- প্রচ্ছদ
- Topic
কানাডা
কানাডার কুইবেক প্রদেশে জনসমক্ষে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শঙ্কা তৈরি করে এমন একটি নতুন নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রদেশের নতুন সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিখ টারবান এবং মুসলিম নিকাবের মতো দৃশ্যমান ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা মূলত শিখ, মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে। অক্টোবর মাসের প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পার্টি কিউবেকোয়া (PQ)—তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মন্ট্রিল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, কুইবেকের শিক্ষামন্ত্রী জোয়েল আরসেনো জানিয়েছেন যে তারা এই ভিত্তির ওপরই নির্বাচিত হয়েছেন এবং সেই অনুযায়ীই কাজ চালিয়ে যাবেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে কুইবেকের বর্তমান প্রিমিয়ার পল সেন্ট-পিয়েরে প্লামন্ডন এই প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, স্কুলে পাঠানো শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই বিষয়টি বুঝবেন যে ধর্মীয় প্রতীকগুলো খুলে রাখা সম্ভব। কুইবেক সরকারের পক্ষ থেকে জনপরিসরে ধর্মীয় অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা নতুন নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিগত কোয়ালিশন অ্যাভেনির কুইবেক (CAQ) সরকার পাবলিক ইউনিভার্সিটি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডে কেয়ার সেন্টারগুলোতে ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এমনকি সড়ক ও জনসমুদ্যানে যৌথ ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সিএকিউ সরকার বিতর্কিত ধর্মনিরপেক্ষতা আইন বা 'বিল ২১' পাস করার মাধ্যমে কুইবেকে ধর্মীয় প্রতীকের ওপর প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনে। সেই আইনে শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারকদের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়, যা বর্তমানে কানাডার সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশনের (CCLA) কুইবেকের মৌলিক স্বাধীনতা বিষয়ক পরিচালক ও মুখপাত্র আনাইস বুসিয়ের ম্যাকনিকোল বলেন, কুইবেক সরকার ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিধি সংকুচিত করে চলেছে। প্রথমত সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু করার পর এবার সরকার সরাসরি কোমলমতি শিশুদের নিশানা করেছে, যা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে বর্জন ও একঘরে করার ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
ইরানের নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একাংশের নীরবতার সমালোচনা করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নারী পারিশাদ কাভিয়ানি। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা আন্দোলনের কিছু সমর্থক ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে একইভাবে সরব নন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, সেখানে মানবাধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। ইরানে জন্ম নেওয়া কাভিয়ানি ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সাবেক আন্দোলনসঙ্গীদের কাছ থেকে সমকামীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান কাভিয়ানি। কাভিয়ানির মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের ইরানি নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও কথা বলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতা চাইলে আন্দোলনের অনেক সমর্থক নীরব থাকেন। কেউ কেউ আবার ইরানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত নয়। ইরানে শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাভিয়ানি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরা হতো। কিন্তু দেশের ভেতরে দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অসুবিধার মতো সমস্যাগুলোও তিনি দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আন্দোলন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন কাভিয়ানি। তাঁর বক্তব্য, ওই হামলার পর কিছু আন্দোলনসমর্থকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে হতাশ করে। তিনি মনে করেন, কারও জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা জিম্মি করে রাখার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের জিম্মি করার বিরোধিতা করা উচিত, যে পক্ষই তা করুক না কেন। এ অবস্থানের কারণে আন্দোলনের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। কাভিয়ানি আরও বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু সমর্থকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষে যায় এমন প্রচার ও বক্তব্য দেখে তিনি আরও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকারের কথা বলা ব্যক্তিদের একটি অংশ নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ কারণে আন্দোলনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা আর ধরে রাখতে চাননি তিনি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে কাভিয়ানির বক্তব্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর আন্দোলন ছাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসর। কাভিয়ানির অভিযোগ আন্দোলনের সব সমর্থক বা সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইরানের নারীদের স্বাধীনতার প্রশ্নগুলো পৃথক হলেও মানবাধিকারের বৃহত্তর আলোচনায় এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়। সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল
কানাডার টরন্টোতে একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ী ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়েকে গুলি করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর স্ত্রীকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে টরন্টোর অভিজাত ব্রাইডল পাথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পোস্ট ও কানাডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার ডেভিড মর্টন টরন্টোভিত্তিক ম্যাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানা জোহিল মর্টন এবং দুই মেয়ে ম্যাগি ও ক্রিস্টিনা জোহিল মর্টনকে নিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করেন। ম্যাক গ্রুপ মূলত রিয়েল এস্টেট, হসপিটালিটি ও করপোরেট হাউজিং খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে। টরন্টোর অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকায় তাঁদের বাড়িটি অবস্থিত। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে হাইড পার্ক সার্কেলের একটি বাড়িতে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি হাতুড়ি ছিল। বাড়িতে ঢোকার পর তারা পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথ জানান, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় হামলাকারীরা একাধিকবার গুলি চালায়। এতে ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় পরিবারের চার সদস্যই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড মর্টন ও তাঁর এক মেয়ের পায়ে গুলি লাগে। অপর মেয়ে বাহুর নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হন। হামলায় আহত চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ প্রথমে দুজনের আঘাত প্রাণঘাতী বলে জানালেও পরবর্তী আপডেটে তাঁদের আঘাত দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কোন দুজনের অবস্থা বেশি গুরুতর, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। হামলার পর তিন দুর্বৃত্ত একটি এসইউভি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। হামলাকারীদের শারীরিক বর্ণনাও প্রকাশ করা হয়নি। বাড়ি থেকে কোনো অর্থ, গয়না কিংবা অন্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ডেভিড মর্টন কিংবা তাঁর পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে বাড়ির আশপাশের সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দাদের কাছেও তথ্য চেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরা, ডোরবেল ক্যামেরা কিংবা গাড়ির ড্যাশক্যামে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা গাড়ির ছবি ধরা পড়ে থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। ব্রাইডল পাথ কানাডার অন্যতম ধনী ও অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বড় বড় বাড়ির অনেকগুলোই উঁচু দেয়াল, নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ব্যক্তিগত সিকিউরিটি ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থিত। এমন একটি এলাকায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টরন্টো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শহরটিতে অন্তত ১১৯টি বাড়িতে অনুপ্রবেশ ও ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে দামি গাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের সন্ধানে আবাসিক বাড়িতে অপরাধীদের প্রবেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন সহিংসতা শুধু আক্রান্ত পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষের নিরাপত্তাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। পুলিশের ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথও বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তে সহায়তা করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, দুর্বৃত্তদের পরিচয় এবং পরিবারের কোনো সদস্যকে আগে থেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আহত পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেদন ফি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তালিকায় অ্যাডলার ইউনিভার্সিটি, অ্যালগনকুইন কলেজ, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিসিআইটি), ক্যামব্রিয়ান কলেজ, সেন্টেনিয়াল কলেজ, জর্জ ব্রাউন পলিটেকনিক, হাম্বার পলিটেকনিক, সেনেকা পলিটেকনিক, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়াসহ মোট ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি নীতিমালা যাচাই করলে দেখা যায়, আবেদন ফি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর ধরন, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, আবেদনের পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের কোনো ফি মওকুফের সুযোগ আছে কি না, তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে, অ্যাডলার ইউনিভার্সিটির কানাডার ভ্যাঙ্কুভার ক্যাম্পাসে আবেদন করতে সাধারণত ৩০ কানাডীয় ডলার ফি দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর ক্ষেত্রে আবেদন ফি না-ও লাগতে পারে। অর্থাৎ একই প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামভেদে ফি দেওয়ার নিয়ম আলাদা। অ্যালগনকুইন কলেজের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় ১৩৫ কানাডীয় ডলার আবেদন ফির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সেন্টেনিয়াল কলেজের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত ফি ১২৫ কানাডীয় ডলার। নিয়াগ্রা কলেজের নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামেও ১৫০ কানাডীয় ডলার আবেদন ফি রয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এ কারণে তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা মানেই সেখানে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে আবেদন করতে পারবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ ভর্তি কার্যক্রম, অনলাইন রিক্রুটমেন্ট ইভেন্ট কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের জন্য সাময়িকভাবে আবেদন ফি মওকুফ করতে পারে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি ক্যাম্পাসে ফি মওকুফ থাকলেও অন্য ক্যাম্পাসে তা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কানাডায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি নির্দেশনা দেখা উচিত। বিশেষ করে আবেদন ফি, আবেদনের শেষ তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আবেদন ফি না লাগলেও কানাডায় পড়াশোনার অন্যান্য খরচ মওকুফ হয় না। টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্টাডি পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকেই করতে হয়। একইভাবে আবেদন ফি ছাড়ের সুযোগ পাওয়া মানেই ভর্তি নিশ্চিত হওয়া বা বৃত্তি পাওয়া নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকাটিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য ও সম্পূর্ণ যাচাইকৃত তালিকা হিসেবে বিবেচনা না করে, নিজের পছন্দের প্রোগ্রাম ও আবেদনকাল অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
আগামী ৩ নভেম্বর (২০২৬) থেকে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। গত ১৬ অক্টোবর কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) এই নতুন নিয়মের ঘোষণা দেয়। নতুন এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব অথবা কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আবেদনকারীরা অতিরিক্ত কমপ্রিহেনসিভ র্যাঙ্কিং সিস্টেম (সিআরএস) পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে যোগ্য চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এলএমআইএ) বাধ্যতামূলক থাকার নিয়মটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকলে আবেদনকারীরা পেশার নির্ধারিত মধ্যম বেতনের ভিত্তিতে ৫০, ৭০ বা সর্বোচ্চ ১০০ পর্যন্ত সিআরএস পয়েন্ট পেতে পারেন। এক্ষেত্রে পেশাটির মধ্যম বেতন কানাডার সামগ্রিক কর্মশক্তির মধ্যম বেতনের ১ দশমিক ৩ গুণ হলে ৫০ পয়েন্ট, ১ দশমিক ৫ গুণ হলে ৭০ পয়েন্ট এবং দ্বিগুণ হলে ১০০ পয়েন্ট মিলবে। তবে এটি ব্যক্তির নিজস্ব বেতনের ওপর নয়, বরং জাতীয় পেশা শ্রেণিবিন্যাস কোড এবং আইআরসিসির তালিকার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় অন্তত ১২ মাসের কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত ২০, ৪০ অথবা ৭০ পয়েন্ট পাওয়া যাবে। প্রচলিত সিআরএস পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই খাতে একজন আবেদনকারী (সঙ্গী ছাড়া) সর্বোচ্চ ১৫০ পয়েন্ট এবং সঙ্গীসহ আবেদন করলে সর্বোচ্চ ১৪০ পয়েন্ট পর্যন্ত অর্জন করতে পারবেন। তবে চাকরির প্রস্তাব ও কাজের অভিজ্ঞতার পয়েন্ট একসঙ্গে যোগ করার সুযোগ নেই; যেটিতে পয়েন্ট বেশি আসবে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। নতুন নিয়মে এলএমআইএ-এর বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হলেও আইআরসিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয়ভাবে ব্যবসা করছে কি না, চাকরির প্রস্তাবটি তাদের প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না এবং আবেদনকারী ওই পদের জন্য যোগ্য কি না—তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন কর্মকর্তারা। ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিলের ঝুঁকিতে পড়বে। এলএমআইএ অব্যাহতি পেলেও ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার বা ট্রেডস প্রোগ্রামের আওতায় চাকরির প্রস্তাবের নির্ধারিত শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেস এন্ট্রি পুলে যুক্ত আছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের প্রোফাইলের স্কোর পুনর্গণনা করা হবে। তবে এর জন্য ৩ নভেম্বরের আগেই আবেদনকারীদের নিজ নিজ প্রোফাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে সঠিকতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইআরসিসি জানিয়েছে, এই পুনর্গণনা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং এই সময়ে নতুন আবেদনকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর ড্র সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। মূলত কানাডার শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করতে এবং প্রকৃত দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) মানব পাচার ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অপরাধে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৬) মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাস্কটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা, স্থায়ী চাকরি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু কানাডায় উন্নত জীবন গড়ার আশায় তিনি দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেস্তোরাঁয় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাসে ২০২২ সালের আগস্টে কানাডায় পৌঁছান তিনি। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। যাঁদের ওপর ভরসা করে তিনি নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে শোষণের পরিস্থিতিতে ঠেলে দেন বলে আদালতের বিচারে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সাসকাচুয়ানের গাল লেক এলাকায় সোহেল হায়দারের পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন ওই নারী। পরে তাঁকে টিসডেল শহরে মোহাম্মদ মাসুমের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তাঁর নামে যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। অথচ তাঁকে জানানো হয়েছিল, অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে তাঁর কর্মসংস্থান, থাকার জায়গা এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মামলার বিচারকালে আরও উঠে আসে, মোহাম্মদ মাসুম ওই নারীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালত তিনটি পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এসব অপরাধকে সাধারণ ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর অসহায় পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মাসুম নিজের যৌন স্বার্থে ওই নারীকে নির্যাতন করেন এবং কয়েকটি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতাও ছিল। অন্যদিকে সোহেল হায়দারকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শোষণের শিকার হওয়ার পর ওই নারীর নামে সাসকাচুয়ানের এলরোজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাত সপ্তাহের শুনানি শেষে চলতি বছরের আগস্টে দুজনকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতে দেওয়া ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্টে নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, কানাডায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন স্বাবলম্বী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার কারণে তাঁর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাকরি এবং প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ করেন তিনি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং মোহাম্মদ মাসুমের জন্য ১৫ বছর এবং সোহেল হায়দারের জন্য সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমের আইনজীবী সাত থেকে নয় বছর এবং হায়দারের আইনজীবী আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন চার বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি ও মামলার তথ্য বিবেচনা করে বিচারক মাসুমকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। সোহেল হায়দারকে দেওয়া হয় চার বছরের কারাদণ্ড। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও অভিযুক্তের ওপর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী জীবনেও ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমকে ২০ বছরের জন্য কানাডার জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধনে নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। কানাডার এই মামলাটি বিদেশে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের আশায় যাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার ওপর ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং আয়ের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডায় মানব পাচার শুধু অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণা, ভয়ভীতি কিংবা নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করার ঘটনাও মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশি এই নারীর মামলায় আদালতের রায় সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
কানাডায় এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের দায়ে দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের একজন ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়েও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের আদালতে মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৫) চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুজনকে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করতে হবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার পর ওই নারী দুই ব্যক্তির পরিচালিত রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেওয়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। আদালতের বিচারে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের পাশাপাশি মাসুমের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, মোহাম্মদ মাসুমকে মানবপাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি বাবদ ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকেও ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই অর্থ কারাদণ্ডের বাইরে ভুক্তভোগীর পাওনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সাসকাচুয়ানের গ্যাল লেক, টিসডেল ও এলরোজ এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে ওই নারীকে কাজ করানো হতো। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলেও তিনি নিয়মিত মজুরি পেতেন না। সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে কাজ করতে হতো বলে আদালতে উঠে এসেছে। থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল একটি অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে বেজমেন্ট। কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মামলার বিচারে উঠে আসে, মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করা হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়, ওই নারী অন্তত আটবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চাকরি হারানো, অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় তাঁর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব ঘটনাকে মানবপাচার ও যৌন শোষণের গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, কানাডায় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অন্য মানুষকে বিশ্বাস করতে তাঁর কষ্ট হয় এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। নিজের জীবন, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ওপর এই অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অপরাধীদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ হয়নি। ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, বাংলাদেশে তাঁর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ভাইবোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের স্বপ্ন, পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর অপরাধের প্রভাব তুলে ধরেন। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় সুরক্ষার বিধান অনুযায়ী তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন অভিবাসনকর্মীর সহায়তায় ওই নারী শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে একই বছরের জুলাইয়ে কানাডার পুলিশ মাসুম ও হায়দারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করেন। কানাডায় অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো কর্মীর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান, পাসপোর্ট কিংবা চাকরি হারানোর ভয়কে ব্যবহার করে তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো মানবপাচার ও শ্রম শোষণের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিয়োগকর্তার কাছে পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর ঘটনাও গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রতিটি অভিযোগের আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে কানাডায় যান। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় কাজ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীদের অধিকার, বেতন, কাজের সময় এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কানাডায় কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাসকাচুয়ানের এই মামলায় দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে মানবপাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন সহিংসতার অপরাধের বিচারিক পরিণতি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। SOURCE - সিবিসি নিউজ
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। একই দিন অভিযুক্ত চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা পঞ্চম ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সিবিএসএর বিবৃতি অনুযায়ী, আদালতে হাজির হওয়া চারজন হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর অভিযুক্তের নাম মো. রাকিবুল হাসান। তদন্তে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের আওতায় তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কানাডীয় নাগরিকদের আতিথেয়তাকারী হিসেবে দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসব ভিসার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। জাল নথি ও মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে আবেদনকারীদের টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা পাইয়ে দিতে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। তদন্তে মোট ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের নামে ২৪৩টি আবেদন শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। সেদিন কুইবেকের মেরসিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে সিবিএসএ। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের একাধিক ইঙ্গিত পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি সার্চ ওয়ারেন্ট কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। জব্দ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত থেকে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনার ব্যাপ্তি ও জটিলতা বিবেচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণসংবলিত ৭৯টি ভিসা আবেদনকে তদন্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আইনবিরুদ্ধভাবে কানাডায় প্রবেশের ব্যবস্থা বা সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনে জেনেশুনে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা বা সহযোগিতা। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় হাইওয়েতে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে জসকিরাত সিং নওখরিয়া নামে ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ নিহত হয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সকালে মেরিটের কাছে কোকিহালা হাইওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একই গাড়িতে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই সারে শহরের বাসিন্দা। বিসি হাইওয়ে প্যাট্রোলের ১৯ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাইওয়ে ৫-এর উত্তরমুখী লেনে একটি গাড়ি দক্ষিণ দিকে চলার একাধিক অভিযোগ পায় পুলিশ। গাড়িটি থামাতে কর্মকর্তারা রওনা হওয়ার মধ্যেই হেলমার এক্সিটের দক্ষিণে মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা একটি কালো টয়োটা টাকোমা ও সাদা টয়োটা র্যাভফোরকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, সাদা র্যাভফোরের ২৪ বছর বয়সী এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের সহায়তায় খোলা গোফান্ডমি তহবিলের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় জসকিরাত সিং নওখরিয়া বলে জানা যায়। গাড়িটিতে থাকা অন্য তিনজনের বয়স ২৪ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। তাঁদের সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভারতের দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওখরিয়া হরিয়ানার কারনাল জেলার রাট্টাক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে কানাডায় যান। তাঁর পরিবারে মা-বাবা ও এক ছোট বোন রয়েছেন। তাঁর বাবা কৃষিকাজ করেন। প্রতিবেদনটিতে আহত তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। অন্য গাড়ি টয়োটা টাকোমার একমাত্র আরোহী ছিলেন কোল্ডওয়াটারের ২২ বছর বয়সী এক চালক। তিনি সামান্য আহত হন। মদ বা মাদকজাতীয় কিছুর প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত গতি ও চালকের স্বাভাবিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তদন্ত করা হচ্ছে। নওখরিয়ার শেষকৃত্য ও স্মরণানুষ্ঠানের খরচ মেটানো এবং পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির চলাচল কিংবা চালকের কর্মকাণ্ড দেখেছেন, এমন প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঠিক ক্রম নির্ধারণে ড্যাশক্যামের ভিডিওও চেয়েছেন তদন্তকারীরা।
বাবার কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে অনেক ফোনের উত্তর দেওয়া হতো না। ছোট একটি প্রতিষ্ঠানের এই সমস্যা দেখেই ভার্চুয়াল রিসেপশনিস্ট ‘ভক্সা’ তৈরি করেছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছরের মানা জামপালা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু করা সেবাটির লক্ষ্য, কর্মীর স্বল্পতায় ছোট ব্যবসাগুলো যাতে সম্ভাব্য ক্রেতার ফোন হারিয়ে না ফেলে। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে মানা। মানার ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ বছর বয়সে বাবার কর্মস্থলে গিয়ে সে দেখত, অল্প কয়েকজন কর্মী কাজ সামলাতে গিয়ে সব ফোন ধরতে পারছেন না। কখনো তাঁরা ফোনের শব্দ খেয়াল করতেন না, কখনো ব্যস্ততার কারণে উত্তর দিতে পারতেন না। এই অভিজ্ঞতা থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরির চিন্তা আসে তার। ভক্সা সার্বক্ষণিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি। এটি ফোনের উত্তর দেওয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা, রেস্টুরেন্টের অর্ডার নেওয়া এবং কথোপকথনের সারসংক্ষেপ তৈরির মতো কাজ করতে পারে। জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মানা জানিয়েছিল, সেবাটি এরই মধ্যে কয়েক শ কল সামলেছে। তবে সে সময় প্রথম অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক পাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। প্রযুক্তির প্রতি মানার আগ্রহ শুরু হয় নয় বছর বয়সে। এরপর স্ক্র্যাচ কোডিং ক্যাম্পে অংশ নেওয়া ও পাইথন শেখার পাশাপাশি নিজের প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে থাকে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বেড়াতে গিয়ে কলেজ পর্যায়ের একটি বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কারও পেয়েছে সে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তাকারী ১৫১৭ মেডিচি প্রজেক্ট থেকে অনুদান পেয়েছে মানা। সফটওয়্যার তৈরিতে কোডিং সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও একবারে পুরো প্রোগ্রাম তৈরি করায়নি মানা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট ছোট অংশের কোড তৈরি করে সেগুলো পরীক্ষা করেছে, ত্রুটি খুঁজেছে এবং সংশোধন করেছে। শুরুতে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করলেও পরে নিজের তৈরি ব্যবস্থায় কাজ এগিয়ে নিয়েছে। কম বয়সে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে এগোতে গিয়ে সংশয়ের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি সেবা তুলে ধরার সময় অনেকেই তার বয়স ও অভিভাবকের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। অনলাইনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্য আলোচনায় সেবাটির কার্যকারিতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানিয়েছে মানা। ভক্সার পাশাপাশি সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সহকারী তৈরির জন্য ‘ভক্সা এজেন্টস’ নামেও আরেকটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সে।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণের সময় গ্যাস পাইপলাইনে আঘাত লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 'কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট' নামের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি 'গুরুতর ঘটনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, পরিস্থিতি অত্যন্ত 'সক্রিয় ও স্পর্শকাতর' হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। বর্তমানে কানাডার সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত সামরিক ঘাঁটির সীমানাপ্রাচীর পেরিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে বিপুলসংখ্যক আহতের চাপে এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে জরুরি অবস্থা বা 'কোড অরেঞ্জ' ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক পরিস্থিতিকে একটি ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, এমন বিপুল রোগীর চাপ এডমন্টনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বাইরে এবং গত ১৫ থেকে ২৫ বছরে এমন মাত্রার সংকট আর দেখা যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েনরাইট শহরের মেয়র ব্রুস পিউ দিনটিকে তার সম্প্রদায়ের জন্য একটি 'ভারী ও শোকাবহ দিন' উল্লেখ করে জানান, সামরিক সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের জীবন গভীরভাবে জড়িত। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই অগ্নিকাণ্ডকে 'গুরুতর ও মর্মান্তিক' বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসায় সহায়তা করতে সাসকাচোয়ান এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ প্রতিবেশী প্রদেশগুলোও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ৬৯০ জন সামরিক ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অধ্যুষিত এই ঘাঁটির ইতিহাসে একে অন্যতম ভয়াবহ এক গণহতাহতের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে অভিবাসী ও অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর পর কানাডা ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক সাক্ষাৎকারে এ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে অভিবাসী গ্রহণের নতুন সংখ্যা বা পরিবর্তনের সময় তিনি ঘোষণা করেননি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, আগের তুলনায় অভিবাসনব্যবস্থা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পর আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার নিয়ন্ত্রিত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা যায়। কানাডা সরকার চলতি শরতে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কার্যকর পরিকল্পনায় প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা, অর্থাৎ মূলত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার। নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে বলা যাবে না। অভিবাসন নিয়ে নতুন আলোচনার পেছনে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার, মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতে চায়। তবে সংখ্যা আবার বাড়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সি ডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কাউন্সিল ২০২৭ সালের পর স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য ধাপে ধাপে কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মিকাল স্কুটেরুড নিউজউইককে বলেছেন, সরকার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার বাস্তব প্রভাব ২০২৯ সালের আগে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তাঁর মূল্যায়ন, সরকারের ঘোষিত সময়সূচি নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আপাতত মূল বিষয় হলো, কার্নির বক্তব্যে নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ঘোষণা করা হয়নি। কোন শ্রেণিতে কতজনকে নেওয়া হবে, তা জানতে নতুন সরকারি পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
কানাডার নতুন অভিবাসন নিয়মে দেশটিতে কর্মরত দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীরা বড় ধরনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমে আনা নতুন পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা এবং জব অফার বা চাকরির প্রস্তাবের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত ১৬ অক্টোবর কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি) ঘোষিত এই পরিবর্তনগুলো আগামী ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) আবেদনকারীদের মধ্যে ভারতীয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, ফলে নতুন এই নিয়মের অধীনে তাদের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে কানাডায় কাজ করছেন, তারা এই নিয়মে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাবেন। অন্যদিকে, কানাডার বাইরে বসবাসকারী যেসব আবেদনকারীর স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা বা যোগ্য জব অফার নেই, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নতুন নিয়মের অধীনে, প্রার্থীরা উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কানাডিয়ান কাজের মেয়াদভিত্তিক পয়েন্টের বাইরেও সর্বোচ্চ ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। আর একটি উচ্চ বেতনের যোগ্য জব অফার থাকলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট। তবে প্রার্থীরা কেবল যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা অথবা জব অফার—এই দুটির মধ্যে যেটিতে বেশি পয়েন্ট পাবেন, সেটিই তাদের স্কোরে যোগ হবে; একসঙ্গে দুটির পয়েন্ট দাবি করা যাবে না। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব জানিয়েছেন, কানাডায় সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য দক্ষ নতুনদের বেছে নেওয়া, দেশীয় শ্রমশক্তিকে পরিপূরক করতে সক্ষম কর্মীদের আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং দক্ষ ট্রেডসহ অন্যান্য বেশ কিছু খাতের নির্দিষ্ট পেশাগুলো এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে। কোনো পেশার জাতীয় মধ্যম মজুরি যদি কানাডিয়ান শ্রমশক্তির মধ্যম মজুরির অন্তত ১.৩ গুণ হয়, তবে সেটি উচ্চ বেতনের পেশা হিসেবে বিবেচিত হবে। কাজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, যেসব প্রার্থী যোগ্য পেশায় অন্তত ১২ মাস বা ১ হাজার ৫৬০ ঘণ্টা কাজ করেছেন, তারা মজুরির হারের ওপর ভিত্তি করে ২০, ৪০ বা ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। যে পেশাগুলোর মধ্যম মজুরি জাতীয় মধ্যম মজুরির অন্তত দ্বিগুণ, সেসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বোনাস পয়েন্ট প্রযোজ্য হবে। এর পাশাপাশি, প্রার্থীরা কানাডায় তাদের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতার মেয়াদের জন্যও পয়েন্ট পাওয়া অব্যাহত রাখবেন। যোগ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীর যদি সঙ্গী বা জীবনসঙ্গী না থাকে, তবে তিনি ৫ বছর বা তার বেশি কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ পয়েন্ট এবং সঙ্গী থাকলে সর্বোচ্চ ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। অন্যদিকে, যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশায় জব অফারের ক্ষেত্রে মজুরির স্তরের ওপর নির্ভর করে ৫০, ৭০ বা ১০০ পয়েন্ট যুক্ত হবে। যোগ্য বিবেচিত হওয়ার জন্য চাকরির প্রস্তাবটিকে অবশ্যই বেতনভুক্ত, পূর্ণকালীন এবং দক্ষ পেশায় নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে। সেইসঙ্গে প্রার্থীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর কাজ অন্তত এক বছর চলবে বলে প্রত্যাশিত হতে হবে। অভিবাসন বিভাগ এই অফারের সত্যতা এবং নিয়োগকর্তার প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা যাচাই করবে। এই পরিবর্তনের আরেকটি বড় দিক হলো, কমপ্রিহেনসিভ র্যাঙ্কিং সিস্টেমের (সিআরএস) অধীনে পয়েন্ট অর্জনের ক্ষেত্রে যোগ্য জব অফারের জন্য এখন থেকে আর লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (LMIA) বা এলএমআইএ-র প্রয়োজন হবে না। সাধারণত বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কানাডিয়ান শ্রমবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—এটি প্রমাণ করতে নিয়োগকর্তাদের এলএমআইএ সংগ্রহ করতে হয়। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে, যোগ্য জব অফারের জন্য সিআরএস পয়েন্ট পেতে কিংবা কানাডার ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম এবং ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের জন্য এলএমআইএ নথির আর দরকার হবে না। তবে এর মানে এই নয় যে সব জব অফারই অতিরিক্ত পয়েন্টের যোগ্য হবে; কেবল যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশার অফারগুলোই এই নতুন সিআরএস পয়েন্ট পাবে। ইতিমধ্যে যাদের এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল রয়েছে, নতুন নিয়মের অধীনে তাদের স্কোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় হিসাব করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং এই সময়ে ইনভাইটেশন রাউন্ড বা আমন্ত্রণ পর্ব স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব প্রার্থী তাদের যোগ্য জব অফারের জন্য পয়েন্ট পেতে আগ্রহী, তাদেরকে আগামী ৩ নভেম্বরের আগেই নিজেদের প্রোফাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডার টরন্টোয় নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একটি স্কুলে প্রবেশের পর দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়নের অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে টরন্টো পুলিশ সার্ভিস তাঁর গ্রে প্তার ও অভিযোগ আনার তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাফফাত একটি স্কুলে ঢুকে নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউ ও বার্চমাউন্ট রোড এলাকায় সংঘটিত যৌ ন নিপীড়নের খবর পেয়ে ৯ অক্টোবর পুলিশ সাড়া দেয়। টরন্টোর বাসিন্দা শাফফাতের বিরুদ্ধে যৌ ন নিপীড়নের দুটি এবং ‘সেক্সুয়াল ইন্টারফেয়ারেন্স’-এর একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর সকালে টরন্টো রিজিওনাল বেইল সেন্টারে তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে শুনানির ফল জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, আরও কেউ একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযুক্তের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে টরন্টো পুলিশের ৪১ ডিভিশনে ৪১৬-৮০৮-৪১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তের জাতীয়তা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার তথ্যও এতে নেই।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি। এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডায় পাসপোর্ট ও নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্রের ছবিতে ধর্মীয় কারণে হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশটির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্টের ছবির জন্য হিজাব খুলতে হয় না। তবে ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা চলবে না। কানাডা সরকারের প্রকাশিত পাসপোর্ট ছবির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা চিকিৎসাগত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখার পোশাক পরা গ্রহণযোগ্য। তবে মাথার পোশাক যেন মুখের ওপর কোনো ছায়া তৈরি না করে এবং ব্যক্তির মুখের স্বাভাবিক গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, হিজাব পরা অবস্থায় ছবি তোলার সময় চোখ, নাক, মুখ, চিবুক এবং মুখের দুই পাশ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। হিজাব বা স্কার্ফ এমনভাবে পরতে হবে, যাতে মুখের কোনো অংশ আড়াল না হয়। বিশেষ করে চোখ খোলা রাখা, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং স্বাভাবিক মুখভঙ্গি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কানাডার পাসপোর্ট ছবির ক্ষেত্রে আরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছবির মাপ হতে হবে ৫০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৭০ মিলিমিটার লম্বা। চিবুক থেকে মাথার স্বাভাবিক ওপরের অংশ পর্যন্ত উচ্চতা থাকতে হবে ৩১ থেকে ৩৬ মিলিমিটারের মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা হালকা রঙের হতে হবে। পাশাপাশি মুখে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত আলো, ছায়া কিংবা আলোর প্রতিফলন থাকা যাবে না। ছবিতে আবেদনকারীর মুখ ও কাঁধ ক্যামেরার দিকে সোজা রাখতে হবে। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে ছবি তুলতে হবে। চোখ খোলা এবং মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কানাডার পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া ছবি আবেদন করার আগের ছয় মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে, যাতে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার সঙ্গে ছবির মিল থাকে। সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ টুপি কিংবা মাথা ঢাকার অন্যান্য পোশাক পাসপোর্টের ছবিতে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার সুযোগ থাকলেও শুধু ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ক্ষেত্রে একই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে জমা দেওয়া ছবি অবশ্যই আসল ও অপরিবর্তিত হতে হবে। ছবি তোলার পর ফিল্টার ব্যবহার, মুখের গঠন পরিবর্তন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সংশোধন করা যাবে না। এমনকি ছবি আরও সুন্দর করার জন্য ডিজিটাল এডিট করলেও তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পেশাদার ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট নয়, কানাডার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর কার্ডের ছবির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে সাদা রঙের হিজাব বা হেডস্কার্ফ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিশে গেলে ছবি গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্থক্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদনের জন্য বায়োমেট্রিক ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন আবেদনকারীরা প্রয়োজনে একই লিঙ্গের কর্মীর মাধ্যমে ছবি তোলার অনুরোধ করতে পারেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন। তবে কানাডার সব ধরনের সরকারি পরিচয়পত্রের জন্য একটিমাত্র নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ড্রাইভার লাইসেন্স এবং প্রদেশভিত্তিক অন্যান্য আইডি কার্ডের ছবির শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই কোনো পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। কানাডা সরকারের এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। ফলে হিজাব পরা কোনো নারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে হিজাব না খুলেই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য ছবি জমা দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, এটি কানাডায় নতুন করে ঘোষণা করা কোনো সুবিধা নয়। ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরে পাসপোর্টের ছবি তোলার সুযোগ দেশটির বিদ্যমান সরকারি নিয়মেরই অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান। লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে। মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়। বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে। লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
কানাডায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় সাহসিকতার স্বীকৃতি পেয়েছেন পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তা। একটি দোকানে দুই নারীকে আটকে রেখে তাঁদের একজনকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারীকে থামাতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাঁরা। প্রায় দুই বছর আগের ওই ঘটনায় দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্মাননা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন ওপিন্দর কুনার, রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ। ঘটনার পর অপরাধস্থলের বিস্তারিত তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে। ওই সময় জরুরি সেবা নম্বরে একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চার পুলিশ কর্মকর্তা। ফোনে জানানো হয়েছিল, এক ব্যক্তি ভ্যাঙ্কুভার শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে মদ ও ছুরি চুরি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাস্তার অপর পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন। সেখানে তিনি এক নারী কর্মীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। ওই নারীকে মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরেই হামলাকারীর সঙ্গে আটকা পড়েন। একই দোকানে আরও একজন নারী কর্মী ছিলেন। ফলে দুই নারীই সশস্ত্র হামলাকারীর কাছাকাছি আটকা পড়ে যান। পরিস্থিতি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় পুলিশ কর্মকর্তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রথমে হামলাকারীকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন কর্মকর্তারা। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করে তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটিও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামাতে পারেনি। তিনি ছুরি হাতে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে হামলাকারী দুই নারীর দিকে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করলে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে তাৎক্ষণিক হুমকি থামানো সম্ভব হয় এবং দুই নারীকে আরও হামলার হাত থেকে রক্ষা করা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা আহত নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা আহতদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাঁর আঘাতের কারণে মারা যান। ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় প্রাণঘাতী হুমকি থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় কর্মকর্তাদের সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত ওপিন্দর কুনার পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। তাঁর পাশাপাশি রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ একই স্বীকৃতি পেয়েছেন। চার কর্মকর্তাই ওই দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনার শুরুতে পুলিশ যে পরিস্থিতির খবর পেয়েছিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেটি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে একটি রেস্তোরাঁ থেকে মদ ও ছুরি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পাশের দোকানে একজন নারী ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং আরেক নারীও হামলাকারীর সঙ্গে ভেতরে আটকা পড়েন। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার পর্যন্ত একাধিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারী যখন ছুরি নিয়ে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যান, তখন তাঁকে থামাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। দুই নারীকে নিরাপদ করার পর আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও নেন কর্মকর্তারা। জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পুরো পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপই পরবর্তী তদন্ত ও মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের সম্মাননার ভিত্তি হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হলো। প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, হামলাকারীকে থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য ট্রিবিউন
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত বছরও পুরস্কারটির জন্য তার সম্ভাবনা বেশ আলোচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। বরং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে ট্রাম্পের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ১ শতাংশের নিচে, আর কার্নির সম্ভাবনা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে পলিমার্কেটে ট্রাম্প ও কার্নি—দুজনের সম্ভাবনাই ১ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়; বাজারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা ও লেনদেনের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ওঠানামা করে। কার্নির সম্ভাবনা অবশ্য এর কিছুদিন আগেই অনেক বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কালশিতে তার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে ১৪ শতাংশে উঠে যায় এবং তিনি ওই সময় তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পরে তা দ্রুত কমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ওঠানামাই দেখায় যে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্যকে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় না। ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার প্রচেষ্টায় আটটি যু দ্ধের অবসান হয়েছে। এসব দাবির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে কমিটির বিরুদ্ধে ‘রাজনীতিকে শান্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বছরে তার প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তার সম্ভাবনা পূর্বাভাস বাজারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এবারের সম্ভাবনা খুব কম বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত উঠে এসেছে। অন্যদিকে মার্ক কার্নি ২০২৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার কথাও একাধিকবার ওঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। কার্নি একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচিত বক্তৃতায় কার্নি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনাতেও তার নাম উঠে আসে। তবে কার্নি নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বছরের মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটি নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি নয়। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। এরপর কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেয়। বর্তমান পূর্বাভাস বাজারে ট্রাম্প ও কার্নির পাশাপাশি সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবার নামও আলোচনায় রয়েছে। কালশির বর্তমান বাজারে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এগিয়ে রয়েছে। তবে এগুলোও কেবল বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো কিংবা শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে। ফলে নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ও কার্নিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মূলত পূর্বাভাস বাজার। সেখানে কার্নির সম্ভাবনা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই।
কানাডার ক্যালগেরিতে সড়ক পার হওয়া এক পথচারীর সঙ্গে তর্কের জেরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। তবে ক্যালগেরি পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ বা গ্রেফতার হওয়া নারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। প্রকাশিত ভিডিও ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি গাড়ি পথচারীকে রাস্তা পার হওয়ার সময় যথাযথভাবে অগ্রাধিকার না দেওয়ার অভিযোগ থেকে। এরপর ওই পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। এতে গাড়িটির যাত্রী আসনে থাকা নারী বের হয়ে তার দিকে এগিয়ে যান। ভিডিওতে ওই নারীকে পথচারীর ভিডিও ধারণে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভিডিও করা বৈধ নয়।” এরপর তিনি পথচারীর ফোনের দিকে হাত বাড়ান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তিনি ওই ব্যক্তির ব্যাকপ্যাক ধরে টানার চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। সংঘর্ষের কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে গ্রেফতার করে। তবে তাকে ঠিক কোন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ দেওয়া হয়েছে কি না অথবা আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং গাড়িটির বৈধ ইন্স্যুরেন্স ছিল না। তবে এই দাবির বিষয়ে ক্যালগেরি পুলিশের কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো অনলাইনে প্রচারিত দাবির পর্যায়েই রয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমক্ষে ভিডিও ধারণের আইনগত সীমা, পথচারীর অধিকার এবং ছোটখাটো ট্রাফিক বিরোধ কীভাবে দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কানাডায় জনসমক্ষে কারও ভিডিও ধারণ সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, হয়রানি, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে ভাইরাল ভিডিওর একটি ছোট অংশ দেখে কোনো পক্ষের আইনগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ক্যালগেরি পুলিশের নিজস্ব নীতিতেও জনসমক্ষে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ও তদন্তের মতো ঘটনায় পুলিশ অফিসাররা বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেন, যা পরবর্তী তদন্তে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ তদন্তের ফল, সম্ভাব্য চার্জ এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অতিরিক্ত দাবিগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়। কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।