোলের যুদ্ধ, দীর্ঘ বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশে ফেরার কিরিয়েঙ্কোর ঘটনা ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিদের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানের দুটি ছবি সেই দীর্ঘ সময়ের শারীরিক পরিবর্তনকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। দেশে ফিরলেও বন্দিদশার অভিজ্ঞতা থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে তার দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসাধারীদের দীর্ঘদিন অবস্থান এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় যাওয়ার সুযোগও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য হলো নেট বিদেশি অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।    বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারেন। শিক্ষার্থীর কোর্স ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের কাজের সুযোগও থাকতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এই সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।    সরকারের অভিবাসন পরিকল্পনায় শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবার নয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া এবং এক ধরনের অস্থায়ী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। করোনা মহামারির পর ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অভিবাসন দ্রুত বাড়ে। তবে এরপর থেকে নেট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।    অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির নেট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর আগের বছর ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী ছিল অস্থায়ী শিক্ষার্থী, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার।    সরকারের নতুন পরিকল্পনার পেছনে আবাসন, অবকাঠামো এবং শ্রমবাজারের ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কও রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিশ্চিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভিসা আবেদন ও পারিবারিক পরিকল্পনায় নতুন নিয়মগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে নতুন বিধিগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কোন কোন শিক্ষার্থী বা কোর্স এর আওতায় পড়বে, তা সরকারের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২:৩
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ,

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ, দুই দেশই কূটনীতিক তলব

ইয়েমেনেরহুতি বাহিনী
সৌদি আরবের অত্যাধুনিক এফ-১৫ ভূপাতিত করলো হুতি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।   হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।   তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়।   সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২২:৩২
কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত

কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত

প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায়  নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার

প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

বিশ্বের মানুষ চায় একে-অপরের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশে কর্মরত শিক্ষিকা হাজিয়া আমাজুদ কর্মস্থলে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় চাকরি হারিয়েছেন। আসেনেডে শহরের কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাস নামের বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। প্রদেশের স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক নিষিদ্ধ করার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।    আমাজুদ স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই হিজাব পরতেন। ২০২৪ সালে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্মীদের বিধিমালা পরিবর্তন করে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়। ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক বিষয় পড়ানো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরও আমাজুদ হিজাব পরেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন।    এ নিয়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের শৃঙ্খলামূলক কমিটির সামনে হাজির হন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।    আমাজুদের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় আগে থেকেই হিজাব পরতেন এবং তার কাজের দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পেয়েছিলেন। চাকরি হারানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এর ফলে শুধু চাকরিই নয়, তার আয়, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী নিয়োগও হারাতে হচ্ছে।    অন্যদিকে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের জন্য অনুমোদিত বিধিমালা কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কার্ট মোয়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে পরিচালনার নীতির সঙ্গে এই বিধিমালা সম্পর্কিত।    এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি আদালত আমাজুদের হিজাব পরার অধিকার নিয়ে করা কয়েকটি দাবি খারিজ করেছিল। আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।    আমাজুদের পক্ষে থাকা সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন ACOD চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রাসেলসের আপিল চেম্বারে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইউনিয়নটির মতে, এই মামলার রায় বেলজিয়ামের স্কুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।    ঘটনাটি বেলজিয়ামে শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি ও অভিন্ন কর্মবিধির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাজুদ ও তার ইউনিয়ন ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এখন আপিল প্রক্রিয়ায় এই দুই নীতির মধ্যে আইনি সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৪:৫৯
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল

ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

হার্ভার্ড, থেকে অক্সফোর্ড, ৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

0 Comments