ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই অভাবনীয় প্রতিশ্রুতিতে খোদ রিপাবলিকান মিত্ররাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এই নীতি তদারকির দায়িত্বে থাকা সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।
সাধারণ ভোটাররাও ট্রাম্পের এই আশ্বাসকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। নর্থ ক্যারোলিনার এক বাসিন্দা, যিনি আগে তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে তার হতাশার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি এখনও আমার শুল্কের চেকের (ট্যারিফ চেক) জন্য অপেক্ষা করছি, আর অপেক্ষা করছি কবে জ্বালানি তেলের দাম কমবে।"
তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের আগের অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কট্টর সমর্থক ও ভোটাররা এখন তার নতুন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস সহজে বিশ্বাস করতে চাইছেন না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটারদের কাছে পাঠানো এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক প্রচারপত্র আটকে রাখার অভিযোগে এক ডাককর্মীর বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। স্যাক্রামেন্টো শহরে কর্মরত ৩৫ বছর বয়সী অ্যান্টোইন রাশাদ পোলাইটের বিরুদ্ধে সরকারি ডাক বিতরণে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ও বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের প্রচারপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল পোলাইটের। কিন্তু তিনি এক হাজারের বেশি ডাকসামগ্রী নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে দেননি। এসব প্রচারপত্র ভোটারদের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পোলাইটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং ডাক বিতরণ বিলম্বিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ প্রার্থীদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভোটসংক্রান্ত তথ্য ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে ডাকব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পোলাইট তাঁর নির্ধারিত ডেলিভারি রুটের বাসিন্দাদের উদ্দেশে পাঠানো বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক প্রচারপত্র আটকে রাখেন। ডাক বিভাগের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে প্রায় ৪৯৩টি প্রচারপত্র এমন একটি স্থানে খুঁজে পায়, যেখানে সাধারণত ভুল ঠিকানা বা বিতরণ করা সম্ভব নয়, এমন বাণিজ্যিক ডাকসামগ্রী রাখা হয়। অথচ এসব প্রচারপত্রের ঠিকানা বৈধ ছিল এবং সেগুলো পোলাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যেই পড়েছিল। পরবর্তী তদন্তে আরও ৫২৭টি রাজনৈতিক প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়। সেগুলোর কিছু পাওয়া যায় বিতরণযোগ্য নয় এমন ডাকসামগ্রীর কনটেইনারে, আর বাকিগুলো পাওয়া যায় পোলাইটের দায়িত্বে থাকা ডাক বিভাগের গাড়িতে। তদন্তকারীদের দাবি, অনেক খামের ঠিকানা কেটে দেওয়া হয়েছিল। কিছু খামে সংশ্লিষ্ট বাড়ি খালি অথবা ঠিকানায় ডাক পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে চিহ্ন দেওয়া হয়েছিল। তবে ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখেন, ঠিকানাগুলো সঠিক এবং সেখানে ডাক বিতরণ করা সম্ভব ছিল। আটকে রাখা প্রচারপত্রগুলোর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রার্থী এবং ব্যালটে থাকা প্রস্তাবসংক্রান্ত প্রচারসামগ্রী ছিল। তবে এসব প্রচারপত্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে লক্ষ্য করে আটকে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রসিকিউটররা কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা প্রচারপত্রগুলোর অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে সব প্রচারপত্র নির্বাচনের আগে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল। ফেডারেল প্রসিকিউটর কেভিন খাসিগিয়ান মামলাটি পরিচালনা করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডাক বিতরণে বাধা সৃষ্টির অপরাধে পোলাইটের সর্বোচ্চ ছয় মাস এবং ডাক বিতরণ বিলম্বিত বা ডাকসামগ্রী নষ্ট করার অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট আইন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, পোলাইটের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস, ২ নভেম্বর ২০২৬; সিবিএস স্যাক্রামেন্টো।
সাবেক সেনাসদস্যদের বসবাসের পছন্দের শহর: চাকরি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকা শহরের তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবার মৃত্যু, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু
২০ বছর চোখের মেকআপ না তুলেই ঘুমাতেন, এখন দীর্ঘস্থায়ী চোখের রোগে ভুগছেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়ার একটি আইনের বাস্তবায়নবিধি পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান ও প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত কোন কোন পরিস্থিতিতে কর্মীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন, তার পরিধি সংকুচিত হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো পরিবর্তন কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে সব কর্মীর জন্য বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির নিশ্চয়তা না থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ২ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনের বরাতে নিউজউইক জানিয়েছে, ২০২২ সালে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া ‘প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট’ বা গর্ভবতী কর্মীদের ন্যায্যতা আইনটির বাস্তবায়নবিধি সংশোধনের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন বা ইইওসি এ বিষয়ে নতুন বিধিমালা প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত কর্মপরিকল্পনায় চলতি নভেম্বরেই প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান কিংবা এ-সংক্রান্ত শারীরিক সমস্যার কারণে কোনো কর্মী কাজ করতে অসুবিধায় পড়লে নিয়োগকর্তাকে যুক্তিসংগত কর্মপরিবেশ বা কাজের ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দিতে হয়। যেমন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিরতি, পানি পান বা বিশ্রামের সুযোগ, ভারী জিনিস তোলা থেকে সাময়িক অব্যাহতি কিংবা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য ছুটি। কর্মীর প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক চাপ তৈরি না হলে নিয়োগকর্তার এ দায়িত্ব পালন করতে হয়। সাধারণত ১৫ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে, এমন বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনটি প্রযোজ্য। আইনটির বাস্তবায়নবিধি নিয়ে মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে ‘গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাগত অবস্থা’ বলতে ঠিক কোন কোন বিষয় বোঝানো হবে, তা নিয়ে। বাইডেন প্রশাসনের সময় ইইওসি ২০২৪ সালে যে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করেছিল, তাতে গর্ভপাত করানো বা না করানোর সিদ্ধান্তসহ প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত কিছু পরিস্থিতিকেও কর্মক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার আওতায় রাখা হয়েছিল। বর্তমান ইইওসি চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়া লুকাস তখন কমিশনার ছিলেন এবং ওই বিধিমালার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইনের মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে বিধিমালার পরিধি বেশি বিস্তৃত করা হয়েছে। এ নিয়ে আইনি বিরোধও চলছে। ২০২৫ সালের মে মাসে লুইজিয়ানার একটি ফেডারেল আদালত বাইডেন প্রশাসনের বিধিমালায় গর্ভপাত-সম্পর্কিত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা দেওয়ার অংশটি বাতিল করে। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, গর্ভবতী কর্মীদের ন্যায্যতা আইনটি গর্ভপাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। তবে ওই রায় পুরো আইন বাতিল করেনি; গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের কারণে কর্মীদের অন্যান্য যুক্তিসংগত সুবিধা পাওয়ার বিধান বহাল রয়েছে। আইনটির পরিধি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। দেশটির ফেডারেল আইনে যোগ্য কর্মীরা সন্তান জন্ম বা নির্দিষ্ট পারিবারিক ও চিকিৎসাগত কারণে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ চাকরি সুরক্ষিত রেখে ছুটি নিতে পারেন। কিন্তু এই ছুটি সাধারণত বেতনহীন। ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা না থাকলেও ছুটির সময় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য দীর্ঘ সময় কর্মস্থলের বাইরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুবিধা পেতে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৬ সালের মার্চের হিসাব অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের ৪৯ শতাংশ কর্মীর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বেতনসহ পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত ছুটির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু মাতৃত্বকালীন ছুটির হিসাব নয়; এতে নিজের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যের পরিচর্যার জন্য বেতনসহ ছুটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতের অর্ধেকের বেশি কর্মীর এমন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা নেই। যুক্তরাজ্যে যোগ্য মায়েরা সর্বোচ্চ ৩৯ সপ্তাহ পর্যন্ত বিধিবদ্ধ মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে পারেন। কানাডায় যোগ্য মায়েদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ভাতা রয়েছে, এরপর শর্ত অনুযায়ী অভিভাবকত্বকালীন ভাতাও পাওয়া যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তন প্রকাশিত হলে গর্ভবতী কর্মীদের জন্য কোন কোন সুবিধা বহাল থাকবে, তা আরও স্পষ্ট হবে। তবে আইনটির বাস্তবায়নবিধি সংশোধন হলেও জাতীয় পর্যায়ে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির নিশ্চয়তা না থাকার বিষয়টি আলাদা সমস্যা হিসেবেই থেকে যাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবী মায়েদের সুরক্ষা নিয়ে বিতর্কটি শুধু কর্মক্ষেত্রে সাময়িক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সন্তান জন্মের পর আয় ও চাকরির নিরাপত্তার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন এবং শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ওয়ালমার্টে ঘণ্টায় ৭০ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ
নিউ ইয়র্কে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার তারিখ ঘোষণা, শুরু ২৮ মে
জর্জিয়ার বাড়ির মালিকদের জন্য সুখবর, সম্পত্তির করযোগ্য মূল্য থেকে কমবে ১৮ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে জব্দ ও পরিত্যক্ত গাড়ি নিলামে বিক্রি করতে যাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। নভেম্বর মাসজুড়ে শহরের পাঁচটি বরোতে কয়েক দফায় এসব নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার পাশাপাশি সংগ্রহে রাখার মতো পুরোনো মডেলের গাড়ি খুঁজছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্যও এটি সুযোগ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গাড়িগুলো যে টো-ইয়ার্ডে রাখা আছে, ক্রেতাকে সেখান থেকেই সেগুলো সংগ্রহ করতে হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিলামে ব্রঙ্কস, কুইন্স, ব্রুকলিন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে রাখা গাড়ি বিক্রি করা হবে। শহর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ সময়সূচিতে নভেম্বরের ৪, ৫, ৬, ১০, ১৩, ১৬, ১৮ ও ১৯ তারিখে নিলামের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ ও ৫ নভেম্বর ব্রঙ্কস ও কুইন্সে, ৬ ও ১০ নভেম্বর ব্রুকলিনে, ১৩ নভেম্বর ব্রঙ্কসে এবং ১৬ নভেম্বর স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী দুটি আয়োজন ১৮ ও ১৯ নভেম্বর কুইন্সে নির্ধারিত হয়েছে। নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে গাড়ির নম্বর অনুযায়ী দর দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতা গাড়িটি কেনার সুযোগ পাবেন। নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়িগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে। গাড়ির চাবি সরবরাহ করা হবে না। ফলে কেনার আগে গাড়ির অবস্থা ও প্রয়োজনীয় মেরামতের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিলামে গাড়ি কেনার পরপরই সম্পূর্ণ মূল্য নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নিজ দায়িত্বে টো-ইয়ার্ড থেকে গাড়ি সরিয়ে নিতে হবে। নিলামের দিন বিকেল ৫টার মধ্যে গাড়ি সরিয়ে না নিলে প্রতিদিন ২০ ডলার করে সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। নিলামের দিন বিকেল ৫টার পর থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি সরানো না হলে সেটিকে আবার পরিত্যক্ত হিসেবে গণ্য করে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। গাড়ি কেনার পর সেটি সরাসরি রাস্তায় পার্ক করা বা চালানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও নম্বরপ্লেট থাকতে হবে। ক্রেতাকে নিলামে গাড়ি কেনার প্রমাণ হিসেবে দেওয়া ‘সার্টিফিকেট অব সেল’ নিয়ে মোটরযান বিভাগের (ডিএমভি) কার্যালয়ে যেতে হবে। সেখান থেকে নিজের নামে গাড়ির মালিকানার সনদ সংগ্রহ করতে হবে। কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন মালিকানার সনদ বা নিবন্ধন দেওয়ার আগে পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব গাড়ি সাধারণত বকেয়া পার্কিং টিকিট বা ট্রাফিক ক্যামেরার জরিমানার কারণে জব্দ করা হয়। গাড়ির মালিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ, জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করে গাড়ি ছাড়িয়ে না নিলে তা নিলামে তোলা হয়। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট খরচ বাদ দিয়ে বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। নভেম্বরের নিলামের সময়সূচি ও গাড়ি কেনার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে নিউ ইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। সেখানে প্রতিটি নিলামের স্থান, সময় এবং অংশগ্রহণের শর্তও প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: পিক্স১১, নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স।
ফ্লোরিডায় ভুয়া ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ চক্রের ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক