প্রেমিকার পেছনে কোটি টাকা খরচ, ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতে হেরে গেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী
সম্পর্ক চলাকালে সাবেক প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার খরচ করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চন্দর আগরওয়াল। পরে সেই অর্থকে সুদমুক্ত ঋণ দাবি করে সাবেক প্রেমিকা ফেলিশিয়া লির কাছ থেকে ফেরত চেয়ে সিঙ্গাপুর হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। তবে আদালত তার দাবি খারিজ করে দিয়েছে।
চন্দর আগরওয়াল ভারতের তালিকাভুক্ত পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান টিসিআই এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে ফেলিশিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেই সম্পর্কের অবসান ঘটে।
সম্পর্ক চলাকালে লির জন্য বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করেন আগরওয়াল। এর মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের খরচ, বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, জীবনবীমার প্রিমিয়াম, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের সেবা এবং স্ট্যানফোর্ড-এনইউএসের একটি নির্বাহী শিক্ষাক্রমের প্রায় ৩০ হাজার ডলার ফি। যুক্তরাষ্ট্র ও হংকং ভ্রমণের প্রথম শ্রেণির বিমান টিকিট এবং কেনাকাটার খরচও তার দাবির মধ্যে ছিল।
আগরওয়ালের দাবি ছিল, এসব অর্থ তিনি উপহার হিসেবে দেননি; বরং লি এগুলো সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং পরে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লি সেই দাবি অস্বীকার করেন। আদালতও আগরওয়ালের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি যে লি এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন বা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।
মামলার সময় একটি হাতে লেখা চুক্তির কথাও সামনে আসে। তবে আদালত সেটিকেও আগরওয়ালের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি। বিচারক উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর মধ্যে এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যেখানে লি ওই অর্থগুলোকে ঋণ হিসেবে স্বীকার করেছেন বা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বরং আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সম্পর্কের শুরু থেকেই আগরওয়াল লির জন্য ব্যয়বহুল উপহার ও বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। বিচারকের মতে, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর আগরওয়াল এসব খরচকে নতুনভাবে ঋণ হিসেবে দাবি করেন। আদালত শেষ পর্যন্ত তার সব দাবি খারিজ করে দেয় এবং তাকে সাবেক প্রেমিকার আইনি খরচও পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তাঁদের নাম ও ছবি প্রকাশ করে অবস্থান শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডন পুলিশের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ যাঁদের খুঁজছে, তাঁরা হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। দুজনই বাংলাদেশি এবং পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, শওকত এখনো যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে জাহিদুল যুক্তরাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশের কাছে আসে। কিশোরীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন এবং পরে তাঁকে উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। পরে এক পথচারী তাঁকে দেখতে পেয়ে সহায়তা করেন। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ছবি প্রকাশ করে তাঁদের শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়। ওই আহ্বানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জনসাধারণের কাছে তথ্য চাওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই দিনই শওকত ও জাহিদুল তাঁদের পরিচিত অবস্থান থেকে সরে যান। এরপর তাঁদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। তদন্তের নেতৃত্বে থাকা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আনা ডেইটন জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্য তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখন শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারকে খুঁজে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তদন্তকারীদের ধারণা, একজন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন এবং অন্যজন বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। আনা ডেইটন আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির জন্য দুই ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। এদিকে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হবে। সংস্থাটির লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেন, কিশোরীটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিপর্যয়কর একটি ঘটনার শিকার হয়েছে। তদন্তে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তাঁদের অবস্থান খুঁজে বের করা এখন অত্যন্ত জরুরি। অ্যালেক্সা লুকাস সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও কাছে সামান্য তথ্য থাকলেও তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রাইমস্টপার্সের কাছে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশ করতে হয় না। ফলে কেউ চাইলে সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে তথ্য জানাতে পারবেন। এমন তথ্য তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পুলিশ জানিয়েছে, শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে যুক্তরাজ্যের ১০১ নম্বরে ফোন করে ০১/৬৬৮২৯৫/২৪ রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। তদন্তকারীরা দুই ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব
ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
১৩ বছরের কিশোরীকে ধ র্ষ ণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশির খোঁজে লন্ডন পুলিশ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম কেন্দ্রটিতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার যে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে এই নতুন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে দুই দেশের পরমাণু খাতের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার তথ্যটি সামনে এসেছে। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা মস্কোর নেই। বরং কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সেবা কার্যক্রমে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ, যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট কর্মীর সংখ্যা ৭০০ জনে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রটিতে নতুন কয়েকটি বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত এই সহযোগিতার খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো সফর করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন। এর আগে, সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রোসাটমের প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে ছোট ও বড় আকারের আরও বেশ কয়েকটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমা নানা বিধি-নিষেধের মুখেও রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক খাতের কৌশলগত মিত্রতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব
আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা
প্রেমিককে বিয়ে করার দাবিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। পরিবারের আপত্তির কারণে বিয়ে না হওয়ায় টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি। পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার পর নিচে নামতে রাজি হন তরুণী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণীর নাম সাহিবা বেগম। তিনি মেহেক নামেও পরিচিত। তাঁর প্রেমিক নুরউদ্দিনের বয়স ২১ বছর। কাজের জন্য নুরউদ্দিন তখন বাহরাইচ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেক ও নুরউদ্দিন বিয়ে করতে চাইলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের বিরোধিতা করছিলেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান মেহেক। এমনকি বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নুরউদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। দুই পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে তাঁদের নিকাহ সম্পন্ন হয়। মুম্বাইয়ে থাকা নুরউদ্দিন অনলাইনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। নিকাহের পর মেহেক টাওয়ার থেকে নেমে আসতে রাজি হন। পরে পুলিশ মেহেক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মেটানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি ও বিয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং অনলাইনে নিকাহের মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাতি-নাতনির দেখাশোনা করলেই পেনশনে মিলবে ৭ হাজার পাউন্ডের সুবিধা, আয়ের নতুন সুযোগ
ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নি হত ১৪, মিত্রদের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন জেলেনস্কি