নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকটকে রোববার, ৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক দল পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় আইজেনকটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন ৬৭ জন পার্লামেন্ট সদস্য। বিপরীতে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেন ৪৬ জন। বাকি সাতজন কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেননি। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকট সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন। তবে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়া মানেই তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত নয়।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আইজেনকটকে সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁকে এমন একটি জোট গঠন করতে হবে, যা পার্লামেন্টে আস্থাভোটে জয়ী হতে পারবে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সরকার গঠনের বিষয়ে তাঁর জোটের কয়েকটি দলের আপত্তি রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত সমর্থন নিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত কট্টরপন্থী ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাস পার্টির সমর্থন পেলে আইজেনকট সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেন। তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গাজা যুদ্ধপরবর্তী নীতি নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। এসব প্রশ্নে সমঝোতা ছাড়া নতুন জোট গঠন সহজ হবে না।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গাদি আইজেনকট। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবেও ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইজেনকট নির্ধারিত সময়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো জোট সরকার গঠন করতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সংবাদসূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী রাজনীতিক নাদিয়া শাহের দীর্ঘ ১২ বছরের কাউন্সিলর জীবনের অবসান ঘটেছে। ২০১৬ সালে ক্যামডেনের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরাজিত হন লেবার পার্টির এই রাজনীতিক। কাউন্সিলর পদ হারালেও ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনীতি, সমাজসেবা এবং নারী নেতৃত্বে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে। ক্যামডেন কাউন্সিলের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, রিজেন্টস পার্ক ওয়ার্ড থেকে এবার ৯০৫ ভোট পেয়েছেন নাদিয়া শাহ। এই ওয়ার্ডের তিনটি আসনই জিতেছে গ্রিন পার্টি। নির্বাচনে ভিক্টোরিয়া মেরি পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৮ ভোট, মুহাম্মদ আবু নাসের ১ হাজার ৫৪ এবং রুমান জাইগিরদার ১ হাজার ১০ ভোট। বিপরীতে লেবার পার্টির তিন প্রার্থীর কেউই জয়ী হতে পারেননি। এর ফলে ২০১৪ সাল থেকে টানা কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাদিয়া শাহকে এবার বিদায় নিতে হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচিত প্রতিনিধির পদ থেকে। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় পৈতৃক শিকড় থাকলেও নাদিয়া শাহের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডনের ক্যামডেনে। সেখানেই তাঁর স্কুলজীবন কাটে। ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় কমিউনিটির নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিশোরী বয়সে তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং পেশায় কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন, কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। ব্রিটিশ বাংলাদেশি হুজ হুতে প্রকাশিত তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, নাদিয়া শাহ কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ব্যাংকিং খাতে। পরে নারী, শিশু ও তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের সরকারি ও সামাজিক সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। ২০১৪ সালের মে মাসে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যামডেনের রিজেন্টস পার্ক ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন নাদিয়া শাহ। এরপর ২০১৫ সালে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পান। পরের বছর, ১১ মে ২০১৬ সালে ক্যামডেন টাউন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি হন যুক্তরাজ্যের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী মেয়রদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে প্রথম স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। ক্যামডেন বরোর এই মেয়র পদ মূলত স্থানীয় নাগরিক ও আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব, যা লন্ডনের কেন্দ্রীয় মেয়র পদের চেয়ে আলাদা। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন নাদিয়া শাহ। ক্যামডেন কাউন্সিলের তৎকালীন ঘোষণা অনুযায়ী, মেয়র থাকাকালে তিনি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করা আনা ফ্রয়েড সেন্টারের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সহায়তার বিষয়েও কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং কমিউনিটি উন্নয়নের বিষয়গুলোতে যুক্ত ছিলেন তিনি। সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ক্যামডেন কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড পান নাদিয়া শাহ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠন সুরমা সেন্টারের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিন সন্তানের এই মা পারিবারিক জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ক্যামডেনের লেবার পার্টির প্রকাশিত প্রোফাইলেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশুদারিদ্র্য এবং কমিউনিটির মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলর হিসেবে নাদিয়া শাহের ১২ বছরের অধ্যায় শেষ হলেও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়ে রয়েছে ২০১৬ সালে মেয়র হওয়া। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এই নারী ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। সংবাদসূত্র: ক্যামডেন কাউন্সিল, ক্যামডেন লেবার, দ্য ডেইলি স্টার
নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
দুবাইয়ের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সুপারকারের বিশ্বরেকর্ড, ঘণ্টায় গতি ৩৯৫ কিলোমিটার
ভারতের তামিলনাড়ুতে জেলেদের কাছ থেকে পাঁচ কেজি জীবন্ত মাছ কিনে সেগুলো আবার সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে রাজ্যের ধানুশকোডি সমুদ্রসৈকতে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী মাছগুলো পানিতে ছেড়ে দিচ্ছেন। দিল্লি থেকে আসা এক দম্পতি মাছগুলোর জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের এই উদ্যোগকে কেউ মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট থেকে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পোস্টে দাবি করা হয়, দিল্লির এক দম্পতি তামিলনাড়ুর ধানুশকোডি সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে পাঁচ কেজি জীবন্ত মাছ কেনেন। এরপর মাছগুলো বিক্রির পরিবর্তে আবার সমুদ্রে ছেড়ে দেন। গত ৫ নভেম্বর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই দম্পতির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রাণের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাছগুলো শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে কি না, সেটি নিশ্চিত না হলেও অন্তত সেগুলোকে আবার পানিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, মাছগুলো ভবিষ্যতে আবার জেলেদের জালে আটকা পড়তে পারে কিংবা অন্য সামুদ্রিক প্রাণীর শিকার হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে একটি মাছও যদি বেঁচে যায়, তাহলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দম্পতির উদ্দেশ্য না বুঝে তাঁদের সমালোচনা করা উচিত নয়। অন্যদিকে, অনেকেই পুরো বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, জেলেদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে মাছ কিনে আবার সেই সমুদ্রেই ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে বাস্তবে কতটা উপকার রয়েছে? সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এতে জেলেরা মাছ বিক্রির অর্থ পেয়েছেন এবং দম্পতি মাছগুলোকে মুক্ত করে মানসিক তৃপ্তি পেয়েছেন। কিন্তু সামুদ্রিক প্রাণীর সুরক্ষায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর, তা স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পক্ষের বক্তব্য, কাউকে ক্ষতি না করে নিজের বিশ্বাস ও মানবিক অনুভূতি থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তাঁদের মতে, প্রাণীকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য কাউকে উপহাস করা উচিত নয়। তবে অন্যরা বলছেন, শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অজানা রয়ে গেছে। মাছগুলো কী প্রজাতির ছিল, কতক্ষণ পানির বাইরে ছিল কিংবা সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার পর সেগুলোর কী হয়েছে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁরা সত্যিই দিল্লির বাসিন্দা কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মাছগুলোকে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার ভিডিওটি প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা এবং বাস্তবসম্মত প্রাণী সুরক্ষার বিষয়কে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। দম্পতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশংসা ও সমালোচনা চললেও তাঁদের উদ্যোগে মাছগুলোর জীবন রক্ষা পেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টা, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা, বিদ্যুৎ-পানি-হিটিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানে একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান। তবে ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলে পরিকল্পনাটির কথা যুক্তরাষ্ট্র জেনে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে এই অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোসাদপ্রধান রোমান গফম্যান নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ইরানের ভেতরে একটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এমন অভিযানের কারণে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনও স্থগিত করতে হতে পারে। এসব আপত্তি সত্ত্বেও অভিযানের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে চ্যানেল ১২ দাবি করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলাকালে ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অসতর্কভাবে এমন কিছু করেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পারে। এরপর ওয়াশিংটন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অভিযান বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র তথ্যটি পেয়েছিল, পরিকল্পিত অভিযানের লক্ষ্যবস্তু কী ছিল কিংবা কোন পর্যায়ে প্রস্তুতি বন্ধ করা হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি চ্যানেল ১২। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট সূত্রের পরিচয় দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল না এবং নেতানিয়াহু নিজেই সে সময় বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর চ্যানেল ১২ জানিয়েছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের নির্দেশনা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে। তখন জামির অভিযানের বিষয়ে আরও আলোচনা এবং আইনগত অনুমোদনের লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে নেতানিয়াহু সে সময় সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের গত ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে নেতানিয়াহু আগ্রহী ছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই পরিকল্পনায় সম্মতি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল। একজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন আরও জানায়, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিলেন যে নতুন হামলা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমনকি ভোট স্থগিতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সেনাপ্রধানকে পাশ কাটিয়ে মোসাদের মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলার কথা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন এই প্রতিবেদন সামনে এলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরিকল্পনাটি বন্ধ করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সংবাদসূত্র: চ্যানেল ১২, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, সিএনএন।
কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
লিবিয়ায় নাইকির পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার ঘোষণা মুসলিম লেখিকার