কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
কানাডার নাগরিক জ্যাকুলিন মুসা, যিনি জ্যাকি নামেই বেশি পরিচিত, একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উপলব্ধির পর ২০১১ সালে তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার এই ধর্মান্তরিত হওয়ার গল্পটি বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে 'দ্য রিলিজিয়ন অব ইসলাম'-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্কাইভে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনযাত্রা সংরক্ষিত রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি বক্তব্য বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ইসলামে 'ব্যাপক সম্মান' পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে অন্যান্য ধর্মান্তরিত নারীদের মতো তিনিও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
জ্যাকুলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম তার ব্যক্তিগত যুক্তি, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসা অনেক নারীই প্রায়শই এমন সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, এই ধর্মটি তাদের যে সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের স্বচ্ছতা প্রদান করেছে, তা সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয়।
জ্যাকুলিনের এই ধর্মান্তরের কাহিনি ও প্রাসঙ্গিক ভিডিওগুলো বর্তমানে ইউটিউবে '#thequranmotivation' হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা ও তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ভিডিওর কিছু ছবিতে সামান্য সম্পাদনা বা এডিটিং করা হলেও জ্যাকুলিনের মূল বক্তব্য এবং তার ইসলাম গ্রহণের পুরো কাহিনিটি সম্পূর্ণ খাঁটি ও প্রামাণিক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে কোনো যুদ্ধ চলছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজ প্রণালিতে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জবাবে সীমিত পরিসরে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। তবে একই দিনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জয়ী হয়েছে এবং কয়েক মাস ধরে বড় ধরনের কোনো লড়াই চলছে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল। সেই হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব অভিযান মূলত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। বড় ধরনের যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে, এমন বার্তা এড়াতে অভিযানগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হামলার খবর সামনে আসার আগে সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছে, তবে কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই চলছে না। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি না বলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে নতুন সামরিক অভিযানের খবরের পার্থক্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে আত্মরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করছেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় টানা তিন দিন পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের ভবিষ্যৎ। তবে সোমবার পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কয়েক দফা ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়েই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় এবং একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। আঞ্চলিক কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আরও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প সোমবার নতুন হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাসের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসোলিনের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ছিল ৪ ডলার ১৭ সেন্ট। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ট্রাম্পও তেলের দাম কমার বিষয়টি তুলে ধরে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন হামলা এবং একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ওয়াশিংটন বলছে, সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও যুদ্ধ ও কূটনীতি, উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হবে, নাকি সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, নিউজউইক, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ২ নভেম্বর ২০২৬।
অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম করে প্রতারণা এবং সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেলের মামলা
বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের ফ্রান্সে পাচার, ২১ জনের মোট ৮৪ বছরের বেশি কারাদণ্ড
মোবাইলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলার বার্তা, হ্যাকারদের কবলে ইউক্রেনের জরুরি অ্যাপ
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী এক শিখ নারী। মুসলিম প্রতিবেশীদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে নিজের পাঁচ মারলা জমি দান করেছেন বিবি রাজিন্দর কৌর। শুধু তিনিই নন, মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া এই উদ্যোগ সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে। পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। চণ্ডীগড় থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের গ্রামটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিখ, হিন্দু ও মুসলমানরা পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। গ্রামে গুরুদুয়ারা, শিবমন্দির ও দরগাহ থাকলেও মুসলমানদের জন্য কোনো মসজিদ ছিল না। ফলে নামাজ আদায় করতে তাঁদের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের মুল্লানপুর গ্রামে যেতে হতো। মুসলিম প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের এই অসুবিধার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন রাজিন্দর কৌর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের পাঁচ মারলা জমি দানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বর্গফুট আয়তনের জমিটি স্থানীয় মসজিদ কমিটির নামে নিবন্ধন করা হয়। জমিটি গ্রামের অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার কাছেই অবস্থিত। রাজিন্দর কৌর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিখ ধর্মের শিক্ষায় মানবসেবার গুরুত্ব রয়েছে। সেই আদর্শ থেকেই তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের জন্য জমি দিয়েছেন। তাঁর আশা, গ্রামের মুসলমানদের আর নামাজের জন্য অন্য গ্রামে যেতে হবে না। এই উদ্যোগে তিনি মানসিক প্রশান্তি পেয়েছেন বলেও জানান। তাঁর নাতি মনু সিং স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য। তিনি জানান, গ্রামের মুসলমানদের জন্য মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সরকারি জমিতে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ না থাকায় ব্যক্তিগত জমি দানের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি। আরেক নাতি সতনাম সিং বলেন, গ্রামের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একে অপরের ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন। মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্মাণকাজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান লুধিয়ানভি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি কালা খান বলেন, জাখওয়ালি গ্রামের মানুষের মধ্যে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ নেই। সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। মসজিদ নির্মাণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতাকে তিনি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ঘটনা নিয়ে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামে শিখ, হিন্দু ও মুসলমানদের সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণ এবং পুরোনো মসজিদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে জাখওয়ালির রাজিন্দর কৌরের জমি দানও সেই সম্প্রীতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সংবাদসূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষার সময়সীমা ৫ থেকে ১০ বছর করার পরিকল্পনা
গাজায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার বিতরণ করল সৌদি আরব
সোভিয়েত পতনের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা, গ্যাসসংকটে পড়তে পারে ইরান
ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অনুপ্রবেশ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আসামে আসুন, আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’ তাঁর এই মন্তব্য ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের চলমান রাজনৈতিক বিরোধে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই মন্তব্য করেন। এর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন রাহুল গান্ধী। সেই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আক্রমণ করেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এখানে কোনো জায়গা নেই। রাহুলজি, বাংলাদেশিদের প্রতি আপনার যদি এতই দরদ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে যান। সেখানে গিয়ে নির্বাচন লড়ুন।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আপনি বরং আসামে আসুন। আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট নয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গও টানেন হিমন্ত। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আসামে এলে তাঁরা রাহুলের জন্য প্যারাসুটে অবতরণের ব্যবস্থা করবেন। ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম ইস্যু। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিজেপির নেতারা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো নাগরিকত্ব যাচাই ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি পদক্ষেপের বাস্তবায়ন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একইভাবে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়। কারও নাগরিকত্ব বা অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। এদিকে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আর কখনো ভারতে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। তিনি বলেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে। ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র ব্যবহার করেই ভোটাররা সরকার পরিবর্তন করেন। ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে হিমন্ত বলেন, দলটি শুধু ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রে নয়, ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও পরাজিত হচ্ছে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিরোধী জোট। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে রাহুল অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন। কিন্তু মনে রাখতেহবে, যে-ই হোন না কেন, সংবিধানের চেয়ে বড় কেউ নন।’ তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। রাহুলের বক্তব্যের পর বিজেপির নেতারা পাল্টা সমালোচনা শুরু করেন। এর মধ্যেই আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশে পাঠানোর মন্তব্য সামনে আসে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে এমন মন্তব্যের ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে প্রতিবেশী দেশটির প্রসঙ্গও। তবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য একটি রাজনৈতিক মন্তব্য। রাহুল গান্ধীকে বাংলাদেশে পাঠানোর কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার তথ্য এতে পাওয়া যায়নি। এই বক্তব্যের বিষয়ে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ধর্মগুরুকে ফাঁসাতে তোশকের নিচে মাদক রাখলেন পুলিশ কর্মকর্তা, ক্যামেরায় ধরা পড়ে বরখাস্ত
যুক্তরাজ্যে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ, পুরস্কারের জন্য মনোনীত সিলেটি সাহেদা