মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা
যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে বিগত ১৮ মাসে দেশটিতে কমপক্ষে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্ধেকই অন্তঃসত্ত্বা নারী বা প্রসূতি। এছাড়া এর মধ্যে ৩০টি নবজাতক ও ভ্রূণের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও তহবিলের অভাবে ঘটা এই মৃত্যুগুলো ছিল ১০০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য।
গবেষণা প্রতিবেদনে একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার আঞ্চলিক হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও সেপসিসে আক্রান্ত এক নবজাতককে ভর্তি করা হয়। শিশুটির নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টটি এক মাস আগেই অকেজো হয়ে পড়েছিল। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি মারা যায়।
ইউএসএআইডি-এর (USAID) সাবেক প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. শাহ মোহাম্মদ কাজিজদা জানান, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তত ১৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি কাটছাঁট করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আফগানিস্তানে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন (১৭০ কোটি) ডলারের সহায়তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল আফগানিস্তানের প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা খাত এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শত শত ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীদের চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আঞ্চলিক হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এমনকি পথিমধ্যে বা বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।
‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর সিনিয়র ফেলো প্রিয়ালি দীপ্তি সুর সারা দেশের প্রায় ৫৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।
তিনি জানান, তহবিল সংকটে ভেন্টিলেটর ও ইনকিউবেটরগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। চাকরি হারিয়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়া অনেক স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ধাত্রীরা (মিডওয়াইফ) চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রায় ৬০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খরচ কমানোর দায়িত্বে থাকা ইলন মাস্ক সম্প্রতি সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধের কারণে মারা গেছে এমন একজনের নামও কেউ বলতে পারবে না।
এর জবাবে প্রিয়ালি দীপ্তি সুর চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়া এক প্রসূতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "তার নাম ছিল হালিমা।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের জন্য কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী এবং অপরাধীদের দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। রোববার ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাক্রোঁ অভিযোগ করেন, কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে অপরাধীরা যুক্ত হয়ে পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লুটপাটকারীদের ক্ষতির দায় বহন করতে হবে এবং প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িতদের জবাব দিতে হবে বলে জানান তিনি। ভাষণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও সহিংসতাকে আলাদা করে দেখার ওপর জোর দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষের ক্ষোভ যৌক্তিক। পারস্য উপসাগরের যুদ্ধের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্রান্স ওই যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনেও তাঁর বক্তব্যের এই অংশ উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাউনহল তাদের প্রতিবেদনে এই বক্তব্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে দায় ঠেলে দেওয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটির উদ্ধৃত বক্তব্যে মাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের নাম বলেননি। সেখানে তিনি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে উপসাগরীয় যুদ্ধের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন, আর সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের প্রতিবাদে শনিবার ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহান্তে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুটপাটের শিকার হয় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। সরকারের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। বামপন্থী নেতা জ্যঁ লুক মেলঁশোঁ অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সহিংসতার দায় পুলিশের নেতৃত্বের ওপর চাপানো দায়িত্বের বিপজ্জনক উল্টো ব্যাখ্যা।
ভারতে দুই দিনে উচ্ছেদ ১১০০ মুসলিম পরিবার, মসজিদ ভাঙ্গলো ১০ মসজিদ
দাঙ্গার আগুনের পাশেই পানীয় ও ধূমপানে ফরাসি যুগল, জগিং এ আরেক নারী
১৫ বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল জ্যাকেরকে, তারই অ্যাপে বর্তমানে আয় ৩০ মিলিয়ন ডলার
চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে তেতসু নাকামুরা বুঝেছিলেন, খরায় বিপর্যস্ত মানুষের সুস্থ থাকার জন্য ওষুধের পাশাপাশি পানি ও খাবারও জরুরি। সেই উপলব্ধি থেকে আফগানিস্তানে সেচখাল নির্মাণে হাত দেন জাপানের এই চিকিৎসক। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেচব্যবস্থা হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ফিরিয়ে আনে। তবে ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর জালালাবাদে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হন তিনি। জাপানের ফুকুওকার বাসিন্দা নাকামুরা ১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে চিকিৎসাসেবা শুরু করেন। পেশোয়ার মিশন হাসপাতালের কুষ্ঠরোগীদের চিকিৎসা ছিল তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরে সীমান্তের ওপারে আফগানিস্তানেও চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিস্তৃত করেন তিনি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের সঙ্গে তীব্র খরা আফগানিস্তানের বহু এলাকার মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছিল। পানির অভাবে চাষাবাদ বন্ধ হচ্ছিল, মানুষ হারাচ্ছিল জীবিকার পথ। নাকামুরার সংগঠন পেশোয়ার কাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংকট মোকাবিলায় তাদের কার্যক্রম চিকিৎসার পাশাপাশি পানির উৎস তৈরি, কৃষি পুনরুদ্ধার ও গ্রামীণ পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যায়। ২০০৩ সালে কুনার নদী থেকে পানি এনে শুষ্ক এলাকায় পৌঁছে দিতে মারওয়ারিদ সেচখালের নির্মাণ শুরু করে তার নেতৃত্বাধীন পিস জাপান মেডিকেল সার্ভিসেস বা পিএমএস। পেশোয়ার কাইয়ের হিসাবে, খালটির নির্মাণ শেষ হয় ২০১০ সালে। স্থানীয় মানুষ ও সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই কাজ এগিয়ে নেন নাকামুরা। জাপানের পুরোনো নদীশাসন ও সেচপ্রযুক্তি এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় বলা হয়েছে, পিএমএসের সেচব্যবস্থার আদর্শ নকশায় ফুকুওকার ইয়ামাদা উইয়ারের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও ছিল এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সেচের পানি পৌঁছানোর পর গামবেরির শুষ্ক প্রান্তরে গমের খেত ও সবজির বাগান গড়ে ওঠে। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবরণে, একসময় ‘মৃত্যু উপত্যকা’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটি সবুজ কৃষিভূমিতে বদলে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। সেখানে মানুষের বিশ্রামের জন্য গোলাপের বাগানসমৃদ্ধ পার্কও গড়ে ওঠে। তবে প্রায় ৪০ হাজার একর জমিতে সেচ পৌঁছানোর সাফল্য শুধু একটি খালের ফল নয়। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সময়রেখা অনুযায়ী, পিএমএসের নির্মিত একাধিক পানি সংগ্রহের বাঁধ ও সেচখালের সম্মিলিত ব্যবস্থায় প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আবাদযোগ্য হয়। এতে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষায় সহায়তা মেলে। মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে নাকামুরাকে আফগানিস্তানের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন আপনজন হিসেবে। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, গ্রামের মানুষ তাকে ‘কাকা’ বলে ডাকতেন। এর প্রায় দুই মাস পর, ৪ ডিসেম্বর সকালে জালালাবাদে তার গাড়িতে হামলা হয়। গুরুতর আহত নাকামুরা পরে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। হামলায় তার গাড়িচালক ও চার দেহরক্ষীও নিহত হন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নাকামুরাসহ ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবুল বিমানবন্দরে বিদায় অনুষ্ঠানে আফগান পতাকায় মোড়ানো তার কফিন বহনে অংশ নেন আশরাফ গনি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছিল তালেবান। নাকামুরার মৃত্যুর পরও তার প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পেশোয়ার কাই ও পিএমএস। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়রেখায় দেখা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মারওয়ারিদ দ্বিতীয় পর্যায়ের বাঁধ ও মূল খালের নির্মাণ শেষ হয়। এর মাধ্যমে খালসংলগ্ন আরও এলাকায় চাষাবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়।
ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষে পণাস্ত্র হামলায় নি হত ৫৩ সেনা, আ হত দুই শতাধিক
সৌদি আরবে পাঁচ শিয়া তরুণের ফাঁসি, মানবাধিকার সংগঠন বলছে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে কোরআনে হাফেজ হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ভাই
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর এই সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত যদি ফের মাথাচাড়া দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার প্রস্তুত রাখার দাবি করেছেন ইরানের সামরিক কমান্ডাররা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল কাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর বিকল্পগুলোর কথা বলা হচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি গত মাসের শেষের দিকে সতর্ক করে বলেন, “বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে। আমাদের এমন অনেক নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি।” প্রায় নয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলা এই যুদ্ধ বর্তমানে একপ্রকার অচলাবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে মাথানত করতে বাধ্য করার জন্য নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিলেও, তেহরান তীব্রভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। হোসেইন মোহেব্বি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য রণকৌশল সাজাচ্ছেন। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য 'মাদার অফ অল বম্বস' (MOAB) বা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ইরানও কেবল আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তারা আগেভাগে আক্রমণ করার মতো একটি নতুন আক্রমণাত্মক সামরিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি তারা একসাথে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের অত্যাধুনিক এআই-চালিত ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের নিশানায় পরিণত হতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় জর্জরিত সাধারণ ইরানিরাও নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে এবং খাবার ও পানি মজুত করে যেকোনো মুহূর্তে বোমাবর্ষণের প্রহর গুনছেন। এর পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উভয় পক্ষই যখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে মরণপণ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে নতুন একটি ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রেমের টানে সর্বস্ব বিক্রি করে ১,৯০০ কিলোমিটার পাড়ি, পরে জানলেন প্রেমিকা এআইয়ের তৈরি
সৌদি আরবে মৃ ত্যুদণ্ডে প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ দূতাবাসের বিরুদ্ধে