তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইসরাইল। চলমান এই গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্যালিলি সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া জর্ডান উপত্যকায় এই তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পার্বত্য ও অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া চরম শুষ্ক ও উত্তপ্ত থাকবে। অন্যদিকে, উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হবে। এর ফলে দেশজুড়ে তাপজনিত অস্বস্তি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিকাল থেকে বিশেষ করে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে জোরালো বাতাস বইতে পারে। এর আগে শনিবারও দেশটিতে তাপমাত্রার তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এদিন জর্ডান উপত্যকার গিলগাল, ক্যাপারনাউম এবং বেইত শিয়ানে সর্বোচ্চ ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এমনকি জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ৩৬.১ ডিগ্রি এবং এর পাদদেশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল।
তুলনামূলকভাবে উপকূলীয় সমভূমিতে চরম তাপপ্রবাহ সরাসরি আঘাত না হানলেও সেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে এবং বাতাসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা বিরাজ করবে, যা মারাত্মক ভ্যাপসা গরম তৈরি করবে। তবে সোমবার থেকে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তপ্তই থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কিছুটা হ্রাস পাবে। সবশেষে বুধবার সকালের মেঘ কেটে যাওয়ার পর পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক বা মৌসুমী অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদের কাছে আ ত্ম ঘা তী গাড়ি বো মা হা মলায় অন্তত ১৬ জন নি হত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চালানো এই হা মলায় নি হতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আ হ ত হয়েছেন অন্তত ৫৭ জন। পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হা মলার পর ঘটনাস্থলে গু লি বি নি ময়ও হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বি স্ফো র ক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার পর বি স্ফো র ণ ঘটে। ওই সময় কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদে পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। বি স্ফো র ণের পর কয়েকজন স শ স্ত্র হা ম লা কারী কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গু লি বি নি ময় শুরু হয়। খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, এটি একটি আ ত্ম ঘা তী হা ম লা ছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরও এক আ ত্ম ঘা তী হা ম লা কারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বি স্ফো র ণ ঘটায়। হা মলায় জড়িত সাতজন হা ম লা কারী নি হত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে হা ম লার দায় স্বীকার করেনি। বি স্ফো র ণে মসজিদ ও আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ভবনের দেয়াল ও মসজিদের অংশবিশেষ ধসে পড়তে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আ হ তদের বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়। আ হ তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হা ম লার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যা কম ছিল, পরে কর্মকর্তারা তা ১৬ জনে উন্নীত করেন। ফলে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স শ স্ত্র হা ম লার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হা ম লা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে শুক্রবারের হা ম লার দায় কোনো গোষ্ঠী নিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হা ম লার এক দিন আগেই একই প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে রাস্তার পাশে বো মা হা মলায় ছয় সেনা নি হত হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী হাঙ্গু ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন জ ঙ্গিকে হ ত্যার করার কথা জানিয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোহাটের এই হা ম লা পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা স্থাপনার সঙ্গে থাকা মসজিদগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। ২০২৩ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারের একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদে আ ত্ম ঘা তী হা ম লায় শতাধিক মানুষ নি হত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্য। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার মধ্যে শুক্রবারের হা ম লাটি সর্বশেষ বড় প্রাণঘাতী ঘটনা। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে এবং হা ম লার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
পর কীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে ১০০ বেত্রা ঘাত, ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে নারী
অপহরণের ৬ দিন পর ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার, অভিযানে ৪ সন্দেহভাজন নি হ ত
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কে কানাডায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়ছে উদ্বেগ
দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার, স্কুল ও নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কেরালায় গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিরল স্নায়বিক রোগ ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার পর ৪৫ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল সে। ১৪ সেপ্টেম্বর হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আমেয়ার মৃত্যু হয়। আমেয়া দুবাইয়ের দ্য ইন্ডিয়ান হাই স্কুলের আল গারহুদ জুনিয়র ক্যাম্পাসের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবা অজিত কেপির ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ হওয়ার আগে মেয়েটির কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। বরং সে ছিল প্রাণবন্ত ও সুস্থ শিশু। ৬ জুলাই পরিবারের সঙ্গে নিজের সপ্তম জন্মদিনও উদযাপন করেছিল আমেয়া। ছুটিতে কেরালায় যাওয়ার পরও প্রথম কয়েক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবেই কেটেছিল তার। হঠাৎ ৩০ জুলাই আমেয়ার খিঁচুনি শুরু হয়। পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরে তার শরীরে ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোম বা এফআইআরইএস শনাক্ত করেন। এটি অত্যন্ত বিরল ও গুরুতর এক ধরনের স্নায়বিক রোগ, যা আগে সুস্থ থাকা শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে। রোগটি সাধারণত জ্বর বা সংক্রমণের পর হঠাৎ তীব্র ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন খিঁচুনি দিয়ে শুরু হতে পারে। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমেয়ার খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তার বাবা। তবে তখনও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। রোগের জটিলতার কারণে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয় এবং ঘুমের মতো গভীর অবস্থায় রাখা হয়। পরিবার আশা করছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু ৪৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এফআইআরইএস অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন চিকিৎসা-গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক একজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি এবং নির্দিষ্ট কোনো একক চিকিৎসাও নেই। সাধারণত খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতা সামলানোর ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বেঁচে যাওয়া শিশুদের একটি অংশের দীর্ঘমেয়াদি খিঁচুনি ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। আমেয়ার মা মীরা অজিতের জন্যও মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যু ছিল গভীর আঘাত। তিনি আগে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করলেও প্রায় এক বছর আগে চাকরি থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনা, নাচ ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহকে সময় দেওয়াই হয়ে উঠেছিল তার অন্যতম অগ্রাধিকার। আমেয়া নিয়মিত নাচের প্রশিক্ষণ নিত এবং ভবিষ্যতে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত। দুবাইয়ের শামনা কাসিম ড্যান্স স্টুডিওরও প্রিয় শিক্ষার্থী ছিল আমেয়া। মালয়ালম অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শামনা কাসিমের পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই ভরতনাট্যম শিখছিল সে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচে অংশ নিত আমেয়া এবং নাচের প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্টুডিওর ক্লাস বন্ধ রাখা হয় এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা শোক প্রকাশ করেন। আমেয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পরিবারও তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে। বন্ধু সেরাহর মা গ্রিশমা রবি জানান, দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়েছিল মাত্র আড়াই বছর বয়সে এবং এরপর তারা প্রায় সবসময় একসঙ্গে থাকত। স্কুল আলাদা হলেও একই নাচের প্রতিষ্ঠানে যেত তারা। আমেয়ার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল তার ছোট্ট বন্ধু, কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হলো না। আমেয়ার স্কুলের প্রধান নির্বাহী পুনিত এম কে বাসু তাকে প্রাণবন্ত, কোমল ও সবার প্রিয় শিশু হিসেবে স্মরণ করেছেন। স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে তার হাসি এবং ছোট ছোট অভ্যাসগুলো এখন স্মৃতির অংশ। ছুটিতে কেরালায় গিয়ে একটি আকস্মিক ও অত্যন্ত বিরল রোগের সঙ্গে ৪৫ দিনের লড়াইয়ের পর আমেয়ার মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও নৃত্যজগতের পরিচিতদের গভীর শোকে ডুবিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা
বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়
ইতালির ভেনিসে মর্মান্তিক এক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী। গত শনিবার একটি ওয়াটার ট্যাক্সির সঙ্গে পেশায় জেলে শন মিশিলির (২৫) নৌকার সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর মঙ্গলবার ভেনিসের লেগুন থেকে তার নিখোঁজ স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা কোয়েরিনোর (২৬) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তার খোঁজ মেলে। জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তরুণ দম্পতি। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছে না গ্যাব্রিয়েলার পরিবার। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার মধ্যে অনেক নীরবতা ও অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমানো গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের রাতে তার স্বামীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, গ্যাব্রিয়েলা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যাগও গুছিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্রাজিলে বসবাসরত তার মা জিসেল এলোরিয়াগাকে টেক্সট মেসেজ করে জানান যে, তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে এবং তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে যাচ্ছেন। মেসেজে তিনি মাকে এও বলেন, "কাল তোমাকে সব খুলে বলব।" পরিবারের সন্দেহ মূলত এই মেসেজটি ঘিরেই। তারা জানান, গ্যাব্রিয়েলা মেসেজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না; বরং পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি সবসময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এদিকে মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই ইতালিতে ছুটে যান তার মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় তিনি তার দুই সন্তানকেই (মেয়ে ও অনাগত সন্তান) হারিয়েছেন। অন্যদিকে, শনের বোন চ্যান্টালও অনলাইনে এক আবেগঘন বার্তায় ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে 'নটিক্যাল হোমিসাইড' বা নৌ-হত্যাকাণ্ড মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার সময় ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে থাকা দুই মার্কিন পর্যটককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে শনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে