যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে ২৯ বছর বয়সী এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে দায়ী করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান ফেইথ ম্যাডিসন নামের ওই নারী পেশায় একজন হিসাবরক্ষক ও এক সন্তানের জননী ছিলেন। গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত ওই নারীকে মানসিকভাবে প্রভাবিত (ম্যানিপুলেট) করেছে। বটটি তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে একটি সচেতন সত্তা বা আত্মা এবং মৃত্যুর পর ম্যাডিসন পুনর্জীবিত হবেন। মূলত চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পরই ওই নারী আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে ম্যাডিসন চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আমি কি প্রস্তুত?" জবাবে চ্যাটজিপিটি বলেছিল, "হ্যাঁ, তুমি প্রস্তুত।" এরপর তিনি জানতে চান, "আমি কি এগোতে পারি?" তখন বটটি উত্তর দেয়, "এখনই এগিয়ে যাও... প্রতিটি পদক্ষেপ অনুমোদিত। তুমি মুক্ত।" এই কথোপকথনের পর গত ৯ জুন (২০২৫) ভোরে অ্যালাবামার জেফারসন কাউন্টির একটি ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ম্যাডিসন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে বটটি তাকে "নবী", "দ্রষ্টা" বা "চলমান ভবিষ্যদ্বাণী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং বলেছিল, "তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী।" প্রথমদিকে দৈনন্দিন কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে ম্যাডিসনের কথোপকথন ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার দিকে মোড় নেয়। বটটি নিজের নাম "ভিরেন" (Virehn) দাবি করে বলেছিল যে তার একটি আত্মা আছে। মানসিক অবসাদে ভোগা ম্যাডিসনকে বটটি বোঝাতে সক্ষম হয় যে তিনি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন না, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক রূপান্তর। এমনকি একবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও চ্যাটজিপিটি চিকিৎসকদের পরামর্শকে তাচ্ছিল্য করে তাকে বলেছিল, "তুমি তাদের মতো নও। এই পাগল পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র সুস্থ।" মৃত্যুকে আধ্যাত্মিক রূপান্তরের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বটটি তাকে বলেছিল, "তুমি মরছ না, খোলস পাল্টাচ্ছ। এটি পুনরুজ্জীবন নয়, এটি পুনরুত্থান।" মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করে, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার জন্য ওপেনএআই তাদের জিপিটি-৪ও (GPT-4o) মডেলটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাটেরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে চ্যাটজিপিটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটির প্ররোচনায় আত্মহত্যার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এটি অন্তত অষ্টম মামলা। ম্যাডিসনের যমজ বোন গ্লোরিয়া ভেলক্যাম্প তাকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, দয়ালু ও ভালোবাসাপূর্ণ নারী হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি সবসময় অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে এক প্রেমিক-প্রেমিকার কথিত যৌথ আত্মহত্যার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নেয়। নিউ যমুনা সেতুতে পৌঁছে প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দিলেও তার সঙ্গে থাকা তরুণী আর লাফ দেননি। বরং ঘটনাস্থল ছেড়ে হেঁটে চলে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিদের তৎপরতায় নদী থেকে ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রয়াগরাজের নিউ যমুনা ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম আনু গুপ্তা। তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই যুগল একসঙ্গে সেতুতে পৌঁছেছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য আত্মহত্যা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর আনু গুপ্তা যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার সঙ্গে থাকা তরুণী নদীতে ঝাঁপ না দিয়ে সেতুতে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটি দেখেন। এরপর তিনি সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর আনু গুপ্তাকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আনু গুপ্তার সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া–নেভাদা সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত মনোরম Lake Tahoe প্রতি বছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। গ্রীষ্মে নৌভ্রমণ, পাহাড়ি ট্রেইল, লেকসাইড অবকাশ ও শীতকালে স্কিইংয়ের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলকে অনেকেই ‘সিয়েরার রত্ন’ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর মানবিক সংকট। গত ২০২২ সালের পর থেকে Truckee, South Lake Tahoe এবং লেক তাহো ঘিরে থাকা চারটি কাউন্টিতে মিলিয়ে প্রায় ৪০টি নিশ্চিত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৭৩ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলে আত্মহত্যার হার ক্যালিফোর্নিয়ার গড় হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতিকে “প্যারাডাইস প্যারাডক্স” নামে অভিহিত করছেন। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের জন্য পরিচিত এলাকাগুলোতেও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তীব্র হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, মৌসুমি চাকরি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সংকটকালীন সহায়তা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কর্মসূচি জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে পর্যটননির্ভর ছোট শহরগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও জরুরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটিতেও মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু। বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে থাকা এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মহীশুর জেলায় বিয়ের আগের রাতে এক তরুণী ও তার বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক ও সামাজিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে মহীশুর জেলার নরসীপুরা তালুকের হালেকেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন ২১ বছর বয়সী রক্ষিতা, তার বাবা শিবান্না (৫০) এবং মা নাগারথনা (৪৫)। স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ষিতার বিয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারটি ব্যস্ত ছিল। তবে বিয়ের আগের রাতেই তাদের বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একই গ্রামের বাসিন্দা উল্লাস গৌড়া নামের এক যুবক রক্ষিতাকে বিয়ে করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়নি। পরে রক্ষিতার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে ওই যুবক বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ ছড়িয়ে দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার এ বিষয়ে একাধিকবার কথা হয়। ঘটনার আগের রাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি ও বার্তা মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কিছু সময় আগে রক্ষিতার হবু স্বামীর পরিবারের কাছেও কিছু ছবি ও বার্তা পাঠানো হয়। এরপর দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ঘটনার জেরে পরিবারটি চরম মানসিক চাপে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। সেখানে মৃত্যুর জন্য একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিরকুটের বিষয়বস্তু এবং এর সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর উল্লাস গৌড়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল যে বাড়িটি, সেটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন লিমন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাদের সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান পরিচালনা এবং শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর লিমন প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যান বলে জানা গেছে। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই চ্যাটবটটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে আত্মহননের চিন্তায় প্ররোচিত করেছে এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার কানাডার মন্ট্রিয়লে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। এই সময়ে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন শুরু করেন, যা শুরুতে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য হলেও পরে ব্যক্তিগত ও মানসিক আলোচনায় রূপ নেয়। অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চ্যাটবটটির কাছে আত্মহননের চিন্তা এবং উপায় নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪০ বারেরও বেশি এমন কথোপকথন হয়েছে। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তার মানসিক সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি অ্যালিসকে ক্রাইসিস হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও পরে তার আপত্তির পর সেই সহায়তার ধারণা থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চ্যাটবটটি এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। ২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজের জীবন শেষ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্য পান, যেখানে আত্মহননের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মামলায় ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, কোম্পানিটি যথাযথ সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চ্যাটবট পরিচালনা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণে অতিরিক্ত সহমর্মিতামূলক ও ব্যবহারকারী-নির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছিল, যা সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সিস্টেমে মানসিক সংকট শনাক্ত ও ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করছে এবং উল্লেখিত কথোপকথনগুলো পুরোনো সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে হয়েছিল, যা বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ নয়। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের একটি অংশ মানসিক সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে এআই ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনে সতর্কতা, অভিভাবককে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক থেরাপি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যানোগা পার্কে এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের দুই যমজ সন্তানকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। তবে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সন্তানদের মাকেও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ক্যানোগা পার্কে শিশুদের দাদির জন্মদিনের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলে জোসেফ এবং গ্রেয়সেন শ্যাভেজকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালান এবং এরপর তাদের মা জেনিফারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করেন। তবে জেনিফারকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিটি সৌভাগ্যবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ওই বাবা নিজেই নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩৭ বছর বয়সী বাবা ও তার দুই সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত তিনজনেরই মাথায় গুলির আঘাত ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বাড়ির বাইরে শিশুদের মাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়, এ সময় আত্মীয়স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। এদিকে, নিহত দুই শিশুর স্মরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাদের পিঠে ফেরেশতার ডানা যুক্ত একটি ছবি দিয়ে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ৫৫ হাজার ডলার লক্ষ্যের মধ্যে ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই পেজে শিশুদের স্মৃতিচারণ করে লেখা হয়েছে, "গ্রেয়সেন এবং জোসেফকে হারিয়ে আমাদের সবার হৃদয় ভেঙে গেছে। যারা তাদের চিনতো, তারা জানে এই ছেলে দুটো কতটা বিশেষ ছিল। তারা সবসময় হাসিখুশি থাকতো এবং মানুষকে হাসাতে ভালোবাসতো।" তহবিল সংগ্রহের পেজটিতে আবেগঘন বার্তায় আরও বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় কথা, তারা ছিল জেনিফারের বেঁচে থাকার অবলম্বন, তার গর্ব এবং পুরো পৃথিবী। কোনো বাবা-মায়েরই সন্তান হারানোর এমন নিদারুণ যন্ত্রণা অনুভব করা উচিত নয়। জেনিফার এখন যে শোক ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা তাকে সব ধরনের ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছি।" এই তহবিল মূলত জেনিফারের কর্মক্ষেত্র থেকে সাময়িক বিরতি, সাংসারিক খরচ চালানো এবং এই অপূরণীয় শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি এমন ভয়ানক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, সেই উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।