সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

অপহরণের ৬ দিন পর ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার, অভিযানে ৪ সন্দেহভাজন নি হ ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৭:৬
অপহরণের পর উদ্ধার ব্রিটিশ নারী নুসরাত ওসমান
অপহরণের পর উদ্ধার ব্রিটিশ নারী নুসরাত ওসমান

মালাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নারীকে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গু লি বি নি ময়ে চারজন নি হ ত হয়েছেন। এ সময় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গু লি বি দ্ধ হয়েছেন।

 

পুলিশ জানায়, ৪৭ বছর বয়সী নুসরাত ওসমানকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্লানটায়ারের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গু লি বি নি ময় হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল ও একটি পি স্তল ছিল।

 

মালাবি পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, গু লি বি দ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আঘাতের কারণে তারা মা রা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

 

অভিযানে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নোয়েল কায়িরা গু লি বি দ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল।

 

উদ্ধারের পর নুসরাতকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়। পরে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

নুসরাতের ছোট ভাই শোবি জিওয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া বক্তব্যে মালাবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযানে গু লি বি দ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নোয়েল কায়িরাকে পরিবারের ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

নুসরাত যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে তিনি মালাবিতে বসবাস করছেন এবং একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে।

 

গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্লানটায়ারের মাউন্ট প্লিজ্যান্ট এলাকায় নুসরাতকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গাড়ির পথ রোধ করে তাকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

 

ঘটনার পর তাকে খুঁজে বের করতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। নুসরাতকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রে প্তার ও দো ষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্যের জন্য ৩ কোটি মালাবিয়ান কোয়াচা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনাটি তদন্তকারীদের কাছেও রহস্য তৈরি করেছিল। কারণ নুসরাত নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো মুক্তিপণের দাবি বা অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও নিরাপদে ফিরে আসার আশায় আবেগঘন আবেদন জানিয়েছিল।

 

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছিল, মালাবিতে এক ব্রিটিশ নাগরিক অপহরণের খবর তারা জানে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

 

নুসরাতকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে মালাবি পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পর কীয়ার অভিযোগে ১০০ বেত্রা ঘাতের শাস্তি
পর কীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে ১০০ বেত্রা ঘাত, ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে নারী

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহতে পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক নারী ও এক পুরুষকে প্রকাশ্যে ১০০টি করে বেত্রা ঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাদের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।   বেত্রা ঘাতের সময় ওই নারী ব্যথায় কাতর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কর্মকর্তারা তাকে ধরে দাঁড় করান।   পুরুষটির ক্ষেত্রেও ৬০টি বেত্রা ঘাত দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু সময়ের জন্য শাস্তি স্থগিত রাখা হয়। পরে তাকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত দেওয়া হয়। এভাবে তার মোট ১০০টি বেত্রা ঘাতের সাজা সম্পন্ন করা হয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুগলকে গত মাসে বান্দা আচেহ শরি য়া আদালত পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০০টি করে বেত্রা ঘাতের সাজা দেন।   আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরি য়া আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্কসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে বেত্রা ঘাতের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।   প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকরের সময় ওই নারীকে তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখা যায়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ছবিতে একপর্যায়ে তাকে হাত তুলে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। পরে তিনি হাঁটু গেড়ে পড়ে গেলে কর্মকর্তারা তাকে ধরে উঠিয়ে নেন। তার সঙ্গে থাকা পুরুষটিকেও বেত্রা ঘাতের সময় ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে দেখা যায়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম AJNN-এর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, পুরুষটির ৬০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগ তৈরি হয়। আচেহ জেলা অ্যাটর্নি অফিসের সাধারণ অপরাধ বিভাগের প্রধান দারমা মুস্তিকা বলেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে অথবা তিনি বেত্রা ঘাত সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তাকে কিছু সময় বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে শাস্তি আবার শুরু করে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন করা হয়।   ওই দিন মোট ১০ জনকে প্রকাশ্যে বেত্রা ঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়। বাকি আটজনকে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য নন—এমন নারী ও পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগে ১৬ থেকে ২১টি পর্যন্ত বেত্রা ঘাত করা হয়। আচেহর শরি য়া আইনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নন এমন নারী ও পুরুষের নির্দিষ্ট ধরনের মেলামেশার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।   আচেহতে বেত্রা ঘাত সাধারণত জনসম্মুখে করা হয়। মসজিদের আশপাশ, পার্ক বা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এই শাস্তি কার্যকর হতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও সেখানে মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে দেখা যায়।   আচেহতে জুয়া, মদ্যপান, বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্ক এবং শরি য়া আইনে নিষিদ্ধ বিভিন্ন আচরণের জন্য বেত্রা ঘাতের বিধান রয়েছে। প্রদেশটি ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা পাওয়ার পর শরি য়া আইন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। এরপর থেকে ধর্মীয় আইনভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় আদালত ও কর্তৃপক্ষ এই বিধান প্রয়োগ করে আসছে।   তবে এই ধরনের প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন এই শাস্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর বলে সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমানের বিষয়টিও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় কর্মকর্তারা এই শাস্তিকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন এবং অপরাধ ঠেকাতে এর প্রতিরোধমূলক ভূমিকার কথা বলে থাকেন। ফলে আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত এখনো স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বিতর্কিত অংশ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি সেই ব্যবস্থারই সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:৩৪
অপহরণের পর উদ্ধার ব্রিটিশ নারী নুসরাত ওসমান

অপহরণের ৬ দিন পর ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার, অভিযানে ৪ সন্দেহভাজন নি হ ত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের জেরে কানাডায় প্রায় ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কে কানাডায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়ছে উদ্বেগ

দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর শোকের ছায়া। ছবি: সংগৃহীত

ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে গিয়ে বিরল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত, দুবাইয়ের ৭ বছরের আমেয়ার মৃত্যু

গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি
গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি

গত ৪৭ বছরে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে ১২ ট্রিলিয়ন টনেরও বেশি বরফ গলে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বরফ গলার কারণে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১.২ ইঞ্চির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   'সায়েন্টিফিক ডেটা' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গত প্রায় অর্ধশতাব্দীতে এই দুটি বরফের আস্তরণ থেকে হারিয়ে যাওয়া বরফের পরিমাণ প্রায় ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন (বা ১১.৩ ট্রিলিয়ন মেট্রিক টন)। বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এই মাত্রায় গ্রিনল্যান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি, যার কারণে পানির স্তর বেড়েছে প্রায় ০.৭ ইঞ্চি। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্যই দায়ী এই দুই মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।   যুক্তরাজ্যের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া এই বরফের ৮৪ শতাংশই ভূপৃষ্ঠে গলে যাওয়ার পরিবর্তে দ্রুতগতিতে সমুদ্রে মিশে যাওয়া হিমবাহ থেকে এসেছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ড. ইনেস ওতোসাকা জানান, মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবেই হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে।   নাসা (NASA) এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) সহায়তায় 'আইএমবিআইই' (IMBIE) টিমের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। তারা ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের পুরোনো আর্কাইভ থেকে শুরু করে ২৭টি স্যাটেলাইট মিশনের ৪২টি স্বাধীন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত অর্ধশতাব্দীর এই চিত্র তুলে এনেছেন।   বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে বরফ গলার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ১৯৮০-এর দশকে যেখানে গ্রিনল্যান্ডে বছরে ৬৬ বিলিয়ন টন বরফ গলত, ২০১০-এর দশকে তা বেড়ে ২৯১ বিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে অ্যান্টার্কটিকায় এই হার ৫৩ বিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২২২ বিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে।   যদিও ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় রেকর্ড তুষারপাত এবং গ্রিনল্যান্ডে তুলনামূলক মৃদু গ্রীষ্মের কারণে বরফ গলার হার সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছিল, তবে বিজ্ঞানীরা একে দীর্ঘমেয়াদী কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন না।   ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও এই গবেষণার সহ-লেখক এরিক রিগনট সতর্ক করে বলেছেন, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যা আগামী দিনগুলোতে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের বন্যা ও ভাঙনের মতো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:৪৪
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল আখতার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা এমন এক জটিল প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের কল্যাণ ও বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের মতো অনলাইন জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা সীমা তৈরি করতে চায় ইইউ।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম, ব্যবহারের সময় এবং বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।   নতুন নিয়ম শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন গেম, শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে অনলাইনে রাখে এমন বিভিন্ন সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।   প্রস্তাবে সীমাহীনভাবে একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখানোর ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা পরামর্শমূলক বিষয়বস্তু, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থাও শুরু থেকেই বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।   পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরির পাশাপাশি সহজে অন্য ব্যবহারকারীকে বন্ধ বা নীরব করার সুবিধা দিতে হবে। অভিভাবকদের জন্যও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে পারেন।   নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যাতে বয়স যাচাই করা গেলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের ঝুঁকি কম থাকে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তদারকির খরচ মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আলাদা ফিও নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকার এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবের বিভিন্ন ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে।   এদিকে প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুগল ও মেটার প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ প্রযুক্তি লবিং সংগঠন সিসিআইএ ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রস্তাবের কিছু বিষয় ইইউর বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ইইউর জন্য নতুন হলেও বিশ্বের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, চীন, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদা বিধিনিষেধ চালু বা প্রস্তাব করা হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:৮
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

0 Comments