নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, সামনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতপার্থক্য
নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈঠকে বসেছেন। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্মেলনটি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জোটটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করা এবং বিশ্বব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী বা মাল্টিপোলার করার লক্ষ্য সামনে রাখছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা এখন ১১ এবং জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে প্রতিনিধিত্ব করে।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধই সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইরান ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ জোটটির ভেতরের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকায় এবং চীন, ভারত ও অন্যান্য সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে ব্রিকসের জন্য অভিন্ন অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে একটি যৌথ অবস্থান তৈরি করা জোটটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে মতপার্থক্যের মধ্যেও ব্রিকস নিজেদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। জোটটির অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বাড়ানো এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে আরও বিকল্প তৈরি করা।
সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে নয়াদিল্লির চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। ফলে ভারত ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে না দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
ব্রিকসের সম্প্রসারণ জোটটির বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ালেও একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলো একই প্ল্যাটফর্মে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তারপরও ব্রিকস নেতারা গ্লোবাল সাউথের জন্য আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে ব্রিকস কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যের বার্তা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও কতটা বাড়াতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreআয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ কোর্সে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণেই জ্বালানির এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ভূমিকা নেই, বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতই এর মূল কারণ। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬.০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের জুনে, অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ছিল ৫.৮২ ডলার। অথচ চলতি বছরের মার্চ মাসেও প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৪ ডলারের নিচে ছিল। মূলত যাত্রীবাহী গাড়ি পেট্রোলে চললেও বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই ডিজেলনির্ভর। বড় ট্রাক, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, ট্রেন ও বিশাল পণ্যবাহী জাহাজগুলো এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, ডিজেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্যের ওপর গিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাশিয়ার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসটি ধ্বংস করতে গত কয়েক মাস ধরে দেশটির তেল ও গ্যাস শোধনাগারগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে মস্কো বাধ্য হয়ে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলার কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সক্ষমতার ৯৮ শতাংশ ব্যবহার করে কাজ করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন এবং তাকে ডিজেল স্থাপনা বাদে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস থেকে আসা অর্থ সরাসরি মস্কোর সামরিক আগ্রাসনে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই তারা এই দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রেখেছে।
তিউনিসিয়ায় ঝড়ের কবলে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মৃ ত্যুভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ
প্রেমিকার পেছনে কোটি টাকা খরচ, ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতে হেরে গেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, সামনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতপার্থক্য
হংকংয়ে ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশাল হাই-টেক হাব গড়ে তুলতে অন্তত ২৫টি গ্রাম উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। ‘নর্দার্ন মেট্রোপলিস’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় হংকংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন তৈরি এবং মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে হংকংয়ের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করা। পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় গ্রাম, জলাভূমি ও কৃষিজমিকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রকল্পটির কারণে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করা গ্রামগুলোর অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হচ্ছে। ৭১ বছর বয়সী চ্যান ইউক-তং এমনই একজন। হংকংয়ের উত্তরের একটি গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় নিজের ছোট নীল ইটের বাড়িতেই কাটানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের জন্য তার বাড়িও ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর বা ৭৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে। অঞ্চলটির আয়তন হংকংয়ের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। এই এলাকায় বর্তমানে গ্রাম, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাভূমি রয়েছে। ভূমি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন লিবার রিসার্চ কমিউনিটির হিসাবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ২৫টি গ্রাম ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হবে। হংকং সরকার নর্দার্ন মেট্রোপলিসকে শহরটির নতুন অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে তুলে ধরছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি হংকংকে ম্যাকাও এবং চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রেটার বে এরিয়ার নয়টি শহরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তি, শিল্প, আবাসন ও লজিস্টিকস খাতকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লিবার রিসার্চ কমিউনিটির প্রতিনিধি ব্রায়ান ওংয়ের মতে, আগে তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকা এলাকায় নতুন শহর গড়ে তুললে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, উন্নয়নের ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক জলাভূমি এবং দীর্ঘদিনের গ্রামীণ জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাগুলোকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু পুরোনো বাড়ি ও বসতিকে সংরক্ষণযোগ্য সাংস্কৃতিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে, সেগুলোর অনেককেই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরিয়ে দিতে হচ্ছে। গ্রামবাসীদের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী নিকি সো তিন প্রজন্ম ধরে যে গ্রামে তার পরিবার বসবাস করেছে, সেখানকার বাড়ি হারিয়েছেন। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি সরকারি আবাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে নতুন বাড়ি পেলেও পুরোনো গ্রামের প্রতিবেশী ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে ভূমি বিভাগের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা নিকি সোদের এলাকায় গিয়ে সেটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ উন্নয়ন প্রকল্পটি সফল হওয়ার আশা করছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর প্রকল্পটি প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে বহু বছরের বসতভিটা হারানোর ত্যাগটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে। নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ২২৪ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৬০ বিলিয়ন হংকং ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হংকং কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ব্যাংকগুলোর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি হংকংয়ের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারে। ইতোমধ্যে নর্দার্ন মেট্রোপলিস এলাকায় বড় ধরনের ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসে প্রকল্পের আওতায় প্রথম বড় আকারের ভূমি বিক্রির চুক্তি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে দেওয়া হয়। ওই কনসোর্টিয়ামে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স কোম্পানি জেডি ডটকম রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবাসন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রকল্পটির পেছনে হংকংয়ের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে শহরটির সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেনঝেন ও হাংঝুর মতো প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও হংকংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার হংকংকে আলাদা সুবিধা দিতে পারে। নর্দার্ন মেট্রোপলিসের মাধ্যমে হংকং নতুন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বহু পুরোনো গ্রাম ও বসতিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পটির সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত হংকংয়ের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং এর জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: এএফপি
মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টিতে বন্ধের নোটিস, শোকজ আরও ১০০টি
বিমানের জানালা ভেঙে যাত্রী ‘বাইরে চলে যান’, দাবির আপত্তি রায়ানএয়ার সিইও
কোরিয়ান বিয়েতে খাবারের আগে দিতে হয় উপহার, টোকেন না থাকায় আটকে গেলেন ভারতীয় নারী
দক্ষিণ ইসরায়েলের কেতজিওত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর গুরুতর নি র্যা ত নে র অভিযোগের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসের অনুসন্ধানে কারারক্ষীদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, তদন্ত নথি ও সাক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ফিলিস্তিনি বন্দি থায়ের আবু আসাবের মৃ ত্যু র ঘটনাও রয়েছে। আবু আসাব তখন কেতজিওত কারাগারে ২৫ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। তদন্ত ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সন্ধ্যার গণনার সময় তাঁকে ও একই সেলের অন্য ব ন্দি দে র মা র ধ র করা হয়। পরে আবু আসাব অচেতন হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃ ত্যু হয়। ইসরায়েলি প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মা র ধ রের ফলে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে গুরুতর আঘাত লাগে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃ ত্যু র কারণ হয়। ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তদন্তে বলা হয়েছে, আবু আসাব এক কারারক্ষীকে গাজা যুদ্ধের কোনো যুদ্ধবিরতি হয়েছে কি না জানতে চেয়েছিলেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই প্রশ্নের পর শিফট কমান্ডার ওয়ালিদ খাতিব বন্দিদের সেলে ঢুকে তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেও হা ম লা য় অংশ নেন। ঘটনার সময় ও পরে কারারক্ষীদের মধ্যে আদান-প্রদান করা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলো তদন্তকারীদের হাতে আসে। একটি বার্তায় এক নারী কারারক্ষী তাঁর সঙ্গীকে জানান, আবু আসাবকে মা র ধ রের পর কারাগারের ক্লিনিকে তাঁর ওপর সিপিআর চলছে। পরে আরেক বার্তায় ব ন্দি টির মৃ ত্যু র খবর জানানো হয়। এসব বার্তায় কারাগারে বন্দিদের ওপর মা র ধ র নিয়ে কারারক্ষীদের আলোচনার তথ্যও রয়েছে। হারেৎসের অনুসন্ধানে আরও কিছু বার্তার কথা উঠে এসেছে, যেখানে কারারক্ষীরা নতুন বন্দিদের ওপর মা র ধ রের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট এক কারারক্ষী তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেন, কিছু বার্তা তিনি বন্ধুকে প্রভাবিত করার জন্য অতিরঞ্জিত করে লিখেছিলেন। ফলে এসব বিস্তৃত নি র্যা ত নে র দাবি পৃথকভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। আবু আসাবের মৃ ত্যু র ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইসরায়েলি প্রসিকিউটররা ১২ জন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘রেকলেস হোমিসাইড’ বা বেপরোয়া হ ত্যা কা ণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি অন্য বন্দিদের ওপর গুরুতর হা ম লা র অভিযোগও আনা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আবু আসাবের শরীরে হৃদ্যন্ত্রের দেয়ালে গুরুতর ক্ষত ও কয়েকটি পাঁজর ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। এসব আঘাতের ফলে হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃ ত্যু হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কারারক্ষীদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি প্রমাণ করা কঠিন হবে বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনাকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের আচরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃ ত্যু র ঘটনায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ফৌজদারি অভিযোগ তুলনামূলকভাবে বিরল। মামলাটি এখন ইসরায়েলি আদালতে বিচারাধীন।
পুতিনের জন্য দিল্লিতে একসঙ্গে দুই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’, ভেতরে কী আছে
পুতিন-জিনপিংরা আসতেই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি!