সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে মানবতার শেষ প্রহরী ওলেক্সি ইউকভ আর নেই

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৫:৫১
ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন।
ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে জীবনের দুই দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছিলেন ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। ৪০ বছর বয়সে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ইউক্রেনজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

 

ইউকভ ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দল ‘প্লাত্সদার্ম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। তার নেতৃত্বে দলটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করত। ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও উদ্ধার করেছে তার দল।

 

৫ আগস্ট দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে ইউকভ নিহত হন। উদ্ধারকাজের সময় মাইন বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান বলে তার সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

 

ইউকভের এই কাজ শুরু হয়েছিল যুদ্ধের বর্তমান অধ্যায় শুরুর বহু আগে। কৈশোরে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সেনাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করার কাজে যুক্ত হন। পরে পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাত শুরু হলে তিনি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের উদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

 

২০১৪ সালে দোনবাস অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর তার অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর তার দল সম্মুখসারির আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে থাকে। মাইন, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা নিখোঁজ ও নিহতদের সন্ধান চালিয়ে যায়।

 

মৃতদের জাতীয়তা নিয়ে ইউকভের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা। ইউক্রেনীয় সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও তিনি উদ্ধার করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত একজন মানুষ মৃত্যুর পর আর শত্রু নয়; তিনি কারও বাবা, সন্তান, স্বামী, ভাই কিংবা পরিবারের সদস্য।

 

এই কাজের জন্য ইউকভ ‘আত্মার সংগ্রাহক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার কাছে মরদেহ উদ্ধার মানে শুধু একজন নিহত মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং তার পরিচয় ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

 

যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে ইউকভ নিজেও একাধিকবার আহত হন। ২০২২ সালে একটি মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি চোখ হারান। এরপরও তিনি কাজ থেকে সরে দাঁড়াননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যান।

 

তার শেষ অভিযানও ছিল একই ধরনের একটি উদ্ধারকাজ। দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের সময় মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। কয়েকদিন পর কিয়েভে তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়।

 

৮ আগস্ট কিয়েভের সেন্ট ভলোদিমির ক্যাথেড্রালে ইউকভের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ মেইদান স্কয়ারের দিকে নেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকে হাঁটু গেড়ে বসে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

 

তার পরিবার, সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ইউকভের কাজের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বহু পরিবারের জন্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন। কোনো স্বজন যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ হলে পরিবারগুলো মাসের পর মাস অপেক্ষা করত। ইউকভের দল সেই মরদেহ খুঁজে বের করে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করত এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করত।

 

মরদেহ শনাক্ত করতে উদ্ধার করা ব্যক্তিগত সামগ্রী, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করা হতো। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকির কারণে এই কাজ অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠত।

 

ইউকভের স্ত্রী ইভহেনিয়া কালুহিনা জানিয়েছেন, তার স্বামীর শুরু করা কাজ থেমে থাকবে না। সহকর্মীরাও জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারা চালিয়ে যাবেন।

 

ইউকভের মৃত্যু ইউক্রেন যুদ্ধের একটি কম আলোচিত মানবিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অনেক মানুষের মরদেহ গোলাবর্ষণ, মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। পরিবারের সদস্যরা তখন প্রিয়জন জীবিত নাকি মৃত, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেন না।

 

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইউকভ সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি যে মানুষগুলোর মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তাদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও রুশ উভয় পক্ষের মানুষই ছিলেন।

 

তার জীবন ও মৃত্যু যুদ্ধের বিভাজনের মধ্যেও মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তার সহকর্মীরা। যুদ্ধ মানুষকে শত্রু ও মিত্রে ভাগ করলেও মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত ইউকভের জীবনের প্রধান দায়িত্ব হয়ে উঠেছিল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
আমরা আত্মসমর্পণ করব না, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব’—জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
আমরা আত্মসমর্পণ করব না, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব’—জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায় তেহরান।   বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা হুমকি দিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করছে এবং আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের জবাবও আসে পেজেশকিয়ানের ভাষণে। ট্রাম্প জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও চাপ ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্ত করবে। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে ‘বুলিং মেন্টালিটি’ বা চাপ প্রয়োগের মানসিকতা হিসেবে সমালোচনা করেন।    তবে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য, ইরান কূটনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাতের অবসানে আলোচনা হতে পারে। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, হুমকি বা চাপের মাধ্যমে নয়।   ভাষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে সুবিধা নেবে, অথচ ইরান সেখানে নিজস্ব নৌপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবে না—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সেখানে শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে না।   এদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণটি আসে ট্রাম্পের এক দিন পরের বক্তব্যের জবাবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।   পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে তাই একদিকে ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ছিল কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ করার বার্তা। অর্থাৎ তেহরান আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়, তবে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না—জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এই দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৩:৫৭
শারজাহতে নিখোঁজ হওয়ার পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ভারতীয় যুবক অ্যালভিন প্রকাশ কুন্ডার। ছবি: সংগৃহীত

আরব আমিরাতে নিখোঁজ ভারতীয় যুবককে হত্যার অভিযোগ, গাড়িতে মিলল ৯ টুকরা মরদেহ

খান ইউনিসে বিমান হামলায় নিহত দাবি করা হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবু আলওয়ান। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান নিহত: নেতানিয়াহু

জাতিসংঘে এরদোয়ানের বক্তব্যের সময় স্মার্টফোনে মনোযোগী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে

জাপানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের উত্তরাধিকারী করার ঐতিহ্য ‘মুকোয়োশি’
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও!

জাপানে কোনো পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে মেয়ের স্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি ও ব্যবসার দায়িত্ব দেওয়ার দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই প্রথায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বিয়ের পর শুধু জামাই হিসেবে নয়, আইনগতভাবে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্য ও উত্তরাধিকারী হিসেবেও যুক্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসা ও পরিবারের নাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।   জাপানি সমাজে এই প্রথার শিকড় বহু পুরোনো। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারের নেতৃত্ব ও সম্পদের উত্তরাধিকার অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ উত্তরসূরির মাধ্যমে চলত। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে, কিংবা থাকা ছেলে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত না হলে, মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়া একটি কার্যকর উত্তরাধিকার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দত্তক নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   তবে মুকোয়োশি শুধু মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো পারিবারিক ব্যবসার জন্য উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দক্ষ কর্মীকেও দত্তক নিয়ে পরিবারের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাকেও উত্তরসূরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে এই প্রথা।   জাপানের পরিচিত কয়েকটি ব্যবসায়িক পরিবারের ইতিহাসেও দত্তক উত্তরসূরির নজির পাওয়া যায়। সুজুকির সাবেক চেয়ারম্যান ও দীর্ঘদিনের শীর্ষ নির্বাহী ওসামু সুজুকি জন্মসূত্রে সুজুকি পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি বিয়ের মাধ্যমে পরিবারে যুক্ত হয়ে দত্তক নেওয়া হয় এবং পরে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। কিক্কোমানের দীর্ঘ ব্যবসায়িক ইতিহাসেও উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় পরিবার ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার বিভিন্ন কৌশলের নজির রয়েছে।   সময়ের সঙ্গে এই প্রথাকে ঘিরে ম্যাচমেকিং বা মধ্যস্থতাকারী সেবারও বিকাশ ঘটেছে। ব্যবসার উত্তরসূরি প্রয়োজন এমন পরিবার এবং মুকোয়োশি হতে আগ্রহী পুরুষদের মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে কিছু বিশেষায়িত সেবা কাজ করেছে। তবে এটি কোনো সাধারণ ‘ঘরজামাই আবেদন’ ব্যবস্থা নয়। পরিবার, বিয়ে, দত্তক এবং ব্যবসার উত্তরাধিকার সবকিছুই আলাদা সামাজিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।   জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক আইনগতভাবেও স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। দত্তক সম্পন্ন হলে ব্যক্তি দত্তক পরিবারের সঙ্গে আইনগত পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন এবং পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। মুকোয়োশির ক্ষেত্রে মেয়ের স্বামীকে তার বাবা-মা দত্তক নিলে তিনি পরিবারের আইনগত ছেলে হিসেবে যুক্ত হন। ফলে পারিবারিক সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা তৈরি হতে পারে।   তবে মুকোয়োশি হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানি নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়া নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দত্তক, বিয়ে, বসবাসের স্ট্যাটাস ও নাগরিকত্ব আলাদা আইন ও প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই জাপানি পরিবারে দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বৈধভাবে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়াকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   কম জন্মহার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার সংকটের মতো পরিবর্তনগুলো জাপানে এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। রক্তের সম্পর্কের পরিবর্তে যোগ্য উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় মুকোয়োশি ব্যবস্থা শুধু একটি পারিবারিক রীতিই নয়, বহু ব্যবসায়িক পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি বিশেষ মডেল হিসেবেও আলোচিত হয়ে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৮:৪৬
গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর

গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, ইসরায়েলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর

রণধীর জয়সওয়াল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

তারেক রহমানসহ নেতারা

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আজ জাতিসংঘে বড় বৈঠকে তারেক রহমানসহ বিশ্ব নেতারা

নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান বৈঠক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।    আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, সেগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান ও এরদোয়ান।   বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা।   তুরস্কের পক্ষের বিবরণ উদ্ধৃত করে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এরদোয়ান ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।    রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোয়ান আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে।    দুই নেতা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ–তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৪১
পাকিস্তান-ভারত ড্রোন উত্তেজনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সমীকরণ

ভারতের পর পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশেই একই অ্যান্টি-ড্রোন চুক্তি ট্রাম্প কোম্পানির

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন

দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments