সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:১৭
হিজাব নিষেধের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব নিষেধের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন।

 

এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে।

 

গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি।

 

এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন।

 

জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র‍্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র‍্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।

 

ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

 

এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে।

 

ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না।

 

এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র‍্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

 

তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
হিজাব নিষেধের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের

ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন।   এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে।   গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি।   এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন।   জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র‍্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল।   সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র‍্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।   ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে।   ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না।   এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র‍্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:১৭
প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রের পরিবর্তে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত

মানচিত্রে ছোট দেখানো আফ্রিকার ‘প্রকৃত আকার’ তুলে ধরতে জাতিসংঘের উদ্যোগ, ১৬৪ দেশের সমর্থনে প্রস্তাব পাস

ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার

ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়র কারাদণ্ড

ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা

শান্তির দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি ও ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ। ছবি: সংগৃহীত
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।   ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই।   রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো।   কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।   ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান।   রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে।   তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।   সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:১২
বন্যার পানিতে আটকা পড়ে স্বামী হিলারিও রেয়নোসোকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন এলোদিয়া রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত

বন্যার পানিতে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে ফিরেছিলেন স্ত্রী, ১৭ দিন পর সেই স্বামীকেই দেখতে হলো স্ত্রীর শেষ বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে জাপান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা

পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ধসে বিতর্ক, ভাঙার অভিযোগ সংখ্যালঘুদের।

শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ

মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নাকচ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।   বুধবার ফক্স নিউজ রেডিওর দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মন্তব্য আসে মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময়।    বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পেজেশকিয়ান বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মোদি জানান, ভারত ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যময় করতে চায়।    তবে রুবিও বলেন, প্রতিটি দেশ নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশ্বের অনেক দেশই ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।    একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন রুবিও। তার ভাষ্য, কোনো দেশ যদি ইরানকে অর্থ উপার্জনের এমন ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়, যা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে, তাহলে সেই দেশও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।    রুবিওর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে।    অর্থাৎ, ভারত-ইরান সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ দিল্লি প্রকাশ করলেও নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে - এমন দাবিকে এখনই স্বীকৃতি দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:৫
ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা

ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা, দিন-রাতই সহিংস অপরাধের ঝুঁকি

অবসর নেওয়ার পর বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলেন অভিনন্দন বর্তমান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

0 Comments