কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে ক্যানবেরায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কার্নি জানান, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে কানাডার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা সম্ভব নয়। এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডা তার মিত্রদের পাশে থাকবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
কানাডা তাদের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের প্রধান মাধ্যম ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ সিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সংশোধনীতে গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা ও এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু সামরিক পেশাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকার নতুন এই ক্যাটাগরিগুলো উন্মোচন করে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন গবেষক ও উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক, পরিবহন খাতের দক্ষ কর্মী যেমন পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেকানিক, কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিদেশি চিকিৎসক এবং কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী উচ্চদক্ষ বিদেশি আবেদনকারী—যাদের মধ্যে সামরিক চিকিৎসক, নার্স ও পাইলট রয়েছেন। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডায়াব এক বিবৃতিতে জানান, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন মেধাবীদের আকৃষ্ট করা হবে যারা শুরু থেকেই কানাডার অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকটে ভুগছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসন সংকট এবং সামাজিক পরিষেবার ওপর চাপ কমাতে সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগে নতুন এই স্ট্রিমগুলো চালু করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত এক নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলে কানাডা সরকার আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে নেটো সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় ওটাওয়া। এদিকে নতুন ক্যাটাগরি চালু হলেও বিদ্যমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের আওতায় ফরাসি ভাষাভাষী প্রার্থী, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং দক্ষ ট্রেড ওয়ার্কারদের আমন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের একটি স্কুলে বন্দুক হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১০জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট সাতজনকে স্কুলের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এছাড়া, পাশের এক বাড়িতে আরও দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ' পুলিশের ধারণা, পাশের বাড়িতে পাওয়া ওই দুইজন নিহত ব্যক্তি বন্দুক হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিহতের সংখ্যা বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। এই ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ২৫ জন, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্কুলে হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন মহিলা হতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ। রকি পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ছোট শহর টাম্বলার রিজ, যা কলাম্বিয়া প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় এক হাজার দুইশ কিলোমিটার উত্তরে এবং সেখানে আড়াই হাজারেরও কম মানুষ বসবাস করে। পুলিশ সেখানকার বাসিন্দাদেরকে ঘরের ভেতরে দরজা বন্ধ করে নিরাপদে থাকার জন্য বলেছে। টাম্বলার রিজ মূলত কয়লাখনি এবং ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের টাম্বলার রিজ শহরের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুল ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই নিজের জীবন নিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরে আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, হামলার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল ও টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ এবং ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এলাকার আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা সহায়তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা চলার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করা মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ওটাওয়া ও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, “এই পৃথিবীটা বদলে গেছে, ওয়াশিংটন বদলে গেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, এটাই বাস্তবতা।” দাভোসে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্য বাস্তবতায় দেশগুলোর নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। কার্নি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা ত্রিদেশীয় মৈত্রী চুক্তির আওতায় কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তবে মার্কিন শুল্কনীতি ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমিয়ে অন্য বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, দাভোসে যা বলেছি, সেটার অর্থ আমি ঠিকই বুঝিয়েছি।” ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মন্তব্য থেকে সরে আসার দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। কার্নি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, কানাডা পুরো পৃথিবীতেই নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং ত্রিদেশীয় চুক্তি কাঠামোর মধ্যেই গঠনমূলক সহযোগিতার পথ খোলা রাখছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বাণিজ্য চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে। দাভোসে কার্নির বক্তব্যে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ত্রিদেশীয় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস