হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজার বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনা সরানো হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা সামনে আসার পর নেতানিয়াহুর এই অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনাটির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমর্পণ, গাজার প্রশাসনে পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত ১৫ দফা রোডম্যাপে বলা হয়েছে, গাজায় একটি একক বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রশাসন পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে হামাসকে সামরিক, পুলিশ বা প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সরে যেতে হবে এবং সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো বিলুপ্ত করতে হবে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করার ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি হলে ইসরায়েলি সেনারা ধাপে ধাপে গাজার সীমান্তের দিকে সরে যাবে। পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নিরাপত্তা, মানবিক কার্যক্রম ও অস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় এগোবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো সাম্প্রতিক খসড়া প্রস্তাবকে ইসরায়েল সরাসরি গ্রহণ করেনি; বরং নিজেদের আপত্তি ও সংশোধনী জানিয়েছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রস্তাবিত কাঠামোয় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। নেতানিয়াহু অবশ্য নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানে অনড়।
গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না।
নেতানিয়াহুর এই অবস্থান দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখিয়ে আসছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গাজা নিয়ে প্রস্তাবিত ১৫ দফা রোডম্যাপ। এই পরিকল্পনায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন, নিরাপত্তা, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ফলে এখন গাজা সংকটের পরবর্তী ধাপ অনেকটাই নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
নেতানিয়াহুর সর্বশেষ অবস্থান সেই সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreরাতের খাবারে কী সবজি রান্না হয়েছে, স্বামীর এমন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে সাবেক সেনাসদস্য স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদের নরোদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম দিলীপ খারাদি (৩৯)। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নির্মলা খারাদিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার ৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নরোদা স্মার্ট সিটি-২ আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতের খাবারের জন্য কোন সবজি রান্না করা হয়েছে, তা নিয়ে স্ত্রীর কাছে জানতে চান দিলীপ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্মলা রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে স্বামীর বুকের বাঁ পাশে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দিলীপকে স্থানীয় শালবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। ঘটনার পর নির্মলা তাঁর দেবর মুকেশকে ফোন করে স্বামীকে ছুরিকাঘাত করার কথা জানান বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পরে হাসপাতালে গিয়ে দিলীপের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। নরোদা থানার পুলিশ পরিদর্শক বি এম কাটারিয়া জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে এই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে সংসারের খরচ, আর্থিক বিষয় এবং রান্নাবান্না নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতেও এমন একটি বিরোধ থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে। নিহত দিলীপ খারাদি ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি গুজরাট মিনারেল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করছিলেন। নির্মলার সঙ্গে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে এখন মাকে ছাড়াও থাকতে হচ্ছে, কারণ তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। দিলীপের বাবা সোমাজি খারাদি রাজকোট শহর পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, দিলীপের বুকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি মুখ, বাহু ও হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর নরোদা পুলিশ একাধিক দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে নির্মলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পরিস্থিতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে।
সিলেটের কুলাউড়া থেকে ক্যামডেনের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন নাদিয়া শাহ
নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্পোর্টস কার ও সুপারকার ব্যবহার করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি বিশেষভাবে প্রস্তুত এসব গাড়ির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে দুবাই করপোরেশন ফর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস। এই বহরের সবচেয়ে আলোচিত গাড়ি লাইকান হাইপারস্পোর্ট রেসপন্ডার, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৯৫ কিলোমিটার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। দুবাই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় হাইপারস্পোর্ট রেসপন্ডার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তৈরি এই সুপারকারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ দিরহাম। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ মোটরসের তৈরি গাড়িটি মাত্র ২ দশমিক ৮ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার। তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৩৯৫ কিলোমিটার হিসেবে নথিভুক্ত করে। এর মাধ্যমে দ্রুততম জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি হিসেবে বিশ্বরেকর্ড অর্জন করে হাইপারস্পোর্ট রেসপন্ডার। দুবাইয়ে স্পোর্টস কারের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয় আরও আগে। ২০১৪ সালে অ্যাম্বুলেন্স বহরে যুক্ত করা হয় লোটাস এভোরা এবং ফোর্ড মাস্ট্যাংয়ের মতো দ্রুতগতির গাড়ি। এসব গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, অক্সিজেন, হৃদ্যন্ত্র সচল করার যন্ত্র এবং আহত ব্যক্তিদের স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ রাখা হয়। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীরা গাড়িগুলো ব্যবহার করে দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুযোগ পান। এই বিশেষ ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য রোগী পরিবহন নয়, বরং চিকিৎসা শুরুর সময় কমিয়ে আনা। সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসাকর্মীরা রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। পরে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে দুর্ঘটনা, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা দ্রুত শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়। দুবাই অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় আট মিনিট থেকে কমিয়ে চার মিনিটে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। পরবর্তী সময়ে বহরে আরও দ্রুতগতির গাড়ি যুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাইয়ের অ্যাম্বুলেন্স বহরে স্পোর্টস ও বিশেষ ধরনের দ্রুতগতির গাড়ির সংখ্যা দাঁড়ায় আটটিতে। এসব গাড়ি দুবাই মল, সিটি ওয়াকসহ পর্যটনপ্রধান এলাকা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনেও ব্যবহারের পরিকল্পনা জানায় কর্তৃপক্ষ। তবে চার মিনিট ছিল নির্ধারিত লক্ষ্য, সব জরুরি পরিস্থিতিতে ওই সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নয়। দুবাই করপোরেশন ফর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেসের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী খলিফা বিন দাররাই জানিয়েছিলেন, হাইপারস্পোর্ট রেসপন্ডারের মতো দ্রুতগতির গাড়ি জরুরি চিকিৎসাসেবায় সাড়া দেওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিই বাস্তবে চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় নির্ধারণ করে না। সড়কের পরিস্থিতি, যানজট, দূরত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। দুবাইয়ের এই উদ্যোগ জরুরি চিকিৎসাসেবায় দ্রুতগতির যানবাহন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সংবাদসূত্র: দুবাই গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, দ্য ন্যাশনাল, গালফ নিউজ।
মাছের ও প্রাণ আছে তারা কষ্ট পায়! ৫ কেজি জীবন্ত মাছ কিনে সমুদ্রে ছাড়লেন দম্পতি, বিতর্ক
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টা, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শীতের তীব্রতা যখন শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, ঠিক সেসময়ে রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় শহরটির বিদ্যুৎ, পানি এবং হিটিং ব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর ছোঁড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে দনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত ব্যস্ততম 'নর্দার্ন ব্রিজ' বা উত্তর সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলায় সেতুটির রাস্তা এবং বিদ্যুৎ ও ট্রলিবাসের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের বাইরের বিভিন্ন জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী। এর ফলে রিভনে ও খেমেলনিতস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিয়েভ এবং ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সিস্টেমগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানী বর্তমানে বিদ্যুৎ, পানি এবং হিটিং সরবরাহের ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এছাড়া আরও পাঁচটি অঞ্চলের সাবস্টেশন এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়া মোট ৩৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৪টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৭২টি ড্রোনের মধ্যে ১৪৯টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনজুড়ে চালানো রাতের এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক আবাসিক ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপনা। অন্যদিকে, মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাত এবং কিয়েভ ও এর আশেপাশের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই 'সুনির্দিষ্ট' হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনে রাশিয়ার স্থল অভিযান মূলত থমকে যাওয়ায় তারা এখন ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর অবকাঠামো ও সেতুগুলোতে আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়ার এই হামলা মূলত শান্তি আলোচনার আগে তাদের কৌশলগত প্রস্তুতিরই অংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের খবরে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির যে আশা তৈরি হয়েছে, জেলেনস্কি তারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার ক্রমাগত হামলা বৃদ্ধির এই সংকটময় সময়ে ইউক্রেন মার্কিন কংগ্রেসের আরও জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার দাবি
কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২