সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের উরুমকিতে আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাব্রাবি জানান, সীমান্তে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ‘টিটিপি’কে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এর আগে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, উরুমকির এই আলোচনা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আস্থার সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক কাবুলে প্রাণঘাতী হামলার প্রেক্ষাপটে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক-এর অনুরোধে এবং সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ২৩ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে কাবুলের ক্যাম্প ফিনিক্স—একটি সাবেক ন্যাটো ঘাঁটি, যা বর্তমানে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত—সেখানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এই হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। তালেবান সরকারের দাবি, সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মতে, এটি একটি বেসামরিক পুনর্বাসন কেন্দ্র ছিল। অন্যদিকে জাতিসংঘ জানায়, নিহতের সংখ্যা ১৪৩ এবং আহত ১১৯ জন। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা কোনো বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং সন্ত্রাসীদের গোলাবারুদ, ড্রোন ও আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পৃথকভাবে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো আন্তঃসীমান্ত বা ড্রোন হামলা ঘটে, তাহলে তারা আবারও অভিযান শুরু করবে। একইভাবে তালেবানও জানায়, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। এক সময় মিত্র থাকলেও গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের দেশে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, গত মাসে পাকিস্তানের সরাসরি আফগান ভূখণ্ডে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার আগে উত্তেজিত সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই বিরতির সিদ্ধান্ত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় শুরু করা হবে।” আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ব্যবহার করেনি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র (হাসপাতাল) ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকশ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী কাবুলের নির্দিষ্ট কিছু 'সন্ত্রাসী আস্তানা' এবং 'কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো' লক্ষ্য করে নিখুঁত (precision) হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনা থেকে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছিল, কেবল সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানোর তথ্য নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, তালেবান সরকার বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পেতে এবং সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো কাবুলের ‘উমিদ’ (Omid) নামক একটি ২,০০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। তালেবান প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যা দমনে তালেবান সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ (Operation Ghazab lil-Haq) শুরু করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করার এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধংদেহী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান ক্রিকেটাররা। শবে কদরের পবিত্র রাতে দুই হাজার শয্যার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই হামলার ফলে প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও নবিন উল হকের মতো তারকা ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তারা এই হামলাকে ইসরায়েলি বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান নিহতের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে লিখেছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি এই ঘটনাকে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বলি বলে উল্লেখ করেছেন। পেসার নবিন উল হক আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের রেশ ধরে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তালেবান সরকার, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওমিদ নামে একটি আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীরাই হতাহতের শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখা গেছে এবং তখনও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল জানান, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খানও হামলাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, পরে আকাশে বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তান দাবি করেছে, রাজধানী কাবুলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন এবং জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। তার দাবি, প্রায় দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিতরাত আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালটির ৩১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্তানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক ইউনিট অবস্থান করছিল। সেসব ইউনিট বিমানটির দিকে গুলি চালানোর পর বিমানটি বোমা ফেললে সেখানে আগুন ধরে যায়। তিনি দাবি করেন, নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক মানুষ।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গকেও বিমান হামলার লক্ষ্য বানানো হয়েছে, যা তালেবান ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান সরকার যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করবে না, তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কান্দাহারের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, “পর্বত অঞ্চলের ওপর দিয়ে একাধিক সামরিক বিমান উড়ে যায়। ওই এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বিস্ফোরিত হয়েছে।” তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র এবং খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান যে সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেছিল, হামলার প্রকৃত এলাকা সেগুলো থেকে অনেক দূরে। এর আগে পাকিস্তান দাবি করেছিল, শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানের তিনটি এলাকায় তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার প্রতিশোধ নেবার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও আফগানিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছিল। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সর্বশেষ বড় সংঘাতে জড়িয়েছিল গত মাসে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৯৯ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতের মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ সেনা ও ১ বেসামরিক, আর আফগানিস্তানে ১৩ সেনা ও ৭২ বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।
ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে আফগান সীমান্তে ফের চরম সংঘাত শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও তালিবান বাহিনীর মধ্যে। শনিবার রাতভর আফগানিস্তানের কান্দাহারে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে একটি সেনা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তালিবান প্রশাসন। সীমান্ত জুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গিঘাঁটি নির্মূল করতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, কান্দাহারে রাতভর অভিযানে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) ক্রমাগত সীমান্ত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি হামলায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি আফগান বাহিনীও। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পাকিস্তানের হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অবস্থিত একটি পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে পাল্টা গোলাবর্ষণ করা হয়, যাতে ক্যাম্পটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাস থেকেই দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাতে আফগান ফৌজের পালটা হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন জওয়ানের মৃত্যু এবং ১২টি পাক পোস্ট দখলের দাবি করেছিল তালিবান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কান্দাহারে এই বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। সীমান্ত এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে।
আফগানিস্তানের ভেতরে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও সামরিক ধরনের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার রাতে সীমান্তসংলগ্ন আফগান এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কান্দাহার প্রদেশে আফগান তালেবান ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং একটি সরঞ্জাম গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা এক হামলায় কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সুড়ঙ্গে আফগান তালেবান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উত্থাপিত উদ্বেগের সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে কান্দাহারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময় সীমান্তবর্তী স্পিন বালদাক ও খোস্ত প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে আফগানিস্তানে সহিংসতায় ১৮৫ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান ভারতের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি দাবি করেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ভারত সমর্থন দেয়—এ বিষয়টি সবারই জানা। তাই এসব গোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতিতে ভারতের হতাশা প্রকাশ করা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার রাতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া Quetta অঞ্চলে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। আর Kohat এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। হামলার পর রাজধানী Islamabad–এর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর কাছে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নেই। সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabulসহ তিনটি অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় Taliban। ড্রোন হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান মেনে নেবে না। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা যাবে না।” এর আগে গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে তালেবান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯৩ জন।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত ও বারো জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে। কান্দাহার বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান কাম এয়ার-এর জ্বালানি তেলের ডিপোতে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি হামলা হয়েছে রাজধানী কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশেও। স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন জানান, হামলার সময় তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানসহ ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশ ধুলা-মাখানো হয়ে যায় এবং তার শিশু সন্তানরা চিৎকার করতে থাকে। হামলায় তার বোন এবং দুই শিশুসন্তানও আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ওই ডিপো থেকে বেসরকারি বিমানগুলো তেল সরবরাহ করে, যেখানে জাতিসংঘের বিমানও তেল নেয়। তিনি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলা অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বাড়াবে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। প্রথমে হামলা চালায় ইসলামাবাদ, পরে আফগানিস্তান পাল্টা প্রতিহত করে। চীনের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমলেও, বৃহস্পতিবারের হামলা আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। কান্দাহারে তেলের ডিপোতে হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উত্তপ্ত সীমান্ত এলাকায় চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে চলা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে কয়েক হাজার পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইউএনএইচসিআর (UNHCR) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, চলমান এই সংকটে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ এবং পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আরও ৩ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিগত দুই দশকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপগুলো চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ মিশনগুলো শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই নয়, বরং খোদ আমেরিকার জন্যও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে এনেছে। ইরাক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েন এবং ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ বেছে নিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণের বিনিময়ে ইরাকে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলা আর লক্ষ লক্ষ ইরাকবাসীর মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের অধীনে দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করেও কোনো স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি হোয়াইট হাউস। বিপুল অর্থ ব্যয়ে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিলেও মার্কিন প্রত্যাহারের পরপরই তালেবানের হাতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, যা আমেরিকার দীর্ঘতম যুদ্ধের এক শোচনীয় সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। লিবিয়ার ক্ষেত্রে কৌশল কিছুটা ভিন্ন হলেও ফলাফল ছিল একই। সেখানে সরাসরি সেনা মোতায়েন না করে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে নিয়ে গাদ্দাফি শাসনের পতন ঘটানো হয়। কিন্তু আজ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও লিবিয়া এখনো বিভাজন, সহিংসতা এবং চরম অরাজকতার কবলে আটকে আছে। সামগ্রিকভাবে, গত দুই দশকে আমেরিকার এই তিনটি প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, জোরপূর্বক শাসন পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কেবল মানবিক ও কৌশলগত বিপর্যয়ই ডেকে আনে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত এবার নতুন মাত্রা নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মিরানশাহ ও স্পিনওয়াম এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক ক্যাম্পে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে আফগান কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও আফগানিস্তানের টোলো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ড্রোন হামলার পরপরই স্পিনওয়াম সেনা ঘাঁটির একটি অংশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা চালানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তালেবান সরকার এই দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট দাবি, তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ অনুপ্রবেশের সমুচিত জবাব দিতেই এই ড্রোন মিশন পরিচালনা করা হয়েছে। যদিও এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির খবর এবং সামরিক ঘাঁটিতে আগুনের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সহিংসতা বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। পরিস্থিতি শান্ত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মহাসচিব। সূত্র: আল জাজিরা।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’ শুরুর ঘোষণার পর থেকে সীমান্ত ছাপিয়ে যুদ্ধ এখন কাবুলের দোড়গোড়ায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমান হামলায় ইতোমধ্যে ২৭০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানান, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে পাকিস্তান এখন জঙ্গি আস্তানার পাশাপাশি সরাসরি তালেবান সরকারের বিভিন্ন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। সংঘাতের নেপথ্যে দীর্ঘমেয়াদি কারণ: বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের অমীমাংসিত ইস্যু। ডুরান্ড লাইন বিতর্ক: ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখাকে কাবুল কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। টিটিপি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) আফগান মাটিতে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলায় উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। আক্রমণাত্মক কৌশল: বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান এখন আর কেবল সন্ত্রাসীদের দমন নয়, বরং সরাসরি তালেবান শাসনব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, তালেবানরা ‘অপ্রচলিত’ পদ্ধতিতে বা আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews