৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় নিতে নারাজ উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো হুশিয়ারি
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অভিযোগটিকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাইবার অপরাধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়। এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার জন্য দায়ী। চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের দাবি, হ্যাকাররা চুরি করা অর্থের বড় একটি অংশ ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে। এরপর বিভিন্ন অনলাইন বিনিময় ও ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর লেনদেন আটকে দিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি।
তবে কিম ইয়ো জং এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাইবার অপরাধ ঘটলেই উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো অভ্যাস। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করে পিয়ংইয়ংয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। এ ধরনের অভিযোগকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি।
কিম ইয়ো জং আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করে নিজেদের কৌশলগত মজুতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাঁর ইঙ্গিত, উদ্ধার করা অর্থ শেষ পর্যন্ত কার কাছে যায়, তা দেখলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে কিম ইয়ো জং বলেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন প্রশাসনের বৈরী মনোভাব অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে উত্তর কোরিয়া। তবে ঠিক কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এর আগেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছিল এফবিআই। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের সাইবার অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করে। পিয়ংইয়ং বরাবরই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলাসংক্রান্ত অভিযোগে কিম ইয়ো জংয়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়া বিরল ঘটনা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযোগটির গুরুত্ব বাড়ায় পিয়ংইয়ং উচ্চপর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। নতুন সাইবার হামলার অভিযোগ এবং কিম ইয়ো জংয়ের সতর্কবার্তায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, রয়টার্স, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি।
ট্যাগ: আমেরিকা বাংলা, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কিম ইয়ো জং, কিম জং উন, বাইন্যান্স,
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতে মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের আগে হিন্দুদের অনুমতি নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মুসলিম নেতারা। সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল, এএনআই ও জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোপালের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রামেশ্বর শর্মা চাঁদের সঙ্গে হিন্দুধর্মের দেবতা শিবের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি, মুসলমানরাও চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন। অথচ সেই চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিজেপির এই বিধায়ক দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের অংশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলমানরা যে চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন, সেটিও সনাতন ধর্মের চাঁদ। এ কারণে ঈদ উদযাপনের সময় মুসলমানদের সনাতন ধর্মের প্রশংসা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসব পালনের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অনুমতি নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসায় সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। মুসলিম নেতা আব্বাস হাফিজ এই বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, মুসলমানদের কি এখন নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য বিজেপির কোনো বিধায়কের অনুমতি নিতে হবে? তিনি বলেন, মুসলমানরা কখনো ঈদ পালনের জন্য এ ধরনের অনুমতির প্রয়োজন অনুভব করেননি। ভবিষ্যতেও নিজেদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করবেন। ইসলাম ধর্মে চাঁদ দেখার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু ও শেষ এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় নির্ধারণের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়। ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের স্বাধীনতা রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য অন্য কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুমতি নেওয়ার সাধারণ কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। জি নিউজের প্রতিবেদনে দলটির মুখপাত্র শাহওয়ার আলম বলেন, রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যকে অন্যভাবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, ভারতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসবের সঙ্গে চাঁদ দেখার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে, বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির মধ্যপ্রদেশ শাখার সভাপতি স্বামী অনিলানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে প্রাচীনকাল থেকেই চন্দ্র, সূর্যসহ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের পূজার প্রচলন রয়েছে। সূত্র: এএনআই, মানিকন্ট্রোল, জি নিউজ
ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, বিপুল খাদ্যপণ্য নষ্ট
৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় নিতে নারাজ উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো হুশিয়ারি
ইন্দোনেশিয়ায় যমজ দুই বোনের একজন মুসলিম অন্যজন ক্যাথলিক, ভিন্ন ধর্মেও অটুট ভালোবাসা
ব্রিটেনে বৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ বছরের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। আর কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে ব্রিটেনে কর্মরত কেয়ার ওয়ার্কারদের নতুন কঠোর নিয়মের বাইরে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টে জানানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগে থেকে ব্রিটেনে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর করা কতটা ন্যায়সংগত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম এই সংস্কার পরিকল্পনা সামনে আনা হয়। তখন অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়। সরকারের যুক্তি, ব্রেক্সিটের পর ব্যাপক অভিবাসনের কারণে আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠবেন। তবে প্রস্তাব প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে চলা পরামর্শ প্রক্রিয়ায় দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়েছে। লেবার পার্টির একাধিক এমপি মনে করেন, যারা বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করে ব্রিটেনে এসেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে অপেক্ষার সময় বাড়ানো অন্যায্য হতে পারে। এই আপত্তির পর সরকার ইতিমধ্যে কর্মরত সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সম্ভাব্য ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দলটির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপের বক্তব্য, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা উচিত হবে না। কনজারভেটিভদের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের বিদেশি কর্মীদের জন্য ১০ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রাখা যেতে পারে। তবে কম বেতনের কর্মীদের নতুন করে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার পক্ষে দলটি। সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বর্তমান ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার স্বল্পদক্ষ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে পারেন। সরকারি পরামর্শক সংস্থার হিসাব উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের প্রায় এক হাজার কোটি পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। ব্রিটেনে আইএলআর হচ্ছে এমন একটি অভিবাসন মর্যাদা, যার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা অনির্দিষ্টকাল দেশটিতে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি সুবিধাও পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষার সময় বাড়ানো হলে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত সব পরিবর্তন তখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইতিমধ্যে ব্রিটেনে থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে এবং কোন পেশার কর্মীরা ছাড় পাবেন, তা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। নতুন ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২ নভেম্বর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় আসা এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয়সহ নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্মীরা পাঁচ বছর পরই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য সাধারণ অপেক্ষার সময় হবে ১০ বছর। উচ্চ আয়ের কিছু কর্মী তিন বছরেও এই সুযোগ পাবেন। সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়মগুলো ২০২৭ সালজুড়ে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিস্তারিত বিধিমালা ও নির্দেশনা প্রকাশের মাধ্যমে আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ইতিমধ্যে আইএলআর পাওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা নতুন সংস্কারের কারণে বাতিল করা হবে না।
অবৈধভাবে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, চালককে জরিমানা
"কয়েক মাস যুদ্ধ করি নি" ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা
অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম করে প্রতারণা এবং সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেলের মামলা
বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ফ্রান্সে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ২১ সদস্যকে মোট ৮৪ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের আদালত। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৮ অক্টোবর ইংল্যান্ডের ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্টে চক্রটির শেষ তিন সদস্যের সাজা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) পরিচালিত বড় ধরনের একটি মানবপাচারবিরোধী তদন্তের বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে পাচার করত। পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের নাগরিকও ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়িয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ এবং সেখানে অবৈধভাবে কাজ করার উদ্দেশ্যে তাঁরা পাচারকারীদের সহায়তা নিতেন। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ব্রিটিশ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার আদায় করত। প্রথমে লন্ডন থেকে ট্যাক্সি বা ব্যক্তিগত গাড়িতে অভিবাসীদের ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কেন্ট এলাকায় নেওয়া হতো। পরে তাঁদের পণ্যবাহী লরি ও ভ্যানের ভেতরে লুকিয়ে ডোভার বন্দর দিয়ে ফেরিতে করে ইংলিশ চ্যানেল পার করে ফ্রান্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো। এনসিএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০টি পাচারের ঘটনা শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। এসব অভিযানে মোট ১৯৬ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। একটি ঘটনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ২৩ জনকে লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার কাছে নিয়ে একটি লরিতে তোলা হয়েছিল। তাঁদের ফ্রান্সে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন। চক্রটির অন্যতম প্রধান সংগঠক ৪৪ বছর বয়সী শুহাল আহমেদকে সাড়ে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পূর্ব লন্ডনভিত্তিক এই চক্রে তিনি অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং তাঁদের ফ্রান্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। আদালতে মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধ স্বীকার করেন তিনি। একই মামলায় ৫০ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক রবিউল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিবাসীদের লন্ডন থেকে কেন্টে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্য গাড়িচালকদেরও এ কাজে যুক্ত করতেন। চক্রটির আরেক সদস্য ৫৫ বছর বয়সী কাসিম জানকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনিও অভিবাসীদের পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে চক্রটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ২৬ বছর বয়সী সুহেল আহমেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং গাড়িচালকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। এ ছাড়া রোমানিয়ার নাগরিক নিকুসর লাকাতুসকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের পরিবহনে রাজি থাকা লরি ও ভ্যানচালকদের সঙ্গে চক্রটির যোগাযোগ করিয়ে দিতেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই পাচার কার্যক্রমে সংগঠক, অর্থ সংগ্রহকারী, ট্যাক্সিচালক এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের সমন্বয়ে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সর্বশেষ তিনজনের সাজা ঘোষণার পর সব মিলিয়ে ২১ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ ৮৪ বছর ছাড়িয়েছে। এটি প্রত্যেকের পৃথক সাজা যোগ করে পাওয়া মোট মেয়াদ। এনসিএর জ্যেষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা জন টার্নার জানিয়েছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সংগঠক থেকে শুরু করে অভিবাসীদের পরিবহনে যুক্ত চালক পর্যন্ত পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের সংঘবদ্ধ পাচার কার্যক্রম বড় হুমকি। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ইংলিশ চ্যানেলের দুই দিকেই অবৈধভাবে মানুষ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এনসিএর অন্যতম অগ্রাধিকার। সূত্র: যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ), বিবিসি, দ্য ন্যাশনাল।
মোবাইলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলার বার্তা, হ্যাকারদের কবলে ইউক্রেনের জরুরি অ্যাপ
ভারতের পাঞ্জাবে মসজিদ নির্মাণে জমি দান, ফের আলোচনায় ৭৫ বছর বয়সী শিখ বৃদ্ধা