সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৩:৪০
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ কোর্সে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণেই জ্বালানির এই সংকট তৈরি হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ভূমিকা নেই, বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতই এর মূল কারণ।

 

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬.০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের জুনে, অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ছিল ৫.৮২ ডলার। অথচ চলতি বছরের মার্চ মাসেও প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৪ ডলারের নিচে ছিল।

 

মূলত যাত্রীবাহী গাড়ি পেট্রোলে চললেও বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই ডিজেলনির্ভর। বড় ট্রাক, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, ট্রেন ও বিশাল পণ্যবাহী জাহাজগুলো এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, ডিজেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্যের ওপর গিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

রাশিয়ার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসটি ধ্বংস করতে গত কয়েক মাস ধরে দেশটির তেল ও গ্যাস শোধনাগারগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে মস্কো বাধ্য হয়ে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলার কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

 

সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সক্ষমতার ৯৮ শতাংশ ব্যবহার করে কাজ করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন এবং তাকে ডিজেল স্থাপনা বাদে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

তবে কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস থেকে আসা অর্থ সরাসরি মস্কোর সামরিক আগ্রাসনে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই তারা এই দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রেখেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৮ মিনিট হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ফিল জাইবেল। ছবি: সংগৃহীত
২৮ মিনিট হার্টবিট বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফেরেন তিনি, জানান মৃত্যুর সময় যা যা দেখেছেন

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২৮ মিনিট হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকার পরও বেঁচে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যক্তি। ফিল জাইবেল নামের ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, অচেতন অবস্থায় তিনি নিজের শরীরকে ওপর থেকে দেখতে পেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, অভিজ্ঞতাটি এমন ছিল যেন তিনি শরীরের বাইরে অবস্থান করছেন। মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবন সম্পর্কে চিন্তাভাবনাই বদলে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।   অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের জিলং শহরের বাসিন্দা ফিল জাইবেল একজন ফিটনেস ও তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষক। ২০২২ সালের নভেম্বরে বন্ধুদের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলার সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে জানা যায়, তাঁর হৃদযন্ত্রের করোনারি ধমনিতে অ্যানিউরিজম বা অস্বাভাবিক স্ফীতির সমস্যা ছিল। এর ফলে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।   ঘটনার সময় জিমে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছেলে জশুয়া। বাবাকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে তিনি দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবায় ফোন করেন। সৌভাগ্যক্রমে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দায়িত্বের বাইরে থাকা একজন নার্স। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করেন। সিপিআরের মাধ্যমে বুকের ওপর চাপ প্রয়োগ করে শরীরে রক্ত চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।   হাসপাতালে নেওয়ার পরও ফিলের অবস্থা গুরুতর ছিল। তিনি টানা তিন দিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে স্টেন্ট বসানো হয়। জ্ঞান ফেরার পর চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানতে পারেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় প্রায় ২৮ মিনিট তাঁর হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে ওই সময়ের পুরোটা জুড়ে তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল কি না, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   সুস্থ হওয়ার পর ফিল জানান, অচেতন অবস্থায় তাঁর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তিনি অনুভব করেছিলেন, যেন নিজের শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেছেন এবং ওপর থেকে নিজেকেই দেখছেন। এ ধরনের অভিজ্ঞতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স বা মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার অভিজ্ঞতা বলা হয়। তবে তাঁর ব্যক্তিগত বর্ণনা দিয়ে মৃত্যুর পর মানুষের সঙ্গে কী ঘটে, সে বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার জিলং অ্যাডভার্টাইজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিল নিজেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, এই ঘটনার পর জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। আগে যেসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন, এখন সেগুলোকে ততটা গুরুত্ব দেন না। বরং জীবনের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানো এবং নিজের পছন্দের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   ফিলের দাবি, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ইতিবাচক মানসিকতা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি বাড়ি ফেরেন। পরে আবার খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। এমনকি ছেলের সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেন। মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে খেলাধুলা থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করেছে।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং স্থায়ী মৃত্যু এক বিষয় নয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় হৃদযন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দিলেও দ্রুত সিপিআর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে ব্রেন ডেথ বলা হয়। ব্রেন ডেথ থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার কোনো স্বীকৃত চিকিৎসাগত নজির নেই।   নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা দীর্ঘদিনের। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিছু রোগী শরীরের বাইরে থাকার অনুভূতি, উজ্জ্বল আলো দেখা কিংবা অস্বাভাবিক শান্তি অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। গবেষকেরা এসব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্রম, অক্সিজেনের ঘাটতি, স্মৃতি এবং চেতনার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিজ্ঞতার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এগুলো মৃত্যুর পর অন্য কোনো জগতের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়।   ফিলের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল দ্রুত জরুরি সহায়তা পাওয়া। তাঁর ছেলে সময়মতো চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত নার্স সিপিআর শুরু করেন। ফিল নিজেও মনে করেন, বাস্কেটবল খেলার সময় আশপাশে মানুষ উপস্থিত না থাকলে তাঁর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা অনেক কমে যেত।   এই অভিজ্ঞতার পর তিনি সাধারণ মানুষকে সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র, জিম এবং খেলাধুলার স্থানে ডিফিব্রিলেটর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ডিফিব্রিলেটর এমন একটি চিকিৎসাযন্ত্র, যা নির্দিষ্ট ধরনের বিপজ্জনক হৃদস্পন্দনের সমস্যায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ হাসপাতালের বাইরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। এসব ঘটনার বড় একটি অংশ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। দ্রুত সিপিআর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।   ফিল জাইবেলের অভিজ্ঞতা মৃত্যুর পর কী ঘটে, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। তবে তাঁর ঘটনাটি দেখিয়েছে, হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলেও সময়মতো জরুরি চিকিৎসা পেলে বেঁচে ফেরার সুযোগ থাকে। নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এখন অন্যদের সিপিআর শেখার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১:৪৮
খাবারের অপচয় রোধ ও খাদ্যসহায়তায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাইহানা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মানবসেবায় প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাইহানা আহমেদ

লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণে ২ বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ, ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের অভিনব জবাব দিয়েছে নরওয়ের পর্যটন সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব

ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় একটি নাপিতের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছেন ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা। ব্রিটেনে ভিজিট ভিসায় প্রবেশ করে কাজের অনুমতি ছাড়াই তিনি ওই দোকানে কর্মরত ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের সময় দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। ঘটনাটি ব্রিটেনজুড়ে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই নাপিতের দোকানে অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য পেয়েছিলেন। এরপর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন কর্মী দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁকে আটক করে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ভিজিট ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সাধারণ ভিজিট ভিসায় দেশটিতে চাকরি করা কিংবা নিয়মিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার অনুমতি থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত কার্যক্রমের ব্যতিক্রম থাকলেও সাধারণভাবে নাপিতের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করা ভিজিট ভিসার আওতায় পড়ে না। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাজের বৈধ অনুমতি যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাজ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে পারে। তবে রমফোর্ডের ওই দোকানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি।   ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগের আগে তাঁর যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হয়। এই প্রক্রিয়া ‘রাইট টু ওয়ার্ক চেক’ নামে পরিচিত। প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়া অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে। তবে জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী রেকর্ড, নিয়ম লঙ্ঘনের ধরন এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর।   যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগ তদন্তে দেশজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান ও পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২২ শতাংশ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযানের সংখ্যা ১১১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত হালনাগাদ মোট হিসাব নয়।   ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগে ৭ হাজার ২৭০টি অভিযান পরিচালনা করে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। এসব অভিযানে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে অবৈধ কর্মী নিয়োগের ঘটনায় এক হাজার ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব জরিমানার সম্ভাব্য মোট পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অভিযান ও গ্রেপ্তার উভয়ই বেড়েছে।   ব্রিটিশ সরকার বিশেষভাবে নাপিতের দোকান, গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান, নখের সৌন্দর্যচর্চার দোকান, ছোট রেস্টুরেন্ট এবং নগদ অর্থের লেনদেন বেশি হয় এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কর্মসংস্থান, শ্রমিক শোষণ এবং অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব খাতের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, এমন নয়। তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে সরকার।   অবৈধ অভিবাসন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় ব্রিটিশ পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ যৌথভাবেও অভিযান চালাচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন লকস্ট্রিম’ অভিযানে দেশজুড়ে ৪৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশকে অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। অভিযানে বিভিন্ন সড়ক ও পরিবহনপথে ছয় হাজারের বেশি গাড়ি পরীক্ষা করা হয় এবং অপরাধসংক্রান্ত সন্দেহে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়।   যুক্তরাজ্যে ভিজিট ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পর্যটন বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে ব্রিটেনে যান। তবে ভিজিট ভিসা থাকার অর্থ দেশটিতে সাধারণ চাকরি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আবেদন এবং বর্তমান অভিবাসন অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   একইভাবে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট, নাপিতের দোকান ও অন্যান্য ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও কর্মীদের রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। কর্মী নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র যাচাই না করলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো কর্মীকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপরাধী সাব্যস্ত হয় না। অভিযোগের ধরন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   রমফোর্ডের এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁকে ইতিমধ্যে ডিপোর্ট করা হয়েছে কিংবা আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট নাপিতের দোকানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জরিমানার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি ব্রিটেনে অবৈধ কর্মসংস্থান মোকাবিলায় চলমান কঠোর অভিযানের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের হোম অফিস, ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৮:৩৬
দুই বাংলাদেশি

১৩ বছরের কিশোরীকে ধ র্ষ ণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশির খোঁজে লন্ডন পুলিশ

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব

কাতারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ফলাফল প্রভাবিত করতে অর্থায়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে দোহা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে কাতার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে।   কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রমে অর্থায়নের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় কাতারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন, যা একইসঙ্গে হাস্যকর ও বিপজ্জনক।   সম্প্রতি ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহের বিষয়টি সামনে আনেন দেশটির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোহলবার্গ। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ জানানোর পরই বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক কাতারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এর কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দোহার পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি জানানো হলো।   বিবৃতিতে আল-আনসারি স্পষ্ট করে দেন যে, ইসরায়েলে নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। দোহা জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের অপপ্রচার কাতারকে মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন থেকে কোনোভাবেই বিরত রাখতে পারবে না।   এদিকে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটের ১২০টি আসনের নির্বাচনে কোনো প্রধান রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে।   সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন বা ম্যাজিক ফিগার কোনো পক্ষেরই না থাকায় ক্ষমতার নতুন এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং নতুন সরকার গঠনে আরব আইনপ্রণেতারাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৪৭
আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা

আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা

প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচে ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল টাওয়ারে ওঠেন এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের দাবিতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে তরুণী, অনলাইন নিকাহের পর নামলেন নিচে

যুক্তরাজ্যে নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করা দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের জন্য বাড়তি স্টেট পেনশনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নাতি-নাতনির দেখাশোনা করলেই পেনশনে মিলবে ৭ হাজার পাউন্ডের সুবিধা, আয়ের নতুন সুযোগ

0 Comments